বেহালা-বাদক, শয়তানের বর কিংবা বংশগতি

নিকোলো প্যাগানিনি পাশ্চাত্য ধ্রুপদী সংগীতের একটি বিখ্যাত নাম। আঠারোশো শতকের শেষ দিকে ইতালিতে জন্ম নেন তিনি। প্যাগানিনি সমসাময়িক ইউরোপ মাতিয়ে তুলেছিলেন তার বেহালার জাদু দিয়ে। পাশ্চাত্য সংগীতে বেহালা বাজানোর আধুনিক রীতি স্থাপন করেছেন তিনি। তার তৈরি সুর এখনো জনপ্রিয়। বহু বেহালা-বাদকের অনুপ্রেরণা হলেন প্যাগানিনি। অদ্ভূত বিষয় হলো, তার এই সাফল্যের অন্তত আংশিক কারণ ছিলো বংশগতির একটি দূর্লভ রোগ। অন্য অনেক প্রতিভাধর সংগীতজ্ঞের মতোই প্যাগানিনি ছোটবেলাতে সংগীতচর্চা শুরু করেন। তিনি পাঁচ বছর বয়সে গিটার আর সাত বছর বয়সে বেহালা বাজানো শেখা শুরু করেন। খুব দ্রুতই এ যন্ত্রগুলো তার আয়ত্বে চলে আসে। মাত্র আঠারো বছর বয়সে আশেপাশের এলাকায় তিনি পরিচিতি লাভ করেন। আর ত্রিশ বছর হতে না হতেই সারা ইউরোপে তার খ্যাতি ছড়িয়ে যায়। কিন্তু প্যাগানিনি যখন মারা যান তখন তার জন্মস্থান…
বিস্তারিত পড়ুন ...

বায়োহ্যকার বদলে দিলেন নিজের ডিএনএ

মানুষের বংশগতি বৈশিষ্ট্য জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। মানুষ কি ইচ্ছা অনুযায়ী জিন এ পরিবর্তন মাধ্যমে তার বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন আনতে পারবে? মানুষ কেন বংশপরম্পরায় পাওয়া জিন এর দাস হয়ে থাকবে? এ প্রশ্নের উওর খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানী জোসেফ জেইনার কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্যের জন্য তার নিজ-দেহের জিন এর পরিবর্তন ঘটান।তিনি তার হাতের মাংস পেশির একটি জিন এর পরিবর্তন ঘটান। জিন এর পরিবর্তন করে নতুন বৈশিষ্টের উদ্ভব মানুষে এই প্রথম। এর আগে কাঙ্খিত বৈশিষ্টের জন্য বিজ্ঞানীরা অনুজীব সহ অনেক উদ্ভিদ এ জিন পরিবর্তনের কৌশল (জেনেটিক ইন্জিনিয়ারিং) প্রয়োগ করা হয়ে আসছে। মানবদেহ অসংখ্য কোষের সমন্বয়ে ঘঠিত।প্রতিটি কোষের নিউক্লিয়াসে নিউক্লিক এসিড হিসেবে থাকে ডিঅক্সি রাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ, DNA) ও রাইবোনিউক্লিক এসিড (আরএন এ, RNA)। DNA তে থাকে মানুষের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী জিন। জিন এ মানুষের বৈশিষ্ট্যগুলো কোড করা…
বিস্তারিত পড়ুন ...

ভাইরাস কি প্রকৃতির ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে?

ভাইরাসও প্রকৃতির ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে। ইনফ্লুয়েঞ্জা, ইবোলা, এইচআইভি, ডেঙ্গু এরা আমাদের বার বার মনে করিয়ে দেয় যে ভাইরাস কতটা ক্ষতিকর। গঠনের দিক থেকে ভাইরাস সহজ সরল। অল্প কিছু জীন এবং তার চারপাশে ঘিরে একটি প্রোটিনের তৈরী খোলস নিয়ে গঠিত হয় একটি ভাইরাস, যার আকার প্রায় একটি অণুর সমান। কিন্তু  এই ক্ষুদ্র ভাইরাসটির ক্ষমতা আমাদের ধারণারও বাইরে। এরা যখন দেহের কোন কোষকে আক্রমণ করে তখন সেই কোষের ভেতরে সব রকম কর্মকান্ডের দখল নিজের আয়ত্তে নেয়। ভাইরাস ওই কোষের সাহায্যেই সংখ্যাবৃদ্ধি করে আরও অসংখ্য ভাইরাস তৈরি করে। একেক রকম ভাইরাসের বংশবৃদ্ধির ধরণ একেক রকম। কোনটা খুব দ্রুত আবার কোনটা খুব ধীরে বংশবৃদ্ধি করে। কোন ভাইরাস পোষক দোহের কোষকে আক্রান্ত করে তার এনজাইমগুলো ব্যবহার করে বংশবৃদ্ধি করে। আবার কোন ভাইরাস বংশবৃদ্ধির জন্য…
বিস্তারিত পড়ুন ...

বি-কোষ এবং টি-কোষ

উনিশ শতকের প্রথম ভাগে সবার ধারনা ছিল মানুষ এবং অন্যান্য স্তন্যপায়ীতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সব কিছুই আসলে অ্যান্টিবডির জারিজুরি। ল্যাবরেটরিতে কিংবা হাসপাতালে দৈবাৎ কিছু ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটত যার ব্যাখ্যা অ্যান্টিবডির ধারনা ব্যবহার করে দেয়া সম্ভব হতোনা, তখন তারা ভেবে নিতো যে হয়তো অ্যান্টিবডি নিয়েই এখনো অনেক কিছু জানেন না তাই ব্যাখ্যা দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা। তবে ১৯৫০ সালের দিকে ব্যতিক্রমের সংখ্যা এত বেড়ে গেল যে আর উপেক্ষা করা গেলনা। যেমন একজনের অঙ্গ আরেক জনের দেহে প্রতিস্থাপনের কথাই ধরা যাক। অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সময় দাতা এবং গ্রহীতার মধ্যে রক্তের গ্রুপ সহ কিছু ইমিউনোলজিক্যাল ফ্যাক্টরের মিল না থাকলে গ্রহীতার দেহ প্রতিস্থাপনটি গ্রহণ করতে পারেনা। প্রতিস্থাপিত টিস্যু কিংবা অঙ্গ যখন শরীর গ্রহণ করতে পারেনা তখন সেই দেহকলাকে বহিরাগত ভেবে নিয়ে তার বিপরীতে সুনির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি তৈরি হয়।…
বিস্তারিত পড়ুন ...

বর্তমান থেকে অতীত ও ভবিষ্যতে চলে যাওয়া মন

পার্কিং জোনে গাড়ি পার্ক করতে গিয়ে আপনি বুঝতে পারলেন আপনি কোথা থেকে এসেছেন তা আপনি মনে করতে পারছেন না। বইয়ের শেষ পৃষ্ঠায় এসে আপনি এতক্ষণ ধরে কী পড়ছেন তা হয়তো ভুলে গেলেন। একজন মানুষের সাথে কথা বলতে বলতে একসময় আপনি খেয়াল করলেন এতক্ষন ধরে আপনি কী বলছিলেন তা সব ভুলে গিয়েছেন। এসবই বিক্ষিপ্ত মনের লক্ষণ! কোন কিছু পড়ার সময় আপনি হয়তো ভাবছেন পরবর্তী ছুটির কথা। কারো সাথে কথা বলার সময় হয়তো ভাবছেন গতরাতে বান্ধবীর সাথে যে ঝগড়া হয়েছিলো সে ব্যাপারে। আপনার মন হয়তো কখনও ভবিষ্যতে আবার কখনও অতীতে ঘোরাফেরা করে। আপনার সে চিন্তা সুখের হোক কিংবা যন্ত্রণার হোক তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো আপনি বর্তমান থেকে বিচ্যুত হয়ে গিয়েছেন । আপনি প্রতি মুহূর্তে জীবন যাপনে ব্যর্থ হচ্ছেন। আর আপনার মন…
বিস্তারিত পড়ুন ...

এইডস থেকে মুক্তি

এইডস একটি প্রাণঘাতী মরণব্যাধি এ কথা কম বেশি সবার জানা। এর প্রতিষেধক আজও বিজ্ঞানীদের অজানা। প্রতিষেধক না থাকার কারণে এই রোগ থেকে সম্পূর্ণ মুক্তিলাভ আপাতদৃষ্টিতে সম্ভব নয়। তবে পুরো বিশ্বকে চমকে দিয়ে টিমোথি ব্রাউন নামের এইচআইভি আক্রান্ত এক ব্যক্তি সম্পূর্ণরূপে রোগমুক্ত হয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের কাছে তিনি “বার্লিন রোগী” নামে পরিচিত। দীর্ঘ ১১ বছর এইচআইভি নিয়ে বসবাস করার পর ব্রাউন জানতে পারেন তিনি অ্যাকিউট মায়োলয়েড লিউকেমিয়ায় (অস্থিমজ্জার ক্যান্সার)আক্রান্ত (উল্লেখ্য এইচ আইভির সাথে লিউকেমিয়ার কোন যোগসূত্র নেই)। লিউকেমিয়ার চিকিৎসায় কেমোথেরাপি যখন ব্যর্থ হল তখন ব্রাউনের দেহে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন করা হল। এ অবস্থায় চিকিৎসকেরা ব্রাউনকে অ্যান্টিরেট্রোভিয়াল ড্রাগ (এইডসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ঔষুধ) দেয়া বন্ধ করে দিল। সাধারণভাবে এইচআইভি আক্রান্ত রোগী যদি এই ড্রাগ নেয়া বন্ধ করে দেয় তবে ৭দিনেই রোগীর শরীরে উচ্চমাত্রায় ভাইরাসের উপস্থিতি লক্ষ্য…
বিস্তারিত পড়ুন ...

স্মৃতি কিভাবে তৈরি হয়?

পড়া কেন মনে থাকে না? স্মরণশক্তিটা যদি আরেকটু ভালো হতো? আহা লোকটার নাম ভুলে গেলাম? বাড়ির ঠিকানাটা যেন কি ছিলো? স্মৃতি নিয়ে আমাদের অভিযোগের শেষ নেই। তবে বিভিন্ন তথ্য মনে রাখতে পারি জন্যেই আমরা দৈনন্দিন কাজ করতে পারি। নাইলে কবেই সব ভেস্তে যেত। তথ্য মনে রাখার প্রক্রিয়াটা কি ধরণের? আমরা কি মাথার কোটরের মধ্যে একেকটা তথ্য গুঁজে রাখি? মস্তিষ্ক কি একটা ফাইল কেবিনেটের মতো যার একেকটা ড্রয়ারে একেকটা তথ্য স্মৃতি হিসেবে জমা হয়? স্নায়ুবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে মস্তিষ্কে স্মৃতি জমা রাখার প্রক্রিয়াটা ভিন্ন ধরনের। আসলে জীবনের ঘটনাবহুল স্মৃতিগুলোর টুকরো টুকরো অংশ মস্তিষ্কের একেক জায়গার স্নায়ুসংযোগে জমা থাকে। আমরা যখন মনে করার চেষ্টা করি, তখন এই বিচ্ছিন্ন অংশগুলো জোড়া লেগে একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র আমাদের মনের জানালায় ভেসে উঠে। মস্তিষ্কে অজস্র স্নায়ু…
বিস্তারিত পড়ুন ...

ফাইনম্যান ডায়াগ্রাম

রিচার্ড ফিলিপ্‌স ফাইনম্যান, বিংশ শতাব্দীর একজন অন্যতম তাত্ত্বিক পদার্থবিদ। নোবেলজয়ী এই বিজ্ঞানী কোয়ান্টাম বলবিদ্যার উন্নয়নে রেখেছেন অসামান্য ভূমিকা। অসাধারণ ছিল তাঁর ব্যক্তিত্ব। তাঁকে আখ্যা দেওয়া হয়েছে 'The Great Explainer’ হিসেবে। তাঁর একটা বিশেষ গুণ ছিল, খুবই জটিল তাত্ত্বিক বিষয়কে সহজে বোঝাতে পারতেন, সহজে অনুভব করানোর জন্য বের করতেন চমৎকার বিভিন্ন টেকনিক। অতিপারমাণবিক কণার আচরণ এবং মিথস্ক্রিয়ার জটিল গাণিতিক সমীকরণকে খুব সহজে প্রকাশ করার একটি চিত্রিত পদ্ধতি বের করেন তিনি। নাম দেওয়া হয় ফাইনম্যান ডায়াগ্রাম। কণা পদার্থবিদ্যায় খুব কম জিনিসই আছে যা ফাইনম্যান ডায়াগ্রামের মত নামকরা এবং জনপ্রিয়। কণা পদার্থবিদদের চকবোর্ডে জটিল হিজিবিজি সব সমীকরণগুলোর পাশে ফাইনম্যান ডায়াগ্রাম নামের এই ছোট আঁকাবাঁকা রেখাচিত্রগুলো হরহামেশাই দেখা দেয়। আচ্ছা, পাঠকদের মধ্যে আপনারা যারা উচ্চ মাধ্যমিকে আছেন তারা কি কোন ধরনের ডায়াগ্রাম পাঠ্যবইতে দেখেছেন…
বিস্তারিত পড়ুন ...