উদ্বোধনী অধিবেশন

সম্প্রতি (৪ ও ৫ জানুয়ারি, ২০১৩) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো দক্ষিণ এশিয়ার পানি সম্পদ: বিরোধ থেকে সহযোগিতা শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন। এর মূল আয়োজক ছিলো বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্ট নেটওয়ার্ক (বেন)।

এই সম্মেলনের লক্ষ্য ছিলো- গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকার দেশ সমূহের পানি সম্পদ উন্নয়ন কার্যক্রম, তার পেছনে কার্যকর মূল নীতি দর্শন ও কাজের প্রক্রিয়ার অভিজ্ঞতাসমূহ নিরীক্ষণ, এই এলাকার বিদ্যমান পানি উন্নয়ন সমস্যা, বিস্তৃত অববাহিকা ভিত্তিক নদী দৃষ্টিভঙ্গি ও বহুমুখী সহযোগিতার সম্ভাবনা বিষয়ে অববাহিকা অঞ্চল ও আন্তর্জাতিক মন্ডলের জনগণকে সচেতন করা এবং বিদ্যমান মতামত ও ধারণা সমূহের খোলামেলা আদান প্রদান, বিশেষজ্ঞ ও কর্মীদের মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি।

আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে দেশের অন্যতম বিজ্ঞান সংগঠন অনুসন্ধিৎসু চক্র এসোসিয়েট আয়োজক হিসেবে কাজ করেছে। সম্মেলনে দুই ধরনের অধিবেশন ছিলো: বিশেষজ্ঞদের সভা এবং পরিবেশ কর্মী ও সাধারণ মানুষের সভা। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে চক্রের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্টের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় রিভারসাইটের অধ্যাপক ড.দীপেন ভট্টাচার্য  ‘The future role of sedimentation in the response of Bengal/Bangladesh delta to sea level rise ‘  শীর্ষক গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন। একই দিনে পানি সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা শীর্ষক বিশেষজ্ঞ সেশনে অনুসন্ধিৎসু চক্রের পক্ষ থেকে নিম্নলিখিত গবেষণাপত্র উপস্থাপিত হয়।

Space Based Monitoring to Understand River Systems :  A Case Study of Buriganga River

সংগঠনের পক্ষে পেপার উপস্থাপন করেন সদস্য নিয়াজ মোর্শেদ। আর সেশনটিতে সভাপতিত্ব করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ

গবেষণার সারাংশটি পাঠকের সুবিধার্থে বাংলাতে এখানে দেয়া হলো-

প্রতিবেশগত সংবেদনশীল এলাকাসমূহের স্পেস (Space) ভিত্তিক পর্যবেক্ষণ বা তত্ত্বাবধায়ন ব্যবস্থা জলবায়ু পরিবর্তন ও দ্রুত নগরায়নের বর্তমান সময়কালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। নগরায়ন – অপরিকল্পিত ভূমি ব্যবহারের প্রভাব সনাক্ত করণে আলোচ্য গবেষণায় আমরা স্যাটেলাইটে প্রাপ্ত তথ্য ও জিআইএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে বুড়িগঙ্গা নদীকে একটি কেস স্টাডি হিসেবে নিয়েছি । এতে দেখা যাচ্ছে- ১৯৭৩ হতে ২০১১ সালের মধ্যকার সময়ের মধ্যে শতকরা ৫০ ভাগ নদীর পানির প্রবাহ হ্রাস পেয়েছে। উক্ত সময়ে ১৫০০ হেক্টর নদী এলাকা বিভিন্ন ধরনের স্থল স্থাপনায় রূপান্তরিত হয়েছে। এছাড়া উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কৃষিজমি নগরায়িত হয়ে গেছে। প্রাপ্ত তথ্যে হতে ধারণা করা যাচ্ছে যে, অপ্রশমিত ও ধারাবাহিকভাবে  নদী এলাকা ও নদীর পানির প্রবাহ হ্রাস হওয়ার ফলে ঢাকা মহানগরীর প্রতিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বুড়িগঙ্গা নদীর ভূমিকা এখন সঙ্কটাপন্ন।

উপরে বর্ণিত কাজটি সম্পর্কে আরো জানতে চাইলে আগ্রহী যেকেউ অনুসন্ধিৎসু চক্রের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন: achokro@gmail.com।

ফেসবুকে আপনার মতামত জানান

মন্তব্যসমূহ

  1. আরাফাত রহমান Reply

    ধন্যবাদ খবরটা এখানে পাঠকদের সাথে শেয়ার করার জন্যে। এই কাজটি কোথাও প্রকাশিত হয়ে গেলে বিজ্ঞানব্লগের পাঠকদের জন্য সহজ করে বর্ণনা করা যেতে পারে।

আপনার মতামত