City Montessori School ভারতের উত্তর প্রদেশের রাজধানী লাখনৌ শহরে অবস্থিত Guinness World Records অনুসারে শিক্ষার্থী সংখ্যার দিক দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্কুল। এই স্কুলটি প্রতিবছর প্রায় ৩২টি International Educational Event এর আয়োজন করে যার একটি হল “International Festival Of Biotechnology QUEST – 2013 ” । ২০০৯ থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজন হয় প্রতি ২ বছর অন্তর অন্তর। সেই হিসেবে ২০১৩ সালে বসেছিল এর ৩য় আসর। City Montessori School(CMS) Rajendra Nagar Campus-1 এর আয়োজনে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয় ৩ থেকে ৬ অগাস্ট, ২০১৩ CMS World Unity Convention Center, Lucknow, India তে।

Biotechnology’র এই মহা আয়োজনে বাংলাদেশসহ অংশ নিয়েছিল বিশ্বের মোট ৬টি দেশ। যার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ৫টি, রাশিয়া থেকে ৩টি, জর্ডান থেকে ১টি, শ্রীলঙ্কা থেকে ২টি, নেপাল থেকে ২টি এবং ভারত থেকে ৫৫টি সহ মোট ৬৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছিল।

বাংলাদেশ থেকে অংশ নেওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হলঃ ১। ঢাকা কলেজ, ২। নটরডেম কলেজ, ৩। সেন্ট গ্রেগরি উচ্চ বিদ্যালয়, ৪। মাস্টারমাইন্ড স্কুল এবং ৫। সেন্ট জোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। আর জৈবপ্রযুক্তির মহাউৎসবের এই আসরে বাংলাদেশের সব দলই পেয়েছে সাফল্য ।

উৎসব শুরু ৩ অগাস্ট। কিন্তু প্রতিযোগীদের উপস্থিত হওয়ার সময় ছিল ২ অগাস্ট।  তাই আমি সহ ঢাকা কলেজ থেকে মোট ৪ জনের একটি দল প্রথমে ঢাকা থেকে কোলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেই ৩০ জুলাই, ২০১৩ সকালে। দলটির সদস্যরা হল – খন্দকার আবদুল্লাহ আল – তাহমীদ , মোঃ আহনাফ হাসান অর্ণব , আহরাফ শরীফ উচ্ছ্বাস এবং অর্ণব বণিক ।

সারাদিন বাস ভ্রমন শেষে আমরা কোলকাতা শহরে পৌঁছাই ঐদিন রাতে। এরপর পরেরদিন কোলকাতা শহর ঘুরে ১ অগাস্ট রাত ৮টায় উপমহাদেশের বিখ্যাত রেলওয়ে ষ্টেশন হাওড়া রেলওয়ে থেকে লাখনৌ’র উদ্দেশ্যে ট্রেনে উঠি। আমাদের ট্রেন ভ্রমনের সময় ছিল ২২ ঘণ্টা। হ্যাঁ! শুনলে আসলেই ভয় লাগে যে কীভাবে এতক্ষন ধরে টানা ভ্রমন করব। কিন্তু আমাদের ২২ ঘণ্টার দীর্ঘ ভ্রমন ঘুম, আড্ডা আর ছবি তোলার মাঝেই কেটে গিয়েছিল। আমাদের ট্রেন লাখনৌ’র “চারবাগ রেলওয়ে ষ্টেশন” এ পৌঁছায় পরদিন অর্থাৎ ২ অগাস্ট সন্ধ্যা ৬.৩০ মিনিটে। ষ্টেশনে আগে থেকেই CMS এর গাড়ি ও লোক পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমরা ষ্টেশনে নামামাত্র আমাদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ এবং দলগত ছবি তোলা হয়। এরপর আমাদের নিয়ে যাওয়া হয় উৎসবের মূল ভেন্যু CMS World  Unity Convention Center (WUCC)  এ।
রাতে খাওয়া-দাওয়া আর ক্যাম্পাস ঘুরে দেখার পর ঘুমিয়ে পড়লাম সবাই।

পরদিন অর্থাৎ ৩ অগাস্ট , ২০১৩ সকাল ৭ টার মধ্যে ঘুম থেকে উঠতে হল। কারণ ৭.৪৫ এর মধ্যেই ব্রেকফাস্ট করতে হবে। মূল অনুষ্ঠান শুরু হল সকাল ৮ টায়। সময়মত হাজির হলাম WUCC মিলনায়তন এ এবং নির্ধারিত আসন গ্রহণ করলাম। সকাল ১০টা পর্যন্ত বিভিন্ন শিক্ষামূলক চলচ্চিত্র এবং 2011 QUEST এর কিছু ভিডিও ক্লিপ দেখানো হল। এরপর শুরু হল ওরিয়েন্টেশন সেমিনার যেখানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের বিখ্যাত কয়েকজন বিজ্ঞানী যারা গবেষণা করছেন জৈবপ্রযুক্তি নিয়ে।

দুপুরে লাঞ্চ ব্রেকের পর সকল প্রতিযোগীদের নিয়ে প্রেস কনফারেন্স ও গ্রুপ ফটোসেশন হল। এরপর শুরু হল সিনিয়র গ্রুপের প্রথম ইভেন্ট কুইজ এর লিখিত রাউণ্ড। ৩০ মিনিটের লিখিত পরীক্ষা হল ক্যাম্পাস এর সেমিনার হলে। এরপর বিকালে ভারতের উত্তর প্রদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী জনাব অভিষেক মিশরা ও CMS এর Founder Manager জনাব জগদীশ গান্ধী’র উপস্থিতিতে উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হল WUCC মিলনায়তন এ।

পরদিন অর্থাৎ ৪ অগাস্ট সকালে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলনের পর শুরু হল সিনিয়র গ্রুপের ২য় ইভেন্ট বিতর্ক প্রতিযোগিতা। বিষয় ছিল “Bio-based Economy is the only hope for a better tomorrow” । WUCC মিলনায়তনে বিতর্ক চলাকালীন সময়ে সেমিনার হলে শুরু হয়ে গিয়েছিল জুনিয়র গ্রুপের ১ম ইভেন্ট Collage Making । যার বিষয় ছিল  “Biomedical Enhancements” ।দুপুরে খাবারের বিরতির আগ পর্যন্ত চলল এই দুইটি ইভেন্ট। খাবারের বিরতির পর পর শুরু হল আরও দুইটি ইভেন্ট- সিনিয়র গ্রুপের “Power Point Presentation” ও জুনিয়র গ্রুপের  “Just A Minute”। এরপর ঐদিন আর কোন অনুষ্ঠান ছিল না বলে বিকালে CMS এর নিজস্ব গাড়ি করে আমাদের নিয়ে যাওয়া হল একটি শপিং মলে। পুরো শপিং মল ঘুরে, কেনাকাটা করে CMS ক্যাম্পাসে ফিরলাম রাত সাড়ে ৮ টার দিকে। এরপর ডাইনিং হলে গিয়ে ডিনার শেষে ফিরলাম গেস্ট হাউজে। রাত ১২ টায় সকল প্রতিযোগী বন্ধু মিলে উদযাপন করি ‘বন্ধু উৎসব’ ।
উৎসবের চতুর্থ দিন অর্থাৎ ৫ অগাস্ট, ২০১৩ এ মোট ৫টি ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। সিনিয়র গ্রুপের ইভেন্ট Turn Coat  বিষয় ছিল  “It is right to use Biomedical Technologies to make us better” এবং Fabrication Model Making  বিষয়ঃ “Towards A Better Tomorrow”।
জুনিয়র গ্রুপের ইভেন্টগুলো হল Creative Writing, E-Painting বিষয়ঃ  “Biotechnology- The Future of Tomorrow” এবং  Transom বিষয়ঃ “How to fuel the civilization of tomorrow” । সারাদিন প্রতিযোগিতা শেষে সন্ধ্যায় আয়োজন করা হয় এক বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের যেখানে কেবল উৎসবের প্রতিযোগীরাই অংশ নেয়। এই আয়োজনটি ছিল আমাদের জন্য অনেক উপভোগ্য ও মজার একটি অনুষ্ঠান। এছাড়াও এই আয়োজনে তুলে ধরা হয় ভারতের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ।
৬ অগাস্ট ৫ম দিন ছিল উৎসবের শেষ দিন। শেষ দিনের প্রথম অংশে অনুষ্ঠিত হয় কুইজ এর ফাইনাল রাউণ্ড এবং প্রতিযোগীদের আয়োজন সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানানোর পর্ব। এরপর দিনের শেষ ভাগে পুরষ্কার বিতরণী ও বিদায়ী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ৫ দিনের জৈবপ্রযুক্তির এই মহাউৎসব। শেষ হল একটি অধ্যায়ের ।আর এগিয়ে আসতে থাকে ২০১৫ আসরের সময় ।

এক নজরে QUEST 2013
মূল উৎসব- ৩ থেকে ৬ অগাস্ট, ২০১৩
উৎসব ভেন্যু- World Unity Convention Center, City Montessori School, Lucknow,                                      Uttar Pradesh, India
অংশগ্রহণকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাঃ-
আন্তর্জাতিক- ১৩টি
জাতীয় (ভারত)- ৩৭টি
স্থানীয় (লাখনৌ)- ১৮টি
সর্বমোট – ৬৮টি
অংশগ্রহণকারী দেশঃ- ৬টি- ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, রাশিয়া, জর্ডান ও শ্রীলঙ্কা।
চ্যাম্পিয়নঃ- সিনিয়র গ্রুপ- The Jubilee School, Jordan
জুনিয়র গ্রুপ- SGGJ Model School, Rajouri, Jammu & Kashmir
বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাপ্ত পুরষ্কারঃ-
ঢাকা কলেজ- Most Versatile Team
সেন্ট গ্রেগরি উচ্চ বিদ্যালয়- Most Creative Team
নটরডেম কলেজ- Fabrication Model Making (2nd)
সেন্ট জোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়- Quiz (3rd)
মাস্টারমাইন্ড স্কুল-Turn Coat

লেখক-
খন্দকার আবদুল্লাহ আল – তাহমীদ
দ্বাদশ শ্রেণী , ঢাকা কলেজ
সম্পাদক , পরিবেশ ও জলবায়ু ডেস্ক , জিরো টু ইনফিনিটি
সহযোগী সম্পাদক , মহাকাশ বার্তা , বাংলাদেশ এস্ট্রোনোমিকাল এসোসিয়েশন
ফেসবুক- sakif33@facebook.com
ই-মেইল- tahmid_sakif@yahoo.com

ফেসবুকে আপনার মতামত জানান

মন্তব্যসমূহ

  1. রুহশান আহমেদ Reply

    যদিও পত্রিকাতেই খবরটা পড়া হয়েছে তবুও বিজ্ঞানব্লগে এই নিয়ে একটা পোস্ট আসলেই দরকার ছিল।
    শুভকামনা প্রতিযোগীদের এবং সেই সাথে লেখককে।

আপনার মতামত