পৃথিবীতে প্রাণের উদ্ভব হলো কি করে এই প্রশ্নটা যুগের পর যুগ ধরে মানুষকে আলোড়িত করে আসছে। বিভিন্ন লোকসংস্কৃতি, ধর্ম ও পুরাণ এই প্রশ্নের উত্তর দিতে চেয়েছে নানা ভাবে। বিজ্ঞানও এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বেশ কিছু তত্ত্ব দাঁড়া করিয়েছে, যাদের মধ্যে কোন কোনটা আবার কল্পবিজ্ঞানের মতোই শোনাবে। বিজ্ঞান ও কল্পবিজ্ঞানের সীমারেখায় দাঁড়িয়ে থাকা এমন একটি তত্ত্ব হলো প্যান্সপারমিয়া। প্যান্সপারমিয়ার মূল বক্তব্য হলো প্রাণের উদ্ভব পৃথিবীতে হয় নি। মহাবিশ্বের অন্য কোথাও প্রাণের উদ্ভব হয়েছে। উল্কা, ধূমকেতু কিংবা গ্রহাণুরা এই প্রাণ পৃথিবীতে বহন করে নিয়ে এসেছে। প্রথম দর্শনে প্যান্সপারমিয়া তত্ত্বটিকে কোন উর্বর মস্তিষ্কের লাগামহীন কল্পনা বলে মনে হতে পারে। তবে বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণমূলক সাক্ষ্যপ্রমাণ ইঙ্গিত দেয় যে প্যান্সপারমিয়া বিজ্ঞানের গন্ডী পেরিয়ে যায় নি।

পৃথিবীতে প্রথম প্রাণের প্রমাণ পাওয়া যায় ৩৫০-৩৮০ কোটি বছর আগের মাইক্রোফসিল রেকর্ড হতে। এই মাইক্রোফসিল রেকর্ড হচ্ছে এককোষী অণুজীবের, যাদের সরাসরি উত্তরসূরী আজকের নানা রকমের ব্যাক্টেরিয়া ও আর্কিয়ারা। এই সময়ের আগে পৃথিবীর উপর মহাকাশ থেকে ভয়াবহ গোলাবর্ষণ চলেছিলো বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন। না, ভিনগ্রহের প্রাণীরা নয়, এই গোলাবর্ষণ ছিলো আসলে মুষলধারে বৃষ্টির মতো পড়তে থাকা অজস্র উল্কার পতন। এই উল্কাবৃষ্টির শেষের সময়ের সাথে পৃথিবীতে প্রথম প্রাণের উদ্ভবের সময়টা মিলে যায়। ব্যাপক উল্কাবৃষ্টির যুগ ও প্রাণের উদ্ভবের সময় মিলে যাওয়ার এই উপপত্তি (Argument) তাই প্যান্সপারমিয়াকে একটি যৌক্তিক ভিত্তি দেয়। তাছাড়া এই উল্কাপাত যুগের আগে যদি পৃথিবীতে প্রাণ থেকেও থাকে, এ রকম দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকা ভয়াবহ উল্কাবৃষ্টির ফলে তা বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার কথা। এই বক্তব্যও প্যান্সপারমিয়াকেই সমর্থন করে।

নাসা কিছু উল্কাপিন্ডে নিউক্লিক-এসিড ক্ষারের উপস্থিতি পেয়েছে। নিউক্লিক-এসিড ক্ষার হলো বংশগতীয় উপাদান – ডিএনএ ও আরএনএ-র অন্যতম গাঠনিক একক। বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন।

মহাবিশ্বের অন্য কোথাও প্রাণের উদ্ভব হতে হলে অবশ্যই অন্য কোন গ্রহে প্রাণের উপযোগী পরিবেশ থাকতে হবে। সেখান থেকে মহাজাগতিক পথ পাড়ি দিয়ে পৃথিবীতে প্রাণ আসতে হলে সেই প্রাণকে অবশ্যই মহাশূণ্যের পরিবেশে টিকে থাকতে হবে। বলাবাহুল্য, পৃথিবীতে প্রাণের যে বিচিত্র সমাহারের যে অংশের সাথে আমরা পরিচিত তারা কখনোই মহাশূণ্যের পরিবেশে টিকে থাকতে পারবে না। তবে এই পৃথিবীতেই এমন সব জীব আছে যারা খুব কঠিন পরিবেশের মধ্যেও বেঁচে থাকতে পারে। কিছু কিছু ব্যাক্টেরিয়া ১১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও বংশবৃদ্ধি করতে পারে। আবার এমন কিছু ব্যাক্টেরিয়া আছে যারা শূণ্যের নিচে -১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেও বেঁচে থাকতে পারে। এরকম অনেক ব্যাক্টেরিয়াকে তরল নাইট্রোজেনের -১৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করে রাখা যায়। এরা অনেকেই আয়নিত কিংবা অতিবেগুনী রশ্মির বিকিরণ, অত্যাধিক চাপ সহ্য করতে পারে। এসব পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী বলা কঠিন সুনির্দিষ্টভাবে ঠিক কোন পরিবেশ জীবনের জন্য উপযুক্ত। তাই আমরা দাবী করতে পারি না যে শুধুমাত্র পৃথিবীতেই প্রাণের উপযুক্ত পরিবেশ আছে।

পৃথিবীর বাইরে মহাবিশ্বে পানির উপস্থিতি এই মতবাদকে শক্তিশালী করে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন মঙ্গলে একসময় পানির উপস্থিতি ছিলো। মঙ্গলের দুই মেরুতে জমাট বাঁধা বরফের অস্তিত্ব রয়েছে। বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপায় সম্ভবত ভূগর্ভস্থ সাগর রয়েছে। তাই ইউরোপায় প্রাণের সম্ভাবনা নিয়ে অনেক বিজ্ঞানীই খুবই উৎসাহী। তবে পানি থাকলেই যে প্রাণের উপস্থিতি থাকবে এই ধরনের কার্যকারণ প্রয়োগের ক্ষেত্রে আমাদের সতর্ক থাকাই উত্তম।

পানির মতোই জৈবযৌগও মহাবিশ্বে অপ্রতুল নয়। আমরা জানি, জৈবযৌগ হলো সে সকল রাসায়নিক পদার্থ যারা কার্বন কার্বন শেকল দিয়ে গড়ে ওঠে। পৃথিবীর যাবতীয় জীবন জৈবযৌগ দিয়ে গঠিত। পৃথিবীতে পতিত হওয়া বিভিন্ন উল্কাপিন্ডে বিভিন্ন ধরনের জৈবযৌগের উপস্থিতি লক্ষ্যনীয়। এদের মধ্যে আছে বিভিন্ন অ্যামিনো এসিড। অ্যামিনো এসিড হলো প্রোটিন তৈরির একক। আর বিভিন্ন জীবিত কোষে এই প্রোটিনই হলো জীবনের প্রাথমিক কার্যকরী ও গাঠনিক উপাদান। বিভিন্ন উল্কাতে কার্বন-ভিত্তিক রাসায়নিক যৌগের উপস্থিতি প্যান্সপারমিয়ার মূল বক্তব্যকে সমর্থন করে। তবে এখানে একটা বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন। পৃথিবীতে প্রাণ জৈবযৌগ দিয়ে গঠিত হলেও শুধু জৈবযৌগকে কিন্তু প্রাণ বলে গণ্য করা হয় না। যেমন পেট্রোলিয়াম জৈবযৌগ হলেও কেউ বলবে না পেট্রোলিয়াম নিজে প্রাণ।

আর মহাকাশের অন্যত্র যদি প্রাণ থেকেই থাকে প্যান্সপারমিয়া তত্ত্বের পক্ষে ওকালতি যারা করবেন তাদের ব্যখ্যা দিতে হবে যে ঠিক কিভাবে সে প্রাণ পৃথিবীতে এসে পৌঁছলো। একটা ব্যাখ্যা অনুযায়ী ব্যাক্টেরিয়ার স্পোর প্রাণের প্রথম বীজ হিসেবে পৃথিবীর বুকে আসতে পারে। স্পোর হলো ব্যাক্টেরিয়ার একটি বিশেষ কোষীয় দশা, যেখানে তারা কোনরকম পুষ্টির যোগান ছাড়াই সুপ্ত অবস্থায় টিকে থাকে। এসময় ব্যাক্টেরিয়ার স্বাভাবিক কোষীয় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পৃথিবীতে জৈব-পদার্থের এক-তৃতীয়াংশই ব্যাক্টেরিয়া দিয়ে গঠিত। আগে ভাবা হতো চরম পরিবেশে কোন প্রাণীই বেঁচে থাকতে পারে না। কিন্তু বিভিন্ন ব্যাক্টেরিয়াদের দেখা গেছে খুব চরম পরিবেশেও মানিয়ে নিতে পারে বেশ ভালো ভাবেই। প্রশ্ন হলো — পৃথিবীর প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকলেও কি ব্যাক্টেরিয়া বা ব্যাক্টেরিয়ার স্পোর মহাকাশে টিকে থাকতে পারবে?

এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য জার্মান এরোস্পেস সেন্টারে কিছু বিজ্ঞানী রাশিয়ান ফোটন স্যাটেলাইটকে কেন্দ্র করে কিছু পরীক্ষার পরিকল্পনা করেন। তারা ব্যাক্টেরিয়ার স্পোরকে কর্দম কণার সাথে মেশান। এই কণা ছিলো লাল বেলেপাথরের, যা অনেকটা মঙ্গলের মাটির অনুরূপ। এ থেকে এক সেন্টিমিটার ব্যাসের ছোট ছোট দলা পাকানো হলো। এই দলাগুলোকে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পৃথিবীর বাইরে পাঠানো হলো। দুই সপ্তাহ পর বিজ্ঞানীরা এদেরকে পরীক্ষা করে দেখলেন, বেলে মাটির সাথে মিশে থাকা প্রায় সব স্পোরই টিকে থাকতে পেরেছে। আরেকটি পরীক্ষায় দেখা যায় বহির্জগতের অতিবেগুণী রশ্মি থেকে নিরাপদে রাখা গেলে ব্যাক্টেরিয়ার স্পোর মহাকাশের প্রতিকূল পরিবেশে ছয় বছর পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। ধূমকেতু কিংবা উল্কার পক্ষে এ ধরনের নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব।

এ গবেষণাগুলো প্যান্সপারমিয়ার পক্ষে আশা উসকিয়ে দিলেও মনে রাখা উচিত আন্তঃগ্রহ দূরত্ব অনেক দীর্ঘ। ব্যাক্টেরিয়ার স্পোর উল্কা কিংবা ধূমকেতুর মাধ্যমে কোন নতুন গ্রহে এসে পড়ার আগে তাদের লক্ষাধিক বছর ধরে ভ্রমণ করতে হতে পারে। তবে ফসিল হয়ে যাওয়া গাছের রেজনে আটকে পড়া বর্তমানে বিলুপ্ত এক প্রজাতীর মৌমাছির তলপেট থেকে, কিংবা পার্মিয়ান যুগের লবণ-স্ফটিক থেকে ব্যাক্টেরিয়ার স্পোর সংগ্রহের মতো কিছু আগ্রহোদ্দীপক গবেষণা থেকে দেখা যায় ব্যাক্টেরিয়ার স্পোর অন্তত ২৫ কোটি বছর পরেও কার্যকর থাকতে পারে। সে হিসেবে বহির্জগত থেকে ব্যাক্টেরিয়ার স্পোর পৃথিবীতে আসার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেয়া যায় না।

ব্যাক্টেরিয়ার স্পোর সত্যিই মহাবিশ্বে ঘুরে বেড়াচ্ছে কি না এটাও খুঁজছেন কিছু গবেষকদল। যেমন হ্যালীর ধূমকেতু নিয়ে একটি গবেষণার কথা জানা যাক। হ্যালীর ধূমকেতু সূর্যের কাছাকাছি যাওয়ার সময় ধূমকেতুর ধূলিকণা থেকে বিচ্ছুরিত তাপীয় বিকিরণ পর্যবেক্ষণ করা হলো। এই তাপীয় বিকিরণের ছাঁদ ব্যক্টেরিয়াকে উত্তপ্ত করলে যে ধরণের বিকিরণ পাওয়া যাবে তার সাথে পুরোপুরি মিলে যায়! কেবল ব্যাক্টেরিয়া ছাড়া অন্য কোন পদার্থ ওই ছাঁদের বিকিরণ দেয় না। প্রচুর ভৌগলিক প্রমাণ সাক্ষী দেয় যে ধূমকেতু বহুবার পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে আছড়ে পড়েছে। উল্লিখিত গবেষণা থেকে অবশ্য দাবী করা যায় না পৃথিবীতে প্রাণ বাইরে থেকেই এসেছে। তবে আমাদের গ্যালাক্সীতে ভাসমান ব্যাক্টেরিয়া থাকার সম্ভাবনা উসকে দিচ্ছে এই গবেষণা।

প্যান্সপারমিয়া তত্ত্ব যদিও বলে যে পৃথিবীতে প্রাণ বহির্বিশ্ব থেকে এসেছে, কিন্তু সেই বহির্জগতে প্রাণের উদ্ভব সম্পর্কে তত্ত্বটি কিছু বলতে পারে না। প্যান্সপারমিয়া প্রমাণ করা অত্যন্ত কঠিন। তারো চেয়ে কঠিন বহির্জগতে সেই প্রাণের উদ্ভব কিভাবে হলো তার ব্যাখ্যা দেয়া। পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথাও এখনো প্রাণের উপস্থিতি দেখা যায় নি। তবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে নতুন পাওয়া বাস্তবতা অনুসারে আমাদের বিভিন্ন ধারণাতে পরিবর্তন আনতেই হবে। প্রাণের উদ্ভব আর এই মহাবিশ্বের উদ্ভব কিভাবে হলো, এই দুইটি প্রশ্ন সম্ভবত আরো বহুদিন মানুষকে জ্বালিয়ে যাবে।

সোনালী এস. জোসি কর্তৃক লিখিত Origin Of Life: The Panspermia Theory লেখাটির অনুবাদ।

লিখেছেন আরাফাত রহমান

অণুজীববিজ্ঞানের ছাত্র ছিলাম, বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, রিভারসাইড-এ পিএইচডি শিক্ষার্থী। যুক্ত আছি বায়ো-বায়ো-১ ও অনুসন্ধিৎসু চক্র বিজ্ঞান সংগঠনের সঙ্গে। আমার প্রকাশিত বই "মস্তিষ্ক, ঘুম ও স্বপ্ন" (প্রকৃতি পরিচয়, ২০১৫) ও "প্রাণের বিজ্ঞান" (প্রকৃতি পরিচয়, ২০১৭)।

আরাফাত রহমান বিজ্ঞান ব্লগে সর্বমোট 67 টি পোস্ট করেছেন।

লেখকের সবগুলো পোস্ট দেখুন

মন্তব্যসমূহ

  1. bengalensis Reply

    গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে লিখেছ। প্রাণের উদ্ভবের অন্য মতবাদগুলো নিয়ে বাংলায় লেখা পাওয়া গেলেও প্যান্সপারমিয়া নিয়ে লেখা খুবই অপ্রতুল। অনেক কিছুই জানতে পারলাম।

    • আরাফাত রহমান Reply

      এটা আসলে ধূমকেতু বইয়ের একটা পার্ট হবার কথা। প্যান্সপারমিয়া নিয়ে আরো কিছু গবেষণামূলক কাজ হয়েছে। সেগুলো নিয়ে একটা রিভিউ লেখা যায়। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ 🙂 ।

  2. সৈয়দ মনজুর মোর্শেদ Reply

    প্যান্সপারমিয়া থিওরি সম্বন্ধে প্রথম জানলাম। ইন্টারেস্টিং থিওরি! এই থিওরি ঠিক ধরে নিলে যে প্রশ্নটা মুখ্য হয়ে উঠে সেটা হলো বহির্জগতের সেই প্রাণই বা সৃষ্টি হলো কিভাবে? তখন সেটার জন্যে আরেক থিওরি লাগবে!!

    • আরাফাত রহমান Reply

      শেষ পর্যন্ত যেই লাউ সেই কদু 🙂 … যেখানেই প্রাণ প্রথম উৎপন্ন হোক না কেন, সেটার উদ্ভবের জন্যে একটা সাধারণ থিউরী লাগবেই 🙂

  3. Prabir Acharjee Reply

    প্রাণের উদ্ভব আর এই মহাবিশ্বের উদ্ভব কিভাবে হলো, এই দুইটি প্রশ্ন সম্ভবত আরো বহুদিন মানুষকে জ্বালিয়ে যাবে।

  4. সিরাজাম মুনির শ্রাবণ Reply

    হুম যেই লাউ সেই কদু! প্রশ্ন থেকেই যায়, এমনকি গাণিতিক প্রমাণ সহকারে প্রতিষ্ঠিত তত্ত্বের মাঝেও। “মানা গেল মহাবিশ্বটা প্রসারিত হচ্ছে বেলুনের প্রসারণের মত। কিন্তু বেলুন তো বায়ুর মধ্যে প্রসারিত হচ্ছে – মহাবিশ্বটা তাহলে প্রসারিত হচ্ছে কিসে?” 😀

    লেখাটা ভাল লেগেছে। আর আমার কিছু জিজ্ঞাসা ছিল…
    বহির্বিশ্ব থেকে উল্কার গাঁয়ে করে প্রাণ এসেছে ধরে নেয়া হল, উল্কা যদি নক্ষত্রের বিস্ফোরণে সৃষ্টি হয়ে থাকে তবে ব্যাক্টেরিরা[আদি প্রাণ] এমন উত্তপ্ত পরিবেশে টিকে রইল!!

    “বহির্জগতের অতিবেগুণী রশ্মি থেকে নিরাপদে রাখা গেলে ব্যাক্টেরিয়ার স্পোর মহাকাশের প্রতিকূল পরিবেশে ছয় বছর পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে।”
    পৃথিবীতে প্রাণের আবির্ভাব হবার অনেক অনেক পরে পৃথিবীর চারিদিকে অতিবেগুনী রশ্মি শোষণ করার লেয়ার তৈরি হয়েছে। এর মানে প্রাণের আবির্ভাবের আগে অতিবেগুনী রশ্মি প্রতিরোধক স্তর ছিল না। এবং সেটা হাজার হাজার বছর স্থায়ী ছিল। তাহলে এমন পরিবেশে সে কিভাবে টিকে থাকল? O.o

    • সিরাজাম মুনির শ্রাবণ Reply

      একটা সমাধান ভেবে নিয়েছি- ধরে নেয়া যাক আদি প্রাণ ব্যাকটেরিয়া বিবর্তিত হয়েছিল এমন করে যেন আল্ট্রাভায়োলেটেও টিকে থাকতে পারে। তারপরও থেকে যায় প্রশ্ন। এর সম্ভাব্যতা কত? ব্যাকটেরিয়াল সিস্টেম কিভাবে আগে থেকে জেনে নিবে সে কোথায় যাবে না যাবে?

      সমস্যা থাকুক। প্রশ্ন থাকুক। না থাকলে বিজ্ঞানে মজা কমে যাবে। আমার সেটাই মনে হয়। অমীমাংসিত প্রশ্ন থেকেই বিজ্ঞানের উদ্ভব। প্রশ্নে প্রশ্নেই বিজ্ঞানের অগ্রগতি। 🙂

      • আরাফাত রহমান Reply

        কথাটা ভালোই বলেছো। নতুন প্রশ্ন আসুক। বিজ্ঞান এগিয়ে যাক। প্রশ্নে প্রশ্নেই বিজ্ঞানের অগ্রগতি।

  5. অনীক সামীউর রহমান Reply

    স্পেক্ট্রোস্কপিক ডাটা নিয়ে বক্তব্যটা মানতে পারলাম না। ধুমকেতুর মধ্যে এক পাঁজা জৈব অণু থাকে, সেগুলির মিশ্রণ আর ব্যাক্টেরিয়ার কলোনির স্পেক্ট্রোস্কপিক সিগনেচার এতই আলাদা? মনে হচ্ছে মূল লেখককে বলে এই নিয়ে লেখা মূল গবেষণা প্রবন্ধগুলি খুলে দেখতে হবে।

    • আরাফাত রহমান Reply

      ভালো পয়েন্ট। মূল লেখক জীববিজ্ঞানে পিএইচডি ধারী গবেষক, উনার অনেকগুলো পেপার দেখলাম। তাই এই জায়গায় দেয়া উনার তথ্য নির্ভরযোগ্য। তবে আগ্রহ থাকলে মূল গবেষণাপ্রবন্ধগুলো দেখা যেতেই পারে।

  6. রুহশান আবীর Reply

    ভালো লাগলো লেখাটা, অ্যাস্ট্রোবায়োলজি সম্ভবত এ ধরনের জিনিস নিয়েই নাড়াচাড়া করে, তাইনা?

    • আরাফাত রহমান Reply

      ঠিক ধরেছো। প্যান্সপারমিয়া ছাড়াও বহির্বিশ্বে জীবনের উৎপত্তি নিয়ে নাড়াচাড়া করে অ্যাস্ট্রোবায়োলজি। শ্রাবণের একটা লেখা ছিলো এ বিষয়ক: এস্ট্রোভাইরোলজি। লিঙ্ক: http://bigganblog.com/?p=3137।

আপনার মতামত