কন্টিনেন্টাল ড্রিফট (দ্বিতীয় পর্ব)

প্রথম পর্বের পর থেকে…

ভেগেনার তত্ত্ব দাড় করালেন এবং বললেন যে বহুকাল আগে সব মহাদেশ একত্রে মিলে একটি বড় মহাদেশ আকারে ছিল এবং তার নাম দিলেন ‘প্যানজিয়া’। বিজ্ঞানীদের অনুমান আজ থেকে প্রায় ৩০ কোটি বছর আগের অবস্থা সেটা। এই তিরিশ কোটি বছর আগেকার একটি মাত্র ভূমিকে চারিদিক থেকে ঘিরে রেখেছিল একটি মহাসাগর। এই মহাসাগরের নাম দেয়া হল প্যানথালাস। প্যানজিয়া শব্দটার সাথে মিল রেখেই এই শব্দ। গ্রীক Pan শব্দটার অর্থই হচ্ছে ‘সব’ বা ‘সমগ্র’ । Gaea শব্দের অর্থ দাড়ায় ভূমি বা স্থলভাগ। সব মিলে প্যানজিয়া শব্দের অর্থ হয় ‘সমগ্র ভূমি’। প্যানথালাস শব্দের অর্থ দাড়ায় ‘সমগ্র মহাসাগর’।

প্রায় ১৮ কোটি বছর আগে একত্রে থাকা ভূমি প্রধান দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। এক ভাগের নাম দেয়া হয় লরেশিয়া (Laurasia) আরেক ভাগের নাম দেয়া হয় গন্ডোয়ানা (Gondwana)। দুটি ভাগ হওয়া ভূখণ্ডের মাঝে অবস্থান করে একটি সাগর। এই সাগরের নাম টেথিস। আমাদের ভারত ছিল নিচের দিকের গন্ডোয়ানার সাথে। পরবর্তীতে এই দুটি অংশ আবার ক্রমান্বয়ে বিভক্ত হয়ে হয়ে বেশ কটি অংশের সৃষ্টি করে। গন্ডোয়ানা ল্যান্ডেই ছিল দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকা। তারাও একসময় বিভক্ত হয়ে যায় এবং তাদের বিভক্ত হয়ে যাবার মাঝখানের অংশটিতে আটলান্টিক মহাসাগরের সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে ভারত তার আদি অবস্থান থেকে বিভক্ত হয়ে যেন একটু তাড়াহুড়ো করেই এগুতে থাকে। ভারত গন্ডোয়ানা থেকে দ্রুত সরে গিয়ে মাঝখানের টেথিস সাগর পাড়ি দিয়ে এশিয়ার সাথে মিলিত হয়। নিচের ছবিটা খেয়াল করলে দেখা যাবে ভারত (India) কিভাবে সরে এসে এশিয়ার সাথে মিলেছে।

মিলিত হবার প্রক্কালে যে ধাক্কার সৃষ্টি হয় তাতেই উদ্ভব ঘটে হিমালয় পর্বতের। যে হিমালয়টা আজ মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে আছে এটা মূলত সাগরের তলদেশ। সাগরের তলদেশের মাটি। টেথিস সাগরের তলদেশ দিয়েই মূলত হিমালয় গড়ে ওঠেছে। হিমালয় তার প্রমাণও বহন করছে। হিমালয়ে এমন সব প্রাণীর ফসিল পাওয়া গেছে যে প্রাণীর বসবাস শুধুমাত্র সাগরেই সম্ভব। মাছ তো আর ডাঙ্গার মাটিতে চড়ে বেড়াতে পারে না। পাললিক শিলা সবসময়ই সাগরের তলদেশই সৃষ্টি হয়। যদি কোনো স্থানে পাললিক শিলা দেখা যায় তবে বুঝতে হবে সে স্থানটা একসময় সাগরের তলদেশে ছিল। হিমালয় সহ পৃথিবীর বিভিন্ন পর্বতে এমন পাললিক শিলা খুঁজে পাওয়া গেছে। যেখানে দেখা যাবে চুনা-পাথর বুঝতে হবে সেখানটা আগে সাগরের তলদেশে ছিল। চুনাপাথর তৈরি হয় মূলত রাশি রাশি শামুক জাতীয় প্রাণীর খোলক একসাথে জমে জমে। আর সেটা সমুদ্রেই সম্ভব। বাংলাদেশের কোনো স্থানেও চুনাপাথর পাওয়া যায়, তার মানে একসময় বাংলাদেশও নিমজ্জিত ছিল সাগরের তলায়। আবার স্থলভাগের অনেক জায়গাই তলিয়ে গেছে সাগরের মাঝে। সাগরের মাঝখান থেকে স্থলভাগের প্রাণীর অস্থি-কংকাল সহ আরও অন্যান্য আলামত পাওয়া গেছে। যাহোক ভারত যে এমন শক্তি নিয়ে এশিয়াকে ধাক্কা দিয়েছে সে ধাক্কাটা এখনো কার্যত আছে। যার জন্য হিমালয়ের উচ্চতা এখনো বেড়ে চলছে। ভূ-বিজ্ঞানীরা হিসাব করে দেখেছেন হিমালয়ের উচ্চতা প্রতি বছরে পাঁচ মিলিমিটার করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক বছরে মাত্র পাঁচ মিলিমিটার সামান্য হলেও খুব সামান্য নয়। এরকম করে বৃদ্ধি পাওয়া যদি চলতেই থাকে তবে আগামী ২০ লক্ষ বছরে হিমালয়ের উচ্চতা ১০ কিলোমিটার বেড়ে যাবে। উপরের দিকে ১০ কিলোমিটার কিংবা ছয় মাইল বেড়ে যাওয়া সাধারণ কথা নয়। বর্তমানে এভারেস্টের উচ্চতা আছে ৮৮৬৩ মিটার বা ৯ কিলোমিটারের কাছাকাছি। ২০ লক্ষ বছর পর এভারেস্ট সহ সমগ্র হিমালয়টাই বেড়ে যাবে আরও দশ কিলোমিটার। একটা ব্যাপার লক্ষণীয়, পৃথিবীর মহাদেশীয় যে নয়টি প্রধান খণ্ডাংশ বা প্লেট তার মাঝে ভারত একটা।

এশিয়া যেমন প্রাচীন প্লেট ভারতও তেমনই প্রাচীন। ভারত যদি প্রাচীন না হত বা ভারতের ভূখণ্ড যদি নরম ও পাললিক হত তাহলে ভারত নামের এই ভূখণ্ড এশিয়ার দিকে অগ্রসর হবার সময় ধীরে ধীরে এশিয়ার তলদেশে বিলীন হয়ে যেত। ভারত ভূখণ্ডটি পুরনো হওয়ায় বা নরম না হওয়ায় এশিয়ার মাঝে হারিয়ে না গিয়ে বরং তাকে আঘাত করতে পেরেছে। আঘাত করার ফলে টেকটোনিকস প্লেট ভাজ হয়ে উপরের দিকে উকি দিয়েছে যার ফলে হিমালয়ের উদ্ভব।
অন্যদিকে প্রাথমিক দুই বিশাল মহাসগরের মাঝে থাকা টেথিস সাগর বিভক্ত হয়ে কিছু অংশ লোহিত সাগর আর কিছু অংশ ভূমধ্য সাগরে মিশে গেছে। বর্তমানে ভারত মহাসগর যে অবস্থানে আছে সে অবস্থানে ছিল টেথিস সাগর।

যাই হোক কথা নেই বার্তা নেই মহাদেশ হেটে হেটে বেড়ায় এমন কথা যদি কেও বলে বসে তাহলে তার বলা কথাটা অনেকেই অবিশ্বাস করতে পারে। যারা খাটি বিজ্ঞানী তারা এমনটা না করে পরীক্ষা নিরীক্ষা করবে, প্রমাণ হাজির করতে চাইবে। সেজন্য এই তত্ত্বটা ১৯৫০ সালের আগে ব্যাপক ভাবে সবাই সঠিক বলে মেনে নেন নি। এমনকি কারো কারো কাছে এই তত্ত্ব হাঁসির উপকরণ হয়েছিল। পরে যখন প্লেট টেকটোনিস থিওরি আসল তখন কন্টিনেন্টাল ড্রিফট তার দ্বারা একটা শক্ত ভিত্তি পেল। আসলে কন্টিনেন্টাল ড্রিফট থিওরিটা এমন সময়ে আবিষ্কার করেছিলেন তখনকার মানুষেরা প্রস্তুত ছিলেন না সে আবিষ্কারের জন্য। যে সময়ে তার আবিষ্কার হবার কথা তার অনেক আগেই যেন আবিষ্কার হয়ে গেছে এটা! অবশ্য বিজ্ঞানের ইতিহাসে চোখ বুলালে এমন ঘটনা প্রচুর পরিমাণেই দেখা যায়। প্রায় বেশিরভাগ সূত্রেরই কিছু না কিছু ত্রুটি কিংবা সীমাবদ্ধতা থাকে, কন্টিনেল্টাল ড্রিফটের বেলায়ও সেটা প্রযোজ্য। এই থিওরিটা পুরোপুরি সঠিক নয়। [৪] কিন্তু সামান্য কিছুটা ভুল যাই থাকুক এটা মানতে কোনো দ্বিধা নেই যে এটি অত্যন্ত চমকপ্রদ একটি তত্ত্ব।

এই তত্ত্ব যে ভেগেনারই যে সর্ব-প্রথম দিয়েছিলেন তা বলা যায় না। তারও আগে অনেকেই খেয়াল করেছিলেন এক মহাদেশের সাথে আরেক মহাদেশের মিলে যাবার ব্যাপারটা। আব্রাহাম অর্টেলিয়াস, থিওডর লিলিয়েনথাল, আলেকজান্ডার হুমবোল্ডট প্রমুখ এই ব্যাপারটা লক্ষ্য করেন এবং অনুমান করেন আমেরিকা ও আফ্রিকা কোনো একসময় একসাথে ছিল।

  • ভবিষ্যৎ

কন্টিনেন্টাল ড্রিফট থিওরি মতে ভূখণ্ড গুলো তো সম্প্রসারিত হয়েই চলছে। আবার পৃথিবী হচ্ছে গোল, সমতল নয়। একটা উদাহরণ হিসেবে বলা যায় প্রতি বছরে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপ আড়াই সেন্টিমিটার করে একে অপর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। অর্থাৎ প্রতি বছরে প্রায় এক ইঞ্চি করে। এমন করে যদি সঞ্চারিত হতেই থাকে তবে শেষ পরিণতিটা কি হবে? পৃথিবী যেহেতু গোলাকার তাই যদি এক দিক থেকে প্রসারণ শুরু হয় তাহলে লক্ষ লক্ষ বছর পর প্রসারিত হতে হতে ঠিক বিপরীত দিকে গিয়ে আবার মিলিত হবে। এক পৃষ্ঠে শুরু হলে অপর পৃষ্ঠে মিলিত হতেই হবে, নইলে সঞ্চারিত হবে কোথায়? কন্টিনেন্টাল ড্রিফট জিনিসটাই এরকম, এটি যুগের পর যুগ চলতেই থাকে। এক সময় ভারত অস্ট্রেলিয়া আফ্রিকা একসাথে ছিল এবং এক সময় আবার দূরে সরে গেছে। আবার একটা সময় আসবে যখন পুনরায় ভারত অন্য অংশের সাথে মিলিত হবে। তবে প্রথম বার যে পৃষ্ঠে মিলিত ছিল পরের বার মিলিত হবে ঠিক তার বিপরীত পৃষ্ঠে। একত্রে মেশার পর আবার বসে থাকবে না, পুনরায় আবার সঞ্চারণ শুরু করবে। এভাবে চলতেই থাকবে।

জিনিসটা এমন যেহেতু পৃথিবী গোল এবং সসীম তাই এক দিক থেকে মহাদেশীয় প্লেটের মাঝে দূরত্ব বৃদ্ধি পেলে অন্য দিক দিয়ে দূরত্ব কমে আসে। যেমন আমেরিকা আর আফ্রিকা পরস্পর থেকে দূরে সরে যাবার ফলে আটলান্টিক মহাসাগর ক্রমে ক্রমে আকারে বড় হয়েই চলছে, আবার অন্যদিকে আমেরিকা যেদিক দিয়ে সরে যাচ্ছে সেদিক দিয়ে প্রশান্ত মহাসাগর ক্রমে সংকুচিত হয়ে আসছে। আগে কোনো কোনো জায়গা উঁচু ছিল এখন নিচু হয়ে গেছে আবার কোনো জায়গা নিচু ছিল এখন উঁচু হয়ে গেছে। কেও কেও সাগরের তলায় ছিল এখন পানির উপরে আবার কোনো এলাকা স্থলভাগ হিসেবে ছিল এখন সাগরের তলায়। এরকম করে কোনো দুটি স্থান একসাথে ছিল এখন দূরে আবার কোনো দুটি স্থান দূরে ছিল এখন একসাথে! এ যেন প্রকৃতির অপরূপ পেন্ডুলাম, যা একবার একদিকে যায় যাবার পর আবার ফিরে আসে।

শেষকথা
লক্ষ বছর অতীতে পৃথিবীতে কি ঘটেছে তা জানার জন্য মানুষের পক্ষে অতীতে যাওয়া সম্ভভ নয়। কিন্তু মানুষের অনন্য কিছু গুনে তার মেধা খাটিয়ে মানুষ বর্তমানে বসেই লক্ষ বছর অতীতের কোনো কিছু বলতে পারে। আবার ভবিষ্যতের কথাও বলে দিতে পারে। এখানেই মানুষের মহিমা, এখানেই মানুষের সৃজনশীলতা, এখানেই মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব।

 

পরিশিষ্ট

[১]  আলফ্রেড ভেগেনার:

জার্মান ভূ-তত্ত্ববিদ, আবহাওয়াবিদ, মেরু গবেষক। যিনি ১৮৮০ সালের নভেম্বরে জার্মানের বার্লিনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মূলত তার মহাদেশীয় সঞ্চরণ তত্ত্বের জন্যই বিখ্যাত। তাছাড়াও তিন মেরু অঞ্চলের আবহাওয়া, জলবায়ু, বরফের জমাটবদ্ধটা নিয়ে গবেষণা করেন। তার বাবা রিচার্ড ভেগেনার ছিলেন একজন তাত্ত্বিক ও শিক্ষক। তিনি মূলত পদার্থবিজ্ঞান, আবহবিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং ১৯০৫ সালে আবহবিজ্ঞানে ডক্টরেট সম্পন্ন করেন। ১৯৩০ সালের নভেম্বরে ৫০ বছর বয়সে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন।

 

[২]  জিগস পাজলের একটা ত্রিমাত্রিক ছবি দেয়া হল। যেটির অংশগুলো মিলিয়ে বসাতে পারলে একদম খাপে খাপে এটে যায়।

[৩] এতদিন পর্যন্ত ধারণা করা হত পৃথিবীর তাপমাত্রা পাঁচ হাজার ডিগ্রীর চেয়ে কিছু বেশি। কিন্তু সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে পৃথিবীর কেন্দ্রের তাপমাত্রা ছয় হাজার ডিগ্রীর চেয়েও বেশি। যে গবেষণাটা করে বলা হয়েছিল পৃথিবীর কেন্দ্রভাগের তাপমাত্রা পাঁচ হাজার ডিগ্রী সেটা আজ থেকে বিশ বছরেরও আগের করা গবেষণা।

[৪] ভেগেনার বলেছিলেন মহাদেশগুলো জাহাজের মত চলে বেড়ায়। আসলে টেকটনিক সক্রিয়তার ফলে চলে বেড়ায় যেটা জাহাজের চলনের মত নয়। ভূমি গুলো পানির উপরে থেকে ভেসে বেড়ায় না বরণ সমুদ্রের পানির তলদেশের যে মাটি সেটিও চলে বেড়ায়, তারাও টেকটোনিক প্লেটের অংশ

তথ্যসুত্র
1. সাগরের রহস্যপুরী : আবদুল্লাহ আল-মুতী
2. আমার পৃথিবী আমার পরিবেশ : সেন্টার ফর সাসটেইনেবল ডেভলপমেন্ট
3. দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন
4. কোলাইডিং কন্টিনেন্টস : ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ডকুমেন্টারি
5. Wikipedia : Continental Drift
6. Wikipedia : Alfred Wegener
7. মানুষ মহাবিশ্ব ও ভবিষ্যৎ : ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী; প্রথমা প্রকাশন, ২০১৩
8. উচ্চ মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান (প্রাণীবিজ্ঞান) : হাজী আজমল ও গাজী আসমত; ২০১০

 

http://education.nationalgeographic.com/education/encyclopedia/continental-drift
 http://www.enchantedlearning.com/subjects/dinosaurs/glossary/Contdrift.shtml
https://en.wikipedia.org/wiki/Continental_drift
 https://en.wikipedia.org/wiki/Alfred_Wegener
 http://www.fromquarkstoquasars.com/continental-drift-theory/
 http://www.telescope.rmabd.com/?tag=মহাদেশিক-বিচ্যুতি

১২/১২/২০১৩

ফেসবুকে আপনার মতামত জানান

লিখেছেন সিরাজাম মুনির শ্রাবণ

আমি শ্রাবণ, পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র। বিজ্ঞান পড়তে ভালো লাগে, বিজ্ঞান বিষয়ক ভাবনা চিন্তা করে আনন্দ পাই।

সিরাজাম মুনির শ্রাবণ বিজ্ঞান ব্লগে সর্বমোট 49 টি পোস্ট করেছেন।

লেখকের সবগুলো পোস্ট দেখুন

মন্তব্যসমূহ

  1. Prabir Acharjee Reply

    ধন্যবাদ চমৎকার তথ্যবহুল লেখা উপহার দেবার জন্য। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে পৃথিবীর কেন্দ্রের তাপমাত্রা ছয় হাজার ডিগ্রীর চেয়েও বেশি।

    • সিরাজাম মুনির শ্রাবণ Reply

      ধন্যবাদ।
      অতি সাম্প্রতিক [কয়েক মাস আগের ফলাফল প্রকাশ] এক গবেষণায় দেখা যায় কেন্দ্রের তাপমাত্রা আরও কিছুটা বেশি। তবে খুব বেশি একটা পার্থক্য নেই। ব্যাবধান কম। আমার এই লেখাটা লেখার সময় এই তথ্যটি পাই নি।

  2. আরাফাত রহমান Reply

    এটা এর আগে জিরো-টু-ইনফিনিটে প্রকাশিত, না? লেখাটা সুন্দর, ভাষাটা ঝরঝরে। মহাদেশীয় সঞ্চারণ সম্পর্কে প্রথম জানতে পারি আইজাক আসিমভের সূচনা বইটিতে। যদিও আসিমভকে আমরা সাইফাই লেখক হিসেবে চিনি, কিন্তু মূলত তিনি বিজ্ঞান লেখক। তো, ওই বইটাতে এ সম্পর্কে বেশ বিস্তারিত আলোচনা ছিলো। মহাদেশীয় সঞ্চারণের ধারণাটা কিন্তু হঠাৎ করে আসে নি, এর আগে দুই-একশ বছর ধরেই এ বিষয়ক আলোচনা চলছিলো বৈজ্ঞানিক মহলে।
    গ্রীক থ্যালাস মানে সাগর। অন্যদিকে গ্রীক/আয়োনিয়ান দার্শনিক থেলিসকে বলা হয় বিশ্বের প্রথম বিজ্ঞানী — তিনি প্রথম বৈজ্ঞানিক প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর দর্শনের মূল কথা ছিলো পৃথিবীতে সবকিছুর মূল পানিতে। থ্যালিসের নাম কি আমরা “পানি”-র গ্রীক থেকেই দেই? কথাটা মনে হলো আর কি …।

    • সিরাজাম মুনির শ্রাবণ Reply

      জিরো টু ইনফিনিটিতে প্রকাশিত হয়েছিল। তবে অন্য নামে- “কন্টিনেন্টাল ড্রিফট”।
      মহাদেশ সঞ্চরিত হবার ব্যাপারটা আমার কাছে দারুণ ইন্টারেস্টিং লাগে আর সেই ইন্টারেস্টেরই ফল এই লেখা। [আপনার কমেন্ট থেকে দারুণ কতগুলো তথ্য পেলাম। 🙂 ]

  3. রুহশান আহমেদ Reply

    ভালো লাগলো লেখা।

    • সিরাজাম মুনির শ্রাবণ Reply

      ধন্যবাদ ভাইয়া। জিরো টু ইনফিনিটি ম্যাগাজিনে আপনাকে দেখা যায়। এই মাসে [মে ২০১৪] আপনার লেখা গিয়েছিল। বিজ্ঞান ব্লগে আমি পড়েছিলাম “মগজের ঘড়িবিদ্যা” পত্রিকায় সাবমিট হয়েছে “মগজের গতিবিদ্যা” ! ম্যাগাজিন মেক আপের সময় কোনটা হবে না কোনটা হবে এ নিয়ে দারুণ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল।

আপনার মতামত