উল্লেখ বা citation হল কোন গবেষণার নিবন্ধে পুরানো বা আগের কোন পরীক্ষার ফলাফল, প্রক্রিয়া, মতামত, চিন্তা, ধারণা উল্লেখ করা। কোন গবেষণা কতবার উল্লেখিত হয়েছে সেটার উপর নির্ভর করে গবেষণাটি পরবর্তী গবেষণায় কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটাও মোটামুটি বোঝা যায়।

 

নেচার পত্রিকার অতিসাম্প্রতিক সংখ্যাটি খুঁজে বের করেছে এরকম সবচেয়ে বেশিবার উল্লেখিত গবেষণা নিবন্ধগুলি। প্রথমদিককার প্রায় সবগুলি নিবন্ধই জীববিজ্ঞানের। আমি এখানে প্রথম ১০টি উল্লেখ করে দিচ্ছি, সেইসঙ্গে জানাচ্ছি কোন নিবন্ধটি কী গবেষণা নিয়ে সেটা। এরফলে আমাদের একটু ধারণা হবে পৃথিবীর গবেষণাগারে কীধরনের কাজ হয়, খুব কমন কাজ কোনগুলি ইত্যাদি।

১. ৩,০৫,১৪৮ বার উল্লেখিত
Protein measurement with the folin phenol reagent (১৯৫১)
কোন স্যাম্পলে প্রোটিনের পরিমান এবং ঘণত্ব মাপার একটি উপায় বর্ণিত হয়েছে এখানে। এখনও পৃথিবীর অনেক গবেষণাগারে এভাবে প্রোটিনের ঘণত্ব মাপা হয়।

২. ২,১৩,০০৫ বার উল্লেখিত
Cleavage of structural proteins during the assembly of the head of bacteriophage T4 (১৯৭০)
প্রোটিনকে নির্দিষ্ট জায়গায় কেটে ফেলা এবং একটি উন্নত ইলেক্ট্রোফোরেসিস পদ্ধতির ব্যবহার দেখানো হয়েছে এখানে।

৩. ১,৫৫,৫৩০ বার উল্লেখিত
A rapid and sensitive method for the quantitation of microgram quantities of protein utilizing the principle of protein-dye binding (১৯৭৬)
প্রোটিনের ঘণত্ব মাপার আরেকটি পদ্ধতি। এটা পৃথিবীর বেশিরভাগ গবেষণাগারে সবচেয়ে দ্রুত প্রোটিনের ঘণত্ব মাপার উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

৪. ৬৫,৩৩৫ বার উল্লেখিত
DNA sequencing with chain-terminating inhibitors (১৯৭৭)
স্যাঙ্গারের পদ্ধতি বলে পরিচিত এই পদ্ধতিতে ডিএনএর বিন্যাস খুঁজে বের করা হয়। বহু বহু জীববিজ্ঞানের গবেষণায় এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়েছে কোন জীবের বা কোন জিনের ডিএনএ বিন্যাস খুঁজে পাওয়ার জন্য।

৫. ৬০,৩৯৭ বার উল্লেখিত
Single-step method of RNA isolation by acid guanidinium thiocyanate-phenol-chloroform extraction (১৯৮৭)
কোষ থেকে আরএনএ আইসোলেশান এর সহজ পদ্ধতি দেখানো হয়েছে এই পরীক্ষার নিবন্ধটিতে।

৬. ৫৩,৩৪৯ বার উল্লেখিত
Electrophoretic transfer of proteins from polyacrylamide gels to nitrocellulose sheets: procedure and some applications (১৯৭৯)
এই পদ্ধতিটিকে ওয়েষ্টার্ণ ব্লট বলে। প্রথমে SDS PAGE নামক পদ্ধতিটি দিয়ে প্রোটিনকে জেল এ চালানো হয় মিশ্রণ থেকে প্রোটিনকে পৃথক করা্ ইত্যাদি কাজের জন্য। তারপর প্রোটিনগুলিকে আরকেটি পর্দার মধ্যে নিয়ে এন্ডিবডি ব্যবহার করে নির্দিষ্ট করা হয়। বিভিন্ন রঙে তখন আমরা প্রোটিনের ব্যান্ড দেখতে পারি। এই পদ্ধতি এখনও প্রোটিন নিয়ে কাজ করার সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যমগুলির একটি।

৭. ৪৬,৭০২ বার উল্লেখিত
Development of the Colle-Salvetti correlation-energy formula into a functional of the electron density (১৯৮৮)
পদার্থের অবস্থা বোঝার কিছু অংক এবং পদার্থবিদ্যার মডেল/সফটওয়্যার তৈরিতে সাহায্য করেছে এই নিবন্ধ। রসায়ন, পদার্থবিদ্যা এবং জীববিজ্ঞানে কাজে লাগে এই সূত্র।

৮. ৪৬,১৪৫ বার উল্লেখিত
Density‐functional thermochemistry. III. The role of exact exchange (১৯৯৩)
ইলেক্ট্রণের চলাচল নিয়ে আরেকটি তত্ব। রসায়ণ, প্রাণ-রসায়ণ, জীববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান ইত্যাদি বহু শাখাতেই কাজে লাগাতে হয় এই তত্ত্ব বা মডেলকে।

৯. ৪৫,১৩১ বার উল্লেখিত
A simple method for the isolation and purification of total lipides from animal tissues (১৯৫৭)
জীবকোষ বা টিস্যু থেকে লিপিড বা চর্বি অণু পৃথকের প্রথম কার্যকর পদ্ধতি বর্ণিত এখানে। জীববিজ্ঞানের বহু গবেষণা, বিশেষ করে চর্বি অণুর গবেষণায় এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয় প্রথম ধাপ হিসেবে।

১০. ৪০,২৮৯ বার উল্লেখিত
CLUSTAL W: improving the sensitivity of progressive multiple sequence alignment through sequence weighting, position-specific gap penalties and weight matrix choice (১৯৯৪)
প্রোটিন বা ডিএনএ বা আরএনএ সিকোয়েন্স বা বিন্যাস নিয়ে কাজ করার সবচেয়ে কার্যকরী মডেল যা থেকে সফটওয়ার তৈরি করা হয়েছে। সাম্প্রতিক আবিষ্কার হলেও এর ব্যবহার এতই জনপ্রিয় যে ১০ম স্থানটি এই নিবন্ধটি করে নিয়েছে।

 

মূল সূত্র:
http://www.nature.com/news/the-top-100-papers-1.16224

লিখেছেন খান ওসমান

আমি জীববিজ্ঞানের ছাত্র। বর্তমানে টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত আছি। https://www.facebook.com/khan.osman.1

খান ওসমান বিজ্ঞান ব্লগে সর্বমোট 30 টি পোস্ট করেছেন।

লেখকের সবগুলো পোস্ট দেখুন

মন্তব্যসমূহ

  1. Prabir Acharjee Reply

    খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি পোষ্ট

আপনার মতামত