আজ থেকে অনেক বছর পর। আপনি একজন মহাকাশচারী, ক্রায়োজেনিক চেম্বার থেকে বের হলেন লম্বা একটা ঘুমের পর। স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনাকে জাগিয়ে তোলার অর্থ বসবাসযোগ্য একটি গ্রহের সন্ধান পাওয়া গেছে। গ্রহটি অন্ধকার, এতই অন্ধকার যে আপনি এর পৃষ্ঠে কি আছে না আছে কিছুই বুঝতে পারছেন না। শুধু দেখছেন আকাশের তারাদের ঢেকে রাখা গাঢ় অন্ধকার এক গোলক। ধীরে ধীরে এর বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করে মেঘের স্তর ভেদ করে নামা শুরু করলেন। আপনার মহাকাশযানের বাহিরে কোন নেই কোন আলো। এতদিন ধরে দেখে আসা বিশ্বস্ত তারাগুলোও হঠাৎ গায়েব। তথ্যগুলো নাড়াচাড়া করে আপনার বুকটা ছাৎ করে উঠলো। তখনই আপনি কনসোলে ফিরে গিয়ে কমান্ডারের সাথে যোগাযোগ করলেনঃ “এই গ্রহে তো কোন সূর্যই নাই! কি করতে আসছি এখানে?”

আমরা সবাই সূর্যরাজ্যের বাসিন্দা। পৃথিবীতের প্রায় সকল প্রাণির জন্যই সূর্যের গুরুত্ব অনেক। সূর্যালোকের সাহায্যে যে সালোকসংশ্লেষন হয়, এর বাইপ্রোডাক্ট অক্সিজেন আমরা নিঃশ্বাসে গ্রহন করি। ছোটবেলা থেকে শুনে এসেছি সূর্যের আলোতে আছে ভিটামিন ডি, যা হাঁড়ের জন্য ভালো। ছোটবেলা থেকে এটাও শুনে এসেছি আর কয়েকটা দিন পরেই সৌরশক্তিচালিত গাড়ি রাস্তায় নামবে। এসব দিকে না গেলেও, আমরা সবাই হাসিখুশী রৌদ্রজ্জ্বল দিন কিংবা মেঘলা দিনে রংধনু পছন্দ করি। শক্তি, উৎকর্ষের প্রতীক হিসেবে সূর্য এসেছে সাহিত্যে। ইতিহাসের নানা পর্যায়ে সূর্যদেব ও তার উপাসকদের গল্পও আমাদের জানা। সূর্য, আমাদের প্রিয় সূর্য। ভেবে দেখুন তো, কেমন হবে এই সূর্য যদি একদিন নাই হয়ে যায়?

স্টার ওয়ার্স সিনেমায় ‘হথ’ গ্রহটিকে দেখেছেন নিশ্চয়ই। পৃথিবীর অবস্থা হয়ে যাবে সেরকম। বর্ণহীন বরফের এক পিন্ড। পৃথিবীর নিজস্ব যে তাপস্থাপক(Thermostat) ব্যবস্থা কার্বোনেট-সিলিকেট চক্র রয়েছে, সূর্যের অনুপস্থিতিতে তা নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। পৃথিবী ক্রমেই তাপ হারাবে। পুকুর, নদী, হ্রদ এরা সবার আগে জমে যাবে। কয়েক দশক সময় নিলেও বিশাল সমুদ্রও সম্পুর্ন শীতল স্ফটিকে রূপান্তরিত হবে। যদিও পৃথিবীর পেটের ভেতরের কিছু তাপ অগ্নিগিরির মাধ্যমে বের হতে থাকবে। কিন্তু সেটা যে প্রয়োজনের তুলনায় একদমই অপ্রতুল।


নাহ, পৃথিবীর সাথে সূর্যের সম্পর্ক যেহেতু জন্মের আগে থেকেই। তাই সূর্যকে গুম করে দেয়াটা কেমন বিয়োগান্তক হয়ে যায়। কিভাবে ব্যাপারটাকে রোমাঞ্চকর করা যায়? চলুন তাহলে একটি ফেরারী গ্রহের কথা ভাবি। এমন একটি গ্রহ, যার কখনোই সূর্যের মত কোন অভিভাবক ছিলোনা। একটি দলছুট, মুক্ত গ্রহ। এই গ্রহগুলো কোন তারকাকে আবর্তন করেনা বরং তারকাদের পিছে চরে বেড়ায়। তারা এই গ্যালাক্সির স্বাধীন সদস্য। ব্যাপারটা কাল্পনিক শোনালেও সত্য। সাম্প্রতিক কালে এরকম বেশ কিছু মুক্ত-ভাসমান ধূম্রদানব(Gas Giant) এর সন্ধান পাওয়া গেছে। ধূম্রদানবের কথা বলতে গেলে পরিচিতদের মধ্যে বৃহস্পতি এবং শনির কথা বলা যায়। হ্যা তারা স্বাধীন নয় বটে। ২০১১ সালে নেচারে প্রকাশিত একটি গবেষনা পত্রে বলা হয়েছিলো আকাশগঙ্গা গ্যালাক্সিতে প্রতিটা তারার দুটি করে পোষা ধূম্রদানব রয়েছে। এই গবেষনাটি শেষ পর্যন্ত বিতর্কিত থাকলেও অনেক বিজ্ঞানীই এক্ষেত্রে একমত যে, প্রতিটা ধূম্রদানবের অস্তিত্বের পেছনে বেশ কিছু মুক্ত পৃথিবী পৃথিবী সদৃশ পাথুরে গ্রহের সন্ধান পাওয়া সম্ভব। আর আমাদের গ্যালাক্সিতেই এদের সংখ্যা কয়েকশ বিলিয়ন।

একটি মুক্ত পৃথিবী আমাদের আসল পৃথিবীর অনেক কিছু থেকেই বঞ্চিত হবে। সেখানে থাকবেনা কোন গ্রীষ্ম-বর্ষার চক্র। সূর্যাস্ত-সূর্যোদয় থাকবেনা বলে কারো জন্য জন্মদিন উদযাপনেরও দরকার হবেনা। তবে, এমন একটি গ্রহে কি জীবনের অস্তিত্ব সম্ভব?

একটি মুক্ত-ভাসমান গ্রহে জীবন ধারনের জন্য- মানে আমাদের মত কিছু থাকার জন্য প্রথমেই দরকার তরল পানি। আর পানি তরল থাকার জন্য গ্রহে দরকার উষ্ণতা। কিন্তু, মহাকাশ আজব মাত্রায় শীতল, পরম শূন্য তাপমাত্রা থেকে মাত্র কয়েক ডিগ্রী ওপরে। সূর্য ছাড়া একটি ছন্নছাড়া গ্রহ কিভাবে তাপ আসবে? সব গ্রহের ভেতরেই একটা উত্তপ্ত অবস্থা রয়েছে। পৃথিবীর অন্তর্নিহিত বেশিরভাগ তাপই যে সংঘর্ষের ফলে পৃথিবী তৈরি, তার থেকে সৃষ্ট। এবং এর বড় অংশেই কেন্দ্রে আটকে থাকে এবং খুব ধীরে ধীরে উপরিভাগে প্রবাহিত হয়। যদিও এই শক্তি আরো লক্ষ্য লক্ষ্য বছর থাকবে কিন্তু, প্রতিদিন সূর্য থেকে যে তাপ আসে তার তুলনায় এটা ৩০০০ ভাগের এক ভাগ। সূর্যবিহীন একটি ভাসমান গ্রহ এই অন্তর্নিহিত তাপকে কিছুতেই হারাতে পারেনা। হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত ব্যাক্তির মত এর আসলে দরকার খুব ভালো একটা কম্বল।

গ্রহের পৃষ্ঠে বরফের স্তর ভালো অন্তরক হিসেবে কাজ করবে এবং তাপ আটকে রাখতে পারবে। যদি এই স্তরের পুরুত্ব ঠিক থাকে তাহলে এর নিচে সমুদ্রও থাকা সম্ভব। তবে লক্ষ্য বছর ধরে এই সমুদ্রকে বরফ হওয়া থেকে বাঁচানোর জন্য বরফের স্তরটি কম হলেও ১০ কিলোমিটার পুরু হতে হবে। বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপা এবং গ্যানিমেডে এই ধরনের বরফ-আচ্ছাদিত সমুদ্র আছে। তবে, পৃথিবীকে এইরকম বরফ ঢাকা গ্রহে রূপান্তর সম্ভব নয় যদি না কোন মহাজাগতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে মানুষের বিনিময়ে পানির চুক্তি না করা হয়। কেননা পৃথিবীর নিজস্ব যতটুকু পানি আছে তাতে বিশ্বব্যাপি বরফের স্তর হবে মাত্র কয়েক কিলোমিটারের। এই রকম একটি স্তরের নিচে থেকে আগ্নেয়গিরি কিংবা অন্যান্য ভূগর্ভস্থ তাপীয় উৎসের কারনে হয়তো আঞ্চলিকভাবে কিছুটা তরল পানির যোগান সম্ভব হবে। কিন্তু সমুদ্র? স্বপ্নেও তরলিত হবেনা।

হতাশার কিছু নাই, অপশন আরো আছে। একটি পরিবর্তীত পুরু বায়ুমন্ডল কিন্তু যথেষ্ট তাপরোধী হতে পারে। এর মাধ্যমে বরফের আচ্ছাদন ছাড়াই একটি মুক্ত-ভাসমান গ্রহ এর পৃষ্ঠে পানিকে তরল রাখা সম্ভব। এই কাজের জন্য সবচেয়ে পারদর্শী গ্যাস হলো হাইড্রোজেন। এটা একে তো উৎকৃষ্ট তাপীয় অন্তরক, আবার মহাশুন্যের মারাত্বক ঠান্ডাতেও গ্যাসীয় অবস্থা বজায় রাখে। পৃথিবী যদি সূর্যের খবরদারী থেকে বেরিয়ে গিয়ে স্বাধীনভাবে ঘোরাফেরা শুরু করে এবং হাইড্রোজেনে ভরা ১০ থেকে ১০০গুন মোটা বায়ুমন্ডলে নিজেকে জড়িয়ে রাখে তবে, পৃষ্ঠের তাপমাত্রা মন ভালো করার মত না হলেও হিমাংকের কিছুটা উপরে রাখা সম্ভব হবে। থাকবে হ্রদ, ঢেউ খেলবে সমুদ্র(এমনকি প্রাণ ও থাকতে পারে!)। দূর-দূরান্তের তারার আলোয় আলোকিত এমন একটি গ্রহ মানুষের চোখে হবে অদৃশ্য। ইউরেনাস কিংবা নেপচুনের মত এদের থাকবে মেঘেদের বিভিন্ন স্তর। কোন আলো এর ভূমিতে এসে পৌছবেনা, সেখানে থেকে আকাশের দিকে তাকালে থাকবে শুধুই অন্ধকার।

তরল পানি নাহয় হলো।কিন্তু সূর্য ছাড়া কি প্রাণের অস্তিত্ব সম্ভব? জী সম্ভব। পৃথিবীতে যত প্রাণি আছে সবাই কিন্তু সূর্যের ওপর নির্ভরশীল নয়। উদ্ভিদ এবং কিছু কিছু অনুজীব সরাসরি সৌরশক্তির ওপর নির্ভরশীল। এদেরকে ইকোলজির ভাষায় বলা হয় হচ্ছে প্রাথমিক উৎপাদক, এবং তারা সূর্যের আলোকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। তবে গরু, ছাগল, মানুষ এরা যেহেতু ঘাস/ফলমূল এবং গরু-ছাগল খায় তাই পরোক্ষভাবে সূর্যালোকের প্রতি নির্ভরশীল। তবে বিজ্ঞানীরা কিছু কিছু জীবের সন্ধান পেয়েছেন যাদের সূর্যকে দরকার নেই। তাদের বলা হয় কেমোঅটোট্রফ, পাওয়া যায় সমুদ্রের তলদেশে হাইড্রোথার্মাল ভেন্টগুলোতে। এরা এই হাইড্রোথার্মাল ভেন্টগুলোর তাপমাত্রার পরিবর্তনকে ব্যাবহার করে দেহের বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়া চালায়। সালোকসংশ্লেষনের তুলনায় এর দক্ষতা হাজার ভাগের এক ভাগ। তবে একটি মুক্ত-ভাসমান অন্ধকার গ্রহে অনর্নিহিত সীমিত শক্তিকে দক্ষভাবে ব্যাবহার করতে পারাই কিন্ত হবে সত্যিকারের বুদ্ধিমান জীবের কাজ।

এমন মুক্ত স্বাধীন গ্রহের জীবমন্ডলের ভিত্তি হবে এই কেমোঅটোট্রফ। এরাই অন্যান্য উন্নত প্রাণির(যদি থাকে) জন্য প্রয়োজনীয় জৈব কার্বনের যোগান দিতে পারবে। তবে যেহেতু এদের শক্তি রূপান্তরের দক্ষতা বেশ কম। এদের সংখ্যায় হতে হবে অনেক বেশি। পৃথিবীতে যখন একটা গাছ থেকে কয়েকশ  আম তৈরি হয়, ওখানে হয়তো শ’খানেক গাছ মিলে একটা আম তৈরি করবে।

প্রশ্ন আসতে পারে, মুক্ত-ভাসমান গ্রহে প্রাণের সূচনা কিভাবে হবে? এটা বলা কষ্টকর, এখনো নিজেরাই আসলে জানিনা এই পৃথিবীতেই কিভাবে জীবনের উদ্ভব হয়েছিলো। তবে বেশ কিছু তত্ব প্রচলিত আছে, এর মধ্যে একটি ‘Deep Sea Vent Hypothesis’, এতে ধারনা করা হয় জলতাপীয় ফাটল(Hydrothermal Vent) গুলোই শুরুর দিকের জীবনের আতুরঘর। ভবঘুরে গ্রহটিতেও প্রচুর সংখ্যক জলতাপীয় ফাটল থাকা সম্ভব। তাই এলিয়েন স্পেসশিপ কিংবা মহাজাগতিক উল্পাপিন্ডের চাইতে, সম্পুর্ন ঘরোয়া পরিবেশে সেই মুক্ত গ্রহের প্রথম প্রাণের স্পন্দন তৈরি হওয়াটাই যৌক্তিক।

আচ্ছা তাহলে এই আঁধার গ্রহের আধার জীবমন্ডলের সদস্য কারা হবে? পৃথিবীতে যদি এদের সাদৃশ্যপূর্ন কোন বাস্তুসংস্থানের কথা চিন্তা করি, তাহলে সমুদ্রের গভীরে যেতে হবে। এতই গভীরে যেখানে আলো পৌছায়না। এরকম গভীরতায় যেই জলতাপীয় ফাটলগুলো আছে, তার আসে পাশে চমৎকার স্থানীয় বাস্তুসংস্থান গড়ে উঠেছে। এখানে পাওয়া যায় নানান উটভট উদ্ভিদ, দুই মিটার লম্বা চুঙ্গিপোকা(Tube Worm), শল্কপদী শামুক(Scaly-foot snail) এবং চোখহীন চিংড়ি। হ্যা, এখানকার প্রাথমিক উৎপাদক কেমোঅটোট্রফ। এরা যে ব্যাক্টেরিয়াপূর্ন পুরু স্তর তৈরি করে সেটাই এই জটিল খাদ্যশৃংখলের গোড়ার দিকে রয়েছে। একটি মুক্ত-ভাসমান গ্রহে হয়তো এমন স্থানীয় তাপীয় উৎসের আসে পাসে একেকটি অনন্য জীবমন্ডল গড়ে উঠবে, তাদের প্রতিটিতে থাকবে আলাদা আলাদা প্রজাতি। কিংবা এই স্বতন্ত্র বাস্তুসংস্থানগুলোর পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ায় তৈরি হবে কোন সার্বজনীন প্রাণসম্ভার।

আমরা হয়তো এরকম কোন গ্রহে যেতে চাইনা, বরফাচ্ছাদিত গুলোতে তো নয়ই। কেননা কয়েক মাইল গভীর বরফের স্তর ভেদ করা যতটা কঠিন, এর ভেতরে বসবাস করা আরো বেশি কঠিন। তবে, পুরু বায়ুমন্ডলে ঘেড়া কোন গ্রহে যাওয়া যেতে পারে। এর পৃষ্ঠের হ্রদ কিংবা সমুদ্রকে সহজেই ছোয়া যায়। তবে ঝামেলা হল, এর বাতাস কিন্তু মানুষের জন্য মোটেই শ্বাসযোগ্য নয়। আগেই বলেছি এমন গ্রহের বায়ুমন্ডলে পুরু হাইড্রোজেনের স্তর থাকবে। আর হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন এক সাথে সুখে থাকতে পারেনা। তাই, যাত্রা শুরুর আগে খোজ নিতে হবে সেই অভীষ্ট গ্রহের জীবমন্ডল কোথায় রয়েছে। গ্রহের উপরিভাগ থেকে সংগ্রহ করে সহজে ব্যাবহার করা যাবে, নাকি সিন্ধু সেঁচে তুলে আনতে হবে। সবকিছু যদি অনুকূলেও থাকে, সূর্যের অনুপস্থিতি খাদ্য তৈরির ক্ষেত্রে বিশাল একটা বাধা হয়ে যাবে, আর আমরা এটাও জানিনা স্থানীয় সদস্যরা আদৌ খাওয়ার যোগ্য কিনা। তাই মানব সভ্যতা গ্যালাক্সিতে ছড়িয়ে পড়ার মিশন শুরু করলে একটি মুক্ত-ভাসমান গ্রহ হয়তো প্রাথমিক লক্ষ্য হিসেবে ঠিক ততটা আকর্ষনীয় নয়।

তবে দূরত্বের প্রশ্নে এমন একটি গ্রহকে বিবেচনা করা যেতে পারে। সৌরজগতের আসে পাশের প্রতিটি ক্ষীন বস্তুর শুমারী, সমাপ্তি থেকে বহুদূরে। একটি পৃথিবীসদৃশ ভবঘুরে গ্রহই হয়তো আমাদের নিকটতম বসবাসযোগ্য মহাজাগতিক প্রতিবেশি। সেখান থেকে একটু ঘুরে আসা, এবং ভালো লাগলে সেটা হতে পারে আমাদের গ্যালাক্সিতে ছড়িয়ে পড়ার প্রথম পদক্ষেপ।

এমন একটি গ্রহে যদি স্বেচ্ছায় কিংবা ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়ে এসেই পড়েন তাহলে আর আফসোস করে আর কি হবে? মহাকাশযানের ফ্লাডলাইটগুলো জ্বালিয়ে দিন। বিলিয়ন বছরের প্রথম ফোটন কণা গ্রহের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়বে আপনারই ইশারায়। আপনার মিশন যদি হয় কলোনী স্থাপনের, তবে অবশ্যই বিষাক্ত বাতাস থেকে তাকে নিরাপদে রাখতে হবে। কলোনীর শিশুরা ‘আয় আয় চাঁদ মামা’ না শিখেই বড় হবে। স্পেসশুট ছাড়া বাহিরে খেলাধুলাও করতে পারবেনা। এত কিছুর মধ্যেও স্বান্তনা এটাই যে, তারাদের পানে মানবতার যাত্রায় আপনার আত্নত্যাগ অত্যন্ত মূল্যবান ছিলো।

Sean Raymond এর Life in the Dark থেকে অনুপ্রাণিত। 

লিখেছেন রুহশান আহমেদ

আমি বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান বিষয়ক কনটেন্ট তৈরির একজন স্বাধীন স্বেচ্ছাসেবক। শাবিপ্রবি থেকে জিন প্রকৌশল ও জৈব প্রযুক্তি বিষয়ে একটি স্নাতক ডিগ্রি বাগানোর চেষ্টায় আছি।

রুহশান আহমেদ বিজ্ঞান ব্লগে সর্বমোট 33 টি পোস্ট করেছেন।

লেখকের সবগুলো পোস্ট দেখুন

মন্তব্যসমূহ

  1. সিরাজাম মুনির শ্রাবণ Reply

    পড়ে ফেলেছিলাম, জ্যোতির্বিজ্ঞানের লেখার চাইতে আপনার জীববিদ্যা সংক্রান্ত লেখাগুলো বেশি সুন্দর। উল্লেখ্য এটাও সুন্দর,এখানেও জীববিদ্যা আছে। (y)

    • রুহশান আহমেদ Reply

      জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে লিখতে ইচ্ছে করে। বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ তো সেটা দিয়েই। জীববিদ্যায় তো একরকম ফাইস্যা গেছি বলে লিখি। তাই অপেক্ষাকৃত সহজ একটা লেখা নিয়ে চেষ্টা করলাম।
      ধন্যবাদ কমেন্টের জন্য।

  2. আরাফাত রহমান Reply

    আসলে অনেকগুলো “যদি” ও “কিন্তু”-র মামলা! আমরা তো পৃথিবীর বাইরে এমন কোন গ্রহ এখনো দেখি নি যেখানে প্রাণের আবির্ভাব ও বিকাশ হয়েছে। এরকম একটা একলা ভিনগ্রহে প্রাণের আবির্ভাব হলেও তার স্বরূপ ও বিকাশ হয়তো পৃথিবী থেকে বহু ভিন্ন হবে।

আপনার মতামত