পর্বঃ১

শূন্য কি? যদি এই প্রশ্ন কাউকে করা হয় তাহলে যে কেউ সাথে সাথে বলবে শূন্য মানে ফাঁকা বা যার কোন অস্থিত্ব নেই । কিন্তু শূন্য বলে তাকে অবজ্ঞা করাটা ঠিক হবে না। কারণ এ শূন্য থেকেই বহু কোটি বছর আগে এ মহাবিশ্বের জন্ম। সাধারণভাবে শূন্য থেকে কোন কিছুরি সৃষ্টি হয় না। কিন্তু কোয়াণ্টাম মেকানিক্স বলে শূন্য থেকেই অনেক কিছুর সৃষ্টি. তখন থেকেই বিবর্তনের শুরু। শূন্য থেকে মহা বিস্ফোরণের মাধ্যমে এ মহাবিশ্বের জন্ম। তার প্রায় বহু কোটি বছর পর জীবের আবির্ভাব। মহা  বিস্ফোরণের পর থেকেই বস্তুর সাথে বস্তুর সংঘর্ষ ঘটতে শুরু করেছে। জীবের জন্মলগ্ন থেকে তা জীবের সাথে জীবেরও সংঘাত ঘটছে ফলে বিবর্তন ঘটছে। সৃষ্টির শুরু থেকে যে সংঘাত ছিল বস্তুর সাথে বস্তুর তা পরিণত হয়েছে জীবের সাথে জীবের ,অস্তির সাথে অস্তির,বিশ্বাসের সাথে বিশ্বাসের ।

বিবর্তন এর ফলেই মানবজাত এক অপার বুদ্ধ লাভ করেছে। এক সুন্দর চেতনা লাভ করেছে।আর এই চেতনার ভিন্নতাই মানুষের মধ্যে মানুষের ভিন্নতা জন্ম দিয়েছে। সেই চেতনার বলে নিওটন আবিষ্কার করেছে মহাকর্ষ বল ,ঠিক তেমনি  বিজ্ঞানী আইনিস্টাইন আবিষ্কার করেছেন E=MC^2 এর মতো কালজয়ী সূত্র । এই চেতনাগুলো জগৎকে আলো দেখিয়েছে ও সামনে যেতে সাহায্য করেছে ।তারা তাদের চেতনা আর গাণিতিক ব্যাখ্যা মাধ্যমে এই জগৎকে পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছেন। অসীমতার পথে হাঁটতে শুরু করেছে মানুষ।

এক কালে মানুষ ভুত প্রেতাত্তা কে ভয় পেত। তাদের আরাধনা করতো । কিন্তু বিজ্ঞান চেতনা তাদের এই ভুল ধারণাকে তাদের সামনে তুলে ধরেছে ।এসব থেকে মানুষ কে মুক্ত করেছে । যৌক্তিক চেতনা প্রকাশ করতে গিয়ে নানা মানুষ নানা ভাবে অত্যাচারিত হয়েছেন এমনকি আগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হয়েছেন কুসংস্কার এর কাছে । কুসংস্কার এ সমাজ কে পিছনে ফেলে দিয়েছে । এই কুসংস্কার ও তখনকার ধর্ম চর্চা  ব্রুনোর চেতনাকে বলি দিয়েছে। তাকে তার নিজ শহর প্রস্থান করতে বাধ্য করেছিল। তার সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করা হয়েছিল। যেহুতু ব্রুনোর কথা আসলো তাই তার আগ্নিকুন্ড নিক্ষিপ্ত করার কাহিনীটা সংক্ষেপে আলোচনা করি। অনেকেই তার জীবনীটা জানেন তাই বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন নেই ।

220px-Giordano_Bruno

 জিওর্দানো ব্রুনো সর্বদা মুক্ত চেতনার মানুষ ছিলেন। তার প্রতিটি লেখার মধ্যে এমন একটি দার্শনিক পদ্ধতির বিকাশ ঘটেছে যার মধ্যে স্থান পেয়েছে নব্য প্লোটোবাদ,বাস্তববাদী একেশ্বরবাদ,যৌক্তক রহস্যবাদ, পাথিব জগতের নিসগসম্মত ধারণা ইত্যাদি। তার লেখাগুলোকে আধুনিক সমালোচকদের মধ্যে অনেকেই অভিযোগ তোলেন যে তার অনেক লেখা ধর্মতাও্বিক প্রকৃতির এবং চার্চের অ্যাধ্যাতিক শিক্ষার দার্শনিক ভিওির উপর বিশেষ করে মানবীয় নির্বাণ ও আত্মার সর্বশ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কিত চর্চার শিক্ষার উপর সরাসরি আক্রমণ এর উদেশ্যে রচিত। ব্রুনোর এ ধরণের দার্শনিক মতবাদ এবং প্রথাগত আধ্যাত্মিক মতবাদের উপর আক্রমণ নিঃসন্দেহে চার্চকে ক্রুদ্ধ ও প্রতিহিংসাপরায়ন করে তুলে। তিনি তার গ্রন্থে শুধু প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক দর্শনের উপরই আঘাত করেননি বরং সারা ইউরোপ জুড়ে যে সংস্কার আন্দোলন চলছিল তারও তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। এতে চার্চ ক্ষুব্ধ হয় ।তাই তিনি চার্চের আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য বিভিন্ন স্থানে নির্বাসিত জীবনযাপন করেছেন। ফলে তিনি অনেক ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলেন ফলে তিনি খুব সহজেই চার্চের ফাঁদে পা  দিলেন।   ভেনিসের অভিজাত ব্যক্তি কতৃক তিনি  বিশ্বাস ঘাতকতার স্বীকার হয়েছেন।

ভেনিস এর এক অভিজাত ব্যক্তি তাকে আমন্ত্রণ করে ছিলেন স্মৃতিসহায়ক বিদ্যার গুরু হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার জন্য। যখন তিনি তার আমন্ত্রণ গ্রহণ করে ভেনিসে প্রবেশ করলেন তখন তারা তাকে কাল বিলম্ব না করে ইনক্যুইজিশনের হাতে সোপর্দ করলেন । তার পর তাকে পাঠানো হল রোমে সেখানে তার বিচার এর কাজ শুরু হল এবং তাকে তার মতবাদ ত্যাগ করার জন্য বলা হল কিন্তু তিনি তা করেননি। ফলে তাকে অগ্নিকুন্ড নিক্ষিপ্ত করার সাজা দেয়া হল। তার পর তাকে অগ্নিকুন্ড নিক্ষিপ্ত করা  হল। ৮টি অভিযোগ এ এই সাজা দাওয়া হয়েছিল ।

bruno-1pg1

কিন্তু কি তার অভিযোগ ছিল তা এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এই কথা পরিষ্কার যে তারা তার সাথে অবিচার করেছে।বিচারের নামে তারা তামাশা করেছে। এভাবেই তখনকার ধর্মচর্চা তার চেতনাকে বলি দিয়েছে। এভাবেই তখন কার সময়ই হাজার হাজার চেতনাকে বলি দেওয়া হয়েছে ।মুক্তচিন্তার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ।

galileo-galilei

ঠিক তেমনি আরেকজন ছিলেন বিজ্ঞানী গ্যালিলিও। তিনি তার চেতনা আর তার পর্যবেক্ষণ উপনীত হয়েছিলেন যে সূর্যকে কেন্দ্র করে এই পৃথিবী ঘুরছে। কিন্তু তখনকার ধর্মীয় গ্রন্থে পৃথিবী কেন্দ্র করে সব কিছু ঘুরছে ।তিনি এর বিরোধিতা করলেন এতে চার্চ ক্ষুব্ধ হয়ে গেলো থাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করানো হল। তিনি মৃত্যুদন্ডের ভয়ে তার মতবাদ কে ভুল বললেন । কিন্তু তিনি বিচারের শেষে বললেন তবুও পৃথিবী কিন্তু ঘুরছে। তার কারাদন্ড হল আমৃত্যু পর্যন্ত তিনি কারাগারে বন্ধী ছিলেন। এভাবেই তখনকার বিজ্ঞান  ও মুক্ত চেতনাকে বাধাগ্রস্থ করা হয়।এভাবেই বিজ্ঞান চেতনাকে যুগের পর যুগ অন্ধকারে রাখা হয়েছে। যদি সেদিন এসব চেতনার মূল্য দেওয়া হতো তাহলে আজ এই সমাজ আর সুন্দর হতো । আজ আমরা মহাকর্ষ ও কোয়ান্টাম মেকানিক্স মধ্যে বিরোধ মেটানো নিয়ে ব্যস্ত ,ওয়ামহোল খুঁজে বের করতে ব্যস্ত,থিওরি অফ এভরিথিং এর সাধনায় । যদি সব কিছুরি সময় মতো মূল্য দেয়া হতো তাহলে  এতদিনে  বিশ্বের সকল রহসের সমাধান আমাদের কাছে থাকতো। কিন্তু সমাজ আর তখনকার ধর্ম বরাবরই মানুষকে ব্ল্যাক হোল এর অতল গর্ভে নিক্ষিপ্ত করেছে। নিক্ষিপ্ত করেছে যুগের পর যুগের চেতনাকে।

 

রেফারেন্সঃ ১।আলো হাঁতে আধারের অভিযাত্রী

২।https://en.wikipedia.org/wiki/Galileo_Galilei

৩।  https://bn.wikipedia.org/wiki/জর্দানো_ব্রুনো

ফেসবুকে আপনার মতামত জানান

মন্তব্যসমূহ

  1. আরাফাত রহমান Reply

    লেখাটা আগ্রহোদ্দীপক। কিন্তু কিছু কথা বিক্ষিপ্ত লাগলো। যেমন তুমি বলেছো “কিন্তু কোয়াণ্টাম মেকানিক্স বলে শূন্য থেকেই অনেক কিছুর সৃষ্টি. তখন থেকেই বিবর্তনের শুরু।” কি বিবর্তন? জৈববিবর্তন না অন্য কিছু? শিরোনামে “সংঘাতের বিবর্তনে” এর সাথে লেখাটিতে কি সংঘাত আর কোনটা বিবর্তন সেটাও বোঝা যাচ্ছে না। আরো কিছু জিনিস পরিস্কার না যেমন “অপার বুদ্ধ” জিনিসটা কি? কিংবা এখানে “অস্তির সাথে অস্তির” জিনিসটাই বা আসলে কি?

আপনার মতামত