অনলাইন জগতের সহজলভ্যতার ফলে অনেকেই বিভিন্ন ব্লগে ও ফেসবুকে বিজ্ঞান বিষয়ক লেখালেখি করে থাকে। তাদের অনেকেরই লেখার মান অনেক ভালো। আগে যেখানে পাঠক কম, মানুষ কিনে না, প্রকাশক বই বের করলে লোকসান হয় সেই ঝামেলা থেকে কিছুটা হলেও বাঁচা গেল। কিন্তু একটা ব্যাপার খুবই গুরুত্বপূর্ণ, অনলাইন বিজ্ঞান নিয়ে অনেকে লেখালেখি করলেও ৯৪%-৯৮%ই (অনুমান) ‘পপুলার সায়েন্স’ ধাঁচের লেখা লিখছেন। শুধুমাত্র পপুলার সায়েন্স দিয়ে কি একটা দেশ বা একটা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা হয়? এর পাশাপাশি লাগবে ভালো টেক্সট বই। ভালো ভালো টেক্সট বই হলে লাগবে ভালো ভালো ল্যাবরেটরি, ভালো ভালো শিক্ষক ইত্যাদি ইত্যাদি যা এখানের আলোচনার বিষয় নয়।

বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চার জন্য ‘এস. এম. মোকছেদ আলী‘র বিজ্ঞানের টেক্সট বইগুলোকে অনেক অনেক শুভকামনা জানাচ্ছি। এই ধরনের বই লেখায় অনেকেই এগিয়ে আসুক, বছরে বছরে একটু একটু সংস্কারের মাধ্যমে খুব ভালো মানের বিজ্ঞান পাঠ্য বইতে রূপদান করুক। এটা একটা দুঃখজনক সত্য যে সম্মান পর্যায়ে বাংলায় বিজ্ঞান পাঠ্য বইয়ের সংখ্যা অনেক কম। এটা কখনোই মানবো না যে ভালো মানের বই লেখার মতো শিক্ষক নেই। অনেক শিক্ষকই আছেন যারা অনেক ভালো মানের স্নাতক, স্নাতকোত্তর পর্যায়ের বই লিখতে পারেন। কিন্তু কোনো এক কারণে এই শিক্ষক সমাজ প্রাইভেট পড়ানোতেই ব্যস্ত থাকেন, বই লেখাতে নয়। 🙁

চিত্রঃ লেখক এবং প্রকাশক ইউনিভার্সেল পাবলিকেশন্স এর লগো।

জিওমেট্রিক্যাল অ্যান্ড ফিজিক্যাল অপটিক্‌স‘ বইটি ২য় বর্ষে আমার টেক্সট ছিল, তাই পড়তে হয়েছে। পড়ে খুব একটা ভালো মানের ধারণা হয়নি। আগের মতো বলছি এই ধরনের বইগুলোর অনেক প্রসার হোক। একটি বই যখন ছাত্রদের পাঠ্য হবে তখন সেই বইটি কতটা ছাত্রবান্ধব সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ছাত্র-বান্ধবতার দিক থেকে খুব একটা ভালো অবস্থানে নেই। অনেক দরকারী প্রশ্নের উত্তর নেই। পরীক্ষায় এমন প্রশ্ন এসেছে অনেক খুঁজেও বইতে প্রশ্নটা পেলাম না। ভেবেছিলাম ছাত্র হিসেবে খারাপ হয়ে গিয়েছি বলে আমার এই দশা, কিছু পাচ্ছি না। পরে দুজন ভালো ক্লাসমেটকে জিজ্ঞেস করলাম। তাদেরও একই অভিযোগ। গাণিতিক সমস্যা নিয়েও তাদের অভিযোগ। অনেক দরকারি জায়গায় চিত্র নেই। বিজ্ঞানের সিরিয়াস বিষয়গুলোতে চিত্র না থাকলে বুঝতে খুব কষ্ট হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তো বোঝার প্রশ্নই আসে না। তার উপরে পিডিএফ জগত থেকে রঙিন ছবিওয়ালা বই দেখতে দেখতে কেমন যেন একটা বাজে লোভী হয়ে গিয়েছি, প্রায় সময়ই আফসোস হয় ইশ বইটা যদি রঙিন হতো। রঙিন হলে পরিষ্কার চিত্রের মাধ্যমে অনেকটা নিজে নিজেই পড়াশুনাতে অনেকটা এগিয়ে যাওয়া যেতো। বাকি সামান্যগুলো শিক্ষকদের সাহায্য নিয়ে শেষ করা যাবে।

প্রকাশনা জগতে রঙিন বইয়ের বাজার ভালো নয়। আফসোস এবং ইচ্ছা রেখেই আরো অনেকগুলো বছর কাটাতে হবে।

 

ফেসবুকে আপনার মতামত জানান

লিখেছেন সিরাজাম মুনির শ্রাবণ

আমি শ্রাবণ, পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র। বিজ্ঞান পড়তে ভালো লাগে, বিজ্ঞান বিষয়ক ভাবনা চিন্তা করে আনন্দ পাই।

সিরাজাম মুনির শ্রাবণ বিজ্ঞান ব্লগে সর্বমোট 50 টি পোস্ট করেছেন।

লেখকের সবগুলো পোস্ট দেখুন

মন্তব্যসমূহ

  1. Swapnil Reply

    আমাদের দেশে আদৌ রঙিন পাঠ্যবই বের করা সম্ভব?

  2. আরাফাত রহমান Reply

    রঙিন ছবি দূরের বিষয় — বিষয়বস্তু যেভাবে অবোধ্য ভাবে সাজানো থাকে. দেখে মনে হয় প্রশ্নের উত্তর মুখস্তের জন্য সাজিয়েে রাখা হয়েছে।

আপনার মতামত