salt_lamp

দরিদ্র মানুষের চাল নেই, চুলোও নেই। ঘরে বিদ্যুৎবাতি তো দূরের কথা, এই আকালের দিনে দুফোঁটা কেরোসিনেরও খোঁজ পাওয়া যায় না, তাই ঘুটঘুটে অন্ধকারে চাঁদের আলোই ভরসা। কিন্তু সুদূর ফিলিপাইনের দুই ভাইবোনের তৈরি এক বাতি চলবে লবণপানিতে। এতে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারবেন অনেকেই।

আইসা এবং রাফায়েল মিজেনো নামের এই দুই সহোদর sALt (Sustainable Alternative Lighting) নামের এক ল্যাম্প তৈরি করেন। লবণপানি এবং ধাতব রড ব্যবহার করে এই ল্যাম্প চলে। De La Salle ইউনিভার্সিটির এঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে কাজ করেন আইসা, এর পাশাপাশি তিনি গ্রিনপিস ফিলিপাইনেরও সদস্য। ফিলিপাইনের গ্রামে গ্রামে কেরোসিনের অভাব লক্ষ্য করেন তিনি। প্রচুর মানুষ অনেক দূরদূরান্ত থেকে কেরোসিন সংগ্রহ করে আনেন। তাদের এমন ভোগান্তি দূর করতেই এমন চিন্তা মাথায় আসে তার। একবার লবণপানি দিয়ে পূর্ণ করলে আট ঘন্টা চলবে এই ল্যাম্প। আর ছয় মাসে একবার এর ধাতব রড পাল্টে দিতে হবে। যেহেতু এই ল্যাম্প পানিতে চলে, সুতরাং এর থেকে আগুন লেগে যাবার কোনো ভয় নেই। সাধারণত ব্যাটারি দিয়ে যেসব বাতি চালানো হয়ে সেগুলো ফেলে দেবার পর রাসায়নিক পরিবেশের ক্ষতি করতে পারে। এই ল্যাম্পে তেমন ভয়ও নেই।

শুধু যে আলো জ্বালানো যাবে তাই নয়, বরং এর রয়েছে একটি ইউএসবি পোর্ট, যা দিয়ে দরকারের সময়ে ফোনের চার্জ দেওয়াও সম্ভব। লবণের দ্রবণ হিসেবে সাগরপারের মানুষেরা প্রাকৃতিক লোনাপানিও ব্যবহার করতে পারবেন।

পৃথিবীর যেসব এলাকায় ইলেকট্রিসিটি নেই সেখানে দরিদ্র মানুষের জন্য এটি বেশ ভালো। এই দুই ভাইবন বলেন, তারা ফিলিপাইনের দরিদ্র মানুষদের মাঝে এই ল্যাম্প ছড়িয়ে দেবার জন্য কাজ করবেন। সাধারণ মানুষেরাও এই ল্যাম্প কিনতে পারবেন। প্রতিটি ল্যাম্প কেনা হলে এর জন্য একটি করে ল্যাম্প দান করা হবে দরিদ্রদের মাঝে।

মন্তব্যসমূহ

  1. আরাফাত রহমান Reply

    sALt কিভাবে কাজ করে সে বর্ণনা জানার কৌতুহল বোধ করছি। এটা কি অনেকটা রাসায়নিক বিদ্যুৎ কোষের মতো?

আপনার মতামত