ফেসবুকের নিত্য নতুন হুজুগের জগতে এখন এক নতুন সংযোজন-“যারা অমুক মাসে জন্মগ্রহণ করেছেন তারা কেমন!” এধরণের অযৌক্তিক, অর্থহীন ফেসবুকীয় এপ্লিকেশনগুলো ছেলেখেলা বলে হয়তো আমি, আপনি উড়িয়ে দিয়েছি; কিন্তু আপনার বন্ধুতালিকার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ  যখন -“হু হু! আমি কি আর কাউরে ডরাই! ভাঙতে পারি লোহার কড়াই”-  বলে অত্যন্ত গর্ব সহকারে এসব এপ্লিকেশনের ফলাফল প্রচার করেন- তখন এ সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রেণীর মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা, ঠিক কী আকর্ষণে আমরা/তারা এসব বিশ্বাস করি/করেন –তা জানার কৌতূহল আমার/আপনার হতেই পারে। আর যেখানেই কৌতূহল, সেখানেই বিজ্ঞান।

জনপ্রিয় সিরিজ “বিগ ব্যাং থিউরি”- এর প্রথম পর্বেই রাশিফলবিদ্যার চর্চা নিয়ে এই সংলাপটি আছে। যেখানে ড. শেলডন কুপার তার নতুন প্রতিবেশি পেনিকে একদম মুখের উপর সত্য কথা বলে দেয়।

জনপ্রিয় সিরিজ “বিগ ব্যাং থিউরি”- এর প্রথম পর্বেই রাশিফলবিদ্যার চর্চা নিয়ে এই সংলাপটি আছে। যেখানে ড. শেলডন কুপার তার নতুন প্রতিবেশি পেনিকে একদম মুখের উপর সত্য কথা বলে দেয়।

এই কৌতূহলের নিবৃত্তি ঘটানোর আগে আসুন একটু আমার নিজের জ্যোতিষবিদ্যার জ্ঞান জাহির করি। আপনি মানে যে ব্যক্তি আমার এই লেখাটি  এখন পড়ছেন আমার কেনো যেনো মনে হচ্ছে, -“আপনার ভেতর আরেকজনের প্রশংসা পাবার, লোকের চোখে পছন্দের ব্যক্তি হবার প্রবল তাড়না কাজ করে। নিজের প্রতি সমালোচনাপ্রবণ হবার প্রবণতা আছে আপনার। আপনি এখনো আপনার অন্তর্নিহিত শক্তিকে পুরোপুরিভাবে কাজে লাগাননি। যদিও আপনার কিছু ব্যক্তিত্বের দুর্বলতা আছে কিন্তু তারপরও আপনি এটা সহজেই কাটিয়ে উঠতে পারেন। বাইরে নিয়মানুবর্তী এবং আত্মসংযমী দেখালে ও ভেতরে ভেতরে আপনি দুশ্চিন্তাপ্রবণ; এবং একই সাথে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেন। মাঝে মাঝে আপনি সঠিক সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষেত্রে বেশ দ্বিধায় ভুগেন। আপনি নির্দিষ্ট মাত্রার পরিবর্তন পছন্দ করেন এবং যেকোনো বাধা, সীমাবদ্ধতায় অসন্তুষ্ট হয়ে পড়েন। আপনি স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে পছন্দ করেন এবং সন্তোষজনক প্রমাণ ছাড়া কারো কথা মেনে নেন না। আপনি আরেকজনের সামনে নিজের খোলামেলা প্রকাশকে বোকামি মনে করেন। মাঝে মাঝে আপনি বহির্মুখী, বন্ধুভাবাপন্ন, সামাজিক আবার মাঝে মাঝে আপনার ভেতর অন্তর্মুখিতা, সদা সতর্কভাব ও লক্ষ করা যায়। আপনার কিছু কিছু স্বপ্ন একেবারে আকাশকুসুম। জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আপনার অন্যতম প্রধান লক্ষ।“ কী ভাবছেন? কিভাবে আপনার সম্পর্কে এতোসব সত্য কথা বলে দিলাম? এর উত্তর জানার জন্য আমাদের ফিরে যেতে হবে ১৯৪৮ সালে, সাহায্য নিতে হবে মনস্তত্ববিদ বার্টাম আর. ফোরের এর। মনস্তত্ববিদ ফোরের মনোবিজ্ঞানের একদল শিক্ষার্থীকে আহবান জানালেন নিজের ব্যক্তিত্বের স্বরূপ যাচাইয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে। এক সপ্তাহ পর ফোরের শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে আলাদাভাবে পরীক্ষার ফলাফল লিখে পাঠালেন। এবং সেইসাথে অনুরোধ করলেন, তাদের প্রত্যেকের জন্য অনন্য এই ফলাফলের যথার্থতা বিচার করে পাঁচ পূর্ণমান ধরে মূল্যায়ন করতে। গড়পড়তা শিক্ষার্থী তাদের ব্যক্তিত্বের এই স্কেচকে ৪.২৬ (৮৫% সঠিক) বলে মূল্যায়ন করেন। প্রিয় পাঠক এখানে কিন্তু এক বিরাট শুভঙ্করের ফাঁকি ছিলো। জনাব ফোরের শিক্ষার্থীদের আলাদা কোনো ফলাফল পাঠাননি, বরং প্রত্যেককেই একই রকম ব্যক্তিত্বের স্কেচ লিখে পাঠিয়েছিলেন। ফলাফলটা কী ছিলো জানতে চান? একটু উপরে উঠে আপনার সম্পর্কে করা আমার বয়ানটি দেখে আসুন। ঠিক এটিই লিখেছিলেন মনস্তত্ববিদ ফোরের। একই ফলাফল লেখার পর ও কেনো বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী একে ৮৫% সঠিক বলে মূল্যায়ন করলো? একটু পরে আসছি এর ব্যাখ্যায়।

তার আগে আরো একটি চমকপ্রদ পরীক্ষার দিকে চোখ দেই। এই পরীক্ষায় মনোবিজ্ঞানের শিক্ষকেরা একদল ছাত্রছাত্রীকে একটি গবেষণার অংশ হিসেবে দুইরকম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য লিখে পাঠান। একটি ছিলো পরীক্ষার ভিত্তিতে প্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের ব্যক্তিত্বের সঠিক বিশ্লেষণ আর আরেকটি ছিলো ভুল এবং অস্পষ্ট বিশ্লেষণ। শিক্ষার্থীদের যখন তাদের বিবেচনার ভিত্তিতে সঠিক ফলাফলটি বাছাই করতে বলা হলো তখন আশ্চর্যজনক হলে ও সত্য ৫৯% শিক্ষার্থী ব্যক্তিত্বের ভুল বিশ্লেষণটাকেই খুশি মনে নিজের চরিত্রের প্রতিচ্ছবি বলে দাবি করলেন।

এর পেছনের মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা আর এর সাথে জ্যোতিষিরাজাধিরাজদের সম্পর্ক কোথায়?

কেনো উপরের দুটো পরীক্ষায় এমন হলো? কারণগুলো ভালভাবে খেয়াল করুন, রাশিশাস্ত্রের ফাঁকি ধরে ফেলতে পারবেন। প্রথমত, মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মানুষ নিজের সম্পর্কে ইতিবাচক কিছু শুনতে পছন্দ করে। আমাদের দ্বিতীয় পরীক্ষাটিতে শতকরা ৫৯ ভাগ স্বেচ্ছাসেবক কেনো খুশিমনে ভুল ফলাফল বেছে নিয়েছিলেন? কারণ, ভুল বিশ্লেষণটি ছিলো ইতিবাচক কথায় ভরপুর আর মানুষ মাত্রই প্রশংসার কাঙাল। দ্বিতীয়ত, আপনি যদি মনে করেন যিনি আপনার ব্যক্তিত্বের বর্ণনা করছেন, অতীত, ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনাকে জানাচ্ছেন তিনি আসলেই এধরণের জ্ঞানের অধিকারী তবে আপনি কোনোকিছু জানার আগেই তার প্রতি একধরণের অন্ধবিশ্বাসের মোহে পড়ে যান। তৃতীয়ত, আমরা অস্পষ্ট যেকোনো কিছুকে খুব সহজে ব্যক্তিগতকৃত করে ফেলতে পারি। শুরুতেই আপনার সম্পর্কে করা মন্তব্যগুলোই পড়ে দেখুন না! বক্তব্যটি অস্পষ্ট নয় কি? “মাঝে মাঝে” শব্দটির ব্যবহার এটিকে ধোঁয়াশা করে তুলেছে। আর ঠিক এরকম ধোঁয়াশা, অস্পষ্ট কথারই আশ্রয় নেন রাশিফল-বিশারদরা, জ্যোতিষীরা। ঠিক এভাবেই তারা ইতিবাচক কথায় ভরপুর করে, নেতিবাচক বাণী অপেক্ষাকৃত কম দিয়ে, অস্পষ্ট, ধোঁয়াশা করে আপনার সম্পর্কে বানোয়াট কথা লিখে দেন; আর আপনি জ্যোতিষীর উপর ভরসা করে খুবই খুশি মনে এসব কথা বিশ্বাস করে নেন।

আজ পর্যন্ত ঠিক কতোটুকু স্পষ্ট করে তারা ভবিষ্যৎবাণী করেছেন বলুন তো? তারা বলেন, “আজ অর্থপ্রাপ্তি ঘটতে পারে” তারা কখনো বলেছেন, “ আজ শার্টের পকেটে, পুরানো ড্রয়ারে টাকা পেয়ে যেতে পারেন”? ভেবে দেখুন।

এসব ব্যবসা করে যারা পেট চালান, তারা আমাদের আরেকটি মানসিক বৈশিষ্ট্যের ও ফায়দা লুটেন। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এর গালভরা নাম- “Hit and Miss” অর্থাৎ, কোনোভাবে এসব অস্পষ্টতার সাহায্য নিয়ে হাজারখানেক ভবিষ্যতবাণীর মধ্যে যদি একটি মিলে যায়- আমরা ঐ একটি সাফল্যই আমরণ মনে রেখে দেই, আর বাকি ৯৯৯ টি ভুল ভবিষ্যতবাণীর কথা বেমালুম ভুলে যাই।

 

পদার্থবিজ্ঞানের আলোয়ঃ

জ্যোতিষশাস্ত্রের মূলকথা অনুযায়ী, সূর্য নিয়ন্ত্রণ করে সিংহ রাশির জাতকদের, চাঁদের ইশারায় চলে কর্কট রাশির জাতকেরা আর মঙ্গল, জুপিটার প্রভৃতি গ্রহ দ্বারা ভাগ্য নিয়ন্ত্রিত হয় বাকি রাশির জাতকদের। হাত গণনাকারীদের মতে, আলোকবর্ষ দূরে থাকা এসব গ্রহ, নক্ষত্র আমাদের ভাগ্য কোনো এক শক্তিবলে প্রভাবিত করছে। আচ্ছা ধরুন, তর্কের খাতিরে মেনে নিলাম দূরে থাকা গ্রহের শক্তির প্রভাব এই পৃথিবীতে আমাদের উপর আছে। তো সেই শক্তিগুলো কী কী হতে পারে?

আমাদের হাতে খুব বেশি বিকল্প নেই। পদার্থবিজ্ঞান আমাদের চারটি মৌলিক বলের প্রভাবের কথা জানায়। অভিকর্ষ, তড়িৎচুম্বকীয় বল, সবল এবং দুর্বল বল। শেষের দুইটি বলের প্রভাব শুধুমাত্র পারমাণবিক পর্যায়ে পরিলক্ষিত হয়। সবল বল পরমাণুর অভ্যন্তরে বিপরীতধর্মী চার্জযুক্ত প্রোটন এবং ইলেকট্রনকে একত্রে রাখার ক্ষেত্রে  কাজ করে। আর দুর্বল বল তার বল দেখায় তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের ক্ষেত্রে ।এই দুই বলকেই আমরা “গ্রহ কর্তৃক আমাদের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ”- তত্ত্বের চালিকা হিসেবে বাদ করে দিতে পারি শুরুতেই। কারণ হচ্ছে, এই দুই  বলের প্রভাব খুব কম দূরত্ব পর্যন্ত থাকে। দুর্বল বল কাজ করে প্রোটনের ব্যাসের ০.১ শতাংশ পর্যন্ত! তাই মনে  করার কোনোই কারণ নেই জ্যোতিষীরা কোনো না কোনোভাবে এই বলদুটিকে আমাদের নিয়তির প্রভাবক বলে চালিয়ে দিতে পারবেন।

এরপর আসি তড়িৎচুম্বকীয় বলের কথায়। তড়িৎচুম্বকীয় বল নির্ভর করে বৈদ্যুতিক চার্জ আর দূরত্বের উপর।  তড়িৎ নিরপেক্ষ গ্রহসমূহের তড়িৎচুম্বকীয় বল আমাদের উপর কাজ করে না।

হারাধনের একটি ছেলের মতো বাকি থাকলো অভিকর্ষ বল। অভিকর্ষ বল নির্ভর করে দূরত্ব আর ভরের উপর। যত বেশি ভর কোন বস্তুর ততো বেশি আকর্ষণ শক্তি দিয়ে সে টেনে রাখে তার আশেপাশের বস্তুদের। আর দূরত্বের সাথে সাথে কমতে থাকে এই আকর্ষণ। অভিকর্ষ বল আর দূরত্বের সম্পর্কটি এরূপ: কোনো বস্তুকে যদি দ্বিগুণ দূরে সরিয়ে নেওয়া হয় তবে তার অভিকর্ষ বলের প্রভাব হ্রাস পায় চারগুণ। কোন বস্তুকে ১০ গুণ দূরত্বে সরিয়ে নিলে আশেপাশের বস্তুর উপর তার আকর্ষণ বল হ্রাস পাবে ১০^২ গুণ অর্থাৎ ১০০ গুণ। পৃথিবীর উপর অভিকর্ষ বলের প্রভাবের খেলায় যদি কোনো বিজয়ী থাকে তবে তা চাঁদ। চাঁদের ভর খুব বেশি নয় (পৃথিবীর ১/৮০ ভাগ মাত্র) কিন্তু দূরত্বগত দিক দিয়ে এটি পৃথিবীর কাছে, যেখানে ভেনাস-পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের গ্রহ -চাঁদের তুলনায় ১৫০ গুণ দূরে। জ্যোতিষীরা যদি দাবি করেন, গ্রহ নক্ষত্রের প্রভাব আমাদের উপর আছে তবে সেটা হতে পারে একমাত্র অভিকর্ষ বলের প্রভাব। কিন্তু রাশিশাস্ত্রের এখানে ও বিরাট ঘাপলা। আগেই বলেছি, পৃথিবীর মানুষের উপর চাঁদের অভিকর্ষ বল সবচেয়ে বেশি; সে অনুযায়ী রাশিশাস্ত্রের একচ্ছত্র অধিপতি হওয়ার কথা চাঁদের কিন্তু তা না ঘটে একই পৃথিবীর বিভিন্ন মানুষের উপর বিভিন্ন গ্রহের প্রভাবের কথা বলছে এই ভুয়া শাস্ত্র। কাছের ভেনাসের ও যে প্রভাবের কথা বলে এই বিদ্যা, দূরের জুপিটারের ও একই প্রভাবে বিশ্বাস করে তারা।

এখন জ্যোতিষীদের একমাত্র ভরসা কোনো অজানা, অচেনা বল যা কিনা বিজ্ঞানীদের কাছে অজানা! এই বল দূরত্বের উপর নির্ভর করে না (তাতো অবশ্যই, নাহলে তো চাঁদই জ্যোতিষবিদ্যার একমাত্র চোখের মণি হতো, আর বিভিন্ন দূরত্বের গ্রহগুলো একই প্রভাব দেখাতে পারতো না!) এই বল ভরের উপর ও নির্ভর করে না (করলে, জুপিটারই হতো রাশিশাস্ত্রের রাজাধিরাজ হতো জুপিটার, আর মার্কারি কোনো পাত্তাই পেতো না)

আমরা যদি ধরেই নেই দূরত্ব এবং ভরের কোনো গুরুত্ব নেই, তাহলে, ধূমকেতু, ব্ল্যাকহোল এসবের প্রভাব নেই কেনো আমাদের ভাগ্যের উপর?

মনে রাখুন, জ্যোতিষীদের কাছে গ্রহ নক্ষত্রের দূরত্ব কোনো ব্যাপারই নয়। দূরত্ব এতোই তুচ্ছ হলে ২০০০ এর উপর যেসব বহিঃগ্রহ সূর্য ব্যতিরেকে অন্য নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরছে- আমাদের ভাগ্যের উপর তাদের প্রভাব কেনো বাদ দিচ্ছেন রাশিশাস্ত্রবিদেরা?

আপনারা কী জানেন, আজ আপনারা যেসব রাশিতে বিশ্বাস করেন সেই ১২ টি রাশিফলের ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে “পৃথিবী সৌরজগতের কেন্দ্রে”- এই বিশ্বাসের উপর। যেখানে একটি শাস্ত্রের মূলভিত্তিই এমন ভুল দিয়ে শুরু, সেখানে আপনি কীভাবে এই শাস্ত্রের উপর এতো অগাধ বিশ্বাস রাখেন?

অনেক কথা বললাম। এবার একটু নিজের কথা বলি। অন্য অনেকের মতো আমি নিজে ও রাশিফল বিশ্বাস করিনা বলতাম ঠিকই কিন্তু চুপিচুপি পত্রিকার সাপ্তাহিক রাশিফল পড়ে হয় আনন্দে ডগোমগো হতাম নয়তো তুলারাশির তুলোধোনার খবর পড়ে চিন্তায় কপাল কুঁচকে রাখতাম। সে বহুদিন আগের কথা; এখন আমি এসবে আর বিশ্বাস করিনা এবং চাই আপনারা ও বিশ্বাস করবেন না। আপনারা এক্ষেত্রে বলতে পারেন, “তুমি বাপু নিজে বিশ্বাস করোনা- ভালো কথা। আমাদের নিয়ে টানাহ্যাঁচড়া না করলে হয় না?” উত্তর হচ্ছে “না, হয়না।” কারণ, এক গবেষণায় দেখা গেছে, শুধুমাত্র ২ মিনিটের একটি ভ্রান্তবিশ্বাসমূলক ভিডিওচিত্র দেখার ফলশ্রুতিতে দর্শকদের মাঝে যুক্তিবাদী চিন্তাভাবনা গ্রহণ করার প্রবণতা এবং নিজে যাচাই বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেবার দক্ষতায় তাৎপর্যপূর্ণ হ্রাস ঘটে।  দুই মিনিটের ভিডিওচিত্রের ফলাফল যদি এমন হয় তবে, বছরের পর বছর পত্রিকায় রাশিফল প্রকাশ করে, ভাগ্য পরিবর্তনে রত্ন-পাথরের রমরমা ব্যবসা করে আমরা নিজেদের কোন অন্ধকারের পথে নিয়ে যাচ্ছি?

 

রেফারেন্সঃ

১। How come some people believe in the paranormal? Sander Van Der Linden
Scientific American (September 1, 2015)

২। Phil Bait’s Bad Astronomy: Astrology

 

ফেসবুকে আপনার মতামত জানান

লিখেছেন মেহজাবিন হোসেন

আমি মেহজাবিন হোসেন, জীববিজ্ঞানের ছাত্রী। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি নিয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছি। প্রকৃতিগতভাবে বিষন্ন, অস্থির। নিজেকে জানার জন্যই ঘাটাঘাটি, লেখালেখি

মেহজাবিন হোসেন বিজ্ঞান ব্লগে সর্বমোট 4 টি পোস্ট করেছেন।

লেখকের সবগুলো পোস্ট দেখুন

মন্তব্যসমূহ

  1. আরাফাত রহমান Reply

    দারুণ লেখা — বিষয়বস্তু ও ভাষা দুইটাই ভালো লাগলো। বিশেষ করে উপসংহারটা দরকারী ছিলো।

    • মেহজাবিন হোসেন Reply

      ধন্যবাদ। একজন অভিজ্ঞ লেখকের প্রশংসা, নির্দেশনা- অনেক অনুপ্রেরণা যোগায়

      • মেহজাবিন হোসেন Reply

        আমি পদোন্নতি চাই না!

    • মেহজাবিন হোসেন Reply

      হাহা! 😀 অনেক ধন্যবাদ

  2. সাবরিনা সুমাইয়া Reply

    খুবই ভালো লেগেছে।
    তবে “হাত গণনাকারীদের মতে, আলোকবর্ষ দূরে থাকা এসব গ্রহ, নক্ষত্র…” মঙ্গল, জুপিটার এরা তো আলোকবর্ষ দূরে নয় যতদূর জানি। একটু খটকা লাগলো এখানে।

    • মেহজাবিন হোসেন Reply

      হ্যাঁ, আমাদের সৌরজগতের গ্রহগুলোর দুরত্ব আস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট দিয়ে মাপা হয়, সৌরজগতের বাইরে বা অন্য গ্যালাক্সিতে অবস্থিত নক্ষত্রের দুরত্ব আলোকবর্ষ দিয়ে।
      যেহেতু, জ্যোতিষীদের দৌড় আমাদের সৌরজগতেই আবদ্ধ সেহেতু আস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট হওয়াই সমিচীন ।
      ধন্যবাদ বিষয়টি পয়েন্ট আউট করার জন্য 

  3. Sharif Reply

    খুবই চমৎকার ও যৌক্তিক লেখা। কিন্তু একটা বিষয়ে দিধান্বিত- সব গ্রহের নাম কিন্তু ভাগ্য দেব দেবির নামে করা হয়েছে। যারা আবিষ্কার করেছেন, তারাঁ কি তাহলে রাশিতে বিশ্বাসি ছিলেন? আরেক বিষয় হলো- চাদঁ- সূর্য অভিকর্ষের মাধ্যমে নয় বরং এমন কোন শক্তির মাধ্যমে প্রানীজগৎকে প্রভাবিত করে যা কেউ আবিষ্কার করতে পারে নি। যেমন- অনেকেই বলে অমাবশ্যার রাতে বাতের ব্যাথা হয়। এটাকে বিঞ্জান ব্যাখ্যা করতে পারবে না। সূর্যের প্রতিটা বর্ণ সবার উপর সমান প্রভাব বিস্তার করে না। কেন?

আপনার মতামত