মানব জিনোম প্রজেক্ট শুরু করার রজত জয়ন্তী উদযাপনের সবচেয়ে চমকপ্রদ ঘোষনাটি আসলো মাত্র তিন দিন আগে। বিখ্যাত জার্নাল সায়েন্স এ প্রকাশিত এক প্রবন্ধে বিজ্ঞানীরা এবার মানব জিনোম লেখার প্রজেক্টের ঘোষনা দিয়েছেন। নিউইয়র্ক ও হার্ভার্ডে বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা, আইনজীবি, প্রযুক্তিবিদ দের নিয়ে দুটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর তারা এই ঘোষনা দিয়েছেন।

২০০৩ সালে শেষ হওয়া মানব জিনোম প্রজেক্টের উদ্দেশ্য ছিলো আমাদের জিনোম পড়ে দেখা, সেটা সফল হয়েছে। নানা ক্ষেত্রে তার থেকে পাওয়া জ্ঞান গুরুত্বপূর্ন অবদান রাখছে। কিন্তু তবুও বহু রহস্য রয়ে গেছে অভেদ্য। যদিও সিকোয়েন্স করা, সেই সিকোয়েন্স বিশ্লেষন করা এমনকি জিনোম সম্পাদনা করার প্রযুক্তিও এখন আমাদের হাতে চলে এসেছে কিন্তু কৃত্রিমভাবে ডিএনএ সিকোয়েন্স তৈরি করা এখন পর্যন্ত শুধু স্বল্প পরিসরেই সম্ভব হয়েছে। যে কারণে জৈবিক সিস্টেমকে পুরোপুরি বোঝা এবং আরো নিপুনভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছেনা। যদি একদম শুন্য থেকে পুরো জিনোম তৈরি করা সম্ভব হয়, তাহলে আমাদের জ্ঞান এগিয়ে যাবে অনেক দূর। যা কিনা বড় পরিসরে ডিএনএ সিকোয়েন্স তৈরি এবং সম্পাদনা করার প্রযুক্তি উদ্ভাবনকে গতিশীল করবে।

এই প্রজেক্টের নেতৃত্বে আছেন জর্জ চার্চ, হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের একজন জিনতত্ববিদ। জেফ বোয়েক, যিনি নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির ইন্সটিটিউট ফর সিস্টেমস জেনেটিক্স এর পরিচালক। বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান অটোডেস্কের একজন গবেষক অ্যান্ড্রিউ হেসেল এবং নিউ ইয়র্ক জিনোম সেন্টারের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ন্যান্সি জে. কেলি। তারা আশা করেন এই বছরের শেষ নাগাদ প্রজেক্টের জন্য একশ মিলিয়ন ডলারের তহবিল সংগ্রহ করবেন, সেই সাথে প্রজেক্টের সাথে জড়িত সামাজিক ও আইনগত বিষয়গুলো সমাধা করবেন।

এই প্রজেক্টের মূল লক্ষের মধ্যে রয়েছে প্রতিস্থাপন যোগ্য অংগ তৈরি করা, জিনোমের মধ্যে রিকোডিং করে ভাইরাস প্রতিরোধী সেল লাইন তৈরি করা, থেরাপীতে ব্যাবহৃত সেল লাইনে ক্যান্সার প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্য আরোপন, ক্ষতিকর জিন যেমন প্রিয়ন জিন অপসারন এবং আরো বহু কিছু যা শুধু সময়ই বলে দিতে পারে।

তথ্যসূত্রঃ
The Genome Project–Write, Science Magazine.

লিখেছেন রুহশান আহমেদ

আমি বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান বিষয়ক কনটেন্ট তৈরির একজন স্বাধীন স্বেচ্ছাসেবক। শাবিপ্রবি থেকে জিন প্রকৌশল ও জৈব প্রযুক্তি বিষয়ে একটি স্নাতক ডিগ্রি বাগানোর চেষ্টায় আছি।

রুহশান আহমেদ বিজ্ঞান ব্লগে সর্বমোট 33 টি পোস্ট করেছেন।

লেখকের সবগুলো পোস্ট দেখুন

মন্তব্যসমূহ

  1. আরাফাত রহমান Reply

    ইন্টারেস্টিং। তবে জীবনের সব রহস্যই জিনোমের মধ্যে নিহিত — এই দৃষ্টিভঙ্গি কতটুকু সত্য? যদিও এখন মূল ধারার বেশিরভাগ গবেষণাই জিনোম বা ডিএনএ কেন্দ্রীক। ভেন্টরের কৃত্রিম জীবনও কিন্তু মূলত সম্পাদিত জিনোম ছিলো। দেখা যাক কি হয়।

      • রুহশান আহমেদ Reply

        ফুল টেক্সট থেকেঃ
        The Human Genome Project (“HGP-read”) nominally com-
        pleted in 2004 aimed to sequence the human genome and
        improve technology, cost, and quality of DNA sequencing (1,
        2). It was biology’s first genome-scale project, and at the
        time was considered controversial by some. Now it is recog-
        nized as one of the great feats of exploration, one that has
        revolutionized science and medicine.
        Although sequencing, analyzing, and editing DNA con-
        tinue to advance at breakneck pace, the capability to con-
        struct DNA sequences in cells is mostly limited to a small
        number of short segments, restricting the ability to manipu-
        late and understand biological systems. Further understand-
        ing of genetic blueprints could come from construction of
        large, gigabase (Gb)–sized animal and plant genomes, in-
        cluding the human genome, which would in turn drive de-
        velopment of tools and methods to facilitate large-scale
        synthesis and editing of genomes. To this end, we propose
        the Human Genome Project–Write (HGP-write).

    • রুহশান আহমেদ Reply

      না আসলে সব রহস্য তো জিনোমে থাকার দরকার নেই। যদ মেজরই হোক, শেষ পর্যন্ত জিনোমও জীবনের একটা অংশ, সব কিছু না। আর এখানে ওনারা কিন্তু কৃত্রিম জীবন তৈরির চেষ্টা করছেন না। শুধু মানুষের জিনোমটা শুন্য থেকে ৩ বিলিয়ন বেস পেয়ার অ্যাসেম্বল করার চিন্তা ভাবনা করছেন।

আপনার মতামত