বাস্তবতার সত্যিকার স্বরূপ নিয়ে একটি পোস্ট করেছিলাম এবং ঐ পোস্ট থেকে কিছু জিজ্ঞাসার জন্ম হয়। যেমন অনেক কিছুই আছে যাদের অস্তিত্ব প্রচলিত নিয়ম দ্বারা প্রমাণ করা যায় না। তাহলে তারা কি অবাস্তব? কিংবা হাট্টিমাটিম টিম-এর মতো কাল্পনিক জিনিসগুলো মূলত কী? এরা কি বাস্তব? জ্বিন-পরী কি বাস্তব? কিংবা মাল্টিভার্স কি বাস্তব? আশাকরি এই জিজ্ঞাসাগুলোর উত্তর মিলবে এই লেখাটিতে। যারা আগের লেখাটি পড়েননি তাদের কাছে অনুরোধ থাকবে প্লিজ এটি পড়ার আগের লেখাটি পড়ে নিন।

 

যেসকল জিনিসের বাস্তবতা ইন্দ্রিয় দিয়ে সরাসরি অনুভব করা যায় না, সেসকল জিনিসের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতে বিজ্ঞানীরা একটি পদ্ধতির আশ্রয় নেন। পদ্ধতিটির নাম ‘মডেল’। এই পদ্ধতিটি খুব বেশি পরিচিত নয়। মডেল হচ্ছে বৈজ্ঞানিক চিন্তা ভাবনার সত্যিকার মাধ্যম। আমাদের আশেপাশের বাস্তব জগতের কোনো একটা ক্ষেত্রে কী ঘটে চলছে তার একটা সুচিন্তিত মতামত হচ্ছে মডেল। আমরা হয়তো ভাবি আমাদের আশেপাশের এইখানটাতে কী হচ্ছে ঐখানটাতে কী ঘটে চলছে। চুলগুলো কীভাবে লম্বা হচ্ছে, নখগুলো কীভাবে বড় হচ্ছে। মনে মনে কিছু একটা ব্যাখ্যা দেবার চেষ্টা করি। এই ব্যাখ্যাটাই হচ্ছে মডেল। এই মডেল সঠিকও হতে পারে আবার ভুলও হতে পারে।

 

বিজ্ঞানীরা জীব জগৎ ও জড় জগৎ নিয়ে এভাবেই বৈজ্ঞানিক মডেল উপস্থাপন করেন। মডেল প্রদানের পর ঐ মডেলকে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করা হয়। মডেল হতে পারে কাঠ বা প্লাস্টিকের তৈরি কোনো রেপ্লিকা বা প্রতিলিপি কিংবা হতে পারে কোনো গাণিতিক সমীকরণ কিংবা হতে পারে কম্পিউটারের কোন সিমুলেশন। এই মডেল যদি সত্য হয়ে থাকে তাহলে ফলাফল হিসেবে কী দেখার কথা বা কী শোনার কথা কিংবা কোনো যন্ত্রে কী প্রতিক্রিয়া হবার কথা তা নির্ধারণ করা হয়। মাঝে মাঝে মডেলের বেলায় গাণিতিক হিসাব নিকাশ করেও গাণিতিক ফলাফল কী পাবার কথা তা নির্ধারণ করা হয়। এরপর মডেলে দাবি করা কথাগুলো যাচাই করা হয় এবং এই মডেল সঠিক হয়ে থাকলে এটির ফলে ভবিষ্যতে কী হবে তা নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ কোনো কিছু সম্পর্কে এটি ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে কিনা তা যাচাই করা হয়। সঠিক হয়ে থাকলে কী দেখতে পাবার কথা বা কী শুনতে পাবার কথা কিংবা কী উপলব্ধি করতে পারার কথা তা মিলিয়ে দেখা হয়। যদি ভবিষ্যদ্বাণী মিলে যায় তাহলে মডেলকে আপাতত সঠিক হিসেবে ধরে নেয়া হয় এবং আমরা আমাদের বিশ্বাসকে আরো দৃঢ় করতে পারি যে, মডেলে যা দাবি করা হচ্ছে তা আসলে বাস্তবতার অংশ।

 

উৎরে যাওয়া মডেলকে পরবর্তীতে আরো পরীক্ষা নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। যত বেশি পরীক্ষায় পাশ করবে তত বেশি পরিমাণ নির্ভুল ও তত বেশি পরিমাণ বাস্তব বলে বিবেচিত হবে। যদি মডেলের ভবিষ্যদ্বাণী না মিলে তাহলে এটিকে বাতিল ও ভুল বলে গণ্য করা হয় কিংবা অন্য কোনো উপায়ে তাকে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হতে হয়। অন্য উপায়েও যদি এর সত্যতা প্রমাণিত না হয় তাহলে মডেলটিকে সংশোধন করে আবারো পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করা হয়। বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনার বেলায় কোনো ছাড় নেই।

বৈজ্ঞানিক মডেল নিয়ে একটি উদাহরণ তুলে ধরছি। আমরা জানি বংশগতির একক জিন, DNA নামক এক প্রকার তন্তু দিয়ে গঠিত। আজকের যুগে DNA সম্পর্কে আমরা অনেক কিছু জানি। DNA কী, কীভাবে কাজ করে, তার নাড়িনক্ষত্র সবই জানি। কিন্তু DNA’র গঠন কেমন তা দেখতে পারি না। এমনকি খুব শক্তিশালী মাইক্রোস্কোপের সাহায্যেও এর গঠন দেখা যায় না। DNA সম্পর্কে আমরা যা জানি তার প্রায় সবই এসেছে কল্পনায় তৈরি করা বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক মডেল ও মডেলের নানা পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে।

 

মানুষ যখন DNA সম্পর্কে কিছুই জানতো না, এমনকি DNA-র নামও শুনেনি তখনও জিন সম্পর্কে অনেক তথ্য মানুষের জানা ছিল। দেড়শো বছর আগের কথা, ইতালির পাশের দেশ অস্ট্রিয়ায় গ্রেগর জোহান মেন্ডেল নামে একজন ধর্মযাজক বাস করতেন। মেন্ডেল তার গির্জার বাগানে মটরশুঁটি গাছ নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছিলেন। মটরশুঁটি বীজ নিয়ে তার মনে একটা ভাবনা খেলা করায় তিনি যত্ন নিয়ে বাগানে বেশ কিছু মটরশুঁটি রোপণ করলেন, এবং পরিচর্যা করে বড় করতে লাগলেন। যে যে গাছ ফল হিসেবে সবুজ বা হলুদ কিংবা উভয়ের মিশ্রণ দিয়েছে তাদের গুনে রাখলেন। এ বীজগুলো থেকে আবার চারা তৈরি করে ঐ চারার বীজের রঙ পর্যবেক্ষণ করলেন। এভাবে কয়েক প্রজন্ম ধরে পর্যবেক্ষণ করে গেলেন। পর্যবেক্ষণের ফলাফল থেকে তিনি চমৎকার একটি সূত্র খুঁজে পান।

চিত্রঃ মগ্ন মেন্ডেল। চিত্রঃ Charley Harper Art Studio

তিনি খেয়াল করে দেখলেন মটরশুঁটি গাছের বৈশিষ্ট্যগুলো চমৎকার একটি গাণিতিক নিয়ম মেনে বংশ পরম্পরায় বয়ে চলে। মানুষের দিকে খেয়াল করলে দেখা যাবে সন্তানরা দেখতে শুনতে কিংবা অন্য কোনো বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে প্রায় সময় তাদের বাবা-মায়ের মতো হয়। মেন্ডেলের আবিষ্কার করা এই জিনিসটার জন্যই সন্তানেরা বাবা-মায়ের মতো হয়।

মেন্ডেল কিন্তু কোনো জিনকে কখনো চোখে দেখেননি বা ছুঁতেও পারেননি। কিন্তু তারপরেও তিনি অনুধাবন করেছিলেন ‘কিছু একটা’ জিনিস আছে যা এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে স্থানান্তরিত হয়। এর সবগুলোই তিনি করেছিলেন গণনা ও হিসাব নিকাশের মাধ্যমে। মটরশুঁটি গাছের সবুজ ও হলুদ বীজ নিয়ে তিনি একটি মডেল প্রদান করেছিলেন। এই মডেল যদি সঠিক হয়ে থাকে তাহলে সবুজ ও হলুদ মটরশুঁটিকে বিশেষ উপায়ে নিষিক্ত করা হলে এক পর্যায়ে সবুজ মটরশুঁটির তিনগুণ হলুদ মটরশুঁটি পাওয়া যাবে। এবং তার পরীক্ষার ফলাফলে ঠিক এমনটাই পাওয়া গিয়েছিল।

 

বিপ্লবী এই আবিষ্কারটা তিনি করেছিলেন তার কল্পনার মডেলের মাধ্যমেই। এরকম অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও বিপ্লবাত্মক আবিষ্কার হয়েছে মডেলের মাধ্যমে। মেন্ডেলের কাছে আধুনিক যন্ত্রপাতি ছিল না। মাইক্রোস্কোপ দিয়ে দেখার কোনো উপায় ছিল না। এসব সুবিধা না থাকা সত্ত্বেও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে চমৎকার একটি আবিষ্কার করে ফেলেছিলেন। পরবর্তীতে বিজ্ঞানীরা মেন্ডেলের মডেলের আরো উন্নয়ন করেন। মটরশুঁটি বীজের পাশাপাশি অন্যান্য জীবের উপরও এই সূত্র প্রয়োগ করেন।

মেন্ডেল DNA দেখতে পাননি। DNA-র আকার আকৃতি কেমন আজকের যুগে আমরা তা জানি। শুধু আকার আকৃতিই না, আধুনিক বিজ্ঞানের কল্যাণে DNA সম্পর্কে অনেক অনেক কিছুই জানা সম্ভব হয়েছে।

DNA-র সত্যিকার আকৃতি কেমন তা জানতে পেরেছি বিজ্ঞানী জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিকের কল্যাণে। ওয়াটসন ও ক্রিকের পাশাপাশি তাদের আগে ও পরে এই বিষয় নিয়ে কাজ করা অন্যান্য বিজ্ঞানীদেরও অবদান আছে। ওয়াটসন আর ক্রিকও কিন্তু DNA-র আকৃতি নিজেদের চোখে দেখননি। তারাও গুরুত্বপূর্ণ এই আবিষ্কারটি করেছিলেন তাদের কল্পিত মডেল প্রদানের মাধ্যমে এবং ঐ মডেলের সত্যাসত্য যাচাইয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে।

 

তাদের মডেল বাস্তবায়নের জন্য লোহা ও কাঠ ব্যবহার করে DNA-র আনুমানিক গঠনের একটি রেপ্লিকা বা প্রতিলিপি তৈরি করেছিলেন। এই মডেল সঠিক হলে কেমন ফলাফল পাওয়া যাবে তাও গবেষণা-হিসাব-নিকাশ করে বের করলেন। অর্থাৎ কিছু একটা ভবিষ্যদ্বাণী করলেন। পরবর্তীতে রোজালিল্ড ফ্রাঙ্কলিন ও মরিস উইলকিন্স বিশেষ যন্ত্রপাতির সাহায্যে ওয়াটসন ও ক্রিকের দাবী পরীক্ষা করে দেখেছিলেন। তারা এক্স-রে বীম দিয়ে বিশুদ্ধ DNA ক্রিস্টালের ছবি তুললেন। তাদের তোলা ছবিতে DNA-র গঠন আর ওয়াটসন ও ক্রিকের ভবিষ্যদ্বাণী করা DNA-র গঠন ঠিক ঠিক মিলে যায়। এর ফলে একটি কল্পিত মডেল যুগান্তকারী এক আবিষ্কারে পরিণত হয়। ওয়াটসন ও ক্রিকের এই আবিষ্কার ছিল মূলত মেন্ডেলেরই আবিষ্কারের আধুনিক রূপ।

চিত্রঃ ওয়াটসন ও ক্রিক। অলংকরণঃ Dave McKean

আমরা জানতে চেয়েছিলাম বাস্তবতা কী, তিনটি ভিন্ন উপায়ে বাস্তবতা নির্ণয়ের পদ্ধতি সম্বন্ধে জানলাম। প্রথমটি হচ্ছে, ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে সরাসরি কোনোকিছুকে উপলব্ধি করা। দ্বিতীয়টি হচ্ছে বিশেষ কোনো যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ইন্দ্রিয়ের উপলব্ধির উপযোগী করা। অর্থাৎ ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমেই পরোক্ষভাবে উপলব্ধি করা। শেষের পদ্ধতিটি হচ্ছে মডেল তৈরি করে এবং পরীক্ষা নিরীক্ষা দ্বারা ঐ মডেলের সত্যাসত্য নির্ণয়ের মাধ্যমে আরো পরোক্ষভাবে ইন্দ্রিয়ের উপলব্ধির উপযোগী করা। মানে ঘুরেফিরে এক বা একাধিক ধাপ পার হয়ে সেটি শেষমেশ ইন্দ্রিয়তে গিয়েই শেষ হচ্ছে। যে পদ্ধতিতেই হোক, বেলা শেষে ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমেই বাস্তবতা নির্ধারিত হচ্ছে।

 

তাহলে তার মানে কি এই, যা নির্ণয়-নির্ধারণ করা যাবে তা-ই শুধু বাস্তব আর বাকি সব অবাস্তব? তাহলে সুখ-দুঃখ, আনন্দ-ভালোবাসার মতো জিনিসগুলো কোথায় যাবে? তারা কি অবাস্তব?

অবশ্যই এরা বাস্তব। কিন্তু এই আবেগ-অনুভূতিগুলো নির্ভর করে মস্তিষ্কের উপর। মস্তিষ্কের কর্মকাণ্ডের উপর তাদের তীব্রতার পরিমাণ নির্ভর করে। আবার সব প্রাণীর মস্তিষ্কে সব ধরনের আবেগ-অনুভূতি নেই। মানুষের মস্তিষ্ক কিংবা অন্যান্য উন্নত প্রাণী যেমন- শিম্পাঞ্জী, কুকুর, তিমি মাছ ইত্যাদি প্রাণীদের তীব্র আবেগ অনুভূতি আছে। ইট-পাথর পাথরের কোনো আনন্দ-বেদনা নেই, পাহাড়-পর্বতেরা কখনো প্রেমে পড়ে না।

 

এই অনুভূতিগুলো মস্তিষ্কে তখনই বাস্তব হবে যখন মস্তিষ্ক এই অনুভূতি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা লাভ করবে। অভিজ্ঞতা লাভ করার আগ পর্যন্ত এর সত্যিকার রূপ সম্বন্ধে মস্তিষ্ক কিছুই জানবে না। একটা উদাহরণ দেই। একটি ছেলে বা মেয়ের কথা বিবেচনা করি, যে তার জীবনে এখন পর্যন্ত একটাও আম খেয়ে দেখেনি। বই-পুস্তকে অনেকবার পড়েছে ও অনেকের কাছে শুনেছে, পাকা টসটসে হিমসাগর আম অনেক সুস্বাদু হয়। বইতে আরো পড়েছে এই জাতের আম অনেক মিষ্টি ও সুগন্ধিযুক্ত হয়, কিন্তু খেয়ে দেখেনি কখনো। সে বই-পুস্তকে যত বিবরণই পড়ুক, যত প্রশংসাই শুনুক, পাকা আমের সত্যিকার স্বাদ সম্পর্কে তার মস্তিষ্ক কিন্তু কিছুই জানতে পারছে না। মস্তিষ্কে অনুভূতি তখনই বাস্তব হবে যখন ঐ অনুভূতি সম্পর্কে মস্তিষ্ক অভিজ্ঞতা লাভ করবে।

চিত্রঃ এখানের সবকটি ফলের স্বাদের অনুভূতি কি আপনার আছে? ছবিঃ Visual Encyclopedia of Fruits

তবে আবার এমনও হতে পারে, আমরা যে অনুভূতি অনুভব করতে পারি না অন্যরা সেই অনুভূতি ঠিকই অনুভব করতে পারে। এমনও অনুভূতি থাকতে পারে যার সম্পর্কে এখন পর্যন্ত আমাদের কেউই কোনো অভিজ্ঞতা লাভ করেনি। এমনও হতে পারে দূরের কোনো গ্রহে এমন কোনো এলিয়েন আছে যাদের মস্তিষ্কে আমাদের চেয়ে ভিন্ন কোনো অনুভূতি কাজ করছে। কে জানে কী অদ্ভুত আর আশ্চর্যজনক অনুভূতি খেলা করছে তাদের মস্তিষ্কে।

তবে যাই হোক, শেষমেশ কিন্তু মস্তিষ্কে অর্থাৎ কোনো একটি ইন্দ্রিয়ে এসে শেষ হচ্ছে। কোনোকিছু বাস্তব হতে হলে তা ইন্দ্রিয়ের উপলব্ধিযোগ্য হতে হবে।

 

তথ্যসূত্র

এই লেখাটি রিচার্ড ডকিন্স-এর চলমান ভাবানুবাদকৃত বই বাস্তবতার যাদু (The Magic of Reality)-র অংশ।

লিখেছেন সিরাজাম মুনির শ্রাবণ

আমি শ্রাবণ, পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র। মাসিক বিজ্ঞান সাময়িকী জিরো টু ইনফিনিটিতে বিভাগীয় সম্পাদক হিসেবে কাজ করছি। বিজ্ঞান পড়তে ভালো লাগে, বিজ্ঞান বিষয়ক ভাবনা চিন্তা করে আনন্দ পাই।

সিরাজাম মুনির শ্রাবণ বিজ্ঞান ব্লগে সর্বমোট 48 টি পোস্ট করেছেন।

লেখকের সবগুলো পোস্ট দেখুন

মন্তব্যসমূহ

  1. S. M. JAHANGIR Reply

    আমার আগের প্রশ্নটার ক্লিয়ার উত্তর পেলামনা! বরং এখন আরও দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়লাম!
    বুঝলাম না, জ্বীন পরী কিংবা মাল্টিভার্স বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে বাস্তবতার মধ্যে পড়ে কিনা! অনেক বিজ্ঞানবিদই জ্বীন পরী বা আত্মা বিষয়টাকে গাঁজাখুরি গল্প বা বিজ্ঞান বহির্ভূত বিষয় মনে করেন! সোজা কথায় এদের অস্তিত্ব প্রমাণিত নয় বলে এদের বাতিল করে দেন! কিন্তু অনেক বিজ্ঞানবিদই আবার মাল্টিভার্স বা এলিয়েন টাইপের হাইপোথেসিসকে সত্য বলে জাহির করেন! যদিওবা এসব তত্বও সরাসরি প্রমাণিত নয়! এটা কি bias না?
    By the way, আমি আসলে তর্ক করছিনা + আমি একজন খাঁটি বিজ্ঞানমনস্ক + ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ব্যক্তি! অনেকে আছেন যারা বিজ্ঞান & ধর্মকে পাশাপাশি দাঁড় করাতে চাননা! আমি তাদের মতো নই! বিজ্ঞান বা ধর্ম তাদের উভয়কেই তাদের মতামত গুলো ডিফেন্ড করতে দেয়া উচিৎ! তাহলেই মূলত সত্যটা কি তা বোঝা যাবে!

    যাইহোক, আমার মূল যে প্রশ্নটা ছিলো বাস্তবতা নিয়ে তা মূলত রিলেটিভিটি, কোয়ান্টাম মেকানিকস & স্ট্রিং থিওরির ভিন্ন ভিন্ন কিছু দৃষ্টিকোণ বা প্রেডিকশন এর উপর ভিত্তি করে! আমি আগেই বলেছি এসব বিষয়ে! যেমন infinite numbers of universe supposed by string theory, different higher dimension, quantum entanglement, speed limit of light etc! এরা প্রত্যেকেই কিছুনা কিছু limitation তৈরি করে + কিছু অদ্ভুত বিষয়ের অবতারণা করে! Such as they assume that everything isn’t possible! Thus we never know everything in “reality”! যেমন, অন্য ইউনিভার্স এর ফিজিক্যাল ল গুলো আমাদের মতোই কিনা বা তা যদি নাই হয় তবে কেমন তা আমরা কখনওই পরীক্ষা করে জানতে বা প্রমাণ করতে পারবোনা! কেননা বলাই হয়েছে যে ওইসব ইউনিভার্স এর সাথে আমাদের সরাসরি কোনো ইন্ট্যার‍্যাকশন সম্ভব নয়! কিন্তু তারা যদি আসলেই থেকে থাকে তাহলেতো তারা বাস্তব! তাই নয়কি?

    এখন আসি এলিয়েন & জ্বীন-পরী বিষয়ে! এলিয়েন বা জ্বীন-পরী বিষয়টা এখনো পর্যন্ত “গাঁজাখুরি” গল্প কেননা এদের সাথে এখনো আমাদের কোনো ইন্ট্যার‍্যাকশন হয়নি! কিন্তু ইউনিফর্ম এই ইউনিভার্স এ, যেখানে আলোর গতির & সেইসাথে প্রযুক্তিগত লিমিটেশন আছে ট্রাভেলিং এর, যেখানে আমাদের কোনো স্পেশালিটি নাই সেখানে এটা (ইন্ট্যার‍্যাকশন) হওয়াটা কি তাদের অস্তিত্ব প্রমাণের ক্ষেত্রে খুবই জরুরী? মহাবিশ্বের সকল জীবকেই কি কার্বন & হাইড্রোজেন ভিত্তিক হওয়াটা জরুরী?
    ডার্ক ম্যাটার যেমন আলোর সাথে ক্রিয়া করেনা তেমনটা কি এদের বেলায় হতে পারেনা? কিংবা স্ট্রিং থিওরির উচ্চকোনো মাত্রাতে যেটা আমাদের পরিমাপ & প্রমাণ তো দুরের কথা আমরা কল্পনাও করতে পারবোনা!
    যাইহোক আমি জোরকরে এসব উত্থাপন করতে বা প্রতিষ্ঠিত করতে পারিনা! কিন্তু সম্ভবত কোনো এক বিখ্যাত বিজ্ঞানীই বলেছিলেন যে, এখন আর খাঁটি বিজ্ঞান বলে কিছু নেই, দর্শনও বিজ্ঞানের অপরিহার্য অংশ হয়ে পড়েছে! এজন্যই মুলত pseudo science এর বিষয়টা বললাম! কেনোনা আমরা সবাই জানি যে, বিজ্ঞান শুধুমাত্র পর্যবেক্ষণলব্ধ বিষয়ে বিশ্বাসী! এর বাইরের সবকিছু তার আওতাবহির্ভূত! আমার প্রশ্ন হলো কেনো? কেনো আমরা ব্লাকহোল সিংগুলারিটির পর & বিগব্যাং সিংগুলারিটির আগের অবস্থা জানতে পারবোনা? কেনো আমাদের মহাবিশ্বের ইতিহাসকে পেছনে টানতে টানতে একটা যায়গায় গিয়ে থেমে যেতে হবে? কেনো আমরা মহাবিশ্বের বাইরে কি আছে কিংবা বহুবিশ্বের প্রাকৃতিক নিয়মসমূহ সম্পর্কে কখনোই অবগত হতে পারবোনা? আর কেনোইবা আমরা সারা মহাবিশ্বের প্রতিটা স্থানকালের প্রতিটা অংশে আমাদের পদচারণ করতে পারবোনা? এগুলোর ব্যাখ্যা কে দিবে??
    এতোক্ষণ পর্যন্ত যা কিছুর কথা বললাম এদের অস্তিত্ব থাকলেও এরা “আমাদের”, “আমাদের বিজ্ঞানের” বাস্তবতার অংশ না হতে পারে কিন্তু এদের তো অস্তিত্ব বিদ্যমান (যদি থেকে থাকে)! তাহলে কি বাস্তবতাটাও আপেক্ষিক নয়?

    BTW, মনে হচ্ছে ইদানীং বিজ্ঞান & কল্পবিজ্ঞান এর মাঝে তেমন পার্থক্য নাই! 😜 I meant “কল্পবিজ্ঞান” not “গাঁজাখুরি বিজ্ঞান”! 😉
    Imagination is more important than knowledge! 😎

    • আরাফাত রহমান Reply

      এখানে একটা কথা বলতে হয় যে কোনটা বৈজ্ঞানিক প্রশ্ন আর কোনটা নয় এটা কিসের উপর নির্ভর করে? কিংবা কোনটা বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব আর কোনটা নয় সেটাই বা কিসের উপর নির্ভর করে? এ পার্থক্য বোঝা দরকার। যে বিষয়টা নিয়ে আপনি গবেষণাগারে পরীক্ষা করে দেখতে পারবেন সেটা হলো বৈজ্ঞানিক প্রশ্ন। বিজ্ঞানে থিউরি কিংবা হাইপোথিসিস যাই বলি না কেন সেগুলো অবশ্যই পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা যাবে। যদি করা না যায় তা বিজ্ঞান হবে না। বিজ্ঞান সেটা নিয়ে মাথা ঘামাবে না। যেমন কোয়ান্টাম এনটেঙ্গলমেন্টের মতো অদ্ভূত বিষয়গুলো গবেষণাগারে পরীক্ষিত। কিন্তু জ্বিনভুত নিয়ে পরীক্ষা করা সম্ভব নয়। তাই পূর্বেরটি বিজ্ঞান কিন্তু পরেরটি নয়। তাই কেউ যদি জ্বিনভূতকে বিজ্ঞানের আলোকে ব্যাখ্যা করতে চায় তাহলে সেটাকে আমরা অপবিজ্ঞান বলবো। কিন্তু বাচ্চারা যে রূপকথাতে বিশ্বাস করে সেটাকি অপবিজ্ঞান? না, কারণ কেউ সেটাকে বিজ্ঞানের মাধ্যমে প্রমাণিত করতে চাচ্ছে না। তাই বিজ্ঞান ও বিশ্বাসের বিষয়গুলো আলাদা রাখাই ভালো। কারণ বিশ্বাসের বিষয়গুলো আপনি অনেক সময় গবেষণাগারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারবেন না।

  2. আরাফাত রহমান Reply

    বরাবরের মতো চমৎকার লেখা। তবে এক জায়গায় তথ্যগত বিভ্রান্তি আছে। রোজালিন্ড ফ্রাঙ্কলিন আগে ডিএনএ-ক্রিস্টালের ছবি তুলেছিলেন। সেটা থেকে তথ্য নিয়ে ওয়াটসন-ক্রিক তাদের মডেলটি তৈরি করেন।

  3. Somrat Mohiuddin Jahangir Reply

    আরাফাত ভাই, আমি কিন্তু বলেছি উচ্চমাত্রা কিংবা non-hydrocarbon জীবের কথা! এদের কিন্তু বাস্তবই বলা যায়! কেননা কিছু বাস্তব তত্বই এদেরকে অনুমান করে! যেমন মহাবিশ্ব ইউনিফর্ম! তাই এখানে পৃথিবীর মতো তুচ্ছ একটা গ্রহের হাইড্রোকার্বন ভিত্তিক জীবদের কোনো ইউনিকনেস নাই!

    BTW, জ্বীন – পরী বা অন্যান্য বিশ্বাসজনীত যে বিষয়গুলোর কথা বললেন আমার মনে হয় তা হওয়া উচিৎ না! মানে ওই যে বাচ্চা কাচ্চা আর জ্বীন পরীদের কথা! আসলে বিজ্ঞানের মূল উদ্দেশ্য মূলত রহস্য বা সত্য উদঘাটন করা! আমরা কেনো (যদি হয়েই থাকে) আমাদের বাচ্চাকাচ্চাদের মিথ্যা বিষয় বিশ্বাস করতে দেবো?
    & আমি পর্যবেক্ষণজনীত বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতাগগুলো আমার আগের কমেন্টেই বলেছি! তাই আবার repeat করতে চাচ্ছিনা!
    ছোট্টো একটা উদাহরণ & এ নিষয়ে জানতে চাচ্ছি শুধু! তা হলো, ধরে নিলাম বহুবিশ্ব আছে! কিন্তু বিজ্ঞান তা পর্যবেক্ষণ করতে পারেনা! কিন্তু কোনো একটা কারণে বিজ্ঞানেরই কোনো একটা মডেলে এদের অস্তিত্ব থাকাটা জরুরি! কিন্তু পর্যবেক্ষণ করা বা এদের অস্তিত্ব প্রমাণ করা সম্ভব হচ্ছেনা! তাহলে এই বিষয়টা কিসের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে? অবশ্যই “অপ” বিজ্ঞান নয়! 😉
    সেজন্যই pseudo science এর কথাটা বললাম!
    Now the million dollar question is (atleast to me) what if, বহুবিশ্ব, non hydrocarbon এলিয়েন, হাই ডাইমেনশন প্রাণী, জ্বীন-পরী, আত্মা ইত্যাদির অস্তিত্ব থেকেই থাকে & যদি আদৌ আমাদের প্রচলিত বিজ্ঞান দিয়ে এদের পর্যবেক্ষণ করা না যায় তাহলে এরা কোন বিষয়ের মধ্যে পড়বে?

    • রুহশান আহমেদ Reply

      আপনার প্রশ্নগুলো ইন্টারেস্টিং, এ বিষয়ে আপনার কি মতামত?
      সম্ভব হলে লিখে ফেলুন বিষয়গুলো নিয়ে, জানতে পারলাম, কনফিউশন দূর হলো 🙂

      তারপরও ভাইয়া, আমার মনে হয় কল্পবিজ্ঞান, অপবিজ্ঞান, ছদ্মবিজ্ঞান আর বিজ্ঞানের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। কল্পবিজ্ঞানের উদ্দেশ্য প্রত্যক্ষ উদ্দেশ্য আনন্দ দেয়া, বিজ্ঞানের প্রত্যক্ষ উদ্দেশ্য মানুষের কল্যান, কিন্তু অপবিজ্ঞান/ছদ্মবিজ্ঞানের সাথে কিন্তু নানান ছল-চাতুরী জড়িত।

      আপনি কল্পনার সাথে বিজ্ঞান মেশালেন, সেটা কল্পবিজ্ঞান হতে পারে। আর বিজ্ঞানের নীতিগুলো সত্য মেনে কল্পনা করতে থাকলেন সেটা শ্রাবণ ভাইয়ের লেখা অনুযায়ী মডেল। যেটা পরে বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

      আর হ্যা, মাল্টিভার্স এমন একটা বিষয় যা নিয়ে বিজ্ঞান, ধর্ম, দর্শন প্রত্যেকেই ভেবেছে। কিন্তু শুধু মাল্টিভার্সের দোহাই দিয়ে এদের এক করে দেয়া যায়না। এরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে শক্তিশালী, এদের মহত্ব বর্ণনায় আরেকজনের সাহায্যের দরকার আছে কি?

      যেমন আমি যদি নতুন একতা এন্টিবায়োটিক তৈরি করি, আমি কিন্তু সৃষ্টিকর্তার উপর ভরসা করে কোনরকম ট্রায়াল না চালিয়ে বাজারে ছাড়বোনা। কিন্তু হ্যা, আমার আবিষ্কার যেন ঠিক ঠাক ভাবে কাজ করে, সেজন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করতে পারি। কি বলেন ভাই? ভুল বললাম?

      • Somrat Mohiuddin Jahangir Reply

        ভাইয়া, আমি কল্পনার সাথে বিজ্ঞানকে মেশাইনি! & আমি কল্পবিজ্ঞান বা অপ বিজ্ঞানকেও এক করিনি! আমি শুধু বাস্তবতার সাথে প্রচলিত বিজ্ঞানের পর্যবেক্ষণ জনিত সীমাবদ্ধতার কথা বলেছি! মডেল এর বিষয়ে বলতে হলেও বলা যায় যে প্লেটোর মডেল, গ্যালিলিওর মডেল, আইনস্টাইনের মডেলও এক না! কিন্তু একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তারা প্রত্যেকেই সত্য বলে প্রতীয়মান হয়েছিলো! পরে একে একে বাতিল হইছে পর্যবেক্ষণলব্ধ ফলাফলের ভিত্তিতে! বর্তমানে যে স্ট্যান্ডার্ড মডেল প্রচলিত আছে সেটাই যে ভুল প্রতীয়মান হবেনা তার কি গ্যারান্টি আছে? তাহলে প্লেটো তার মডেল ভুল প্রমাণিত হওয়ার জন্য কাকে দায়ী করবে? অবশ্যই পর্যবেক্ষণের সীমাবদ্ধতাকে! দেখা গেলো কোনো একটা সুক্ষ্ম পর্যবেক্ষণের ফলে বিজ্ঞানের সমস্ত সুত্র/তত্ব upside down হয়ে গেলো! তখন কি হবে? কোন মডেল সত্য হবে? ধর্মের বিষয়টা এজন্য বললাম যে প্রত্যেকটা ধর্মই একেকটা মডেলের মতো! আমরা যেমন জানি যে প্রত্যেক মডেল সত্য হতে পারেনা তেমনি প্রত্যেক ধর্মীয় মডেল সত্য হতে পারেনা! বিজ্ঞানের মূল উদ্দেশ্য কিন্তু আপনি যেভাবেই বলেন, সত্য উদঘাটন করা! তো আমরা কেনো সত্যটা জানার জন্য যেকোনো কিছু করতে রাজি হবোনা? বিজ্ঞান যেমন কিছু assumption আগে থেকেই ধরে নেয় ধর্মও কিন্তু তাই! এরা উভয়েই এদের নিজ নিজ assumption গুলোকে সত্য & চিরন্তন বলে ধরে নেয়! দুঃখজনক ভাবে হলেও সত্য যে আমরা প্রকৃতির সত্য উদঘাটনে একপেশেভাবে বিজ্ঞানকেই কর্তৃত্ব করতে দিচ্ছি! কেনোনা প্রচলিত বিজ্ঞান পর্যবেক্ষণ নির্ভর! কিন্তু পর্যবেক্ষণের বাইরেও যে অনেককিছু বাস্তব এটা বিজ্ঞান কি অস্বীকার করতে পারে? না! কিন্তু সেইসাথে সেগুলো ব্যাখ্যাও করতে পারেনা পর্যবেক্ষণ দিয়ে! যেমন সিংগুলারিটির বিষয়টা, ডার্ক ম্যাটার/ডার্ক এ্যানার্জির বিষয়টা! এদের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান যা করে তা হলো অনুমান! তো একটু সাহসী অনুমান করতে দোষ কোথায়?
        আমরা জানি যে আমাদের পর্যবেক্ষণলব্ধ মহাবিশ্বের ব্যাসার্ধ ৯৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ! কিন্তু এর বাইরেও অনেককিছু আছে! কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো কেনোইবা আমরা ধরে নেবো যে ওই যায়গাগুলোর সাথে পর্যবেক্ষণলব্ধ মহাবিশ্বের কোনো পার্থক্য নেই? আমরা কখনওই এসব যায়গা পর্যবেক্ষণ করতে পারবোনা! তারমানে তো এই না যে এর কোনো অস্তিত্ব নেই! এমনকি বিজ্ঞানের বিধিগুলো যদি ওই অংশের জন্য ভিন্নও হয়ে থাকে আমরা তা জানতেও পারবোনা! এখানেই কল্পনা খোরাক পায়! But! That also must be true! বাস্তবতা ভিন্ন মানে সত্যও যে ভিন্ন হবে তা কিন্তু না! পরমসত্য বলে কোনোকিছু অবশ্যই থাকতে হবে! হতে পারে কোনো এক মহাবিশ্বে গ্রাভিটি বিকর্ষণ বল হিসেবে কাজ করে! কিন্তু তখন গ্রাভিটি এই মহাবিশ্বের গ্রাভিটির বিপরীত হিসেবে কাজ করবে! So, আমরা নেগেটিভ বা পজিটিভ যে ধরনের ভ্যালুই পাইনা কেনো গ্রাভিটির পরম ধর্ম কিন্তু সত্য হতেই হচ্ছে! পার্থক্য শুধু মান এ!

        BTW, আমার নিজস্ব মতামত এখানে গুরুত্বহীন! বিজ্ঞান হয়তো টলারেট করবেনা! 😜
        তবে যদি আমার পাগলাটে চিন্তাধারা শুনতে আগ্রহী হন ইনবক্স করতে পারেন!
        সর্বশেষ একটা কথাই বলবোঃ মহাবিশ্বের অনিশ্চয়তা তত্ব! (Postulated by Me😉)
        “মহাবিশ্বকে কোনো পর্যবেক্ষণলব্ধ তত্ব দ্বারাই সম্পুর্ণরূপে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়!”
        মহাবিশ্বকে ব্যাখ্যা করতে গেলে কিছু outside parameter দরকার হয়! & যেহেতু তথাকথিত পর্যবেক্ষণলব্ধ বিজ্ঞান এসব প্যারামিটার পর্যবেক্ষণ করতে অপারগ, তো সে মহাবিশ্বকে পুরোপুরি ব্যাখ্যা করতেও অপারগ!
        মহাবিশ্বকে পুরোপুরিভাবে ব্যাখ্যা করতে চাইলে অবশ্যই বিজ্ঞানকে পর্যবেক্ষণনির্ভর অবস্থা হতে বেরিয়ে আসতে হবে! কিন্তু সেই ব্যাখ্যাও অবশ্যই পরম সত্য হতে হবে!
        কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে পর্যবেক্ষণ ছাড়া সত্য কিভাবে জানা যায় তা আমাদের এই মূহুর্তে জানা নেই! 😞

আপনার মতামত