সারাংশ: কৃষিকাজকে মানব সভ্যতার ভিত্তি বলে আমরা ধরে নেই। তবে মানব ইতিহাসে অনেকগুলো দুর্দশার কারণ ছিলো কৃষির আবিষ্কার।

 

দু’পেয়ে পশু থেকে বুদ্ধিমান প্রাণী — নিজের কাছ ভাবমূর্তির নাটকীয় উন্নতির জন্য বিজ্ঞানের কাছে আমরা চিরঋণী। জ্যোতির্বজ্ঞান আমাদের শিখিয়েছে পৃথিবী মহাবিশ্বের কেন্দ্র নয়, বরং সহস্র কোটি স্বর্গীয় বস্তুর মধ্যে মাত্র একটি। জীববিজ্ঞান থেকে আমরা জেনেছি যে আমরা অন্যান্য লক্ষ লক্ষ প্রজাতির সাথে অভিযোজিত হয়েছি। এখন প্রত্নতত্ত্ব আরেকটি পূতঃবিশ্বাস ধ্বংস করছে। আগে ধারণা করা হতো গত কয়েক লক্ষ বছরের মানব ইতিহাস হলো ধারাবাহিক প্রগতির উপাখ্যান। যেমন কৃষির উদ্ভাবনকে অবধারিতভাবে উন্নত জীবনের প্রতি নিশ্চিত পদক্ষেপ বলে ধরা হয়। অথচ সাম্প্রতিক আবিষ্কারগুলো বলছে কৃষি প্রকৃতপক্ষে অনেক ক্ষেত্রেই বিপর্যয়কারী ঘটনা। এ বিপর্যয় থেকে আমরা এখনো সেরে উঠতে পারি নি। কৃষির সাথে সাথে এসেছে সামাজিক ও লৈঙ্গিক অসমতা, রোগব্যাধী ও স্বৈরশাসন – যা আমাদের অস্তিত্বের প্রতি অভিশাপ। প্রথম দৃষ্টিতে বহু আমেরিকানই ইতিহাসের এই পুনঃপাঠলব্ধ ব্যাখ্যার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যপ্রমাণকে অখন্ডনীয় বলে মনে করবেন। এখন আমরা মধ্যযুগ থেকে বলতে গেলে প্রায় সব দিক দিয়েই বহুগুণ ভালো আছি। মধ্যযুগের মানুষ আবার গুহাবাসীর চাইতে সহজতর জীবন যাপন করতো। গুহাবাসীরা আবার এপদের চেয়ে ভালো ছিলো। আমাদের অতীতের তুলনায় অনেক বেশি সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি। পৃথিবীর ইতিহাসে যে কোন সময়ের তুলনায় এই মুহূর্তে আমরা বিচিত্র খাদ্যদ্রব্য, সেরা যন্ত্রপাতি ও বৈষয়িক বস্তু, দীর্ঘতর ও স্বাস্থ্যপূর্ণ জীবন উপভোগ করতে পারছি। অধিকাংশ মানুষই এখন অনাহার কিংবা শিকারী প্রাণী থেকে নিরাপদে আছি। আমরা শক্তি উৎপন্ন করি তেল ও যন্ত্র থেকে, ঘাম ঝড়িয়ে নয়। এ যুগে কোন নব্য-লুডাইট বর্তমানের সকল সুযোগ-সুবিধা ফেলে মধ্যযুগের চাষী, গুহামানব, কিংবা এপ হতে যাবে?

ইতিহাসের বেশিরভাগ সময় জুড়ে আমরা জীবিকা নির্বাহ করেছি শিকার ও সংগ্রহ করে। আমরা বন্য জন্তু শিকার করতাম আর অরণ্যে ঘুরতাম বুনো ফলমূলের সন্ধানে। সে জীবন-প্রণালীকে দার্শনিকরা সাধারণত নোংরা, বর্বর ও স্বল্পায়ু বলে গণ্য করতেন। যেহেতু কোন খাবারই উৎপন্ন করা হতো না আর সামান্যই সঞ্চিত থাকতো, তাই (এই মতানুসারে) প্রতিদিন বুনো খাবার সন্ধানে নেমে অনাহার এড়ানো ছাড়া অন্য কোন অবকাশ ছিলো না। এই দৈন্য থেকে মানুষের মুক্তি পাওয়া সম্ভব হওয়া শুরু করে মাত্র দশ হাজার বছর আগে। তখন পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষজন বিভিন্ন শস্য-উদ্ভিদ ও প্রাণী পোষ মানানো শুরু করে। এ কৃষি-বিপ্লব ছড়িয়ে প্রায় সর্বজনীনভাবে ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবীতে, আজকে যখন অল্প কয়টি শিকারী-সংগ্রাহক গোষ্ঠি টিকে আছে।

যে প্রগতিশীল ধ্যানধারণায় আমি বড়ো হয়েছি সে অনুযায়ী কেন আমাদের প্রায় সব শিকারীসংগ্রাহক পূর্বপুরুষ কৃষিকাজ অবলম্বন করলো?” এ প্রশ্ন করাটা বোকামী। কম পরিশ্রমে অধিক খাদ্য যোগাড়ের জন্য কৃষিকাজ কার্যকর পদ্ধতি বলেই তো তারা এটি অবলম্বন করেছে। শস্য চাষ করে প্রতি একর জমিতে শেকড় বা বেরীফলের চেয়ে বহুটন বেশি ফলন পাওয়া যায়। একদল আদিম বর্বর কল্পনা করুন, যারা বাদাম-জাতীয় ফল খুঁজে খুঁজে কিংবা বন্য জানোয়ার তাড়া করে করে অবসন্ন। তারা হঠাৎ জীবনে প্রথম বারের মতো ভরা ফলবাগান কিংবা তৃণক্ষেত্রে বিচরণরত মেষ-দল দেখলো। আপনার কি মনে হয়: সেকেন্ডের কত ভাগ সময় তাদের লাগতে পারে কৃষিকাজের তারিফ করতে?

এই ক্রম-অগ্রগতি-বয়ানের চিন্তাধারা আরো দাবী করে, গত কয়েক হাজার বছরে মানুষের শিল্পচর্চার যে বিকাশ হয়েছে সেটা কৃষিকাজেরই কৃতিত্ব। শস্যকে গুদামজাত করে রাখা যায়। আর বনে খাবার খোঁজার চেয়ে ক্ষেত থেকে খাবার তুলতে অনেক কম সময় লাগে। সে হিসেবে কৃষিকাজ আমাদের অবকাশ দিয়েছে যা শিকারী-সংগ্রাহকদের ছিলো না। সুতরাং কৃষিকাজই আমাদের পর্থিয়নের প্রসাদ নির্মাণে ও বি-মাইনর মাস্ সুরের বন্দেশ তৈরিতে সক্ষম করেছে।

এই প্রগতিবাদী মতটি স্বাভাবিক মনে হলেও এটি প্রমাণ করা দুস্কর। দশ হাজার বছর আগে যেসব মানুষ শিকারী-সংগ্রাহক জীবন ছেড়ে কৃষিকাজ শুরু করলো, তারা যে সত্যিই উন্নতি করেছে সেটা কিভাবে প্রমাণ করবেন? কিছুদিন আগপর্যন্তও প্রত্নতত্ত্ববিদরা পরোক্ষ-পদ্ধতি অবলম্বন করতেন। বিস্ময়ের বিষয় হলো পরোক্ষ-পদ্ধতিটি প্রগতিবাদী মতটি সমর্থন করতে ব্যর্থ হতো। এরকম একটি পরোক্ষ পদ্ধতির একটি উদাহরণ দিচ্ছি। বিংশ-শতাব্দীর শিকারী-সংগ্রাহকরা সত্যিই কি কৃষিজীবীদের তুলনায় কষ্টকর অবস্থায় ছিলো? কালাহারি মরুভূমির বুশম্যানদের মতো পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কয়েক ডজন তথাকথিত পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠি এখনো শিকার-সংগ্রহের মাধ্যমেই নিজেদের ভরণ-পোষণ করছে। দেখা গেল সেসব লোকদের হাতে আছে প্রচুর অবসর-সময়। তারা ঘুমাতে পারে যথেষ্ট সময় ধরে, আর প্রতিবেশী কৃষকদের চেয়ে কম পরিশ্রম করতে হয়। যেমন একদল বুশম্যানকে প্রতি সপ্তাহে গড়ে মাত্র ১২ থেকে ১৯ ঘন্টা পরিশ্রম করতে হয়, যা তানজানিয়ার হাদজা বেদুঈনদের তুলনায় ১৪ ঘন্টা কম। যখন একজন বুশম্যানকে প্রশ্ন করা হলো যে কেন সে প্রতিবেশী জনগোষ্ঠীর অনুকরণ করছে না কৃষিকাজ অবলম্বনের মাধ্যমে, তখন সে উত্তর দিলো, কেন আমরা সেটা (কৃষিকাজ) করবো, যখন এখনো পৃথিবীতে এতো এতো মঙ্গোঙ্গোবাদাম ছড়ানো রয়েছে?”

Image result for tanzania bushmen

তানজানিয়ার বুশম্যান গোষ্ঠি

যখন কৃষকরা আলু ও ভাতের মতো উচ্চ-শর্করা উৎপন্নকারী ফসল উৎপাদনের দিকে মনোযোগ দিলো, বুনো গাছ-গাছরা আর পশু-পাখি অন্যান্য শিকারী-সংগ্রাহকদের আহারে সরবরাহ করতে লাগলো অধিক আমিষ এবং অন্যান্য পুষ্টিগুণের স্বাস্থ্যকর ভারসাম্য। একটি জরিপে দেখা গেছে, বুশম্যানদের গড় খাদ্যগ্রহণ ছিলো দৈনিক ২১৪০ ক্যালরী (বছরের যে সময়ে খাবার পর্যাপ্ত থাকে) আর ৯৩ গ্রাম আমিষ, যা তাদের আকৃতির মানুষের জন্য সুপারিশকৃত দৈনিক পরিমাণের চেয়ে অনেক বেশি। বুশম্যানরা পঁচাত্তুরের চেয়ে বেশি বুনো গাছগাছরা খেয়ে থাকে। তাদের কাছে এটা ধারণারও অতীত যে কেউ অনাহারে মারা যেতে পারে, যেমন ১৮৪০-র দশকে আলু-দূর্ভিক্ষে মারা গিয়েছিলো শত হাজার আইরিশ কৃষক ও তাদের পরিবার।

অন্তত বর্তমানের শিকারী-সংগ্রাহকদের জীবন নোংরা ও বর্বর নয়, যদিও কৃষিখামারের বিকাশ তাদেরকে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রতিকূল জায়গায় কোনঠাসা করছে। তবে কয়েক হাজার বছর ধরে বিকাশমান কৃষি-কেন্দ্রীক সমাজের সাথে  কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলা আধুনিক শিকারী-সংগ্রাহক সমাজ আমাদেরকে কৃষি বিপ্লবের পূর্ববর্তী অবস্থার ব্যপারে কোন তথ্য দেয় না। প্রগতিবাদী মতটি দূর অতীত সম্পর্কে দাবি করে যে শিকারী-সংগ্রাহক থেকে কৃষিতে পরিবর্তনের মাধ্যমে আদিম মানুষের জীবনযাত্রা উন্নত হওয়া শুরু করলো। প্রত্নতত্ত্ববিদরা তাহলে প্রাগৈতিহাসিক জঞ্জালের মধ্যে বুনো থেকে পোষ মানানো গাছ ও জন্তুর দেহাবশেষ চিহ্নিত করে সেই পরিবর্তনের সময়কাল বের করতে পারবেন ।

কিভাবে আপনি প্রাগৈতিহাসিক জঞ্জাল-প্রস্তুতকারকদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে অনুমান করবেন, আর প্রগতিবাদী মতামত ঠিক না ভুল পরীক্ষা করবেন? সাম্প্রতিক বছরে এ প্রশ্নগুলো উত্তর দেয়া সম্ভব হচ্ছে পুরারোগবিদ্যায় (paleopathology) বিভিন্ন নতুন কৌশলের মাধ্যমে। পুরারোগবিদ্যায় অতীত-মানুষের দেহাবশেষ নিরীক্ষা করা হয় তারা কি কি রোগে ভুগতো সেই চিহ্নের খোঁজে।

কিছু ক্ষেত্রে ভাগ্য সহায় হলে কোন পুরারোগবিদ আজকের রোগতত্ত্ববিদের মতো প্রায় সমপরিমাণ নমুনা পান পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য। যেমন চিলি মরুভূমিতে প্রত্নতত্ত্ববিদরা সুসংরক্ষতি মমি পেয়েছেন যাদের মৃত্যুর সময়ের শারিরীক অবস্থা ময়না-তদন্তের মাধ্যমে  নির্ধারণ করা যায়। আর নেভাডার শুষ্ক গুহায় বহু আগে মারা যাওয়া ইন্ডিয়ানদের মল যথেষ্ট ভালোভাবে সংরক্ষিত আছে যা কৃমি ও অন্যান্য পরজীবির খোঁজে পরীক্ষা করা যাবে।

সাধারণত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য প্রাচীন মানুষের যে অবশিষ্টাংশ পাওয়া যায় তা হলো কঙ্কাল। কঙ্কাল অনেক ধরনের অনুমানের জন্য সহায়ক। এ থেকে কঙ্কাল-মালিকের লিঙ্গ, ওজন ও আনুমানিক বয়স অনুমান করা যায়। অনেকগুলো কঙ্কাল পাওয়া গেলে মৃত্যু-খতিয়ান তৈরি করা সম্ভব। বিভিন্ন ইন্সুরেন্স কোম্পানী এরকম মৃত্যু খতিয়ান ব্যবহার করেন কোন বয়সে মৃত্যুর সম্ভাবনা বের করতে কিংবা আনুমানিক জীবন-দৈর্ঘ্য বের করতে। পুরারোগবিদরাও বিভিন্ন বয়সের কঙ্কাল মেপে বৃদ্ধির হার বের করতে পারেন, দাঁত পরীক্ষা করতে পারেন এনামেল-খুঁত বের করার জন্য (যা শৈশবের অপুষ্টির লক্ষণ), আর কঙ্কালে রক্তশূণ্যতা, যক্ষা, কুষ্ঠ ও অন্যান্য রোগ কর্তৃক রেখে যাওয়া ক্ষতচিহ্ন সনাক্ত করতে পারেন।

আদিম কঙ্কাল থেকে পুরারোগবিদরা যেসব তথ্য জেনেছেন তার একটি উদাহরণ হলো উচ্চতার ঐতিহাসিক পরিবর্তন। গ্রীস ও তুরস্কে পাওয়া কঙ্কালের নমুনা অনুযায়ী বরফ-যুগের শেষ দিকে শিকারী-সংগ্রাহকদের গড় উচ্চতা ছিলো পুরুষদের ক্ষেত্রে ৫’৯” ও মহিলাদের ক্ষেত্রে ৫’৫”। কৃষিকাজ শুরু করার পর উচ্চতা কমা শুরু করে, আর খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০ সালের দিকে পুরুষদের ক্ষেত্রে ৫’৩” ও মহিলাদের ক্ষেত্রে ৫’ হয়ে যায়। ধ্রুপদী যুগে উচ্চতা আবার ধীরে ধীরে বাড়া শুরু করে, কিন্তু আধুনিক গ্রীক ও তুর্কীরা এখনো তাদের বহুপূর্বপুরুষদের গড় উচ্চতা পুনরুদ্ধার করতে পারেন নি।

Image result for agriculture vs hunter gatherer highet

কৃষিজীবিদের তুলনায় শিকারী-সংগ্রাহক সমাজে দন্তক্ষয়ের হার ছিলো অনেক কম।

পুরারোগবিদ্যার আরেকটি উদাহরণ হলো ইনিয়নিস ও ওহিয়ো নদী-উপত্যকায় রেড-ইন্ডিয়ানদের সমাধি-ঢিবি থেকে পাওয়া কঙ্কালের নিরীক্ষা। স্পুন ও ইলিনয়িস নদীর সংযোগস্থলে ডিকসন ঢিবি থেকে প্রত্নতাত্বিকরা ৮০০টির মতো কঙ্কাল খুঁড়ে বের করেছেন। একটি শিকারী-সংগ্রাহক সমাজ যখন ব্যাপক ভুট্টাচাষে মনোযোগী হচ্ছে ঠিক সে সময় স্বাস্থ্য-অবস্থার পরিবর্তনের কিরকম হয় তার ছবি পাওয়া যায় এ কঙ্কাল নমুনা থেকে। ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয়ের জর্জ আর্মেলাগোস ও সহকর্মীদের সম্পাদিত গবেষণা দেখা যায়, প্রথমদিকের কৃষকদের তাদের নতুন-প্রাপ্ত জীবিকার জন্য কড়া মূল্য পরিশোধ করতে হয়েছিলো। পূর্ববর্তী শিকারী-সংগ্রাহকদের তুলনায় সেই নতুন-কৃষকদের দাঁতের এনামেল ক্ষয় বেড়ে যায় প্রায় ৫০%। এটি পুষ্টিহীনতার নির্দেশক। এছাড়া লোহার অভাবজনিত রক্তশূণ্যতা বেড়ে যায় চারগুণ (হাড়ের পোরোটিক হাইপারোস্টোসিস নামক বিশেষ অবস্থা দিয়ে এটা বোঝা যায়), হাড়ে ক্ষয় বেড়ে যায় তিন গুণ যা সংক্রামক রোগের নির্দেশক, এবং বেড়ে যায় মেরুদন্ডের ভগ্নদশা, যা সম্ভবত কঠিন শারিরীক পরিশ্রমের ফলাফল। আর্মালাগোস বলেন প্রাককৃষি সমাজে গড় আয়ু ছিলো ছাব্বিশ বছর, কিন্তু উত্তরকৃষি সমাজে তা হয়ে যায় উনিশ বছরতার মানে এসব পুষ্টিসংক্রান্ত চাপ সংক্রামক রোগ তাদের বেঁচে থাকার ক্ষমতাকে ভীষণভাবে বাধাগ্রস্থ করছিলো

সাক্ষ্য-প্রমাণ বলছে অন্যান্য আদিম জনগোষ্ঠীর মতো ডিকেন্স ঢিবির ইন্ডিয়ানরা ঐচ্ছিকভাবে কৃষিকাজ বেছে নেয় নি। বরং ক্রমাগত বাড়তে থাকা সদস্যদের খাওয়ানোর প্রয়োজনে এ পথে এসেছে। আর্মিলাগোসের সাথে এ বিষয়ের অন্যতম মৌলিক বই “Paleopathology at the Origins of Agriculture”-র সহঃসম্পাদক নিউইয়র্ক স্টেট ইউনিভার্সিটির (প্ল্যাটসবার্গ) মার্ক কোহেন মনে করেন, আমার মনে হয় না বাধ্য হওয়ার আগ পর্যন্ত বেশিরভাগ শিকারীসংগ্রাহকরা কৃষিকাজ শুরু করে, আর যখন তারা জীবিকা কৃষিকাজে বদলালো তারা গুণের বদলে পরিমাণ বিনিময় করলোযখন আমি দশ বছর আগে এই যুক্তি দেই, খুব বেশি মানুষ আমার সাথে একমত হন নিএখন এটি এই বিতর্কের একটি সম্মানীত অংশ, যদিও তর্কযোগ্য

কৃষিকাজ স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ ছিলো এই আবিষ্কারের পেছনে অন্তত তিন ধরনের কারণ ব্যাখ্যা দেয়া যায়।

প্রথমতঃ, শিকারী-সংগ্রাহকরা বৈচিত্র্যময় খাবার খেত। অন্যদিকে আদি কৃষকরা তাদের অধিকাংশ খাবারই পেত একটি বা কয়েকটি স্টার্চ-শর্করা সমৃদ্ধ শস্য থেকে। সে কৃষকরা অপুষ্টির বিনিময়ে সস্তা ক্যালরি পেতেন। বর্তমানে মাত্র তিনটি উচ্চ-শর্করা উদ্ভিদ (গম, ধান ও ভুট্টা) মানুষকে অধিকাংশ ক্যালরী-শক্তি সরবরাহ করে। যদিও এগুলোতে জীবনের জন্য জরুরী কিছু ভিটামিন বা অ্যামিনো এসিড অনুপস্থিত)। দ্বিতীয়তঃ, অল্প কয়েকটি শস্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় কৃষকরা কোন বছর ঠিকমতো ফলন না হলে অনাহারের ঝুঁকি নিতেন। তৃতীয়তঃ, কৃষিকাজ মানুষকে ঘনবসতিপূর্ণ সমাজে বসবাস করতে উৎসাহতি করেছিলো। এসব সমাজের অনেকেই আবার বাইরের সমাজের সাথে বাণিজ্য-বিনিময় করতো। এর ফলে পরজীবি ও সংক্রামক রোগ ছড়ানো শুরু করলো। (কোন কোন প্রত্নতত্ত্ববিদ মনে করেন কৃষি নয় বরং ঘনবসতিই রোগ-ব্যাধী ছড়ানোর মূল নিয়ামক ছিলো। কিন্তু এটা আসলে ডিম আগে না মুরগী আগে ধরনের বিতর্ক। কারণ ঘনবসতি কৃষিকাজ উৎসাহিত করেছিলো ও বিপরীতক্রমে কৃষি ঘনবসতিকে।) জনসংখ্যা ছোট ছোট দলে ছড়ানো-ছিটানো থাকলে (যেসব দল আবার নিয়মিত তাদের অবস্থান বদলায়) মহামারী কোন প্রভাব ফেলতে পারে না। যক্ষা ও উদরাময় জনিত রোগব্যাধীকে তাই কৃষিকাজের শুরু হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। হাম ও বিউবোনিক প্লেগকে অপেক্ষা করতে হয়েছে বড় নগর আবির্ভাব হওয়া পর্যন্ত।

অপুষ্টি, অনাহার ও সংক্রামক রোগের পাশাপাশি কৃষিকাজ শ্রেণী-বিভাজনের করুণ অভিশাপ নিয়ে আসে মনুষ্যত্বের উপর। শিকারী-সংগ্রাহকরা সামান্য পরিমাণে খাবার সংরক্ষণ করতে পারতো, কিংবা একেবারেই পারতো না। আর বাগান বা গরুর পালের মতো কোন ঘনীভুত খাদ্য-উৎস ছিলো না। তারা প্রতিদিন বনজ উদ্ভিদ ও বুনোপশু সংগ্রহ বা শিকারের মাধ্যমে খেয়ে-পড়ে বাঁচতো। এ কারণে তাদের কোন রাজা ছিলো না, ছিলো না কোন সামাজিক পরজীবী-শ্রেণী যারা বাকিদের কাছ থেকে খাবার নিয়ে গায়ে চর্বি জমাতো। একমাত্র কৃষিনির্ভর জনগোষ্ঠিতেই এরকম অনুৎপাদনশীল বনেদী শ্রেণী তরতাজা অবস্থায় ব্যাধি-নিপীড়ীত জনগণের শীর্ষে অবস্থান করতে পারতো। মাইসিনিয়ায় ১৫০০ খ্রীষ্টপূর্বে গ্রীক সমাধিস্থল থেকে পাওয়া কঙ্কাল সাক্ষ্য দেয় যে সমাজের উচ্চ শ্রেণী জনসাধারণের চেয়ে ভালো খাবার খেত। কারণ তাদের কঙ্কাল গড়ে দুই বা তিন ইঞ্চি লম্বা। এছাড়া দাঁতেরও অবস্থা ভালো (গড়পড়তায় একটি দন্তক্ষয় বা পড়ে যাওয়া যেখানে সাধারণের ক্ষেত্রে এ সংখ্যা ছয়)। ১০০০ খ্রীষ্টপূর্বের চিলির মমিদের মাঝে বনেদী-ঘরানার সদস্যদের শুধু অলঙ্কার ও চুলের-ক্লিপের অস্তিত্ব দিয়েই নয়, বরং হাড়ে বিভিন্ন রোগের কারণে সৃষ্ট ক্ষতের কম সংখ্যা দিয়েও আলাদা করা হয়েছিলো।

এখন বিশ্বজুড়ে পুষ্টি ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে একই রকমের বৈষম্য লক্ষ্যণীয়। যুক্তরাষ্ট্রের মতো ধনী দেশে শিকার-সংগ্রহকে উৎকৃষ্ট বলে জয়গান করাটা হাস্যকর শোনাবে। কিন্তু আমেরিকানরাও অভিজাতশ্রেণীর লোক যারা পুষ্টি ও স্বাস্থ্যখাতে দরিদ্র দেশ থেকে আমদানী করা তেল ও খনিজের উপর নির্ভরশীল। যদি কাউকে ইথিওপিয়ার হালচাষী কিংবা কালাহারি মরুভূমির বুশম্যান গোষ্ঠীর সংগ্রাহক জীবনপ্রণালী বেছে নিতে বলা হয়, কোনটি উত্তম পছন্দ বলে আপনি মনে করেন?

চাষাবাদ সম্ভবত দুই লিঙ্গের অসমতাকেও উৎসাহিত করেছে। চাষাবাদের ফলে নারীরা যাযাবর জীবনে শিশু পরিবহনের প্রয়োজন থেকে মুক্ত হয়ে যায়। কিন্তু ক্ষেত-চাষের দরকারে আরো হাত তৈরির চাপে কৃষক-সমাজের নারীরা শিকারী-সংগ্রাহক সমাজের চাইতে অধিক হারে গর্ভধারণ করতেন। ফলশ্রুতিতে স্বাস্থ্যের অবনতিও ঘটতো। চিলির মমির হাড়ে সংক্রামক রোগ জনিত ক্ষত পুরুষদের চাইতে নারীদের মধ্যে অধিক সংখ্যায় দেখা গেছে।

কৃষিভিত্তিক সমাজে কখনো কখনো নারীদের ভারবাহী পশু বানানো হয়। নিউগিনির কৃষিসমাজে আমি আজকেও দেখি নারীদের সবজী ও জ্বালানী খড়ির বোঝা বইতে। অথচ পুরুষরা খালি হাতে হাঁটছে। পাখি পর্যবেক্ষণের একটি মাঠ গবেষণার সময় কতিপয় গ্রামবাসীকে অর্থের বিনিময়ে উড়োজাহাজের রানওয়ে থেকে আমার পাহাড়-ক্যাম্পে কিছু যোগান বহন করতে বলি। সে যোগানে সবচেয়ে ভারী জিনিস ছিলো ১১০-পাউন্ড (প্রায় ৫০ কিলোগ্রাম) ওজনের চালের বস্তা, যা আমি একটি লাঠি দিয়ে বেঁধে চারজন পুরুষের একটি দলকে একসাথে বহন করতে দেই। পরে এক সময়ে দেখা গেল, পুরুষেরা হালকা জিনিস বহন করছে। আর ওই ব্যাগের চেয়েও কম ওজনের একজন নারী বস্তাটির নিচে বাঁকা হয়ে তা বহন করছে। তিনি একটি দড়ি দিয়ে ওজনটি তার মাথার সাথে অবলম্বন করছিলেন।

কৃষিকাজের ফলে অবসরের ফাঁক তৈরি হয়ে শিল্পকলার বিকাশ ঘটাতে উৎসাহিত করেছে এই দাবীর ক্ষেত্রেও বিপরীত ব্যাখ্যা রয়েছে। অধিকাংশ শিকারী-সংগ্রাহকরা কৃষকের মতো অন্ততঃ একই রকম অবকাশ পেতেন। অবসর সময়কে এতোটা গুরুত্ব দেয়া আমার কাছে ভুলপথে পরিচালিত বলে মনে হয়। গরিলাদেরও নিজস্ব পার্থিয়ন-প্রাসাদ নির্মানের জন্য যথেষ্ট অবসর সময় আছে, যদি তারা সেটা তৈরি করতে চায়। যদিও কৃষি-উত্তর সময়ে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের ফলে নতুন নতুন শিল্পরূপ তৈরি ও সংরক্ষণ সম্ভব হয়েছে। কিন্তু শিকারী-সংগ্রাহকরা ১৫,০০০ বছর আগেই দারুণ সব চিত্রাংকন ও ভাষ্কর্য তৈরি করেছিলো। এস্কিমো ও উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের ইন্ডিয়ানদের মতো শিকারী-সংগ্রাহকরা গত শতাব্দীতেও এ ধরনের শিল্পকর্ম তৈরি করেছেন।

আসলে কৃষির উৎকর্ষের সাথে সাথে অভিজাতদের উন্নতি হলেও বেশিরভাগ মানুষের দূর্দশা বেড়েছে। তাই প্রগতিবাদী চিন্তাধারা অনুযায়ী আমরা কৃষি চয়ন করছি কারণ তা আমাদের জন্য ভালো ছিলো ভাষ্যটি না গিলে বরং প্রশ্ন করা যাক কৃষির অনেক বিপদ থাকলেও কেন আমরা এ জীবনধারার মধ্যে আটকা পড়ে গেলাম।

এর একটি ব্যাখ্যা ‘জোর যার মুল্লুক তার’ প্রবাদটিকে স্মরণ করিয়ে দেয়। শিকার-সংগ্রহের চেয়ে কৃষিকাজ অধিক সংখ্যক মানুষকে ভরণপোষণ করতে পারে। যদিও জীবন-যাপনের মান কমে যায়। (শিকারী-সংগ্রাহকদের বেলায় জনসংখ্যা ঘনত্ব প্রতি দশ বর্গ মাইলে গড়ে একজনের চেয়ে বেশি খুব কম ক্ষেত্রেই ছিলো। কৃষকদের ক্ষেত্রে এটি এর একশ গুন বেশি।) এর আংশিক কারণ হলো ক্ষেতে শুধু একধরনের শস্য চাষাবাদ অনেকগুলো মুখের খাবার যোগান দেয়। যে খাবার একটি বনে ছড়িয়ে থাকা ভক্ষণযোগ্য উদ্ভিদের চেয়ে অনেক বেশি। অন্য আংশিক কারণ হলো যাযাবর জীবনের জন্য শিকারী-সংগ্রাহকদের চার বছর সময় ধরে বাচ্চা নেওয়া বন্ধ রাখতো শিশুহত্যা ও অন্যান্য পদ্ধতির মাধ্যমে। কারণ মাকে অবশ্যই তার শিশুকে বহন করতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত না সে বড়দের সাথে চলার মতো বয়সে পৌছায়। কৃষক-সমাজে নারীদের এরকম কোন বাধা ছিলো না। তাই তারা দুই বছর পর পর বাচ্চা নিতে পারতো।

Image result for agriculture vs hunter gatherer highet

শিকারী-সংগ্রাহকরা অসুখ-বিসুখে কম ভুগতো।

বরফ যুগের শেষ দিকে শিকারী-সংগ্রাহকদের জনসংখ্যা ঘনত্ব ক্রমেই বাড়ছিলো। ছোট ছোট মানব-দলকে কৃষির দিকে ঝুঁকে পড়ার মাধ্যমে ‘নতুন মুখকে খাওয়ানো কিংবা অন্য কোন ভাবে জনসংখ্যা-ঘনত্ব কমানো’ এ দুইটির মধ্যে যে কোন একটি বেছে নিতে হচ্ছিলো। কোন কোন দল কৃষি-সমাধানটি চয়ন করলো চাষাবাদের অমঙ্গলকর দিকগুলো না বুঝে আর খাবারের অস্থায়ী প্রাচুর্যের লোভে পড়ে, যতক্ষণ না জনসংখ্যা বৃদ্ধি খাদ্য-ফলনকে অতিক্রম করে যায়। এরকম দলের সদস্য-সংখ্যা বেশি হয়ে গেলে তারা তখনো শিকারী-সংগ্রাহক রয়ে যাওয়া দলদের হটিয়ে দেয়। এমন কি হত্যাও করে ফেলে, কারণ শ’খানেক অপুষ্টিতে ভোগা কৃষক একজন স্বাস্থ্যবান শিকারীকে হারিয়ে দিতে পারে। এমন নয় যে শিকারী-সংগ্রাহকরা তাদের জীবন-পদ্ধতি বর্জন করেছে। বরং যারা বর্জন না করার মতো যথেষ্ট বিচক্ষণ ছিলেন তাদেরকে প্রায় সব জায়গা থেকেই ঝেঁটিয়ে বিদায় দেয়া হয়েছে।

এক্ষেত্রে এটা খেয়াল রাখা জরুরী যে প্রত্নতত্ত্বের বিরুদ্ধে একটি প্রচলিত অভিযোগ রয়েছে যে এটা মূলত বিলাসিতা। প্রত্নতত্ত্ব দূরবর্তী অতীতের কথা নিয়ে উদ্বিগ্ন, যা বর্তমানের জন্য কোন শিক্ষাই বহন করে না। প্রত্নতত্ত্ববিদরা কৃষির উত্থান নিয়ে গবেষণা করে এমন একটি সংকটের কথা এনেছেন যা মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভুল। জনসংখ্যাবৃদ্ধি কমানো কিংবা খাদ্য সরবরাহ বাড়ানো এ দুইটির মধ্যে আমরা পরেরটিকে পছন্দ করেছি। ফলাফলে অনাহার, যুদ্ধ, ও নিপীড়নের মধ্যে এসে পড়েছি।

শিকারী-সংগ্রাহকরা মানব-ইতিহাসে সবচেয়ে সফল ও দীর্ঘস্থায়ী জীবনপ্রণালীর চর্চা করেছে। অন্যদিকে চাষাবাদ আমাদের একটা জগাখিচুড়ীর মধ্যে এনে ফেলেছে। আমরা চাষাবাদ নিয়ে টালমাতাল একটি পরিস্থিতির মধ্যে আছি। এটা পরিস্কার না যে আমরা আদৌ কোন সমাধানে পৌঁছাতে পারবো কি না। ধরা যাক বহির্বিশ্ব থেকে আসা কোন প্রত্নতত্ত্ববিদ  তার সতীর্থদের মানুষের ইতিহাস বোঝাতে চাচ্ছেন। তিনি হয়তো তার পাঠলব্ধ ফলাফল চব্বিশ ঘন্টার ঘড়িতে বোঝাবেন, যেখানে এক ঘন্টা অতীতের এক লক্ষ বছরের সমান। যদি মধ্যরাত্রিতে মানুষের ইতিহাস শুরু হয়, তাহলে দিনের প্রায় শেষের দিকে আমাদের বর্তমানের অবস্থান। আমরা বলতে গেলে সারা দিনই কাটিয়েছি শিকারী-সংগ্রাহক হিসেবে, মধ্যরাত হতে ভোর, দুপুর, ও সূর্যাস্ত। শেষে, রাত ১১.৫৪ মিনিটে আমরা কৃষিকাজ শুরু করলাম। পরবর্তী মধ্যরাত নিকটবর্তী হওয়ার সাথে সাথে কি দুর্ভিক্ষ-পিড়ীত কৃষকের সঙ্কটদশা কি ক্রমেই আমাদেরকে ঘিরে ধরবে? নাকি আমরা কোন ভাবে এসব প্রলুব্ধকর আকর্ষণ অর্জন করতে পারবো, যা কৃষিকাজের চকমকে তোরণের পেছনে আছে বলে আমরা ভাবি, যা আমাদের সাথে এত দিন লুকোচুরি খেলে আসছে?

 

[The Worst Mistake in the History of the Human Race প্রকাশিত হয়েছে ডিসকভার ম্যাগাজিনে। লেখক মার্কিন বিজ্ঞানী জ্যারেড ডায়মন্ড তাঁর পুলিৎজার পুরষ্কার পাওয়া বই Guns, Germs, and Steel সহ অন্যান্য বিজ্ঞান বইয়ের জন্য বিখ্যাত।]

ফেসবুকে আপনার মতামত জানান

লিখেছেন আরাফাত রহমান

অণুজীববিজ্ঞানের ছাত্র ছিলাম, বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, রিভারসাইড-এ পিএইচডি শিক্ষার্থী। যুক্ত আছি বায়ো-বায়ো-১ ও অনুসন্ধিৎসু চক্র বিজ্ঞান সংগঠনের সঙ্গে। আমার প্রকাশিত বই "মস্তিষ্ক, ঘুম ও স্বপ্ন" (প্রকৃতি পরিচয়, ২০১৫) ও "প্রাণের বিজ্ঞান" (প্রকৃতি পরিচয়, ২০১৭)।

আরাফাত রহমান বিজ্ঞান ব্লগে সর্বমোট 74 টি পোস্ট করেছেন।

লেখকের সবগুলো পোস্ট দেখুন

মন্তব্যসমূহ

  1. progoti Reply

    জ্যারেড ডায়মন্ডের বিশ্লেষণটি খন্ডিত।

    • আরাফাত রহমান Reply

      হতে পারে। অনেকেই দ্বিমত পোষণ করেন। তবে প্রাক-কৃষক সমাজ মানুষের স্বাস্থ্য, সামাজিকতা-বিনোদনের জন্য পাওয়া সময়, খাদ্য-অভ্যাস সবই যে গড়পড়তা কৃষক সমাজের মানুষ থেকে অনেক ভালো ছিলো তা নিয়ে খুব একটা দ্বিমত নেই।

  2. progoti Reply

    “প্রাক-কৃষক সমাজ মানুষের স্বাস্থ্য, সামাজিকতা-বিনোদনের জন্য পাওয়া সময়, খাদ্য-অভ্যাস সবই যে গড়পড়তা কৃষক সমাজের মানুষ থেকে অনেক ভালো ছিলো”- এর প্রমাণগুলোর লিংকগুলো দিতে পারবে?

  3. progoti Reply

    দেবীপ্রসাদ সহ আরো অনেকের বইতে আছে ক্রমবিকাশের ধারায় শিকারী অবস্থা থেকে কৃষি অবস্থার উত্তরণে মানুষের অনিশ্চয়তা কমেছে। ব্যক্তিগত সম্পদের ধারণা সহ আরো কিছু কারণ হিংসা প্রতিহিংসা ছড়িয়েছে। সম্পত্তির বিষয়, তখনকার অবস্খা সাপেক্ষে বিশ্লেষণে না রাখলে তা খন্ডিতই রয়ে যায়।

  4. রুহশান আহমেদ Reply

    এই বিষয়টা স্যাপিয়েন্স পড়ে প্রথম জানতে পারি, আরেকটা জিনিস পড়ে মজা পেয়েছিলাম যে বিবর্তনীয় সাফল্য মানুষের বেশি না ধান গাছের বেশি।

আপনার মতামত