স্মৃতি কিভাবে তৈরি হয়?

পড়া কেন মনে থাকে না? স্মরণশক্তিটা যদি আরেকটু ভালো হতো? আহা লোকটার নাম ভুলে গেলাম? বাড়ির ঠিকানাটা যেন কি ছিলো? স্মৃতি নিয়ে আমাদের অভিযোগের শেষ নেই। তবে বিভিন্ন তথ্য মনে রাখতে পারি জন্যেই আমরা দৈনন্দিন কাজ করতে পারি। নাইলে কবেই সব ভেস্তে যেত। তথ্য মনে রাখার প্রক্রিয়াটা কি ধরণের? আমরা কি মাথার কোটরের মধ্যে একেকটা তথ্য গুঁজে রাখি? মস্তিষ্ক কি একটা ফাইল কেবিনেটের মতো যার একেকটা ড্রয়ারে একেকটা তথ্য স্মৃতি হিসেবে জমা হয়? স্নায়ুবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে মস্তিষ্কে স্মৃতি জমা রাখার প্রক্রিয়াটা ভিন্ন ধরনের। আসলে জীবনের ঘটনাবহুল স্মৃতিগুলোর টুকরো টুকরো অংশ মস্তিষ্কের একেক জায়গার স্নায়ুসংযোগে জমা থাকে। আমরা যখন মনে করার চেষ্টা করি, তখন এই বিচ্ছিন্ন অংশগুলো জোড়া লেগে একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র আমাদের মনের জানালায় ভেসে উঠে। মস্তিষ্কে অজস্র স্নায়ু…
বিস্তারিত পড়ুন ...

বুদ্ধিমত্তার সীমানা

আমরা যখন স্কুলে ভর্তি হই, অঙ্ক করা শিখি, ছোট ছোট যোগ-বিয়োগ-গুণ-ভাগে অভ্যস্ত হই, তখন শিক্ষকেরা বড় বড় সংখ্যার যোগ-বিয়োগ-গুণ-ভাগ করা শেখান। এরপর আসে সরল। সরল সমাধানে অভ্যস্ত হতে না হতেই আসে ঐকিক নিয়ম। এভাবে গণিত কঠিন থেকে ক্রমে কঠিনতর হতেই থাকে। গণিতের নতুন পদ্ধতি আয়ত্ত করার সময় দেখা যায় কেউ কেউ খুব সহজেই নিয়ম শিখে ফেলেছে। অন্য অনেকে যখন বারবার একই ভুল করছে, তখন তারা অনায়সেই নতুন পদ্ধতি আয়ত্ত করে ফেলেছে। শুধু স্কুলে অঙ্ক করার সময় নয়, যে কোন কিছু শেখার ক্ষেত্রে শিক্ষানবিশের তুলনামূলক দ্রুতি বা ধীরগতি চোখে পড়ে। দেখা যায় ক্রিকেট খেলার সময় কেউ সহজেই ব্যাট পরিচালনা করা শিখে ফেলছে, কেউ বা বাদ্যযন্ত্র থেকে সুর বের করে ফেলছে বিনা পরিশ্রমে, কেউ হয়তো প্রোগ্রামিংয়ের মূলনীতিগুলো ধরে ফেলছে তড়িৎ-গতিতে। কিন্তু যে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

নিমগ্নতা, কাজ ও খেলা

বিজ্ঞানী সত্যেনন্দ্রনাথ বসুর কথা বলা যাক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার সময় তার মেয়ে একবার সিনেমা দেখার বায়না ধরেন। সে সময় তিনি জটিল একটি গাণিতিক সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এদিকে মেয়ে নাছোড়বান্দা। শেষে মেয়ের জেদের কাছে হার মেনে ঘোড়ার গাড়িতে করে মেয়েকে নিয়ে গেলেন মুকুল সিনেমা হলে। সেখানে পৌঁছে দেখেন তিনি বাসায় টাকা ফেলে এসেছেন। মেয়েকে সেখানে রেখে গাড়োয়ানকে নিয়ে বাসায় ফিরলেন টাকা নিতে। বাসায় পৌঁছে টাকা নেয়ার সময় টেবিলে দেখেন অসমাপ্ত গাণিতিক সমস্যাটা পড়ে আছে। তখন তিনি মেয়ের কথা ভুলে সেখানেই বসে পড়েন সমস্যা সমাধানে। এদিকে গাড়োয়ান যখন দেখলেন অনেকক্ষণ সময় পার হয়েছে তখন আর অপেক্ষা না করে বাড়িতে ঢুকে পড়লেন। ঢুকে দেখেন, সত্যেন বসু টেবিল-চেয়ারে নিমগ্নভাবে অঙ্ক কষে চলছেন। গাড়োয়ান সত্যেন বসুকে মেয়ের কথা মনে করিয়ে দিলে তিনি সম্বিত ফিরে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

নিমগ্নতার সুখ

আমরা জীবনে সুখের হরিণের পেছনে ছুটে বেড়াই। সাধারণ গড়পড়তা মানুষ তো বটেই, কবি-লেখক-সাহিত্যিক থেকে শুরু করে ধর্মবেত্তা-দার্শনিক সবাই সুখ-পাখিটা ধরতে চান। তবে যারা সুখ জিনিসটা কি তা বোঝার চেষ্টা করেন তাদের অনুসন্ধানটা ভিন্ন। তারা সুখকে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করেন। এ অনুসন্ধানে বিজ্ঞানীরাও পিছিয়ে নেই। হ্যাঁ, শারীরবিদ্যা যদিও বলবে এন্ডরফিন, ডোপামিন ও সেরোটোনিন নামক হরমোন নিঃসৃত হলে মানুষ সুখানুভূতি পায়। তবে কাজের সাথেও সুখানুভূতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এক জন মনোবিজ্ঞানীর গবেষণা থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাক। কখনো কি এমন কোন কাজে ডুবে গিয়েছিলেন যে নাওয়াখাওয়ার কথা ভুলেই গিয়েছিলেন? বেলা গড়িয়ে কখন সন্ধ্যা হয়েছে টের পাননি? কিংবা রাত্রে খাবার পর কাজে বসে হঠাৎ টের পেয়েছেন যে ভোর হয়ে গেছে? কাজে এতটাই বিভোর হয়ে গিয়েছিলেন যে সময় পার হওয়ার অনুভূতি লোপ…
বিস্তারিত পড়ুন ...

সমুদ্রের ঘ্রাণ

মেঘমালা আপনাকে সমুদ্রের কথা মনে করিয়ে দেবে এমন সম্ভাবনা ক্ষীণ। কিন্তু সমুদ্র না থাকলে মাথার উপরে খুব কম সংখ্যক মেঘই ভেসে বেড়াতো। কারণ সুবিশাল সমুদ্র জুড়ে অজস্র ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র জীব রয়েছে যারা ডাই-মিথাইল সালফাইড (বা ডিএমএস) নামক গ্যাস তৈরি করে। কিছু সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ডিএমএস মেঘ গঠন আরম্ভ করতে পারে। এ ক্ষুদ্র জীবদের মধ্যে আছে শৈবাল ও অণুজীব। এরা অবশ্য মেঘ নির্মাণের জন্য ডিএমএস তেরি করে না। ডিএমএস আসলে ডাই-মিথাইল-সালফনিও-প্রপিওনেট (বা ডিএমএসপি) নামক বিপাকীয় অণুর উপজাত। সম্ভবত ভেসে বেড়ানো কিংবা প্রতিরক্ষা কিংবা উভয় কাজেই ফাইটোপ্লাঙ্কটনের ডিএমএসপি দরকার। সমুদ্রের একটি নিজস্ব ঘ্রাণ আছে। এ ঘ্রাণ কখনো কখনো অপ্রীতিকর কটুগন্ধ মনে হতে পারে। এ ঘ্রাণের (বা কটুগন্ধের) জন্য বায়ুবাহিত ডিএমএস দায়ি। সম্প্রতি সাগরের ফাইটোপ্লাঙ্কটন এমিলিয়ানিয়া হাক্সলি-র (Emiliania huxleyi) মাঝে এ ঘ্রাণের পেছনে যে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

অনিষ্টের রূপ

এশারের অ্যনিমেলস (১৮৯৮-১৯৭২) কখনো কখনো আমরা সবকিছু ভিন্নচোখে দেখতে বাধ্য হই। তবে এটা মোটেও সহজ নয়। মানুষ অভ্যাসের দাস। তাই আমরা প্রথম দর্শনে যা ভাবতে অভ্যস্ত হই তার শৃঙ্খলে বাঁধা পড়ে যাই। প্রিয়নের ব্যপারে ঠিক এরকমই ঘটেছে। প্রিয়ন এক ধরনের প্রোটিন। এদের আকার নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে বদলে যায়। ফলাফলে এরা মারাত্মক রোগের মূল কারণ হয়ে পড়ে। কোন প্রোটিনের ত্রিমাত্রিক গঠন বদলে গেলে তা অনেক ব্যাধির কারণ হতে পারে। এজন্য প্রিয়ন-প্রোটিনের আকার বদলে গিয়ে রোগের কারণ হয়ে পড়াটা অণুপ্রাণবিজ্ঞানে নতুন কোন ধারণা নয়। যে ধারণাটা নতুন তা হলো প্রোটিন নিজেই রোগ সংক্রমণের মূল কারণ হতে পারে। সংক্রমক বলতে একটি অস্তিত্বকে বোঝানো হয় যা কোন জীব থেকে অন্য জীবে (বা এক কোষ থেকে অন্য কোষে) ছড়ানোর মাধ্যমে রোগ বিস্তারে ভূমিকা রাখে। ভাইরাস…
বিস্তারিত পড়ুন ...

দগ্ধ পৃথিবী, ২২০০ খ্রিষ্টাব্দ

জলবায়ুর পরিবর্তন পরাস্ত করেছে মানুষের দাপট – মাত্র পঞ্চাশ কোটি পৃথিবীবাসী অবশিষ্ট উত্তরের জীবন-তরীতে। কিভাবে বেঁচে আছে তারা? ১. অভেদ্য, নিয়ন্ত্রিত আবহাওয়ার সুউচ্চ বহুতল ভবনের ৩০০ তলায় ক্ষুদ্র ফ্ল্যাটের জানালা দিয়ে তাকাই – মাটির আধামাইল উপরে আমার ফ্ল্যাট থেকে মনোমুগ্ধকর বীথিদৃশ্য চোখে পড়ে: বেশ কিছু বাংলো, ছিমছাম উঠান, পান্না-সবুজ রাঙা খেলার মাঠ, সূর্যের আলো ঝিলিক দেয়া সুইমিং পুল, আর দীর্ঘ বেলাভূমির ওপারে তৈরি কিছু প্রাসাদসম অট্টালিকা। দৃশ্যগুলো লস এঞ্জেলস শহরের স্মৃতি মনে করিয়ে আকুল করে দেয়। শহরটি এখন অস্তিত্বহীন, যেখানে শান্তিপূর্ণ সময়ে বড় হয়েছেলিন আমার দাদার-দাদা, যখন নবজাতকের জন্মদান কঠিনভাবে নিয়ন্ত্রিত হতো না, আর সাতশ' কোটি মানুষ মুক্তভাবে ঘুরতেন পৃথিবী বুকে।   এখন পৃথিবীতে আমরা মাত্র পঞ্চাশ কোটি মানুষ বেঁচে আছি, জলবায়ুর পরিবর্তন কমিয়ে এনেছে এ গ্রহের ধারণ ক্ষমতা (carrying…
বিস্তারিত পড়ুন ...

রাজশাহীর বিজ্ঞান-জরিপ : স্কুল-শিক্ষার্থীরা অনেকেই জানে না নক্ষত্র আসলে কি

বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ কেন গুরুত্বপূর্ণ? মূলধারায় বিজ্ঞান চর্চা বলতে গবেষণা বোঝানো হয়। তবে বিজ্ঞান চর্চাকে কেবল গুরুগম্ভীর গবেষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে বড় ভুল হবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একবার বলেছিলেন, সাহিত্য চর্চার তিনটি কান্ড রয়েছে। প্রথমত জ্ঞানকান্ড, দ্বিতীয়ত রসকান্ড, তৃতীয়ত কর্মকান্ড। সাহিত্যচর্চায় 'জ্ঞান' ও 'রস' খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তেমনিই তিনি 'কর্মকান্ড' অর্থাৎ সাহিত্যচর্চার বিভিন্ন আয়োজন-সংগঠনকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। একই কথা বিজ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রেও বলা যায়। যদি সমাজে বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ ঠিকমতো না হয়, তাহলে সে পটভূমিতে বিজ্ঞানের অগ্রগতি হওয়া দুষ্কর। সাধারণ মানুষের মধ্যে বিজ্ঞানবোধ তৈরি করা ভীষণ জরুরী। বিশেষ করে নবীন ও তরুণ শিক্ষার্থীর মধ্যে বিজ্ঞান বিষয়ক কৌতুহল উস্কে দেয়া ও নানাবিধ কর্মকান্ডের মাধ্যমে তাদের আগ্রহ জিঁইয়ে রাখাটা দরকার। বিজ্ঞানবোধের হাত ধরে আসে পরমতসহিষ্ণুতা, যু্ক্তি দিয়ে যুক্তি খন্ডানোর সংস্কৃতি। বিজ্ঞানবোধ কোন পূর্বসংস্কারের বশীভূত না হয়ে…
বিস্তারিত পড়ুন ...