কৃষি : মানব-ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভুল

সারাংশ: কৃষিকাজকে মানব সভ্যতার ভিত্তি বলে আমরা ধরে নেই। তবে মানব ইতিহাসে অনেকগুলো দুর্দশার কারণ ছিলো কৃষির আবিষ্কার।   দু'পেয়ে পশু থেকে বুদ্ধিমান প্রাণী -- নিজের কাছ ভাবমূর্তির নাটকীয় উন্নতির জন্য বিজ্ঞানের কাছে আমরা চিরঋণী। জ্যোতির্বজ্ঞান আমাদের শিখিয়েছে পৃথিবী মহাবিশ্বের কেন্দ্র নয়, বরং সহস্র কোটি স্বর্গীয় বস্তুর মধ্যে মাত্র একটি। জীববিজ্ঞান থেকে আমরা জেনেছি যে আমরা অন্যান্য লক্ষ লক্ষ প্রজাতির সাথে অভিযোজিত হয়েছি। এখন প্রত্নতত্ত্ব আরেকটি পূতঃবিশ্বাস ধ্বংস করছে। আগে ধারণা করা হতো গত কয়েক লক্ষ বছরের মানব ইতিহাস হলো ধারাবাহিক প্রগতির উপাখ্যান। যেমন কৃষির উদ্ভাবনকে অবধারিতভাবে উন্নত জীবনের প্রতি নিশ্চিত পদক্ষেপ বলে ধরা হয়। অথচ সাম্প্রতিক আবিষ্কারগুলো বলছে কৃষি প্রকৃতপক্ষে অনেক ক্ষেত্রেই বিপর্যয়কারী ঘটনা। এ বিপর্যয় থেকে আমরা এখনো সেরে উঠতে পারি নি। কৃষির সাথে সাথে এসেছে সামাজিক ও…
বিস্তারিত পড়ুন ...

বেহালা-বাদক, শয়তানের বর কিংবা বংশগতি

নিকোলো প্যাগানিনি পাশ্চাত্য ধ্রুপদী সংগীতের একটি বিখ্যাত নাম। আঠারোশো শতকের শেষ দিকে ইতালিতে জন্ম নেন তিনি। প্যাগানিনি সমসাময়িক ইউরোপ মাতিয়ে তুলেছিলেন তার বেহালার জাদু দিয়ে। পাশ্চাত্য সংগীতে বেহালা বাজানোর আধুনিক রীতি স্থাপন করেছেন তিনি। তার তৈরি সুর এখনো জনপ্রিয়। বহু বেহালা-বাদকের অনুপ্রেরণা হলেন প্যাগানিনি। অদ্ভূত বিষয় হলো, তার এই সাফল্যের অন্তত আংশিক কারণ ছিলো বংশগতির একটি দূর্লভ রোগ। অন্য অনেক প্রতিভাধর সংগীতজ্ঞের মতোই প্যাগানিনি ছোটবেলাতে সংগীতচর্চা শুরু করেন। তিনি পাঁচ বছর বয়সে গিটার আর সাত বছর বয়সে বেহালা বাজানো শেখা শুরু করেন। খুব দ্রুতই এ যন্ত্রগুলো তার আয়ত্বে চলে আসে। মাত্র আঠারো বছর বয়সে আশেপাশের এলাকায় তিনি পরিচিতি লাভ করেন। আর ত্রিশ বছর হতে না হতেই সারা ইউরোপে তার খ্যাতি ছড়িয়ে যায়। কিন্তু প্যাগানিনি যখন মারা যান তখন তার জন্মস্থান…
বিস্তারিত পড়ুন ...

স্মৃতি কিভাবে তৈরি হয়?

পড়া কেন মনে থাকে না? স্মরণশক্তিটা যদি আরেকটু ভালো হতো? আহা লোকটার নাম ভুলে গেলাম? বাড়ির ঠিকানাটা যেন কি ছিলো? স্মৃতি নিয়ে আমাদের অভিযোগের শেষ নেই। তবে বিভিন্ন তথ্য মনে রাখতে পারি জন্যেই আমরা দৈনন্দিন কাজ করতে পারি। নাইলে কবেই সব ভেস্তে যেত। তথ্য মনে রাখার প্রক্রিয়াটা কি ধরণের? আমরা কি মাথার কোটরের মধ্যে একেকটা তথ্য গুঁজে রাখি? মস্তিষ্ক কি একটা ফাইল কেবিনেটের মতো যার একেকটা ড্রয়ারে একেকটা তথ্য স্মৃতি হিসেবে জমা হয়? স্নায়ুবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে মস্তিষ্কে স্মৃতি জমা রাখার প্রক্রিয়াটা ভিন্ন ধরনের। আসলে জীবনের ঘটনাবহুল স্মৃতিগুলোর টুকরো টুকরো অংশ মস্তিষ্কের একেক জায়গার স্নায়ুসংযোগে জমা থাকে। আমরা যখন মনে করার চেষ্টা করি, তখন এই বিচ্ছিন্ন অংশগুলো জোড়া লেগে একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র আমাদের মনের জানালায় ভেসে উঠে। মস্তিষ্কে অজস্র স্নায়ু…
বিস্তারিত পড়ুন ...

বুদ্ধিমত্তার সীমানা

আমরা যখন স্কুলে ভর্তি হই, অঙ্ক করা শিখি, ছোট ছোট যোগ-বিয়োগ-গুণ-ভাগে অভ্যস্ত হই, তখন শিক্ষকেরা বড় বড় সংখ্যার যোগ-বিয়োগ-গুণ-ভাগ করা শেখান। এরপর আসে সরল। সরল সমাধানে অভ্যস্ত হতে না হতেই আসে ঐকিক নিয়ম। এভাবে গণিত কঠিন থেকে ক্রমে কঠিনতর হতেই থাকে। গণিতের নতুন পদ্ধতি আয়ত্ত করার সময় দেখা যায় কেউ কেউ খুব সহজেই নিয়ম শিখে ফেলেছে। অন্য অনেকে যখন বারবার একই ভুল করছে, তখন তারা অনায়সেই নতুন পদ্ধতি আয়ত্ত করে ফেলেছে। শুধু স্কুলে অঙ্ক করার সময় নয়, যে কোন কিছু শেখার ক্ষেত্রে শিক্ষানবিশের তুলনামূলক দ্রুতি বা ধীরগতি চোখে পড়ে। দেখা যায় ক্রিকেট খেলার সময় কেউ সহজেই ব্যাট পরিচালনা করা শিখে ফেলছে, কেউ বা বাদ্যযন্ত্র থেকে সুর বের করে ফেলছে বিনা পরিশ্রমে, কেউ হয়তো প্রোগ্রামিংয়ের মূলনীতিগুলো ধরে ফেলছে তড়িৎ-গতিতে। কিন্তু যে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

নিমগ্নতা, কাজ ও খেলা

বিজ্ঞানী সত্যেনন্দ্রনাথ বসুর কথা বলা যাক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার সময় তার মেয়ে একবার সিনেমা দেখার বায়না ধরেন। সে সময় তিনি জটিল একটি গাণিতিক সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এদিকে মেয়ে নাছোড়বান্দা। শেষে মেয়ের জেদের কাছে হার মেনে ঘোড়ার গাড়িতে করে মেয়েকে নিয়ে গেলেন মুকুল সিনেমা হলে। সেখানে পৌঁছে দেখেন তিনি বাসায় টাকা ফেলে এসেছেন। মেয়েকে সেখানে রেখে গাড়োয়ানকে নিয়ে বাসায় ফিরলেন টাকা নিতে। বাসায় পৌঁছে টাকা নেয়ার সময় টেবিলে দেখেন অসমাপ্ত গাণিতিক সমস্যাটা পড়ে আছে। তখন তিনি মেয়ের কথা ভুলে সেখানেই বসে পড়েন সমস্যা সমাধানে। এদিকে গাড়োয়ান যখন দেখলেন অনেকক্ষণ সময় পার হয়েছে তখন আর অপেক্ষা না করে বাড়িতে ঢুকে পড়লেন। ঢুকে দেখেন, সত্যেন বসু টেবিল-চেয়ারে নিমগ্নভাবে অঙ্ক কষে চলছেন। গাড়োয়ান সত্যেন বসুকে মেয়ের কথা মনে করিয়ে দিলে তিনি সম্বিত ফিরে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

নিমগ্নতার সুখ

আমরা জীবনে সুখের হরিণের পেছনে ছুটে বেড়াই। সাধারণ গড়পড়তা মানুষ তো বটেই, কবি-লেখক-সাহিত্যিক থেকে শুরু করে ধর্মবেত্তা-দার্শনিক সবাই সুখ-পাখিটা ধরতে চান। তবে যারা সুখ জিনিসটা কি তা বোঝার চেষ্টা করেন তাদের অনুসন্ধানটা ভিন্ন। তারা সুখকে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করেন। এ অনুসন্ধানে বিজ্ঞানীরাও পিছিয়ে নেই। হ্যাঁ, শারীরবিদ্যা যদিও বলবে এন্ডরফিন, ডোপামিন ও সেরোটোনিন নামক হরমোন নিঃসৃত হলে মানুষ সুখানুভূতি পায়। তবে কাজের সাথেও সুখানুভূতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এক জন মনোবিজ্ঞানীর গবেষণা থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাক। কখনো কি এমন কোন কাজে ডুবে গিয়েছিলেন যে নাওয়াখাওয়ার কথা ভুলেই গিয়েছিলেন? বেলা গড়িয়ে কখন সন্ধ্যা হয়েছে টের পাননি? কিংবা রাত্রে খাবার পর কাজে বসে হঠাৎ টের পেয়েছেন যে ভোর হয়ে গেছে? কাজে এতটাই বিভোর হয়ে গিয়েছিলেন যে সময় পার হওয়ার অনুভূতি লোপ…
বিস্তারিত পড়ুন ...

সমুদ্রের ঘ্রাণ

মেঘমালা আপনাকে সমুদ্রের কথা মনে করিয়ে দেবে এমন সম্ভাবনা ক্ষীণ। কিন্তু সমুদ্র না থাকলে মাথার উপরে খুব কম সংখ্যক মেঘই ভেসে বেড়াতো। কারণ সুবিশাল সমুদ্র জুড়ে অজস্র ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র জীব রয়েছে যারা ডাই-মিথাইল সালফাইড (বা ডিএমএস) নামক গ্যাস তৈরি করে। কিছু সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ডিএমএস মেঘ গঠন আরম্ভ করতে পারে। এ ক্ষুদ্র জীবদের মধ্যে আছে শৈবাল ও অণুজীব। এরা অবশ্য মেঘ নির্মাণের জন্য ডিএমএস তেরি করে না। ডিএমএস আসলে ডাই-মিথাইল-সালফনিও-প্রপিওনেট (বা ডিএমএসপি) নামক বিপাকীয় অণুর উপজাত। সম্ভবত ভেসে বেড়ানো কিংবা প্রতিরক্ষা কিংবা উভয় কাজেই ফাইটোপ্লাঙ্কটনের ডিএমএসপি দরকার। সমুদ্রের একটি নিজস্ব ঘ্রাণ আছে। এ ঘ্রাণ কখনো কখনো অপ্রীতিকর কটুগন্ধ মনে হতে পারে। এ ঘ্রাণের (বা কটুগন্ধের) জন্য বায়ুবাহিত ডিএমএস দায়ি। সম্প্রতি সাগরের ফাইটোপ্লাঙ্কটন এমিলিয়ানিয়া হাক্সলি-র (Emiliania huxleyi) মাঝে এ ঘ্রাণের পেছনে যে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

অনিষ্টের রূপ

এশারের অ্যনিমেলস (১৮৯৮-১৯৭২) কখনো কখনো আমরা সবকিছু ভিন্নচোখে দেখতে বাধ্য হই। তবে এটা মোটেও সহজ নয়। মানুষ অভ্যাসের দাস। তাই আমরা প্রথম দর্শনে যা ভাবতে অভ্যস্ত হই তার শৃঙ্খলে বাঁধা পড়ে যাই। প্রিয়নের ব্যপারে ঠিক এরকমই ঘটেছে। প্রিয়ন এক ধরনের প্রোটিন। এদের আকার নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে বদলে যায়। ফলাফলে এরা মারাত্মক রোগের মূল কারণ হয়ে পড়ে। কোন প্রোটিনের ত্রিমাত্রিক গঠন বদলে গেলে তা অনেক ব্যাধির কারণ হতে পারে। এজন্য প্রিয়ন-প্রোটিনের আকার বদলে গিয়ে রোগের কারণ হয়ে পড়াটা অণুপ্রাণবিজ্ঞানে নতুন কোন ধারণা নয়। যে ধারণাটা নতুন তা হলো প্রোটিন নিজেই রোগ সংক্রমণের মূল কারণ হতে পারে। সংক্রমক বলতে একটি অস্তিত্বকে বোঝানো হয় যা কোন জীব থেকে অন্য জীবে (বা এক কোষ থেকে অন্য কোষে) ছড়ানোর মাধ্যমে রোগ বিস্তারে ভূমিকা রাখে। ভাইরাস…
বিস্তারিত পড়ুন ...