লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর অস্কার বক্তৃতা ও পরিবেশ বিপর্যয়ের সাথে জিকা ভাইরাস উত্থানের সম্পর্ক

গত কয়েক বছর যাবত ইন্টারনেটে একটি কৌতুক ঘুরে বেড়াচ্ছিলো মার্কিন অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর অস্কার না পাওয়া নিয়ে। হলিউডের এ অভিনেতা টাইটানিক (১৯৯৭) চলচিত্র থেকে শুরু করে অনেকগুলো চলচিত্রে দারুণ অভিনয় করেছেন। গত পাঁচ-দশ বছর ধরে সবাই আশা করছিলেন তিনি অভিনয়ের জন্য অস্কার পাবেন। কয়েকবার একাডেমি এওয়ার্ডে অস্কারের জন্য মনোনীতও হয়েছিলেন, কিন্তু প্রতিবছরই সবার আশাভঙ্গ হচ্ছিলো। কৌতুকটা হলো এখন থেকে ত্রিশ বছর পর লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর অস্কার-না-পাওয়া কর্মবহুল জীবন নিয়ে তৈরি একটি চলচিত্রে অভিনয় করে ভবিষ্যতের কোন প্রতিভাবান অভিনেতা অস্কার পেয়ে যেতে পারেন। সকল প্রতীক্ষার অবসান  ঘটলো ২০১৬ সালের একাডেমী এওয়ার্ডে, যেখানে ডিক্যাপ্রিও দ্যা রেভেন্যান্ট (২০১৫) চলচিত্রটির জন্য অস্কার পুরস্কার পান। সকলেই আগ্রহী ছিলেন এ অভিনেতা অস্কার ভাষণে কি বলেন। তবে ডিক্যাপ্রিও অস্কারের মঞ্চটিকে ব্যবহার করেন বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সবাইকে সচেতন…
বিস্তারিত পড়ুন ...

বিজ্ঞানকর্মী লোটনকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন

লোটন ভাইয়ের অনেকগুলো পরিচয়। তার মধ্যে অন্যতম হলো তিনি বিজ্ঞান ব্লগের সহপ্রতিষ্ঠাতা। মনে পড়ে ২০১০ সালে ইমতিয়াজ ভাইয়ের প্রস্তাবে লোটন ভাই, শান্ত ও আমি ওয়ার্ডপ্রেস.কম-এর সাবডোমেইনে বিজ্ঞান ব্লগের যাত্রা শুরু করি। সেসময় আমরা সবাই অনুসন্ধিৎসু চক্রের সক্রিয় সদস্য। খুব দ্রুতই বিজ্ঞান ব্লগ নিজস্ব ডোমেইনে চলে আসে (৪ মার্চ, ২০১১)। লোটন ভাই মূলত সাইটের টেকনিক্যাল বিষয়গুলো দেখেন। বিজ্ঞান ব্লগে নতুন লেখা সম্পাদনা, প্রশাসনিক ও টেকনিক্যাল দেখাশুনার কাজগুলো নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি হয়ে গিয়েছিলো। এরপর বিজ্ঞান ব্লগের পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে – লেখক সংখ্যা বেড়েছে অনেক, এটি বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রুপ-ব্লগ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে, সহসম্পাদক হিসেবে যোগ দিয়েছেন ওসমান ভাই, রুহশান ও শ্রাবণ। ছোট ব্লগের গন্ডী পেড়িয়ে আমাদের অনেক লেখকই বিজ্ঞান নিয়ে গুরুত্ব সহকারে বিভিন্ন প্রবন্ধ লিখছেন। অনেকেই বিজ্ঞান নিয়ে বইও প্রকাশ করেছেন,…
বিস্তারিত পড়ুন ...

আইনস্টাইন মিথ : “হাল ছেড়ো না বন্ধু”

১. ফেব্রুয়ারি ১১ তারিখ, যেদিন মহাকর্ষ তরঙ্গের অস্তিত্ব সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন, অনেকের মতো আমিও এ বিষয়ে কৌতুহলী হয়ে উঠি। মহাকর্ষ তরঙ্গ বলে একটা জিনিস যে আছে তা প্রায় একশ বছর আগে বিজ্ঞানী আইনস্টাইন বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্বে বলে গেছেন। আবদুল গাফফার রনির "থিওরি অব রিলেটিভিটি” (অন্বেষা, ২০১৬) বইটি পড়ে ফেলি। লেখক সাবলীল ভাষায় এ তত্ত্বটির মূল ধারণাগুলোর সহজবোধ্য বর্ণনা দিয়েছেন। বইটি পদার্থবিজ্ঞানের বই হলেও বেশ উপভোগ্য, গাণিতিক সূত্রের ছড়াছড়ি নেই। এই জটিল বিষয়ে প্রাথমিক সাক্ষরতা লাভের জন্য চমৎকার উৎস। আইনস্টাইন, যাকে বলা হয় বিজ্ঞানের পোস্টার-বয়, বিজ্ঞানের রঙিন জগতের একজন তারকা, তিনি আরেকবার জিতলেন। তাঁর তত্ত্বটিতে কি বলা হয়েছে, কিংবা মহাকর্ষ তরঙ্গ জিনিসটা আসলে কি – এ সব বিষয় নিয়ে আমি কিছুই লিখবো না। কারণ বাংলা ভাষায় অনেকেই এ বিষয়গুলো নিয়ে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

বাংলাদেশেই তৈরি হবে গরুর ক্ষুরা রোগের প্রতিষেধক

কৃষিভিত্তিক বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গবাদীপশু একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কৃষকের হালচাষ থেকে শুরু করে পরিবারের জন্য দুগ্ধ-সরবরাহ ছাড়িয়ে স্থানীয় ও জাতীয় বাজার অর্থনীতিতে গবাদীপশুর ভূমিকা অনস্বীকার্য। এছাড়া পরিবারভিত্তিক পশুপালনের বাইরে বাংলাদেশে এখন অনেকগুলো পশুখামার গড়ে উঠেছে। এ খাতে বাংলাদেশ যেমন স্বয়ংসম্পূর্ণ হচ্ছে, তেমনি বিদেশে পশুর মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্য রপ্তানীর সম্ভাবনাও রয়েছে। কিন্তু গবাদীপশুর বিভিন্ন রোগ, বিশেষ করে গরুর ক্ষুরা-রোগ এ খাতে একটি জটিল সমস্যা যার কারণে পরিবার, স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে উন্নয়ন ব্যহত হচ্ছে। আর গরুর ক্ষুরা-রোগ নিয়েই আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা চলছে ড. আনোয়ার হোসেনের নের্তৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের মাইক্রোবিয়াল জেনেটিক্স ও বায়োইনফরমেটিক্স ল্যাবরেটরিতে। ইতিমধ্যে ড. আনোয়ার হোসেন ও তার গবেষণাদল বাংলাদেশে ক্ষুরারোগের ভাইরাস সনাক্তকরণ, রোগতত্ত্ব গবেষণা ও ভাইরাসের জীবনরহস্য (সম্পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্স) উন্মোচন করে ফেলেছেন। এখন এ গবেষণাগারে এ…
বিস্তারিত পড়ুন ...

সুকেন্দ্রিকদের উদ্ভব কেন অসম্ভব-সম্ভাবনা ছিলো? [একমেবাদ্বিতীয়ম্ সংযোজন পর্ব-২]

পূর্বের লেখা: প্রাণের প্রথম একশ কোটি বছর কেন একঘেঁয়ে ছিলো? সুকেন্দ্রীক-কোষের কিছু অঙ্গাণু এক সময় অন্তঃমিথোজীবী স্বাধীন অণুজীব হিসেবে ছিলো যারা পরবর্তীতে অন্য কোষের মধ্যে স্থায়ী ঠিকানা গড়ে নেয় – রাশিয়ান বিজ্ঞানী কনস্ট্যানটিন মেরেস্কোস্কি ১৯০৫ সালে সর্বপ্রথম এ ধারণা দেন। তিনি ভেবেছিলেন নিউক্লিয়াস এভাবে গড়ে উঠেছে, আর সৌরালোক থেকে উদ্ভিদকোষকে শক্তি জোগানো ক্লোরোপ্লাস্টের উদ্ভবও একইভাবে। অন্তঃমিথোজীবির তালিকায় প্রথমে মাইটোকন্ড্রিয়া বাদ গেলেও ১৯২৩ সালে আমেরিকান শরীরবিদ ইভান ওয়ালিন একে যুক্ত করেন। দশকের পর দশক এসব ভাবনা উপেক্ষিত ছিলো, যতক্ষণ না আমেরিকান জীববিজ্ঞানী লিন মার্গুলিস ১৯৬৭ সালে তাদের পুনর্জাগরিত করেন। একটি বৈপ্লবিক নিবন্ধে তিনি বলেন মাইটোকন্ড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্ট একসময় মুক্ত-ব্যক্টেরিয়া ছিলো যাদেরকে অন্য একটি প্রাচীন অণুজীব পরপর গিলে ফেলেছে। মাইটোকন্ড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্টের মধ্যে ধারণকৃত জিনোম দেখতে ব্যক্টেরিয়া জিনোমের মতো মনে হওয়ার এটাই…
বিস্তারিত পড়ুন ...

প্রাণের প্রথম একশ কোটি বছর কেন একঘেঁয়ে ছিলো? [একমেবাদ্বিতীয়ম্ সংযোজন পর্ব-১]

প্রথম দেখায় একটি গাছ থেকে ঐ গাছের পাতা খাওয়া শুঁয়োপোকা, গাছের বাকল থেকে অঙ্কুরিত ব্যাঙের ছাতা, গুঁড়ির পাশে বর্ধনশীল ঘাস, কিংবা তরু ছায়ায় বসে গল্প করা যুগল – কোন কিছুই দেখতে এক রকম লাগবে না। তবে বাহ্য-রূপ ছলনাপূর্ণ হতে পারে। আণুবীক্ষণিক পর্যায়ে বিবর্ধিত করে দেখা হলে এদের কাঠামোগত সাদৃশ্য অবাক করে দেবে। কারণ এরা সকলে একই ধরনের গঠন-শৈলী মেনে চলা কোষ দিয়ে তৈরি। এ কোষগুলোতে রয়েছে একটি নিউক্লিয়াস যা সুক্ষ্ম ঝিল্লী দিয়ে ডি.এন.এ-কে ধরে রাখে। আর এ নিউক্লিয়াসই হলো কোষের শাসন-কেন্দ্র, হেডকোয়ার্টার। নিউক্লিয়াসের চারপাশে অনেকগুলো ছোট ছোট কুঠুরী আছে যারা আসলে ক্ষুদ্র অঙ্গাণু, এরা বিশেষায়িত কাজ করে বেড়ায়: যেমন গুরুত্বপূর্ণ অণু জমা রাখা কিংবা প্রোটিন তৈরি। এসব কুঠুরীর মাঝে আছে শিম-আকৃতির মাইটোকন্ড্রিয়া: কোষকে শক্তি সরবরাহ করা পাওয়ার-প্ল্যান্ট। এই বৈশিষ্ট্যগুলো ঘুরে-ফিরে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

‘নক্ষত্রের ঝড়’ পাঠ-প্রতিক্রিয়া

দীপেন ভট্টাচার্য দীর্ঘদিন ধরে মৌলিক বিজ্ঞান কল্পকাহিনী লিখে আসছেন। বাংলাভাষায় প্রতিবছর অনেকগুলো সাইফাই প্রকাশিত হয় একুশের বই মেলায়, মুহাম্মদ জাফর ইকবাল কিংবা হুমায়ুন আহমেদের মতো লেখক বিজ্ঞান কল্পকাহিনী লিখে বহু খ্যাতি কুড়িয়েছেন। মূলধারার বিজ্ঞান-কল্পকাহিনী একটা পরিচিত ছকের মধ্যে পড়ে গেছে বহু আগেই – গল্পের মধ্যে যে কোনভাবে রকেট, মহাকাশে ওয়ার্মহোল ভ্রমণ, ভিনগ্রহের প্রাণী, অতিরিক্ত-বুদ্ধিমান কম্পিউটার/রোবট, স্থান-কালের আপেক্ষিকতা ঢুকিয়ে দাও; ব্যাস, কল্পকাহিনী তৈরি। কিন্তু বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী প্রথমত: যে একটা "কাহিনী" যার একটা "প্লট" থাকবে; যার নায়ক-নায়িকারা মানুষ, সে মানুষের যে একটা সমাজ-প্রেক্ষিত আছে, সুতরাং বেশ কিছু পিছুটান ও দ্বন্দ্ব থাকবে; তারা একটা মানবিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাবে, সে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে পাঠক নায়ক-নায়িকার চরিত্রের বিকাশ দেখবে; আর কল্পবিজ্ঞানের "কল্পিত-বৈজ্ঞানিক-ব্যাপার-স্যাপার" গাঁজাখুরী কোন আকাশ-কুসুম কল্পনা হবে না, কল্পিত বৈজ্ঞানিক উপাদান কাহিনীর সমাজ-বাস্তবতার সীমা…
বিস্তারিত পড়ুন ...

যে মহা-গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণটি আপনার জানা থাকা উচিত

রজার কর্নবার্গ একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, "রসায়ন হল বিজ্ঞানের রাণী। পদার্থের নিয়মগুলো চারপাশের জগতে প্রয়োগ করতে গেলে রসায়নই  আমাদের পরম আশা দেখায়। এমন কোন বিষয়ের কথা যদি বলা হয় যা সম্পর্কে পৃথিবীর সকল শিক্ষিত ব্যক্তির জানাশোনা থাকা উচিত, তাহলে সেটি হবে রসায়ন।" ২০০৬ সালে কর্নবার্গ রসায়ন শাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার পান। জীব-কোষের ভেতরে ডিএনএ থেকে আরএনএ তৈরির সময় অনেকগুলো প্রোটিন অংশ নেয়। কর্নবার্গ এদের মধ্যে ডজন-খানেকেরও বেশি প্রোটিন চিহ্নিত করেন। তিনি প্রকৃত অর্থেই জানেন জীবনের পেছনে বিশ্বজনীন প্রক্রিয়াগুলোর বিস্তারিত উন্মোচন করার জন্যে রসায়ন কতটা গুরুত্বপূর্ণ।   আমি তাই কর্নবার্গের সংলাপ-সূত্র ধরে এই প্রশ্নটি তুলি: বিজ্ঞানের জগতে কোন সমীকরণটিকে আপনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ  মনে করেন? বেশিরভাগ মানুষের জন্যে উত্তরটা সহজ : আইনস্টাইনের বিখ্যাত ভর-শক্তির রূপান্তর সূত্র, E = mc^2। কিংবা কেউ কেউ নিউটনের দেয়া…
বিস্তারিত পড়ুন ...