মেঘনাদ সাহা- একজন বিজ্ঞানী ও বিপ্লবী

বৃটিশ শাসনামলে মেঘনাদ সাহা ভারতবর্ষ তথা সারা বিশ্বে একজন খ্যাতিমান পদার্থবিদ হিসেবে সমাদৃত হয়েছিলেন। ১৯২০ এর দশকে তিনি নক্ষত্রের বর্ণালী বিশ্লেষনে তাপীয় আয়নীকরণ তত্ত্বে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। ভারতের স্বাধীনতার পূর্বে ও পরে আমৃত্যু তিনি বিজ্ঞানের জন্য এবং বিজ্ঞানমনষ্কতা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য নিরন্তর কাজ করে গেছেন। তাঁর জীবনী আমাদের উৎসাহীত করবে নানা ভাবে। প্রথমতঃ তিনি বাংলাদেশের এক অজপাঁড়া-গাঁ এর দরিদ্র ও নিন্মবর্ণের হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহন করেও নানা প্রতিকূলতার বাধা পেরিয়ে বিজ্ঞানের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছিলেন। দ্বিতীয়তঃ তিনি কেবল একজন বিনম্র পড়ুয়া লোকই ছিলেন না, তিনি ভারতের স্বাধীনতার জন্য বৃটিশ বিরোধী সশস্ত্র বিপ্লবে জড়িয়ে ছিলেন যে আন্দলনের ফসল হিসেবে ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতা অর্জিত হয়। আজ এই বিপ্লবী-বিজ্ঞানীর কঠোর জীবন-সংগ্রাম ও অবদানের গল্পই করব। মেঘনাদ সাহার জন্ম ১৮৯৩ সালের ঢাকা থেকে ৪০ কিলোমিটার…
বিস্তারিত পড়ুন ...

গণিতের সৌন্দর্য: তিন-কয়েদি সমস্যা

সম্ভাব্যতার সমস্যাগুলো মাঝে মাঝে আমাদের হতবিহ্বল করে দেয়। এর আগে গণিতের সৌন্দর্য বইতে আমি জন্মদিনের সমস্যা বা মন্টিহল সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেছিলাম সেইসব সমস্যার ফলাফল বা সেই ফলাফলের প্রমানগুলো ছিলো বেশ চমকপ্রদ। আজ তিন-বন্দী সমস্যা নিয়ে আলোচনা করব। এই সমস্যাটিও অনেকটা মন্টিহল সমস্যার মতোই তবে এই ক্ষেত্রে বিষয়টি আরো বেশি চমকপ্রদ মনে হতে পারে। ধরা যাক, একটি কারাগারে তিনজন বন্দী আছে যথাক্রমে রহিম, করিম ও সলিম নামে। এই তিনজন বন্দীর মধ্যে দুইজনকে পরদিন সকালে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হবে। কিন্তু বন্দীদের কারো কোনো ধারনা নেই ঠিক কোন দুইজনকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হবে। এখন এদের মধ্যে রহিম অন্যদের চেয়ে একটু বেশি নার্ভাস। সে দুঃশ্চিন্তায় টিকতে না পেরে কাররক্ষীর কাছে গিয়ে দুইজনের মধ্যে কে মৃত্যুদন্ডের হাত থেকে বেঁচে যাবে এই বিষয়ে কিছু জানার চেষ্টা করল।…
বিস্তারিত পড়ুন ...

মহাশূন্য গবেষণার ধারনা আমূল বদলে দিতে আসছে EmDrive!

গত শতাব্দী থেকেই মানুষ মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর তোড়জোড় করছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত এই ঘটনা কবে ঘটবে সেই সম্বন্ধে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। কালক্ষেপন হতে হতে নাসা এখন পরিকল্পনা করছে ২০৩৫ সাল নাগাদ মঙ্গলে মানুষ প্রেরণের। মঙ্গলে মানুষ প্রেরণের সবচেয়ে বড় বাধা আসলে কোথায়? উত্তর হচ্ছে জ্বালানী। রকেট যখন উৎক্ষেপন করা হয় তখন সাথে করে এর বিপুল ভরের জ্বালানীও বহন করতে হয়। যা আবার একই সাথে জ্বালানীর চাহিদাও বিপুল পরিমানে বাড়িয়ে দেয়। মঙ্গলে মানুষ পাঠাতে হলে তাকে ফিরিয়েও আনতে হবে এবং ফেরত আসার জ্বালানীটুকু বহন করে নিয়ে যেতে হবে, কিংবা মঙ্গলের বুকে উৎপাদন করতে হবে। এই আনা-নেওয়ার কিংবা উৎপাদনের সহজসাধ্য প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হচ্ছে না বলেই মূলতঃ মঙ্গলে মানুষ পাঠাতে দেরী হচ্ছে। তবে সম্প্রতি এক বিষ্ময়কর প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়েছে এবং…
বিস্তারিত পড়ুন ...

পলায়নপর নিউট্রিনো এবং ২০১৫ সালের পদার্থের নোবেল-৩

[দ্বিতীয় খন্ডের পর] তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নিউট্রিনোর স্পন্দন ১৯৩৬ সালে কার্ল ডেভিড এন্ডারসন পার্বত্যএলাকায় মহাজাগতিক রশ্মি নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে নতুন একটি কণিকা পেলেন। মেঘ প্রকোষ্ঠে (cloud chamber) নতুন একধরনের গতিপথ দেখে বোঝা গেলো এই কণিকাটির উপস্থিতি এবং এই গতিপথ আগের কোনো কণিকার গতিপথের সাথে মেলানো যায় না। এর গতিপথ ইলেক্ট্রনের মতো একই দিকে বেঁকে যায় কিন্তু বক্রতার পরিমান বেশ খানিকটা কম যা দেখে বোঝা যায় এর চার্জ ইলেক্ট্রনের মতোই ঋনাত্মক তবে ইলেক্ট্রনের তুলনায় এটি বেশ ভারী। শুরুতে এন্ডারসন এই কণিকার নাম দিয়েছিলেন মেসট্রন (meostron) এবং সেখান থেকে কিছুটা সংক্ষেপিত হয়ে এর নাম হলো মেসন (meson)। পরবর্তীতে মেসন আর নির্দিষ্ট কোনো কণিকার নাম রইল না বরং নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্যের একশ্রেনীর কণিকার নাম দেওয়া হলো মেসন এবং এন্ডারসনের কণিকাটিকে সুনির্দিষ্ট করার জন্য…
বিস্তারিত পড়ুন ...

পলায়নপর নিউট্রিনো এবং ২০১৫ সালের পদার্থের নোবেল-২

(প্রথম খন্ডের পর) দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ (নিউট্রিনো সনাক্তকরণ) নিউক্লীয় বলের প্রতি সাড়া দেওয়ার ভিত্তিতে কণিকাগুলো দুই প্রকার, হেড্রন এবং লেপটন। নিউক্লীয় বল দুই প্রকার, সবল এবং দুর্বল (strong and weak nuclear forces) এটি আমরা অনেকেই জানি। যেসব কণিকা সবল বলটির প্রতি সাড়া দেয় তাদের বলা হয় হেড্রন আর যারা দুর্বল বলটির প্রতি সাড়া দেয় তাদের বলা হয় লেপটন। হেড্রন আবার দুই প্রকার: মেসন এবং ব্যরিয়ন। মেসনগুলো দুটি কোয়ার্কের সমন্বয়ে গঠিত আর ব্যরিয়ন গঠিত হয় তিনটি করে কোয়ার্ক দিয়ে। এই অর্থে প্রোটন, নিউট্রন এগুলো হচ্ছে ব্যরিয়ন। অপরদিকে ইলেক্ট্রন হলো লেপটন। ব্যারিয়ন এবং লেপটনের আবার তাদের বৈশিষ্ট্যসূচক ব্যারিয়ন ও লেপটন সংখ্যা থাকে। যেহেতু ইলেক্ট্রন একটি লেপটন তাই এর লেপটন সংখ্যা +১ এবং ব্যারিয়ন সংখ্যা ০। অপরদিকে প্রোটন এবং নিউট্রন উভয়েই ব্যারিয়ন হওয়ায় তাদের…
বিস্তারিত পড়ুন ...

পলায়নপর নিউট্রিনো এবং ২০১৫ সালের পদার্থের নোবেল-১

প্রথম পরিচ্ছেদ (পূর্ব কথা) পদার্থ বিজ্ঞানে বিভিন্ন ধরনের সংরক্ষণশীলতা সূত্র বজায় আছে যার মধ্যে দু-একটি সবারই মোটামুটি জানা আছে। যেমন: শক্তির সংরক্ষণশীলতা সূত্র। এর উপরেই তাপগতিবিদ্যার প্রথমসূত্র টিকে আছে। এই সূত্রটি বিবৃত করে শক্তিকে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না এবং মহাবিশ্বের মোট শক্তির পরিমান সুনির্দিষ্ট। এছাড়া আমরা অনেকে চার্জের সংরক্ষণশীলতার বিষয়টিও জানি। এই সূত্রের ভাষ্যমতে চার্জেরও সৃষ্টি নেই বা ধ্বংস নেই। জগতে ধ্বনাত্মক ও ঋনাত্মক চার্জের পরিমাণ সুনির্দিষ্ট। চার্জকে শূন্য থেকে উৎপন্ন করা যায় না এবং চার্জকে শূন্যে বিলীনও করা যায় না। একটি ধনাত্মক ও একটি ঋনাত্মক চার্জ মিলে শূন্য চার্জ প্রদর্শন করতে পারে বটে তবে এগুলো বিচ্ছিন্ন করে আবার সেই ধনাত্মক ও ঋনাত্মক চার্জ পাওয়া যায়। পরমাণুর অভ্যন্তরীণ কণিকাগুলোর ক্ষেত্রে উল্লিখিত সংরক্ষণশীলতা সূত্রগুলোতো রয়েছেই তবে এর সাথে আরো…
বিস্তারিত পড়ুন ...

চাঁদে মানুষ যাওয়া নিয়ে নির্মিত ষড়যন্ত্রতত্ত্বগুলোর জবাবে

মানুষ ফ্যান্টাসী পছন্দ করে। বস্তবতার কাটখোট্টা জগৎ তাকে যথাযথভাবে বিনোদিত বা আকৃষ্ট করে না। ফলে একশ্রেনীর মানুষ বিভিন্ন ধরনের ঘটনা, তত্ত্ব এসবের বিকল্প ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর চেষ্টা করে বা এধরনের কর্মকান্ডে সমর্থন ও আস্থা স্থাপন করে আনন্দ লাভ করে। এভাবেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচলিত হয়। এগুলোর প্রতিষ্ঠার পেছনে সামাজিক বা রাজনৈতিক কারণও জড়িত থাকে। গতশতাব্দীর সবচেয়ে বহুল প্রচলিত ষড়যন্ত্রতত্ত্বগুলো নির্মিত হয়েছে চাঁদে মানুষ অবতরণ নিয়ে। একশ্রেনীর মানুষের কাছে মানুষ্যবাহী চন্দ্রাভিযান পুরোপুরি ধাপ্পাবাজি হিসেবে পরিগণিত এবং এটি যে শুধু তাঁরা বিশ্বাস করেন তাই নয় এর স্বপক্ষে প্রচুর যুক্তি-প্রমাণ হাজির করেন। তবে বলাই বাহুল্য সেসব যুক্তি-প্রমাণে প্রচুর ফাঁক-ফোঁকর থেকে যায় আর সেকারণেই সেগুলো ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে পরিচিত। অথচ চাঁদে মানুষ পাঠানোর জন্য নাসা বিপুল সময় ধরে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে, বিপুল…
বিস্তারিত পড়ুন ...

ফিউশন পারমাণবিক শক্তি (অণুপোষ্ট)

পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো নিয়ে নানারকম ঝক্কি-ঝামেলার কথা আমরা অহরহ শুনতে পাই। কয়েকবছর আগে জাপানের ফুকুশিমার পারমানবিক বিপর্যয় জাপানসহ সারা পৃথিবীতেই দুর্যোগ বয়ে এনেছিলো। তাছাড়া ইতিপূর্বে ইউক্রেইনের চেরোনোবিল বিপর্যয় এবং আরো কিছু বিপর্যয়ের বিষয়েও আমাদের জানা। পারমানবিক বিপর্যয়ের একটি বড় সমস্যা হলো এটি বিপর্যয় ঘটার পরে দীর্ঘ সময় ধরে তার প্রভাবে বিস্তার করে যেতে থাকে। এসব কারণে পৃথিবীর অনেক দেশই নতুন করে প্রচলিত ধারার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মানে উৎসাহ হারিয়ে ফেলছে এবং বিদ্যমান বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ করে দিচ্ছে। অথচ পারমাণবিক বিদ্যুৎ হতে পারতো শক্তি চাহিদা মেটানোর একটা নির্ভরযোগ্য উৎস। বাংলাদেশের মতো অতি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ যেখানে বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর জন্য বিপুল পরিমান বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রয়োজন সেখানে এই ঘনীভূত শক্তির বিদ্যুৎ বিশেষভাবে উপযোগী হতে পারত। তেজস্ক্রিয় বস্তুগুলোর মাধ্যমে খুব অল্প পরিমান ভর থেকে বিপুল পরিমাণ…
বিস্তারিত পড়ুন ...