মস্তিষ্কে প্রাচীন ভাইরাসের নতুন কাজের সন্ধান

মানব জেনোমের মধ্যে থাকা 'জিনেটিক জঞ্জাল' ভাবা হয়েছিল যেসব রেট্রোভাইরাসের জেনোম, তারা আসলে গ্রাহক জেনোমে এসে নতুন নতুন কাজের দায়িত্ব পেয়েছে; যেমন, একটি সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে একধরনের রেট্রেভাইরাসের জেনোম মস্তিষ্ক গঠনে কাজ করে।     মানবশরীরে বাস করা কোটি কোটি ব্যাকটেরিয়ার কথা শুনে হয়তো শিহরিত হয়েছেন, কিন্তু এটা জেনে কী অবাক হবেন যে আমরা আসলে বহু বহু ভাইরাস দিয়েও তৈরি হয়েছি? আমাদের জেনোমের ৮ শতাংশ গঠিত হয়েছে অনেক অনেক রেট্রোভাইরাসের জেনোম দিয়ে। বলে রাখি, এইডস রোগ তৈরি করে যেই ভাইরাস, HIV, সেটা একটা রেট্রোভাইরাস। হয়তো নিজের স্বত্ত্বার একদম ভেতরে এরকম ভাইরাসের উপস্থিতি আমাদের জন্য ভাবতে কখনও কখনও ভীতিকর শোনায়, কিন্তু সেল রিপোর্টস পত্রিকায় প্রকাশিত নতুন একটি গবেষণা বলছে যে আসলে এসব ভাইরাস মানব মস্তিষ্ক গঠনে সাহায্য করেছে। আমাদের কাছ থেকে খুব বেশি দূরের নয় এমন আত্মীয়, ইঁদুরের…
বিস্তারিত পড়ুন ...

নেশা ২: এক্সটাসি আর টিম লরেন্স এর গল্প

কিছুদিন দিন আগে আমি একটা কাপড়ের দোকানে টাকা দেয়ার জন্য লাইনে দাঁড়ানো। আমার সামনে একজন মহিলা প্রায় ৫০ বছর বয়সী। হাত পা অস্বাভাবিক ভাবে নড়ছে। অর্থাৎ তার নিজের শরীরের নড়াচড়ার উপর নিয়ন্ত্রণ তেমন নাই। এটা পার্কিনসন্স ডিজিজ এর জন্য গৃহিত এল-ডোপা ঔষধের ক্লাসিক সাইড ইফেক্ট (কিছু অন্য কিন্তু বিরল কারনেও হতে পারে)। মস্তিষ্কের রাসায়নিক যোগাযোগের রোগ পার্কিনসন্স। আমাদের নড়াচড়াকে শিথীল করে দেয়। আর এল-ডোপা ঔষধ নড়াচড়া এত বাড়িয়ে দেয় যে নিয়ন্ত্রণে থাকেনা। আর এর সাথেই জড়িত পরের কাহিনী। টিম লরেন্স নামক একজন স্টান্টম্যান কাজ করেছিলেন ব্রেভহার্ট এবং লন্ডন ইজ বার্নিং এর মত মুভিগুলোতে। কম বয়সেই, অর্থাৎ মাত্র ৩৪ বছর বয়সেই তার পার্কিনসন্স রোগ ধরা পরে। কিন্তু এল-ডোপা গ্রহণের ফলে হাত পা আর নিয়ন্ত্রণে নাড়াতে পারেন না, স্টান্টম্যান কিভাবে হবেন? এই…
বিস্তারিত পড়ুন ...

বিজ্ঞান গবেষণার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিবার উল্লেখিত নিবন্ধগুলি (most cited articles)

উল্লেখ বা citation হল কোন গবেষণার নিবন্ধে পুরানো বা আগের কোন পরীক্ষার ফলাফল, প্রক্রিয়া, মতামত, চিন্তা, ধারণা উল্লেখ করা। কোন গবেষণা কতবার উল্লেখিত হয়েছে সেটার উপর নির্ভর করে গবেষণাটি পরবর্তী গবেষণায় কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটাও মোটামুটি বোঝা যায়।   নেচার পত্রিকার অতিসাম্প্রতিক সংখ্যাটি খুঁজে বের করেছে এরকম সবচেয়ে বেশিবার উল্লেখিত গবেষণা নিবন্ধগুলি। প্রথমদিককার প্রায় সবগুলি নিবন্ধই জীববিজ্ঞানের। আমি এখানে প্রথম ১০টি উল্লেখ করে দিচ্ছি, সেইসঙ্গে জানাচ্ছি কোন নিবন্ধটি কী গবেষণা নিয়ে সেটা। এরফলে আমাদের একটু ধারণা হবে পৃথিবীর গবেষণাগারে কীধরনের কাজ হয়, খুব কমন কাজ কোনগুলি ইত্যাদি। ১. ৩,০৫,১৪৮ বার উল্লেখিত Protein measurement with the folin phenol reagent (১৯৫১) কোন স্যাম্পলে প্রোটিনের পরিমান এবং ঘণত্ব মাপার একটি উপায় বর্ণিত হয়েছে এখানে। এখনও পৃথিবীর অনেক গবেষণাগারে এভাবে প্রোটিনের ঘণত্ব মাপা হয়। ২.…
বিস্তারিত পড়ুন ...

অণুলেখা ৬: ইবোলা ঠিক কতটা সংক্রামক?

কার্যকরী ঔষধ এবং টিকা আবিষ্কার না হওয়ার কারণে পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলা আক্রান্তের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা মাত্র প্রায় ৩০ শতাংশের মত। সেই সঙ্গে মিডিয়ার কারণে এবং কিছু পশ্চিমা মানুষেরা আক্রান্ত হওয়ার ফলে ইবোলা ভীতি প্রায় সংক্রামক আকার ধারণ করেছে। আসলে রোগটির চেয়ে রোগটির ভীতি বেশি সংক্রামক। কিছু তুলনামূলক পরিসংখ্যান দেখি।       Centers for Disease Control and Prevention (CDC) এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী যদি তুলনা করি তবে ইবোলে মোটেই খুব সংক্রামক নয়। বরং মিসেলস বা হাম এবং মাম্পস রোগ ইবোলার চেয়ে বেশি সংক্রামক। উপরের ছবিটা দেখুন।   এখানে R0 বা 'R nought' দিয়ে বোঝানো হচ্ছে প্রতি একজন রোগাক্রান্ত মানুষ থেকে কয়জন সুস্থ মানুষ ঐরোগে আক্রান্ত হতে পারে। বা সংক্রমণের হার কেমন। দেখা যাচ্ছে ইবোলার ক্ষেত্রে R0 এর মান প্রায় ১.৫ থেকে ২.০। এই মান…
বিস্তারিত পড়ুন ...

অণুলেখা ৫: ক্যান্সার কোষের সংক্রামক আচরণ

বেশ কিছুদিন আগে একটা লেখা প্রকাশ করেছিলাম যেখানে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে ক্যান্সার সংক্রামক হতে পারে কিনা। কিছু প্রাণীতে এরকম সংক্রমণ সম্ভব। যেমন, তাসমানিয়ান ডেভিল নামের জন্তুটি ক্যান্সার আক্রান্ত হলে সে যদি অন্য তাসমানিয়ান ডেভিলকে কামড়ে দেয় তবে মুখ থেকে ক্ষতে ক্যান্সার কোষ ঝরে পড়ে কামড় খাওয়া জন্তুটিরও ক্যান্সার তৈরি হয়। মানুষে এমন উদাহরণ পাওয়া যায়নি। তবে খুব সম্প্রতি একটি পরীক্ষা বলছে কোষ নয়, বরং ক্যান্সার কোষ থেকে তৈরি হওয়া এক্সোজোম থেকে ক্যান্সার একটি কোষ থেকে আরেক কোষে ছড়াতে পারে।       স্বাভাবিক মনুষ্যকোষ কিছু থলির মত ঝিল্লীযুক্ত জিনিস তৈরি করে যেখানে প্রোটিন, ডিএনএ এবং আরএনএ পাওয়া যায় (উপরের ছবি দেখুন)। ধারণা করা হত এক্সোজমের মাধ্যমে বর্জ্য ঝেড়ে ফেলে কোষ। আবার কোষের সঙ্গে কোষের যোগাযোগের মাধ্যমও হতে পারে এরা। কোন…
বিস্তারিত পড়ুন ...

নেশা ১

আমাদের মস্তিষ্ক আমাদের দেহকে খুব সহজে খেলাতে পারে। খেলানোর জন্য একধরনের 'রিওয়ার্ড সিস্টেম' চালু করেছে সে। 'কোন একটা কাজ করলে আপনি পুরষ্কার পাবেন' - এই মন্ত্র দিয়ে মস্তিষ্ক মানুষকে দিয়ে বিভিন্ন কাজ করিয়ে নিতে পারে। পুরষ্কারটির নাম ডোপামিন, একধরনের রাসায়নিক যা মস্তিষ্ক কোষ নিঃসরণ করে। এই ডোপামিন নিঃসৃত হয়ে কোষের গ্রাহকে (রিসেপ্টর) লেগে যায় এবং আমাদের মধ্যে আনন্দের বা ভাললাগা অনুভূত হয়। যত বেশি ডোপামিন নিঃসৃত হবে তত বেশি আমাদের ভাল লাগার অনুভূতি কাজ করবে। তাই, মজার খাবার খেলে বা যৌনানুভূতিতে ডোপামিন নিঃসরণ হয়। কাজটা মস্তিষ্ক করে মানুষের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্যই। আমরা খাবার না খেলে বাঁচবো না, তেমনি সঙ্গমে লিপ্ত না হলে সন্তান উৎপাদন করতে পারবোনা। তাই, পুনঃ পুনঃ একই ধরনের কাজ করা উৎসাহ দেয় মস্তিষ্ক। আমাদের বেঁচে থাকার…
বিস্তারিত পড়ুন ...

সংস্কৃতি, মানুষের বিবর্তনের আরেকটি শক্তি

একই বিষয়ে পূর্বপ্রকাশিত লেখার দ্বিতীয় পর্ব। এটিও অনুবাদ।  দ্বিতীয় পর্বের লেখাটি নিউ ইয়র্ক টাইমস এ প্রকাশিত   অন্যান্য  জীবপ্রজাতির মতই মানব প্রজাতিও দূর্ভিক্ষ, রোগ এবং আবহাওয়ার মত সাধারন প্রাকৃতিক নির্বাচন শক্তিগুলি (natural selection force, এর চেয়ে ভাল বাংলা খুঁজে পেলাম না) দিয়ে প্রভাবিত হয়ে তার বর্তমান রূপ পেয়েছে। সম্প্রতি, এরকম আরেকটি নতুন নির্বাচন শক্তি আমাদের গোচরে আসছে। চমৎকার এই ধারণাটি হল- গত প্রায় ২০,000 বছর ধরে মানুষ তার অগোচরেই নিজেদের বিবর্তনকে রূপ দিচ্ছে। মানুষের সংস্কৃতি, বৃহদাকারে ব্যাখ্যা করতে চাইলে বলা যায় অর্জিত আচরণ, এমনকি প্রযুক্তিও আমাদের বিবর্তনের নির্বাচনিক শক্তি। এই শক্তির উপস্থিতির প্রমাণ একটু আশ্চর্যজনক, কারন অনেকদিন থেকেই ভাবা হত যে সংস্কৃতির ভূমিকা মানব বিবর্তনে ঠিক উল্টো। জীববিজ্ঞানীরা ভাবতেন যে অন্যান্য প্রাকৃতিক নির্বাচনিক চাপের পূর্ণশক্তি থেকে মানুষকে আড়াল করে রেখেছে মানুষের সংস্কৃতি; যেখানে জামাকাপড় এবং আশ্রয়স্থল ঠান্ডার…
বিস্তারিত পড়ুন ...

অণুলেখা ৪: বিবর্তন নিয়ে প্যাঁচাল

লেখাগুলি আগে ফেইসবুকে প্রকাশিত ১. বিবর্তন তত্ত্বের একটা সমস্যা ছিল এই প্রশ্ন- যদি বিবর্তনের ফলে বিভিন্ন জীবের উদ্ভব হবে তবে কিভাবে বিভিন্ন মহাদেশে একইধরনের প্রাণীর উদ্ভব হল? যেমন ব্যাঙের মত উভচর প্রাণী সবগুলি মহাদেশে দেখা যায় (এন্টার্টিকা ছাড়া)। আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ আটলান্টিক মহাসাগর দিয়ে বিভক্ত। কিন্তু ব্যাঙের ত্বক পারমিয়েবল বা ভেদ্য, ফলে তারা তো সাঁতার কেটে এক মহাদেশ থেকে আরেক মহাদেশে যেতে পারবেনা। তবে কি ভিন্ন দুইটি যায়গায় একদম একইরকমের প্রাণীর উদ্ভব সম্ভব? সম্ভবত নয়। ডারউইন ব্যাখ্যা দিতে চেষ্টা করেছিলেন এভাবে- হয় ব্যাঙগুলি কোনকিছুর সঙ্গে ভেসে ভেসে অন্য মহাদেশে গেছে অথবা আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকাকে যুক্ত করা কোন ভূমির অস্তিত্ব ছিল। কিন্তু ডারউইন নিজের ব্যাখ্যায় মোটেই সন্তুষ্ট ছিলেন না। বিশ শতকের মাঝামাঝি এসে একজন জার্মান ভূতত্ববিদ একটা অসাধারণ…
বিস্তারিত পড়ুন ...