ভালোবাসার ব্যবচ্ছেদ

“তোমরা যে বলো দিবস রজনী, ভালোবাসা, ভালোবাসা/ সখী ভালোবাসা কারে কয়?” “তোরা যে যা বলিস ভাই”-ভালোবাসা একটি শারীরবৃত্তীয় রাসায়নিক প্রক্রিয়া। হ্যাঁ, এর হরেকরকম ব্যাখ্যা থাকতে পারে, দিক থাকতে পারে, কিন্তু এর রাসায়নিক দিকটি উড়িয়ে দেওয়ার দেওয়ার সুযোগ নেই। বিশ্বাস হচ্ছে না? চলুন তাহলে ঘুরে আসি এক লম্বা সফরে; বিজ্ঞানীগণ ভালোবাসা নিয়ে কী বলেন-জেনে আসি। তবে এই যাত্রায় যাওয়ার আগেই বলে রাখি আমরা এই যাত্রাপথকে-প্রেমের আবেগ, মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের উদ্দীপতা এবং হরমোনঘটিত পরিবর্তন-অনুযায়ী তিন পর্বে ভাগ করে তবেই আগাচ্ছি। প্রথম পর্বঃ প্রেমে পড়া   আপনাদের ঐ গল্পটা জানা আছে? ঐ যে এক ছাত্র পরীক্ষার জন্য শিখে গেলো “ধান”-রচনা, কিন্তু পরীক্ষায় আসলো “রেলভ্রমণ”। ছাত্র লেখা শুরু করলো, “রেলে চড়ে আমরা একবার মামাবাড়ি গিয়েছিলাম। আদিগন্ত বিস্তৃ্ত ধানক্ষেতের মাঝ দিয়ে চলার সময় রেল লাইনচ্যুত…
বিস্তারিত পড়ুন ...

রাশিফলবিদ্যাকে না বলুন

ফেসবুকের নিত্য নতুন হুজুগের জগতে এখন এক নতুন সংযোজন-“যারা অমুক মাসে জন্মগ্রহণ করেছেন তারা কেমন!” এধরণের অযৌক্তিক, অর্থহীন ফেসবুকীয় এপ্লিকেশনগুলো ছেলেখেলা বলে হয়তো আমি, আপনি উড়িয়ে দিয়েছি; কিন্তু আপনার বন্ধুতালিকার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ  যখন -“হু হু! আমি কি আর কাউরে ডরাই! ভাঙতে পারি লোহার কড়াই”-  বলে অত্যন্ত গর্ব সহকারে এসব এপ্লিকেশনের ফলাফল প্রচার করেন- তখন এ সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রেণীর মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা, ঠিক কী আকর্ষণে আমরা/তারা এসব বিশ্বাস করি/করেন –তা জানার কৌতূহল আমার/আপনার হতেই পারে। আর যেখানেই কৌতূহল, সেখানেই বিজ্ঞান। এই কৌতূহলের নিবৃত্তি ঘটানোর আগে আসুন একটু আমার নিজের জ্যোতিষবিদ্যার জ্ঞান জাহির করি। আপনি মানে যে ব্যক্তি আমার এই লেখাটি  এখন পড়ছেন আমার কেনো যেনো মনে হচ্ছে, -“আপনার ভেতর আরেকজনের প্রশংসা পাবার, লোকের চোখে পছন্দের ব্যক্তি হবার প্রবল তাড়না কাজ করে। নিজের…
বিস্তারিত পড়ুন ...

মস্তিষ্কের কর্মকান্ড: অভ্যন্তরীণ বাচন (২)

পূর্ববর্তী লেখা "মস্তিষ্কের কর্মকান্ড: অভ্যন্তরীণ বাচন (১)" এর পর থেকে। এই যে এই পোস্টটি দেখার পর আপনি মনে মনে বলছেন, "বিজ্ঞান ব্লগের নতুন পোস্ট!"- এই মনে মনে কথা বলাই Inner speaking বা অভ্যন্তরীণ বাচন। গতো পোস্টে এই বিষয়ে অল্প কিছু তথ্য জেনেছিলাম আমরা। আর আজ অভ্যন্তরীণ আর বাহ্যিক বাচনের সম্পর্কের গল্প শুনবো। এ গল্প যেমন একদিকে এদের ভেতরকার সম্পর্কের বয়ান দেয়, তেমনই একসাথে বলে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনী মনের কথা। Inner speech বুঝতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা শুরুতেই ঠিক করে ফেলেছিলেন, একে বুঝতে গেলে এর জ্ঞাতিদের সম্পর্কে খোঁজ না নিলেই নয়। তাইতো তারা মনের গহীন কথা আর মুখ ফুটে বলা কথার সম্পর্কটা ঠিক কোন জায়গায় শুরু আর কোন জায়গায় শেষ তা বোঝার প্রচেষ্টা নিলেন। বিজ্ঞানীদের এই চেষ্টার ইতিহাস বেশ লম্বা, কিন্তু ভাবী বিজ্ঞানীদের জন্য পথপ্রদর্শক…
বিস্তারিত পড়ুন ...

মস্তিষ্কের কর্মকান্ডঃ অভ্যন্তরীণ বাচন

ধরুন, আপনি বাজার করতে গিয়েছেন, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা শেষে দাম মিটিয়ে দিয়ে চলে আসছেন। হঠাৎ আপনার মাথার ভেতর কেউ বলে উঠলো, “মরিচ তো কেনা হয়নি!!” পড়িমড়ি করে আবার বাজারে ছুটলেন মরিচ কিনতে। কেউ একজন আপনাকে মনে করিয়ে দিয়েছে মরিচ কেনার কথা। অথবা একটুপর বসের সাথে আপনার একটা জরুরী মিটিং আছে। আপাতদৃষ্টিতে দেখে শান্ত মনে হলে ও ভিতরে ভিতরে আপনি নিজেকে ঝালিয়ে নিচ্ছেন সেই মিটিং এর জন্য, নিঃশব্দে মাথার ভেতর একের পর এক প্রশ্ন আর উত্তর তৈরি করে। এরকম মগজ ঘরে কথা বলা, আওয়াজবিহীন শব্দ আর বাক্য তৈরির প্রক্রিয়ার অনেক উদাহরণ আমরা আমাদের চারপাশে পাই। রাশিয়ান মনস্তত্ত্ববিদ লেভ ভিগোতস্কি সর্বপ্রথম ১৯৩০ সালে এই ঘটনার নামকরণ করেন “Inner speech” বা “অভ্যন্তরীণ বাচন” হিসেবে। মনস্তত্ত্ববিদ্যার শুরু থেকেই বিজ্ঞানীদের এ নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই।…
বিস্তারিত পড়ুন ...