ত্বকের কোষ থেকে সন্তান উৎপাদন

বিজ্ঞান প্রতিনিয়তই এগিয়ে যাচ্ছে। কারণ আমাদের বিজ্ঞানীরা বসে নেই। তারা নিত্যনতুন চিন্তা ভাবনা করে চলেছেন। তবে মাঝে মাঝে এমন কিছু বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার হয় যা আপনাকে থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করে। প্রত্যেক জীবেরই প্রজনন হয়। আর প্রাণীদের ক্ষেত্রে সেই প্রজনন ঘটে শুক্রাণু এবং ডিম্বাণুর মাধ্যমে। যৌন ক্রিয়ার সময় শুক্রাণু ও ডিম্বাণু মিলিত হয় এবং নিষেকের পর ভ্রূণ গঠিত হয়। সেই ভ্রূণ পরিণত হয়ে পূর্ণাঙ্গ শিশুতে পরিণত হয়। এটাই প্রাণীর স্বাভাবিক প্রজননের সরল একটি বর্ণনা। কিন্তু বিজ্ঞান তো এতটুকুতেই থেমে নেই। তারা মানবদেহের প্রজনন ক্রিয়া বোঝার জন্য অনরবত চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তার ফলস্বরূপ ১৯৯৭ সালে আমরা পেয়েছি ‘ডলি’কে। ‘ডলি’ ভেড়ার কথা আমরা সবাই জানি। ‘ডলি’র মাধ্যমেই বিজ্ঞানীরা প্রথম কোন স্তন্যপায়ীকে ক্লোন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এর আগে ব্যাঙের ক্লোন করা হয়েছিলো। ‘ডলি’র ক্লোন করা…
বিস্তারিত পড়ুন ...

বর্তমান থেকে অতীত ও ভবিষ্যতে চলে যাওয়া মন

পার্কিং জোনে গাড়ি পার্ক করতে গিয়ে আপনি বুঝতে পারলেন আপনি কোথা থেকে এসেছেন তা আপনি মনে করতে পারছেন না। বইয়ের শেষ পৃষ্ঠায় এসে আপনি এতক্ষণ ধরে কী পড়ছেন তা হয়তো ভুলে গেলেন। একজন মানুষের সাথে কথা বলতে বলতে একসময় আপনি খেয়াল করলেন এতক্ষন ধরে আপনি কী বলছিলেন তা সব ভুলে গিয়েছেন। এসবই বিক্ষিপ্ত মনের লক্ষণ! কোন কিছু পড়ার সময় আপনি হয়তো ভাবছেন পরবর্তী ছুটির কথা। কারো সাথে কথা বলার সময় হয়তো ভাবছেন গতরাতে বান্ধবীর সাথে যে ঝগড়া হয়েছিলো সে ব্যাপারে। আপনার মন হয়তো কখনও ভবিষ্যতে আবার কখনও অতীতে ঘোরাফেরা করে। আপনার সে চিন্তা সুখের হোক কিংবা যন্ত্রণার হোক তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো আপনি বর্তমান থেকে বিচ্যুত হয়ে গিয়েছেন । আপনি প্রতি মুহূর্তে জীবন যাপনে ব্যর্থ হচ্ছেন। আর আপনার মন…
বিস্তারিত পড়ুন ...

ভাইরাসই হবে ক্যানসারের প্রতিষেধক

ভাইরাস বললেই আমাদের মনে একধরণের ভয় সৃষ্টি হয়। ভাইরাস শব্দটিই যেন নেতিবাচক। আমরা জানি ভাইরাস নানা ধরণের রোগ সৃষ্টি করে। আমরা মাঝে মাঝে ভাইরাল জ্বরের মাধ্যমে যে কষ্ট পাই তার পেছনেও কিন্তু ভাইরাস দায়ী। কিন্তু আমি যদি বলি ভাইরাসরা ভালো কাজ করতে পারে তাহলে চমকাবার কিছু নেই। কিছুদিন আগে ইউটিউবে একটি Ted Talk দেখছিলাম। বক্তা Dalhousie University এর মাইক্রোবায়োলজি ও ইমিউনলজি ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক Patrick Lee. তিনি যা বললেন তা আমরা সচরাচর যা ভাবি ঠিক তার বিপরীত। তিনি বলছেন ভাইরাসের মাধ্যমে ক্যানসারের চিকিৎসা সম্ভব। কিন্তু আমরা এতদিন জেনে এসেছি ভাইরাস দিয়ে ক্যানসার হয়। এখন এই ভাইরাস দিয়েই ক্যানসার চিকিৎসা! যেন বিষে বিষক্ষয়। ষোল মিনিটের ভিডিওটিতে তিনি খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন কিভাবে ভাইরাস ক্যানসার চিকিৎসার জন্য একটা নতুন দ্বার খুলে দিতে পারে।…
বিস্তারিত পড়ুন ...

ছোঁয়াচে প্রাণরসঃ টোবাকো মোজাইক ভাইরাস এবং ভাইরাস জগতের আবিষ্কার

(লেখাটি কার্ল জিমারের বই A plantet of virus এর প্রথম অধ্যায়ের অনুবাদ)     মেক্সিকান সিটির চিহুয়াহুয়া প্রদেশের ৫০ মাইল দক্ষিণে একটা শুষ্ক ও বিরান পাহাড় আছে যার নাম সিয়েরা দে নাইসা। ২০০০ সালে খনি শ্রমিকরা পাহাড়ের গুহা খনন করছিলো। কয়েক হাজার ফুট গভীরে প্রবেশ করার পর তারা এমন এক জায়গার সন্ধান পেল যেটা দেখে মনে হবে তা হয়তো ভিন গ্রহের কোন এক জায়গা। তারা এমন একটা প্রকোষ্ঠে দাড়িয়ে ছিলো যা ৩০ ফুট চওড়া এবং ৯০ ফুট লম্বা। উপরে নিচে এবং পুরো দেয়াল জুড়ে মসৃণ এবং স্বচ্ছ জিপসামের স্ফটিক ছড়িয়ে ছিলো চারদিকে। এরকম অনেক গুহাতেই স্ফটিক পাওয়া যায় তবে তার কোনটিই সিয়েরা দে নাইসার মত নয়। প্রতিটি স্ফটিক ছিল ছত্রিশ ফুট লম্বা এবং ওজনে পঞ্চান্ন টন। তাই বুঝায় যাচ্ছে এই…
বিস্তারিত পড়ুন ...

অণুজীব পরিচিতিঃ ই. কোলাই

ইশেরশিয়া কোলাই বা ই. কোলাই হলো অণুজীব জগতের সেলিব্রেটি। যারা অন্তত একটা অণুজীবের নাম জানেন তাদের ক্ষেত্রে এ অণুজীবটির নাম হয় ই কোলাই। ১৮৮৫ সালে জার্মান-অস্ট্রিয়ান শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ থিওডোর ইশেরিখ মানুষের মলে ই. কোলাই আবিষ্কার করেন। তিনি দেখেন অনেক শিশু ডায়েরিয়ায় মারা যাচ্ছে। জার্ম থিওরি তখনও প্রতিষ্ঠিত হয় নি। কিন্তু এশেরিখ ধারণা করলেন জার্ম থিওরির মাধ্যমেই এই রোগের কারণ বের করা যাবে। জার্ম থিওরিই প্রথম বলেছিলো যে অণুজীবের কারণের রোগের সৃষ্টি হয়।  তিনি শিশুদের মল সংগ্রহ করে তা কালচার করলেন এবং তাতে রড আকারের এক ধরণের অণুজীব দেখলেন। তিনি তার নাম দিলেন Bacillus communis coli. এশেরিখের মৃত্যুর পর তার সম্মানে অণুজীবটির নাম রাখা হলো Escherichia Coli     ই কোলাই রড আকারের একটি গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া। এরা fecultative anaerobic. কথাটার মানে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী বিলুপ্ত!

আমি আর আমার এক বন্ধু গল্প করছিলাম কি যেন এক বিষয় নিয়ে। হঠাৎ বন্ধুটি বলল ‘মানুষ সবচেয়ে খারাপ জাতি। নিজের ক্ষতি নিজে আর কোন প্রাণী করে না’। মনে মনে ভাবলাম মানুষ সবচেয়ে খারাপ জাতি হতে পারে তবে সবচেয়ে যে ব্যাপারটি ভয়ঙ্কর তা হলো মানুষ সবচেয়ে ক্ষমতাধর জাতি। মানুষের মস্তিষ্কের ক্ষমতা তাকে সবার উপরে এনে দাঁড় করিয়েছে। ফলে সে যে শুধু নিজের ক্ষতি করে তা না সে পুরো পৃথিবীর ক্ষতি করতে সমর্থ। এজন্যেই হয়তো Friedrich Nietzsche বলে গিয়েছেন “Man is the cruelest animal.” এর প্রমাণ সম্প্রতি বিলুপ্ত হওয়া স্তন্যপায়ী প্রাণী Bramble Cay melomys। যা একধরণের ইঁদুর। অস্ট্রেলিয়ার সরকার এই প্রাণীটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে। এটি মানবসৃষ্ট কারণে বিলুপ্ত হওয়া প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী।     গ্রেট বেরিয়ায়র রিফের উত্তর প্রান্তের ছোট প্রবাল দ্বীপে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

প্লাস্টিকখোর মাছ আর তার করুণ কাহিনী!

এক দেশে এক মাছ ছিলো। সে মনের আনন্দে পানির গভীরে এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াত। আর খিদে পেলে খেতো শ্যাওলা আর ছোট ছোট প্ল্যাঙ্কটন। একদিন হঠাৎ সে একটা প্লাস্টিক কণা দেখলো। লোভ সামলাতে না পেরে সে ওটা খেলো। আর রীতি ভঙ্গের জন্যে সে হলো অভিশপ্ত! এটা কোন রূপকথার চমৎকার গল্প হতে পারতো। কিন্তু এটা এখন বাস্তব অবস্থা! প্লাস্টিক দূষণ এখন মানব সভ্যতার অন্যতম হুমকির একটি। Uppsala University বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা গবেষণা করে দেখেছেন যেসব বাচ্চা মাছ মাইক্রোপ্লাস্টিক খায় তারা অন্য মাছের শিকারে বেশি পরিণত হয়। তার মানে যারা প্লাস্টিক খাচ্ছে তাদের কিছু একটা হচ্ছে যার ফলে তারা অন্য মাছের শিকারে পরিণত হচ্ছে আগের চেয়ে বেশি। গবেষকরা আরো বলছেন মাছগুলো তাদের সচারাচর খাবারের চেয়ে মাইক্রোপ্লাস্টিক বেশি পছন্দ করছে। মাইক্রোপ্লাস্টিক হচ্ছে প্লাস্টিকের কণা যারা…
বিস্তারিত পড়ুন ...

অণুজীব পরিচিতিঃ Mycobacterium tuberculosis

আমি যে সে শহরে থাকি ওখানে একটা বক্ষ ব্যাধি হাসপাতাল আছে। ছোটবেলায় আব্বু আম্মুর মুখে শুনতাম এখানে টিবি এর চিকিৎসা হয়। আমার কাছে টিবি নামটা কেমন জানি ইন্টারেস্টিং লাগতো কারণ এর সাথে ‘টিভি’ শব্দটার মিল আছে। পরে বুঝতে পারি টিবি আসলে যক্ষ্মা। আর এই যক্ষ্মা রোগের কারণ Mycobacterium tuberculosis নামের অণুজীব। ১৮৮২ সালে রবার্ট কখ (Robert Koch) এই অণুজীবটি আবিষ্কার করেন। তাঁর এই আবিষ্কারের জন্যে তিনি ১৯০৫ সালে মেডিসিনে নোবেল পুরস্কার পান। ওনার নাম অনুসারে একে কখ’স বেসিলাস (Koch’s Bacillus) ও বলা হয়! যক্ষ্মা নিয়ে একসময়কার বিখ্যাত ডায়ালগ ছিল ‘যার হয় যক্ষ্মা তার নাই রক্ষা’। আর সে সময়টা হলো আঠারো শতকের দিকে! তখন যক্ষ্মা আমেরিকা,ইউরোপ এবং ইংল্যান্ডে মহামারী রূপ ধারণ করেছে। এসব জায়গায় মোট জনসংখ্যার প্রায় ১ শতাংশ লোক মারা…
বিস্তারিত পড়ুন ...