অণুজীব পরিচিতিঃ Clostridium tetani

ছোটবেলায় নানা রকম দুষ্টুমি করতে গিয়ে কত লোহা পেরেকের গুঁতো খেয়েছি। তখন যে কথাটি অবধারিতভাবে শুনতে হয়েছে তা হলো ‘লোহার গুঁতো খেলে কিন্তু টিটেনাস ইনজেকশন দিতে হবে’। এ অভিজ্ঞতা যে হয় নি তা নয়। লোহার গুঁতো খেয়ে ইনজেকশনের শরণাপন্ন আমাকে হতে হয়েছে। তখন যা জানতাম তা হলো ধনুষ্টঙ্কার হলে ঘাড় মটকিয়ে যায়। তাই ছোটবেলায় পেরেককে ভয় পেতাম খুব। মজার বিষয় হচ্ছে আজ এতদিন পর আমি সেই ধনুষ্টঙ্কারের জন্য দায়ী অণুজীব নিয়েই লিখতে বসেছি! প্রথমে জানা যাক ধনুষ্টঙ্কার সৃষ্টিকারী অণুজীবের নাম টা কি? শিরোনাম থেকে বুঝতেই পারছেন মূল অপরাধী হলো Clostridium tetani. Kitasato Shibasaburo সর্বপ্রথম মানবদেহ থেকে C.tetani আলাদা করেন। C. tetani কিভাবে রোগ সৃষ্টি করে তা জানার আগে খোদ C. tetani এর সাথে একটু পরিচয় হওয়া যাক। C. tetani এর…
বিস্তারিত পড়ুন ...

মানুষ-অণুজীব যুগলবন্দী

যখন ছোট ছিলাম তখন খাওয়ার আগে আর বাথরুম থেকে আসার পর হাত ধোয়ার জন্যে বিটিভিতে সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন দেয়া হত। আমি খুব মনোযোগ দিয়ে দেখতাম। আর মা তো লেগেই থাকতো খাবার আগে ভালো করে হাত ধোয়ার জন্যে। তখন যেটা জানতাম জীবাণু হচ্ছে আমাদের জন্মের শত্রু! এরা আমাদের শরীরে ঢুকে আর আমাদের বারোটা বাজিয়ে দেয়। তাই জীবাণুর প্রতি no ভালোবাসা, Only ঢিসুম ঢিসুম with লাইফবয়! কিছুটা বড় হওয়ার পর দুর্ভাগ্য কিংবা সৌভাগ্যক্রমে অণুজীববিজ্ঞান বিভাগে অনার্সে ভর্তি হলাম। দেখি এতদিন যাদের জীবাণু বলে জানতাম তাদের একটা ভদ্র নাম আছে ‘অণুজীব’, ইংরেজিতে Microorganism. মনে মনে বলি micro নামের মধ্যে একটা ব্যাপার আছে, ভাব ই আলাদা! আর কতদিন পর দেখি অণুজীবদের জীবাণু বললে শিক্ষকরা রাগ হন। অণুজীবরা নাকি অনেক ভালো! এদের ১ভাগ নাকি রোগবালাই তৈরি…
বিস্তারিত পড়ুন ...

ভ্যাক্সিন, এক স্বর্গীয় আশীর্বাদ

এ বছরে ‘The Croods’ নামে একটা অ্যানিমেটেড মুভি বের হয়েছিল। মুভিটা অনেকেই দেখেছেন। Croods রা মূলত গুহামানব। সারা পৃথিবী থেকে তারা বিচ্ছিন্ন। গুহাতেই তারা তাদের জীবনের প্রায় পুরোটাই কাটিয়ে দেয়। প্রকৃতির নানা প্রতিকূলতার সাথে তারা দিন রাত যুদ্ধ করে টিকে থাকার জন্যে। প্রকৃতির ঘটনাগুলোর ব্যাখ্যা তারা জানে না। তাই তারা ঘটনাগুলোকে নিজের মত করে ব্যাখ্যা করে। আর তৈরি হয় নান মিথ।   মানুষের ইতিহাসও অনেকটা Croods দের মত। মানুষের কাছে যখন জ্ঞান-বিজ্ঞানের ছোঁয়া লাগে নি। তখন তারা প্রকৃতির কাছে এমনটাই অসহায় ছিল। আর মানুষের চরম শত্রু ছিল নানা প্রাণঘাতী রোগ। এমন একটি রোগ হলো গুটি বসন্ত বা Smallpox। যে রোগ ছিল লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যুর কারণ। আঠারো শতকের শেষ দিকে প্রায় চার লক্ষ ইউরোপিয়ানদের মৃত্যুর কারণ ছিল এই গুটি বসন্ত।…
বিস্তারিত পড়ুন ...

মস্তিষ্ক ও তার ধারণক্ষমতা

ধরুন আপনার বয়স ৪০ বছর। ঘটনাবহুল জীবনে আপনি নানা ধরণের অবস্থার সম্মুখীন হয়েছেন। আর সবই সংরক্ষিত হয়ে আসছে আপনার ঘাড়ের উপরের যন্ত্রটিতে! কিন্তু ঠিক ৪০ বছর ১৩ দিন ২৫ মিনিট ১২ সেকেন্ডে আপনার মস্তিষ্কের ধারণক্ষমতা পূর্ণ হয়ে গেল। মানে এরপর থেকে আপনি কিছুই মনে রাখতে পারছেন না কারণ আপনার মস্তিষ্কের হার্ড ডিস্ক পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। বিন্দুমাত্র জায়গা খালি নেই! ফলে আপনার জীবন হয়ে গিয়েছে স্থবির! উপরের কল্পনাটি কেবলই কল্পনা! আজ পর্যন্ত কারোও সাথে এমনটি হয় নি। কিন্তু আসলেই কি এমনটা হওয়া সম্ভব। এখন আপনি যদি বলেন একটা মস্তিষ্কের ধারণ ক্ষমতা হচ্ছে x পরিমাণ। তাহলে ‘x’ পরিমাণ তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার পর মস্তিষ্ক পূর্ণ হয়ে যাবে। ফলে সেই পরিমাণ তথ্য সংযুক্তির পর এ ধরণের ঘটনা সম্ভব! আমরা কিন্তু অনেকেই মজা করে বলি…
বিস্তারিত পড়ুন ...

জেলিফিশে আলো, আর একি চমৎকার দেখা গেলো!

একটা গাছের পাতা দেখেই কি বলে দেয়া যায় পাতার কোষে কি হচ্ছে? উদ্ভিদের কোষের ভিতরের প্রোটিন কি দেখা যায়? এই প্রশ্নগুলির উত্তর পাওয়া গিয়েছে আলোক নিঃসরণকারী এক ধরণের জেলিফিশ থেকে। এখন প্রশ্ন জাগতে পারে এই জেলিফিসের সাথে উদ্ভিদ কোষের কার্যকলাপ দেখতে পাওয়ার সম্পর্ক কোথায়? এই প্রশ্নের উত্তর দেয়ার আগে চলুন একটু জানার চেষ্টা করি কেন ও কিভাবে এই জেলিফিশ আলো নিঃসৃত করে! এ থেকে হয়তো আমরা আমাদের কাঙ্খিত উত্তরের কাছে পৌঁছে যাব। শুরু করি একটুখানি ইতিহাস দিয়ে। ১৯৬০ সালে Osamu Shimomura প্রাকৃতিকভাবে আলোক নিঃসরণকারী জেলিফিশ নিয়ে গবেষণা করার জন্যে জাপান থেকে প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটিতে চলে আসেন। Shimomura এবং তাঁর সহযোগী বিজ্ঞানীদের গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু ছিল Aequorea Victoria নামের এক জেলিফিশ। জেলিফিশটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এটি সবুজ রং নিঃসৃত করে। Shimomura ও তাঁর…
বিস্তারিত পড়ুন ...

রোগের জীবাণুতত্ত্ব

রোগ বালাই তো মানুষের লেগেই থাকে। তখন আমরা দৌড়াতে থাকি ডাক্তার কবিরাজের কাছে। অবশেষে পথ্য নিয়ে সুস্থ হই। কিন্তু আমরা কিভাবে রোগে আক্রান্ত হলাম তা কিন্তু চিন্তার বিষয়! আমরা এখন জানি রোগ সৃষ্টির সাথে অণুজীবের গভীর সম্পর্ক আছে। আমাদের সবার কাছে পরিচিত ও ভয়াবহ একটি রোগ হল এইডস। আর যে কারণে এইডস হয় তা হল HIV ভাইরাস। একইভাবে আমাদের অনেকেরই জলবসন্ত হয়। এটার কারণও অণুজীব। কোথাও ব্যথা পেয়ে কেটে ছিঁড়ে গেলে অনেক সময় ইনফেকশন হয়। এটাও কিন্তু অণুজীবের কারণে। এভাবে চোখের সামনে নানা ভাবে আমরা অণুজীবের কারণে রোগে আক্রান্ত হচ্ছি। তবে সৌভাগ্যের ব্যাপার হলো এখন আমরা রোগের সাথে অণুজীবের যে সম্পর্ক আছে তা জানি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারি। কিন্তু আজ থেকে অনেক অনেক বছর আগের মানুষেরা কি এভাবেই আমাদের…
বিস্তারিত পড়ুন ...

রহস্যময় ব্ল্যাক হোল

কেউ যদি বিজ্ঞানের জগতের সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটি শব্দ বলতে বলে তবে তাদের একটি হল ব্ল্যাক হোল। আরেকটি সম্ভবত বিগব্যাঙ। আজ আমরা কথা বলব ব্ল্যাক হোল নিয়ে। Hole শব্দটির অর্থ গর্ত । কিন্তু ব্ল্যাক হোল শব্দটি দ্বারা কোন গর্ত বোঝায় না। ব্ল্যাক হোল এমন একটি জায়গা যেখানে খুবই অল্প জায়গায় অনেক অনেক ভর ঘনীভূত হয়ে রয়েছে। এই অতি বিশাল ভরের কারণে ব্ল্যাক হোলের আকর্ষণ বলও অত্যন্ত বেশী। এতই বেশী যে কোন কিছুই এর কাছ থেকে রক্ষা পায় না এমনকি সর্বোচ্চ গতি সম্পন্ন আলোও নয়! আচ্ছা আপনি যদি ব্ল্যাক হোলের কাছে যান কি হতে পারে! প্রত্যেকটি ব্ল্যাক হোলের ঘটনা দিগন্ত আছে যেটির সীমানায় কোন কিছু আসলে ব্ল্যাক হোল সেই জিনিসকে গ্রাস করে। এখন যদি আপনি ব্ল্যাক হোলের ঘটনা দিগন্তে চলে আসেন তাহলে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

এনজাইম

বকবক করার জন্যে আপনাদের সামনে আবার চলে এলাম। আসার কারণ কয়েকদিন ধরে একটা বিষয় নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি। বিষয়টা হল এনজাইম (Enzyme) । প্রশ্ন আসতেই পারে এনজাইম কি? এই প্রশ্নের উত্তর দেয়ার আগে চলুন একটু গল্প করে নিই। আমরা প্রতিদিন এত এত খাবার খাই। এই সকালে নাস্তা করছি তো দুপুরে মোরগ পোলাও খাচ্ছি। বিকালে আবার চা নাস্তা। তারপর আবার রাতের পেট পূজা। আচ্ছা আমরা যে খাবারগুলো খাচ্ছি এবং অনবরত খেয়েই চলছি খাবারগুলো আসলে যাচ্ছে কোথায়? বলতে পারেন হজম হয়ে যাচ্ছে! কিন্তু কে করছে একাজ বলুন তো? হা ঠিক বলেছেন, এনজাইম! এনজাইম আমাদের খাবারগুলোকে ভেঙ্গে দেহের গ্রহণের উপযোগী করে তুলছে। আমরা সকালে নাস্তা করার পর তা থেকে আমরা শক্তি পাচ্ছি। তারপর আমরা পুরো উদ্যমে দিনের কাজগুলো করছি। এই সকালের খাবার থেকে আমাদের…
বিস্তারিত পড়ুন ...