অ্যান্টিবডি যেভাবে কাজ করে

আমাদের দেহে যখন বাইরে থেকে কিছু প্রবেশ করে, এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা যদি তাকে ক্ষতিকর সন্দেহ করে তখন অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। অ্যান্টিবডি তৈরি হয় এবং কাজ করে শুধু বিভিন্ন জীবাণু, কিংবা জীবাণুর তৈরি করা বিষ এধরনের জৈব বা জৈবিক উৎসের পদার্থের বিরুদ্ধে। আমাদের প্রতিরোধ ব্যবস্থা অজৈব বস্তুর বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করে সময় ও শক্তি নষ্ট করেনা কেননা সেগুলো কদাচিৎ ক্ষতিকর। তাছাড়া সেসব থেকে পরিত্রাণ পেতে তো যকৃত বৃক্কের সমন্বয়ে আরেক ব্যবস্থা রয়েছে। যেসব জীবাণু আমাদের দেহে বসবাস ও বংশবৃদ্ধি করে এবং নানা রকম আবজাব পদার্থ দেহে ছড়িয়ে দেয়, সেসব আবজাব পদার্থ এবং তাদের উৎস জীবানুর বিভিন্ন অংশ আমাদের জন্য অ্যান্টিজেন। যাদের কারণে প্রতিরোধ ব্যবস্থা জরুরী অবস্থা জারি করে। যদিও এই জরুরী অবস্থায় প্রচুর অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, কিন্তু তাই বলে এটা ভাবার…
বিস্তারিত পড়ুন ...

সব ভুলে যাই তাও ভুলিনা

একথা আমরা সবাই জানি যে মানুষ অভ্যাসের দাস। আমরা যদি নিজেদের জীবনের দিকে তাকাই, তাহলে নিশ্চয়ই খুঁজে পাবো কিছু না কিছু ভালো অভ্যাস যা আমাদের উপকার করছে আর কিছু খারাপ অভ্যাস, যা আমাদের ক্ষতি করছে। আবার আমরা নিজেরাই হয়তো চেষ্টা করেছি নতুন কোন অভ্যাস গড়ে তুলতে, কিংবা বাজে কোন অভ্যাস থেকে মুক্তি পেতে। হয়তো পেরেছি, হয়তো পারিনি। কখনো কি ভেবেছি? কিছু কিছু চেষ্টায় লাভ হলেও কেন কিছু কিছু চেষ্টা বৃথা গেছে? কখনো কি নিজেদের অভ্যাসগুলো ভালো কিংবা খারাপ সেই পার্থক্য না দেখে ছকে ফেলে এদের মধ্যেকার প্যাটার্ন খুঁজতে গেছি? কখনো কি আসলেই 'অভ্যাস', যার আমরা দাস সেই বিষয়টা নিয়ে খুব করে ভেবেছি? নাকি মেনেই নিয়েছি এই দাসত্ব থেকে বের হবার উপায় নেই। আপনি আমি না ভাবলেও অনেকেই ভাবে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ…
বিস্তারিত পড়ুন ...

অ্যান্টিবডির ইতিহাস ও গাঠনিক বৈচিত্র্য

প্রাচীন গ্রীকের একজন প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ এবং সেনাপতি ছিলেন থুসিডাইডেস। স্পার্টান এবং এথেনিয়ানদের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধ নিয়ে তিনি লিখেছেন History of the Peloponnesian War যার জন্য তিনি অমর। ওনার এই ঐতিহাসিক সন্দর্ভটি নিয়ে প্রচুর পাঠ, গবেষণা, বিশ্লেষণ, আস্বাদনের মাধ্যমে থুসিডাইডেস এর চিন্তাধারা, মনন ও বিশ্বাসের কাঠামো সম্পর্কে ধারনা করা গেলেও, আধুনিক ইতিহাসবিদরা ব্যক্তি থুসিডাইডেসকে জানেননা বললেই চলে। সে যাই হোক, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা কি, সেটা জানার অনেক অনেক আগেই মানুষ জানতো তার মধ্যে এই জিনিসটা রয়েছে। চারশত খ্রীষ্টপূর্বাব্দে থুসিডাইডেসের পেলোপনেশিয়ান যুদ্ধ নিয়ে লেখাতেও আমরা সেই উদাহরণ খুঁজে পাই। উনি লক্ষ্য করেছিলেন, যেসব সৈন্যেরা কোন রোগে অসুস্থ হবার পর আবার সুস্থ হয়, তারাই নতুন আক্রান্ত সৈন্যদের সেবা দেয়ার জন্য সবচেয়ে উপযোগী। কারণ তারা সাধারণত ওই রোগে ফের আক্রান্ত হয়না, হলেও সেটা আর…
বিস্তারিত পড়ুন ...

আমাদের অনাক্রম্য ব্যবস্থা

আপনি কোথায় বাস করছেন তার উপর নির্ভর করে বিভিন্ন ভাবে আপনার বাড়িকে নিরাপদ করতে পারেন। গ্রাম গঞ্জের বাড়িগুলোর চারপাশ এখনো খোলামেলা ই থাকে, অনেকে বেড়া তুলে দেয় খুব বেশি হলে দেয়াল। শহুরে এপার্টমেন্ট গুলোতে থাকে দাড়োয়ান, সিসিটিভি ইত্যাদি। আপনার সামর্থ্য থাকলে ইলেক্ট্রনিক এলার্ম, লেজার, বায়োমেট্রিক সেন্সর এমনকি একজন এক্স-কমান্ডোকেও নিরাপত্তার জন্য ভাড়া পেতে পারেন। এসব কিছুর মূলেই রয়েছে আমাদের ঘর , ঘরের ভেতরের মূল্যবান জিনিসপত্র এবং প্রিয়জনদের অনাকাঙ্ক্ষিত উপদ্রব থেকে দূরে রাখা। আপনার দেহেরও এমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে যা নানান বিপদ আপদ থেকে আপনাকে সুরক্ষা দেয়। আপনার হাড্ডি, চামড়া এসব দেহের ভেতরের গুরুত্বপূর্ন অংগকে পিছলে পড়ে গিয়ে পাওয়া আঘাত কিংবা আচমকা উড়ে আসা ঢিল থেকে বাঁচায় চোখের পাতা ধূলাবালি এবং দুষ্ট ছেলেদের আঙ্গুল থেকে রক্ষা করে ইত্যাদি। তবে সবচেয়ে মূল্যবান…
বিস্তারিত পড়ুন ...

ইন্দ্রিয়ের এলোমেলো অবস্থান

আমাদের দেহে প্রতিটা অংগেরই নির্দিষ্ট কিছু কাজ আছে। পা দিয়ে হাটি, হাত দিয়ে লেখি, পেট দিয়ে খাবার হজম করি। যেসব অংগের মাধ্যমে পরিবেশ সম্পর্কে ধারনা নেই তাদের বলি ইন্দ্রিয়। আমরা চোখ দিয়ে দেখি, চোখ আমাদের দর্শনেন্দ্রিয়। কান দিয়ে শুনি, কান আমাদের শ্রবনেন্দ্রিয় ইত্যাদি। আমরা কিন্তু চামড়া দিয়ে ঘ্রাণ নেয়া, কিংবা পাকস্থলি দিয়ে স্বাদ নেয়ার কথা ভাবিনা। ভাবার দরকারও পড়েনা। তবে আশ্চর্যের বিষয় এটাই, এক ইন্দ্রিয়ের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় কোষ অন্য অংগেও থাকে। আমরা তাদের ইচ্ছা করলেই ব্যবহা করতে পারিনা, কিন্ত তারা কাজ করে যাচ্ছে আমাদের অজান্তেই। এইরকম কয়েকটি ব্যাপার নিয়েই এই লেখাটি। গন্ধ শুকে চলো... আমরা নাক দিয়ে ঘ্রাণ নেই। ঘ্রাণ নিতে পারার ক্ষমতার সাথে জড়িত আছে বিভিন্ন সংগ্রাহী(receptor)। এদের গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরিতে যেসব জিন জড়িত তার প্রথম…
বিস্তারিত পড়ুন ...

বাতাসে বৃক্ষের বার্তা

ছোট্ট শহর সিটকা সম্ভবত আলাস্কার সবচেয়ে আরামদায়ক জায়গা। বারানফ দ্বীপে অবস্থিত সমুদ্র তীরবর্তী শহর সিটকা। প্রশান্ত মহাসাগরীয় উষ্ণ শ্রোতের প্রভাবে সবসময়ই এখানকার আবহাওয়া মাতৃকোমল। এক মাসের গড় তাপমাত্রা সবসময়ই হিমাংকের উপরে থাকে। শহরটির ইতিহাসে বলার মত তেমন কোন ঘটনা নেই। ১৮৬৭ সালের অল্প কয়েকটি দিন ছাড়া। তখন সারা পৃথিবীর রাজনীতি সচেতন মানুষদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছিলো এই সিটকা। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার অনেক কূটনীতিক সেখানে জড়ো হন। প্রতি একর মাত্র দুই সেন্টের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ানদের থেকে আলাস্কা কিনে নেয়। অর্ধমিলিয়ন বর্গমাইল বাবদ মাত্র সাত মিলিয়ন ডলারে বিনিময়ে আলাস্কার মালিকানা যুক্তরাষ্ট্র পাবে এমন চুক্তি হয় দুই দেশের মধ্যে। গৃহযুদ্ধ পরবর্তী যুক্তরাষ্টের একজন আম আমেরিকানের জন্য এই অংকটা অযৌক্তিক রকমের বেশি। যারা পক্ষের ছিলো, তাদের দাবী ছিলো - পরবর্তী পদক্ষেপে কানাডার প্রদেশ…
বিস্তারিত পড়ুন ...

প্রিয়নের গল্প

ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের একটি দ্বীপরাষ্ট্র স্যান লরেঞ্জোর শাসক 'পাপা মনজানো'র বাবা ছিলেন একজন নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী। তার একটি আবিষ্কার হল রহস্যময় আইস-নাইন। যার সংস্পর্শে এলে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিও জমে গিয়ে আইস-নাইনে পরিণত হয়। বহুকাল সেই আইস নাইন ছিল লোকচক্ষুর আড়ালে। একসময় পাপা মনজানো ক্যান্সারের যন্ত্রণা সইতে না পেরে আইস-নাইন খেয়ে আত্নহত্যা করেন। তার জমে যাওয়া দেহের স্পর্শে এসে তার ডাক্তারও জমে গিয়ে মারা যান। এ যেন ছোটবেলায় খেলা বরফ-পানির বাস্তব এবং ট্র্যাজিক সংস্করণ। এতটুকুই নয়, ঘটনাক্রমে পাপার দেহ গিয়ে পড়ে সমুদ্রে এবং সারা পৃথিবীর পৃষ্টে ও পেটে যত পানি আছে সব জমে গিয়ে বিশাল দূর্যোগ সৃষ্টি করে। বাকীটা জানতে হলে পড়তে হবে কার্ট ভনেগাট এর লেখা কল্পকাহিনী Cat's Cradle। আমাদের সৌভাগ্য যে আইস-নাইন কাল্পনিক, কিন্তু দূর্ভাগ্য এর জৈবিক প্রতিরূপ বাস্তব, যার…
বিস্তারিত পড়ুন ...

জেনেটিক সুপারহিরো

অনেক বছর আগে প্রথম যখন মিউট্যান্ট কথাটা প্রথম শুনি তখন... আমার মনেও নেই যে কোন ক্লাসে পড়ি। এক্স-ম্যান সিরিজের শুরুর দিকের কোন একটা সিনেমাতে শুনেছিলাম। এক্স ম্যান ছাড়াও অনেক গল্প সিনেমাতে সুপার হিরো তৈরির অন্যতম সরঞ্জাম এই মিউটেশন। তবে এখন পর্যন্ত আমরা বাস্তবে যতধরনের মিউটেশন সম্পর্কে জানি তার বেশিরভাগের ফলাফলই ক্ষতিকর। এখন যদি, কোন মানুষের মধ্যে এমন কিছু ক্ষতিকর মিউটেশন থাকা সত্বেও তিনি দিব্যি সুস্থ স্বাভাবিক দিন কাটাতে পারেন, তাহলে কি তাকে একজন সুপারহিরো বলা যায়? প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষের জিন গবেষণা করে খুব অল্প সংখ্যক ব্যাক্তিকে পাওয়া গেছে যারা মারাত্নক রোগ সৃষ্টিকারী মিউটেশন ধারণকারী মিউট্যান্ট, কিন্তু তারা সুস্থ। এই সৌভাগ্যবান ১৩ জনের মধ্যে রয়েছে ৮ ধরনের জিনগত ব্যাধির মিউটেশন। সিস্টিক ফাইব্রোসিস, আটেলোস্টিওজেনেসিস সহ ৮ ধরনের ব্যাধি যেগুলোতে আক্রান্ত শিশু…
বিস্তারিত পড়ুন ...