একটি মানুষ আর একটি বাহিনী (আবদুল্লাহ আল-মুতী)

একটি মানুষ আর একটি বাহিনী (আবদুল্লাহ আল-মুতী)
একটি মানুষ। তাও তার বয়স হয়েছে সত্তুর বছরের ওপরে। কতটুকুই-বা শক্তি তার গায়ে। তবু এই মানুষটি লড়ছে এক বিরাট সৈন্যবাহিনীর বিরুদ্ধে। নাস্তানাবুদ করে দিচ্ছে বিশাল বাহিনীকে। যে-সে বাহিনী নয়। সেকালের দুনিয়ার সবচেয়ে দুর্ধর্ষ রোমের সৈন্য তারা। আরও আশ্চর্য, এই মানুষটি কিন্তু সেনাপতি নয়। যুদ্ধবিদ্যাই শেখেনি সে কোনোদিন। তবু তিন বছর ধরে লড়াই করে ঠেকিয়ে রেখেছে প্রবল পরাক্রমশালী রোমান বাহিনীকে। বুদ্ধির জোরে রক্ষা করেছে তার দেশের আজাদি। এই লোকটির নাম আর্কিমিডিস। পুরনো দিনের দুনিয়ার সবচেয়ে নামজাদা বিজ্ঞানী। আজ থেকে সোয়া দু'হাজার বছর আগে বিজ্ঞানকে তিনি কাজে লাগিয়েছিলেন মানুষের, দেশের নানা সমস্যার সমাধানের জন্যে। সেকালে পণ্ডিত আর বিজ্ঞানী বলতে বোঝাত এমন সব লোককে যারা শুধু ভালো ভালো তত্ত্বকথার আলোচনা করেন। কিন্তু আর্কিমিডিস উলটে দিয়েছিলেন সে নিয়ম। তিনি দেখিয়েছিলেন বিজ্ঞানের তত্ত্বকে কী করে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা লিখেছে রূপকথার গল্প

ঠাকুরমার ঝুলি কিংবা সিন্ডারেলার গল্প আমরা অনেকে শুনেছি। এরকম রূপকথার গল্পগুলোর সবই মানুষের দ্বারা তৈরি হয়েছে। কেমন হবে যদি কোনো যন্ত্র কিংবা কোনো কম্পিউটার প্রোগ্রাম এরকম একটি গল্প লিখে? আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন বিজ্ঞান জগতের ট্রেন্ড। যন্ত্রের কোনো বুদ্ধিমত্তা থাকে না সাধারণত। তবে বিশেষভাবে প্রোগ্রামের মাধ্যমে যন্ত্রকে কৃত্রিমভাবে বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন করা যায়। যন্ত্রকে এমনভাবে তৈরি করা হয় যেন তাকে কোনো কাজ করতে দিলে সেটি আগে থেকে রাখা তথ্য কিংবা স্মৃতি ব্যবহার করে সে কাজটি সম্পন্ন করতে পারে। তেমনই আগে থেকেই যদি একে বিভিন্ন দেশের রূপকথার গল্পগুলো শেখানো যায় এবং সে অনুসারে নতুন কোনো গল্প লিখতে বলা হয় তাহলে সেটি ভালো কোনো গল্প লিখেও ফেলতে পারে। আইএফএল সায়েন্স-এ প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয় এক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা লিখেছে রূপকথার এক গল্প।…
বিস্তারিত পড়ুন ...

২০ ফুট লম্বা ফিতাকৃমি

২০ ফুট লম্বা ফিতাকৃমি
চীনের মধ্যাঞ্চলে সাধারণত ফিতাকৃমির সংক্রমণ হয় না। পরিবেশগত কারণেই হয়তোবা এ অঞ্চলের মানুষের মাঝে এর উৎপাত কম। কিন্তু ২০১৬ সালের শুরুর দিকে অদ্ভুত এক ঘটনা ঘটে। ডাক্তাররা এক ব্যক্তির অন্ত্রে খুঁজে পান ২০ ফুট লম্বা এক ফিতাকৃমি। একে তো ঐ অঞ্চলে এধরনের সংক্রমণ কম তার উপর এত বেশি লম্বা হওয়াতে অবাক হয়ে যায় সবাই। দুই বছর ধরে এই কৃমিটি বাস করছিল ঐ লোকের দেহে। জানা যায় আক্রান্ত ব্যক্তি কাঁচা মাংস খেতে ভালোবাসেতেন, নিয়মিতই খেতেন সেদ্ধ না করা মাংস। এক পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। দুই বছর ধরে লেগেই থাকে অসুস্থতা। বমি হতো, ক্ষুধামন্দা লেগে থাকতো, খেতে ইচ্ছে করতো না, পায়ুপথে ব্যথা করতো, শরীর দুর্বল লাগতো, আর ধীরে ধীরে ওজন কমতো। এক পর্যায়ে তিনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। ডাক্তার তার মলের নমুনা পরীক্ষা…
বিস্তারিত পড়ুন ...

নক্ষত্রের তিন ধরনের মৃত্যু (জামাল নজরুল ইসলাম)

নক্ষত্র কীভাবে সৃষ্টি হয় তা সঠিকভাবে এখনো জানা যায়নি। মহাকাশে বিভিন্ন নক্ষত্রের মাঝে যে জায়গা তা শূন্য মনে হলেও আসলে তা শূন্য নয়। বরং সেখানে পাতলা এবং হালকা বাষ্পীয় মেঘ থাকে যা বেশিরভাগ হাউড্রোজেন দিয়ে তৈরি। এই বাষ্পীয় পদার্থ সব জায়গায় একই পরিমাণে থাকে না। কোথাও এই ঘনত্ব কম কোথাও বেশি। অধিকাংশ জায়গায় তার ঘনত্ব খুব কম, প্রতি ঘনমিটারে প্রায় ১০^-১৯ কিলোগ্রাম। এক ঘনমিটারে পানির ওজন প্রায় ১০^৩ বা ১০০০ হাজার কিলোগ্রাম। অন্যভাবে বলা যায় যে, মহাকাশে এক ঘনমিটারে প্রায় ১০ কোটি পরমাণু থাকে। আমরা জানি যে, দুটি বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ বল নির্ভর করে দূরত্বের ব্যস্তবর্গের উপর এবং দুটি ভরের গুণ ফলের উপর। সুতরাং কোনো বাষ্পীয় মেঘের ঘনত্ব যখন বেশি তখন মেঘের বিভিন্ন অংশের মধ্যে অভিকর্ষ বলও বেশি হয়। কখনো…
বিস্তারিত পড়ুন ...

পদার্থবিদ্যার কিছু তথ্য এবং তত্ত্ব (জামাল নজরুল ইসলাম)

পদার্থ কী দিয়ে তৈরী এই সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান আজও হয়নি। মৌলিক বস্তুকণা কাকে বলে তা এখনও স্থির করা সম্ভব হয়নি। সাধারণত একটি পরমাণু একটি নিউক্লিয়াস ও ইলেকট্রন দিয়ে গঠিত। নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রীণের মধ্যে আছে প্রোটন ও নিউট্রন নামক বস্তুকণা। তাই পরমাণুকে আমরা মৌলিক বস্তুকণা বলতে পারি না। আবার প্রোটন বা নিউট্রনকেও মৌলিক কণা বলা যায় না। কেননা গত কয়েক বছরের গবেষণার মাধ্যমে জানা গেছে যে একটি প্রোটন বা নিউট্রন অন্য আরেক ধরনের বস্তুকণা দিয়ে গঠিত যাদেরকে বলা হয় কোয়ার্ক বস্তুকণা। কোয়ার্ক এখনো দেখা যায়নি। কিন্তু তত্ত্বের দাবী অনুসারে প্রোটন বা নিউট্রন তিনটি কোয়ার্ক দিয়ে তৈরী। অবশ্য কোয়ার্ক বস্তুকণাই যে সত্যিকারের মৌলিক কণা তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। এখানে আমারা ধরে নিব যে, ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন ইত্যাদি কণাগুলো মৌলিক বস্তুকণা। ইলেকট্রন আবিষ্কৃত…
বিস্তারিত পড়ুন ...

বাস্তবতার যাদু (The Magic of Reality)

যাদু শব্দটি কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হতে পারে। অলৌকিক যাদু, মঞ্চে দেখানো যাদুকরের যাদু কিংবা কাব্যিক যাদু। অলৌকিক যাদুগুলো পাওয়া যায় পৌরাণিক ও রূপকথার গল্পে। সিন্ডারেলার রূপকথায় যাদুর বুড়ি তার হাতের কাঠির সাহায্যে কুমড়াকে ঘোড়ার গাড়ি, ইঁদুরকে ঘোড়া এবং গিরগিটিকে গাড়ি চালক বানিয়ে ফেলেন।  আলাদীনের গল্পে যাদুর বাতিতে ঘষা দিলে মনিবের যেকোনো ইচ্ছা পূরণ করতে হাজির হয় এক দৈত্য। কিংবা আলী-বাবা ও চল্লিশ চোরের গল্পে বিশেষ পাহারের সামনে 'খুলে যা সিমসিম' বললে পাহার দুই দিকে সরে গিয়ে গুপ্তধনের রাস্তা খুলে দেয়। এগুলো যাদুর গল্প এবং নিঃসন্দেহে চিত্তাকর্ষক। ছোটবেলায় সবাই-ই এই গল্পগুলো শুনে আনন্দ পেয়েছে। মঞ্চে দেখানো যাদুকরের যাদুও চিত্তাকর্ষক। যাদুকর নানা রকম ভেলকিবাজি ও কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে দর্শকদের চোখকে ধোঁকা দিয়ে অসাধ্য জিনিস সাধন করেন। দর্শকের চোখে দেখতে অসাধ্য হলেও এর…
বিস্তারিত পড়ুন ...

মডেলঃ কল্পনার পরীক্ষা-নিরীক্ষা

বাস্তবতার সত্যিকার স্বরূপ নিয়ে একটি পোস্ট করেছিলাম এবং ঐ পোস্ট থেকে কিছু জিজ্ঞাসার জন্ম হয়। যেমন অনেক কিছুই আছে যাদের অস্তিত্ব প্রচলিত নিয়ম দ্বারা প্রমাণ করা যায় না। তাহলে তারা কি অবাস্তব? কিংবা হাট্টিমাটিম টিম-এর মতো কাল্পনিক জিনিসগুলো মূলত কী? এরা কি বাস্তব? জ্বিন-পরী কি বাস্তব? কিংবা মাল্টিভার্স কি বাস্তব? আশাকরি এই জিজ্ঞাসাগুলোর উত্তর মিলবে এই লেখাটিতে। যারা আগের লেখাটি পড়েননি তাদের কাছে অনুরোধ থাকবে প্লিজ এটি পড়ার আগের লেখাটি পড়ে নিন।   যেসকল জিনিসের বাস্তবতা ইন্দ্রিয় দিয়ে সরাসরি অনুভব করা যায় না, সেসকল জিনিসের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতে বিজ্ঞানীরা একটি পদ্ধতির আশ্রয় নেন। পদ্ধতিটির নাম ‘মডেল’। এই পদ্ধতিটি খুব বেশি পরিচিত নয়। মডেল হচ্ছে বৈজ্ঞানিক চিন্তা ভাবনার সত্যিকার মাধ্যম। আমাদের আশেপাশের বাস্তব জগতের কোনো একটা ক্ষেত্রে কী ঘটে চলছে তার একটা…
বিস্তারিত পড়ুন ...

বাস্তবতা কী?

জগতে যার অস্তিত্ব আছে তাই বাস্তব, জগতে যা বাস্তব তা-ই হলো বাস্তবতা। কথাটা কেমন যেন একটু সোজাসাপ্টা শোনাচ্ছে। আসলে বাস্তবতা শব্দটি এতটা সোজাসাপ্টা নয়। এই বিষয়টাকে একটু বিশ্লেষণ করা দরকার। প্রথমে ডায়নোসরদের কথা বিবেচনা করি, অনেক অনেক আগে এদের অস্তিত্ব ছিল কিন্তু এখন আর নেই। বর্তমানের প্রেক্ষাপটে এরা কি বাস্তব? আকাশের তারাদের কথা বিবেচনা করি, আজকের দিনে আমরা কোনো একটা তারাকে যে রূপে দেখছি এটি সত্যিকার অর্থে সেই রূপে নেই। তারার বুক থেকে আলোক রশ্মি মুক্তি পেয়ে হাজার হাজার বছর ধরে মহাশূন্যে ভ্রমণ করে তারপর আমাদের চোখে এসে লাগে। ভ্রমণপথের এই সময়ের মাঝে তারার পরিবর্তন হয়ে গেছে অনেক। হয়তোবা তারাটি বিস্ফোরিত হয়ে মরেও গেছে এতদিনে। এমন পরিস্থিতিতে আকাশের তারারা কি বাস্তব? এগুলো নাহয় অতীতের জিনিস, এদের বাস্তবতা কিছুটা ঘোলাটে। বর্তমানের…
বিস্তারিত পড়ুন ...