নক্ষত্রের তিন ধরনের মৃত্যু (জামাল নজরুল ইসলাম)

নক্ষত্র কীভাবে সৃষ্টি হয় তা সঠিকভাবে এখনো জানা যায়নি। মহাকাশে বিভিন্ন নক্ষত্রের মাঝে যে জায়গা তা শূন্য মনে হলেও আসলে তা শূন্য নয়। বরং সেখানে পাতলা এবং হালকা বাষ্পীয় মেঘ থাকে যা বেশিরভাগ হাউড্রোজেন দিয়ে তৈরি। এই বাষ্পীয় পদার্থ সব জায়গায় একই পরিমাণে থাকে না। কোথাও এই ঘনত্ব কম কোথাও বেশি। অধিকাংশ জায়গায় তার ঘনত্ব খুব কম, প্রতি ঘনমিটারে প্রায় ১০^-১৯ কিলোগ্রাম। এক ঘনমিটারে পানির ওজন প্রায় ১০^৩ বা ১০০০ হাজার কিলোগ্রাম। অন্যভাবে বলা যায় যে, মহাকাশে এক ঘনমিটারে প্রায় ১০ কোটি পরমাণু থাকে। আমরা জানি যে, দুটি বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ বল নির্ভর করে দূরত্বের ব্যস্তবর্গের উপর এবং দুটি ভরের গুণ ফলের উপর। সুতরাং কোনো বাষ্পীয় মেঘের ঘনত্ব যখন বেশি তখন মেঘের বিভিন্ন অংশের মধ্যে অভিকর্ষ বলও বেশি হয়। কখনো…
বিস্তারিত পড়ুন ...

পদার্থবিদ্যার কিছু তথ্য এবং তত্ত্ব (জামাল নজরুল ইসলাম)

পদার্থ কী দিয়ে তৈরী এই সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান আজও হয়নি। মৌলিক বস্তুকণা কাকে বলে তা এখনও স্থির করা সম্ভব হয়নি। সাধারণত একটি পরমাণু একটি নিউক্লিয়াস ও ইলেকট্রন দিয়ে গঠিত। নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রীণের মধ্যে আছে প্রোটন ও নিউট্রন নামক বস্তুকণা। তাই পরমাণুকে আমরা মৌলিক বস্তুকণা বলতে পারি না। আবার প্রোটন বা নিউট্রনকেও মৌলিক কণা বলা যায় না। কেননা গত কয়েক বছরের গবেষণার মাধ্যমে জানা গেছে যে একটি প্রোটন বা নিউট্রন অন্য আরেক ধরনের বস্তুকণা দিয়ে গঠিত যাদেরকে বলা হয় কোয়ার্ক বস্তুকণা। কোয়ার্ক এখনো দেখা যায়নি। কিন্তু তত্ত্বের দাবী অনুসারে প্রোটন বা নিউট্রন তিনটি কোয়ার্ক দিয়ে তৈরী। অবশ্য কোয়ার্ক বস্তুকণাই যে সত্যিকারের মৌলিক কণা তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। এখানে আমারা ধরে নিব যে, ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন ইত্যাদি কণাগুলো মৌলিক বস্তুকণা। ইলেকট্রন আবিষ্কৃত…
বিস্তারিত পড়ুন ...

বাস্তবতার যাদু (The Magic of Reality)

যাদু শব্দটি কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হতে পারে। অলৌকিক যাদু, মঞ্চে দেখানো যাদুকরের যাদু কিংবা কাব্যিক যাদু। অলৌকিক যাদুগুলো পাওয়া যায় পৌরাণিক ও রূপকথার গল্পে। সিন্ডারেলার রূপকথায় যাদুর বুড়ি তার হাতের কাঠির সাহায্যে কুমড়াকে ঘোড়ার গাড়ি, ইঁদুরকে ঘোড়া এবং গিরগিটিকে গাড়ি চালক বানিয়ে ফেলেন।  আলাদীনের গল্পে যাদুর বাতিতে ঘষা দিলে মনিবের যেকোনো ইচ্ছা পূরণ করতে হাজির হয় এক দৈত্য। কিংবা আলী-বাবা ও চল্লিশ চোরের গল্পে বিশেষ পাহারের সামনে 'খুলে যা সিমসিম' বললে পাহার দুই দিকে সরে গিয়ে গুপ্তধনের রাস্তা খুলে দেয়। এগুলো যাদুর গল্প এবং নিঃসন্দেহে চিত্তাকর্ষক। ছোটবেলায় সবাই-ই এই গল্পগুলো শুনে আনন্দ পেয়েছে। মঞ্চে দেখানো যাদুকরের যাদুও চিত্তাকর্ষক। যাদুকর নানা রকম ভেলকিবাজি ও কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে দর্শকদের চোখকে ধোঁকা দিয়ে অসাধ্য জিনিস সাধন করেন। দর্শকের চোখে দেখতে অসাধ্য হলেও এর…
বিস্তারিত পড়ুন ...

মডেলঃ কল্পনার পরীক্ষা-নিরীক্ষা

বাস্তবতার সত্যিকার স্বরূপ নিয়ে একটি পোস্ট করেছিলাম এবং ঐ পোস্ট থেকে কিছু জিজ্ঞাসার জন্ম হয়। যেমন অনেক কিছুই আছে যাদের অস্তিত্ব প্রচলিত নিয়ম দ্বারা প্রমাণ করা যায় না। তাহলে তারা কি অবাস্তব? কিংবা হাট্টিমাটিম টিম-এর মতো কাল্পনিক জিনিসগুলো মূলত কী? এরা কি বাস্তব? জ্বিন-পরী কি বাস্তব? কিংবা মাল্টিভার্স কি বাস্তব? আশাকরি এই জিজ্ঞাসাগুলোর উত্তর মিলবে এই লেখাটিতে। যারা আগের লেখাটি পড়েননি তাদের কাছে অনুরোধ থাকবে প্লিজ এটি পড়ার আগের লেখাটি পড়ে নিন।   যেসকল জিনিসের বাস্তবতা ইন্দ্রিয় দিয়ে সরাসরি অনুভব করা যায় না, সেসকল জিনিসের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতে বিজ্ঞানীরা একটি পদ্ধতির আশ্রয় নেন। পদ্ধতিটির নাম ‘মডেল’। এই পদ্ধতিটি খুব বেশি পরিচিত নয়। মডেল হচ্ছে বৈজ্ঞানিক চিন্তা ভাবনার সত্যিকার মাধ্যম। আমাদের আশেপাশের বাস্তব জগতের কোনো একটা ক্ষেত্রে কী ঘটে চলছে তার একটা…
বিস্তারিত পড়ুন ...

বাস্তবতা কী?

জগতে যার অস্তিত্ব আছে তাই বাস্তব, জগতে যা বাস্তব তা-ই হলো বাস্তবতা। কথাটা কেমন যেন একটু সোজাসাপ্টা শোনাচ্ছে। আসলে বাস্তবতা শব্দটি এতটা সোজাসাপ্টা নয়। এই বিষয়টাকে একটু বিশ্লেষণ করা দরকার। প্রথমে ডায়নোসরদের কথা বিবেচনা করি, অনেক অনেক আগে এদের অস্তিত্ব ছিল কিন্তু এখন আর নেই। বর্তমানের প্রেক্ষাপটে এরা কি বাস্তব? আকাশের তারাদের কথা বিবেচনা করি, আজকের দিনে আমরা কোনো একটা তারাকে যে রূপে দেখছি এটি সত্যিকার অর্থে সেই রূপে নেই। তারার বুক থেকে আলোক রশ্মি মুক্তি পেয়ে হাজার হাজার বছর ধরে মহাশূন্যে ভ্রমণ করে তারপর আমাদের চোখে এসে লাগে। ভ্রমণপথের এই সময়ের মাঝে তারার পরিবর্তন হয়ে গেছে অনেক। হয়তোবা তারাটি বিস্ফোরিত হয়ে মরেও গেছে এতদিনে। এমন পরিস্থিতিতে আকাশের তারারা কি বাস্তব? এগুলো নাহয় অতীতের জিনিস, এদের বাস্তবতা কিছুটা ঘোলাটে। বর্তমানের…
বিস্তারিত পড়ুন ...

ডিম, উপবৃত্ত ও মুক্তিবেগ

গত পর্বে সমুদ্রের পারে উঁচু একটি পর্বতের উপরে একটি কাল্পনিক কামানের কথা বলেছিলাম। নিউটন তার চিন্তন পরীক্ষায় এই কামানটি ব্যবহার করেছিলেন। ঐ কামান থেকে খুব বেশি জোরে গোলা ছুঁড়া হলে গোলাটি পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরতে থাকবে। ঐ কামানের কাছে আবারো ফিরে যাই। এবার কামানটিকে আগের চেয়েও বেশি শক্তিশালী করে তুলি। এমন শক্তিশালী কামান থেকে গোলা ছুড়ে মারলে কী ঘটবে? তা জানতে হলে আমাদেরকে এখন বিজ্ঞানী জোহানেস কেপলারের অসাধারণ আবিষ্কারের সাথে পরিচিত হতে হবে। উপবৃত্তকে অনেকটা ডিমের সাথে তুলনা করা যায়। যদিও ডিম পুরোপুরি উপবৃত্তাকার নয়। তারপরও তুলনার খাতিরে ধরে নিলাম। গোলাকার যে ক্ষেত্রকে আমরা বৃত্ত বলে জানি সেটা আসলে এক ধরনের বিশেষ উপবৃত্ত।কেপলার ছিলেন নিউটনের পূর্বেকার বিজ্ঞানী। নিউটন ছিলেন কেপলারের বিজ্ঞান বিষয়ক কাজের উত্তরসূরি। কেপলার যে সময়ে বাস করতেন ঐ সময়টাতে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

জ্যোতির্বিজ্ঞানের অনন্য ইতিহাস গ্রন্থ “ইউডক্সাসের গোলক ও অন্যান্য প্রসঙ্গ”

জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাস নিয়ে লেখা অনন্য একটি বই। মানুষ জ্যোতির্বিজ্ঞানের সাথে পরিচিত তখন থেকেই যখন থেকে মানুষ আকাশ দেখতে শুরু করেছে। আর আকাশ যেহেতু সর্বক্ষণের সঙ্গী তাই মানুষের বুদ্ধিমত্তার বিকাশের শুরু থেকেই মানুষ জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চা করে আসছে। হতে পারে তারা ভুল কিংবা আংশিক সঠিক, তবুও জ্যোতির্বিজ্ঞানের শুরুটা তারাই করে দিয়েছিল। এটা নাহয় ধরে নেয়া গেল মানুষ পর্যাপ্ত বুদ্ধিমত্তার শুরু থেকেই আকাশ পর্যবেক্ষণ করতো কিন্তু কেমন ছিল তাঁদের সেই আকাশ চিন্তা? আর সেই মানুষগুলোই বা কারা? তারা পৃথিবীর কোথায় থাকতো? কেমন ছিল তাঁদের রীতিনীতি এইসব নিয়ে চমৎকার এবং তাক লাগানো আলোচনা পাওয়া যায় এই গ্রন্থে। আজকালকার প্রায় সকল পত্রিকায় থাকা রাশিচক্র কত প্রাচীন এবং কী কী পৌরাণিক কাহিনী জড়িত এদের সাথে এ নিয়ে ভাল আলোচনা আছে এই গ্রন্থে। মানুষ কেন তারার মাঝে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

নিউটনের কামানে চড়ে কক্ষপথে

সৌরজগতের গ্রহগুলো নিজ নিজ কক্ষপথ ধরে সূর্যকে কেন প্রদক্ষিণ করে? একটি বস্তু কেন অন্য কোনো কিছুকে কেন্দ্র করে ঘুরবে? এই প্রশ্নগুলো নিয়ে চিন্তিত ছিলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা বিজ্ঞানী আইজ্যাক নিউটন। তিনি এই প্রশ্নগুলোর উত্তরও বের করেছিলেন। নিউটন দেখালেন গ্রহদের কক্ষপথগুলো মহাকর্ষ বল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এই মহাকর্ষ বলের কারণেই আম গাছ থেকে পাকা আম পড়লে তা নিচে ভূ-পৃষ্ঠে নেমে আসে। নিউটনের মহাকর্ষের তত্ত্বটি যখন আলোচিত হয় তখন প্রায় সময়ই তার মাথায় আপেল পড়ার গল্পটি চলে আসে। এটা প্রমাণিত সত্য যে নিউটনের মাথায় আপেল পড়ার কাহিনীটি মিথ্যা। যাহোক, গ্রহদের কক্ষপথে আবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করার জন্য তিনি খুব উঁচু পর্বতের উপর একটি কামান কল্পনা করলেন। কল্পনায় যে পর্বতের উপরে পরীক্ষাটি করা হচ্ছে সেই পর্বতটি সমুদ্রের পারে অবস্থিত। কামানটির মুখ সমুদ্রের দিকে তাক করা।…
বিস্তারিত পড়ুন ...