ডিম, উপবৃত্ত ও মুক্তিবেগ

গত পর্বে সমুদ্রের পারে উঁচু একটি পর্বতের উপরে একটি কাল্পনিক কামানের কথা বলেছিলাম। নিউটন তার চিন্তন পরীক্ষায় এই কামানটি ব্যবহার করেছিলেন। ঐ কামান থেকে খুব বেশি জোরে গোলা ছুঁড়া হলে গোলাটি পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরতে থাকবে। ঐ কামানের কাছে আবারো ফিরে যাই। এবার কামানটিকে আগের চেয়েও বেশি শক্তিশালী করে তুলি। এমন শক্তিশালী কামান থেকে গোলা ছুড়ে মারলে কী ঘটবে? তা জানতে হলে আমাদেরকে এখন বিজ্ঞানী জোহানেস কেপলারের অসাধারণ আবিষ্কারের সাথে পরিচিত হতে হবে। উপবৃত্তকে অনেকটা ডিমের সাথে তুলনা করা যায়। যদিও ডিম পুরোপুরি উপবৃত্তাকার নয়। তারপরও তুলনার খাতিরে ধরে নিলাম। গোলাকার যে ক্ষেত্রকে আমরা বৃত্ত বলে জানি সেটা আসলে এক ধরনের বিশেষ উপবৃত্ত।কেপলার ছিলেন নিউটনের পূর্বেকার বিজ্ঞানী। নিউটন ছিলেন কেপলারের বিজ্ঞান বিষয়ক কাজের উত্তরসূরি। কেপলার যে সময়ে বাস করতেন ঐ সময়টাতে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

সাইকিয়াট্রিতে নতুন দিগন্ত

ধরুন আপনার প্রচন্ড বুকে ব্যাথা হলো । সেক্ষেত্রে অবশ্যই আপনি একজন ডাক্তারের কাছে যাবেন। আপনার ব্যাথা নিউমোনিয়া, ব্রংকাইটিস, হৃদরোগ নাকি অন্য কোন কারনে হয়েছে তা জানার জন্য ডাক্তার সাহেব একগাদা টেস্ট দিবেন। ফলে আপনার রোগটি শুধু সুনির্দিষ্ট ভাবে নির্ণয় করা যাবে তাই নয়, বরং এটি আপনে যেন যথাযথ ও সুচিকিৎসা পান এটাও নিশ্চিত করবে। অন্যদিকে ধরুন আপনি কোন মানসিক জটিলতার মধ্যে দিয়ে গেলেন। এক্ষেত্রে আপনার রোগটি সঠিকভাবে নির্ণয় করার কৌশলটি অনেকটাই অন্যরকম হবে। এমনকী আপনার কাছে সেরকম ভালো কোন অপশন নাও থাকতে পারে। মানসিক রোগে ভোগা বেশিরভাগ মানুষকে হয় স্রিজোফেনিয়া নয়তো বাইপোলার ডিজর্ডারের রোগীর কাতারে ফেলা হয়। টেস্কট বইয়ে এই দুইটা রোগের পার্থক্য শতাব্দীকাল ধরে একই রকম আছে। স্রিজোফেনিয়ার সবচেয়ে সাধারন লক্ষন হলো ভূলে যাওয়া, হ্যালুসিনেশন এবং দীর্ঘসময় ধরে চলা…
বিস্তারিত পড়ুন ...

অনুশীলনের মাধ্যমে কি সৃজনশীল হওয়া সম্ভব?

অনুশীলনের মাধ্যমে কি সৃজনশীল হওয়া সম্ভব? সম্প্রতি এ বিষয় নিয়ে সাইন্টিফিক আমেরিকানের মাইন্ড ব্লগ অংশে Scott Barry Kaufman এর একটা লেখা পড়লাম। উনি বলছেন, সৃষ্টিশীল লোকেরা শুধুমাত্র কোন নিদিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যাপারটা এমন নয়। তারা চেনা পথে না চলে নিজেদের জন্যে নতুন পথ তৈরি করে। মনোবিজ্ঞানী এরিকসন ও পুলের মতে সঠিক অনুশীলন আপনাকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতা এনে দেবে। সঠিক অনুশীলন বলতে উদ্দেশ্য ঠিক করা, কাজগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে ভাগ করে সম্পন্ন করা, নিজের আয়ত্তের জায়গা থেকে বেড়িয়ে নতুন কিছু করা। এধরণের অনুশীলন কাজে লাগতে পারে দাবা খেলতে কিংবা কোন বাদ্যযন্ত্র বাজাতে। যে ধরণের কাজে একই প্যাটার্নের বার বার ঘুরে ফিরে আসে সেখানে অনুশীলন খুবই কাজের। কিন্তু সবক্ষেত্রে অনুশীলনের মাধ্যমে সফলতা পাওয়া সম্ভব নয়। কিছু কিছু কাজ আছে যেখানে উদ্দেশ্য ও…
বিস্তারিত পড়ুন ...

নিউটনের কামানে চড়ে কক্ষপথে

সৌরজগতের গ্রহগুলো নিজ নিজ কক্ষপথ ধরে সূর্যকে কেন প্রদক্ষিণ করে? একটি বস্তু কেন অন্য কোনো কিছুকে কেন্দ্র করে ঘুরবে? এই প্রশ্নগুলো নিয়ে চিন্তিত ছিলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা বিজ্ঞানী আইজ্যাক নিউটন। তিনি এই প্রশ্নগুলোর উত্তরও বের করেছিলেন। নিউটন দেখালেন গ্রহদের কক্ষপথগুলো মহাকর্ষ বল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এই মহাকর্ষ বলের কারণেই আম গাছ থেকে পাকা আম পড়লে তা নিচে ভূ-পৃষ্ঠে নেমে আসে। নিউটনের মহাকর্ষের তত্ত্বটি যখন আলোচিত হয় তখন প্রায় সময়ই তার মাথায় আপেল পড়ার গল্পটি চলে আসে। এটা প্রমাণিত সত্য যে নিউটনের মাথায় আপেল পড়ার কাহিনীটি মিথ্যা। যাহোক, গ্রহদের কক্ষপথে আবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করার জন্য তিনি খুব উঁচু পর্বতের উপর একটি কামান কল্পনা করলেন। কল্পনায় যে পর্বতের উপরে পরীক্ষাটি করা হচ্ছে সেই পর্বতটি সমুদ্রের পারে অবস্থিত। কামানটির মুখ সমুদ্রের দিকে তাক করা।…
বিস্তারিত পড়ুন ...

ভ্যাকসিন, ব্যাকটেরিয়া এবং আমরা

বিশ্বজুড়ে পাবলিক হেলথের প্রধান অবলম্বন হল শিশুদের দেয়া ভ্যাকসিন । কিন্তু ভ্যাকসিন সব শিশুর ক্ষেত্রে সমানভাবে কার্যকর হয়না । কেন হয়না? অন্ত্রে বাস করা অনুজীব এক্ষেত্রে একটা বড় কারণ হতে পারে। ২০০৬ সালে ওরাল ভ্যাকসিন আবিষ্কারের আগে ব্যাপকভাবে বাচ্চাদের মধ্যে রোটাভাইরাস (Rotavirus) সংক্রমণ হত । এর ফলে বাচ্চাদের প্রচন্ড ডায়রিয়া হত। জীবনাশংকা সৃষ্টিকারী এই পানিশূণ্যতার কারণে সারাবিশ্বে এখনো প্রতিবছর সাড়ে চার লক্ষ্যের বেশি শিশু মারা যায়। বিশেষ করে এশিয়া ও আফ্রিকায়। কারণ ভ্যাকসিন সবসময় কাজে আসে না । আমস্টারডাম ইউনিভার্সিটির ভেনিসা হ্যারিস খুঁজে বের করতে চাইলেন কেন এই অঞ্চলের শিশুরা এত উচ্চমাত্রার নন-রেসপন্ডার ( ভ্যাকসিনে সাড়া দেয়না ) । এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সম্ভবত এইসব শিশুদের বৃহদান্ত্রে বসবাসকারী জীবাণুদের একটা ভূমিকা আছে। ভেনিসা, তার সহকর্মীরা এবং দক্ষিণ এশিয়ার সম্বনয়কারীগণ…
বিস্তারিত পড়ুন ...

ক্রিস্পার- জীন থেরাপির আশির্বাদ নাকি মানবতার নতুন শত্রু?

এক্স ম্যান মুভি দেখেনি এমন মানুষ খুব কমই! কেমন হত যদি পর্দার সেই এক্স ম্যানরা আমাদের বাস্তব জগতে এসে ঘুরে বেড়াত!! সেই মিউটেন্ট ম্যান তৈরি হওয়া মনে হয় আর খুব দূরে না  !! !! !! সেপ্টেম্বর ১৪, ১৯৯০ মানব ইতিহাসের এক নতুন অভ্যুদয় বললে ভুল হবে না দিনটিকে। Ashi DeSilva নামে এক রোগী সর্বপ্রথম ADA-SCID রোগ থেকে মুক্তি লাভ করেন। এই রোগটি মূলত দেহে এডেনোসাইন ডিএমিনেজ নামক এনজাইমের অভাবে হয়ে থাকে যার ফলশ্রুতিতে দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যাবস্থা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। Ashi DeSilva –র চিকিৎসা হয়েছিল জীন থেরাপির মাধ্যমেই। তারই পদাংক অনুসরণ করে ১৯৯৬ সালে প্রথম ভ্রুণ কোষে জীন থেরাপী প্রয়োগ করা হয়। জুলাই ২১, ১৯৯৭ তারিখে একটি শিশু জন্ম গ্রহণ করে যার ভ্রূণের কোষে একজন দাতার ডিম্বাণু প্রবেশ করানো হয়েছিল(মাইটোকন্ড্রিয়া সহ)…
বিস্তারিত পড়ুন ...

গতির আপেক্ষিতা ও ‘পৃথিবীর চারপাশে সূর্যের ঘূর্ণন’

[এই লেখাটি ছোটদেরকে উদ্দেশ্য করে লেখা] যখনই কোনো জিনিস নিয়ম মেনে একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর ছন্দ আকারে ফিরে আসে, বিজ্ঞানের চোখে এমন ঘটনাকে দেখলে, ধরে নিতে হবে অবশ্যই কোনো কিছু দোলক (পেন্ডুলাম) এর মতো এদিক হতে ওদিকে দোলে চলছে কিংবা বৃত্তাকার পথে ঘুরে চলছে। যেমন ঘড়ির কাঁটা, এটি নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট সময় পর পর একটি স্থানে ফিরে আসে। আমাদের প্রতিদিনকার সঙ্গী দুটি ব্যাপার দিন-রাত ও শীত-গ্রীষ্মকে পৃথিবীর দুই ধরনের ঘূর্ণন দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায়। শীত ও গ্রীষ্মকে ব্যাখ্যা করা যায় সূর্যের চারপাশে পৃথিবীর ঘূর্ণন দ্বারা। আর দিন ও রাতকে ব্যাখ্যা করা যায় নিজের অক্ষের উপর পৃথিবীর ঘূর্ণন দ্বারা। পৃথিবী তার নিজের অক্ষের উপর লাটিমের মতো ঘুরে চলছে প্রতিনিয়ত। খালি চোখেই আমরা সকলে যে দেখছি, সূর্য আকাশ পথে পৃথিবীর চারদিকে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

মস্তিষ্কে প্রাচীন ভাইরাসের নতুন কাজের সন্ধান

মানব জেনোমের মধ্যে থাকা 'জিনেটিক জঞ্জাল' ভাবা হয়েছিল যেসব রেট্রোভাইরাসের জেনোম, তারা আসলে গ্রাহক জেনোমে এসে নতুন নতুন কাজের দায়িত্ব পেয়েছে; যেমন, একটি সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে একধরনের রেট্রেভাইরাসের জেনোম মস্তিষ্ক গঠনে কাজ করে।     মানবশরীরে বাস করা কোটি কোটি ব্যাকটেরিয়ার কথা শুনে হয়তো শিহরিত হয়েছেন, কিন্তু এটা জেনে কী অবাক হবেন যে আমরা আসলে বহু বহু ভাইরাস দিয়েও তৈরি হয়েছি? আমাদের জেনোমের ৮ শতাংশ গঠিত হয়েছে অনেক অনেক রেট্রোভাইরাসের জেনোম দিয়ে। বলে রাখি, এইডস রোগ তৈরি করে যেই ভাইরাস, HIV, সেটা একটা রেট্রোভাইরাস। হয়তো নিজের স্বত্ত্বার একদম ভেতরে এরকম ভাইরাসের উপস্থিতি আমাদের জন্য ভাবতে কখনও কখনও ভীতিকর শোনায়, কিন্তু সেল রিপোর্টস পত্রিকায় প্রকাশিত নতুন একটি গবেষণা বলছে যে আসলে এসব ভাইরাস মানব মস্তিষ্ক গঠনে সাহায্য করেছে। আমাদের কাছ থেকে খুব বেশি দূরের নয় এমন আত্মীয়, ইঁদুরের…
বিস্তারিত পড়ুন ...