বাতাসে বৃক্ষের বার্তা

ছোট্ট শহর সিটকা সম্ভবত আলাস্কার সবচেয়ে আরামদায়ক জায়গা। বারানফ দ্বীপে অবস্থিত সমুদ্র তীরবর্তী শহর সিটকা। প্রশান্ত মহাসাগরীয় উষ্ণ শ্রোতের প্রভাবে সবসময়ই এখানকার আবহাওয়া মাতৃকোমল। এক মাসের গড় তাপমাত্রা সবসময়ই হিমাংকের উপরে থাকে। শহরটির ইতিহাসে বলার মত তেমন কোন ঘটনা নেই। ১৮৬৭ সালের অল্প কয়েকটি দিন ছাড়া। তখন সারা পৃথিবীর রাজনীতি সচেতন মানুষদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছিলো এই সিটকা। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার অনেক কূটনীতিক সেখানে জড়ো হন। প্রতি একর মাত্র দুই সেন্টের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ানদের থেকে আলাস্কা কিনে নেয়। অর্ধমিলিয়ন বর্গমাইল বাবদ মাত্র সাত মিলিয়ন ডলারে বিনিময়ে আলাস্কার মালিকানা যুক্তরাষ্ট্র পাবে এমন চুক্তি হয় দুই দেশের মধ্যে। গৃহযুদ্ধ পরবর্তী যুক্তরাষ্টের একজন আম আমেরিকানের জন্য এই অংকটা অযৌক্তিক রকমের বেশি। যারা পক্ষের ছিলো, তাদের দাবী ছিলো - পরবর্তী পদক্ষেপে কানাডার প্রদেশ…
বিস্তারিত পড়ুন ...

ছোঁয়াচে প্রাণরসঃ টোবাকো মোজাইক ভাইরাস এবং ভাইরাস জগতের আবিষ্কার

(লেখাটি কার্ল জিমারের বই A plantet of virus এর প্রথম অধ্যায়ের অনুবাদ)     মেক্সিকান সিটির চিহুয়াহুয়া প্রদেশের ৫০ মাইল দক্ষিণে একটা শুষ্ক ও বিরান পাহাড় আছে যার নাম সিয়েরা দে নাইসা। ২০০০ সালে খনি শ্রমিকরা পাহাড়ের গুহা খনন করছিলো। কয়েক হাজার ফুট গভীরে প্রবেশ করার পর তারা এমন এক জায়গার সন্ধান পেল যেটা দেখে মনে হবে তা হয়তো ভিন গ্রহের কোন এক জায়গা। তারা এমন একটা প্রকোষ্ঠে দাড়িয়ে ছিলো যা ৩০ ফুট চওড়া এবং ৯০ ফুট লম্বা। উপরে নিচে এবং পুরো দেয়াল জুড়ে মসৃণ এবং স্বচ্ছ জিপসামের স্ফটিক ছড়িয়ে ছিলো চারদিকে। এরকম অনেক গুহাতেই স্ফটিক পাওয়া যায় তবে তার কোনটিই সিয়েরা দে নাইসার মত নয়। প্রতিটি স্ফটিক ছিল ছত্রিশ ফুট লম্বা এবং ওজনে পঞ্চান্ন টন। তাই বুঝায় যাচ্ছে এই…
বিস্তারিত পড়ুন ...

জীববিজ্ঞানে গণিতঃ মেন্ডেল ও মটরশুটি

আমাদের নৈসর্গিক এই মহাবিশ্বকে ব্যাখ্যা করার জন্য কিছু মৌলিক সূত্র রয়েছে, এই ধারনার সাথে আমরা সবাই অভ্যস্ত। আমরা নিজেরাই এই সূত্রগুলোর গাণিতিক প্রকাশ থেকে বিভিন্ন ঘটনা বা প্রকৃয়া যেমন একটা ফুটবলের গতিপথ, পারমাণবিক চুল্লীর চেইন রিঅ্যাকশন কিংবা মোবাইল ফোন থেকে টাওয়ারের সংকেতের আদান প্রদানে সিস্টেমের আচরনকে অনুমান করতে পারি। তবে জীববিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এমনটা বলা কঠিন। পদার্থবিজ্ঞানে F=ma এর মত সার্বজনীন সূত্র জীববিজ্ঞানেও আছে কিনা তা আমরা এখনো জোর দিয়ে বলতে পারিনা। তবে দিন দিন এমন নজিরের সংখ্যা বাড়ছে যা ঐক্যবদ্ধ গাণিতিক নীতির কথা বলে। জীবনের পেছনে কি আসলেই কোন সুন্দর গাণিতিক গল্প রয়েছে? এই লেখায় জিনতত্বের সাথে জড়িত গণিতের সম্পর্কে সামান্য জানবো। আমরা বেশিরভাগই কোন না কোন দিক দিয়ে দেখতে শুনতে আমাদের বাবা-মা কিংবা ভাই বা বোনের মত। তবে একজন…
বিস্তারিত পড়ুন ...

জীববিজ্ঞানের জন্যে ভালবাসা ( আমি তব মালঞ্চের হব মালাকর )

"আকাশ ভরা, সূর্য তারা বিশ্বভরা প্রাণ, তাহারই মাঝখানে আমি পেয়েছি মোর স্থান......." সত্যি তাই। আকাশ জুড়ে অনন্ত নক্ষত্রের মেলা, যুগপৎ ভাবেই মহাবিশ্বে প্রতিটি জীবের অবস্থান কি অনন্ত বিস্ময়ের আর কি অপরিসীম তাৎপর্যের ! ভাবতেও অবাক লাগে। ভাবনার সাথেই মনের কোণে জেগে ওঠে অসংখ্য প্রশ্ন, শত ধারায় উৎসারিত হয় অফুরন্ত আবেগ। হৃদয়ের গভীরতম সেই তৃষ্ণার্ত প্রশ্ন গুলিকে জীববিজ্ঞান দেখাচ্ছে আলোর পথ।  অপরিসীম সৌন্দর্যে ভরপুর বিজ্ঞানের এই  শাখাটির চর্চার বদান্যতায়ই বিশ্বকে আমরা দেখতে পাচ্ছি নতুন রূপে। মহাবিশ্বে সকল জীবকে উপলব্ধি করছি এক নতুন চেতনার সংমিশ্রণে! রবিঠাকুরের "আবেদন"...... ১৩০২ বংগাব্দের কথা। বাইশে অগ্রহায়ণ শিলাইদহ অভিমুখে যাত্রা অভিমুখে লিখেছিলেন তাঁর আবেদন কবিতাখানি । যার কিছুটা এরকম- "ভৃত্যঃ     নানা কর্ম নানা পদ নিল তোর কাছে নানা জনে; এক কর্ম কেহ চাহে নাই, ভৃত্য-'পরে দয়া করে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

অ্যাপোমিক্সিস

এক দেশে এক এক কৃষক বাস করত, নানান ধরনের শস্য চাষ করে সুখে শান্তিতে দিন কাটাতো। ধীরে ধীরে দিন বদলে গেল, জমিজমা কমে গেল। দেশী জাতে আর পোষায়না, দুম করে কোথা থেকে চলে আসল 'হাইব্রীড'। তার ঝলকানিতে সম্মোহিত হয়ে অনেকেই হাইব্রীড চাষ শুরু করল। আমাদের কৃষকও তার ব্যাতিক্রম নয়। কিন্তু, হাইব্রীডের সমস্যা একটাই...প্রতিবারই নতুন করে বীজ কেনা লাগে। কারন, হাইব্রীড গাছের থেকে যে বীজ পাওয়া যায়, সেই বীজে আর আগের মত ক্ষমতা থাকেনা। ব্যাপারটা খুব একটা ঝামেলার না হলেও, কৃষক মনে মনে অন্যের কাছে জিম্মি ভাবে নিজেকে। সে স্বপ্ন দেখে, এমন যদি হতো... হাইব্রীডের বীজ থেকেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম হাইব্রীড তৈরি হবে, বীজের জন্য কোন কাটা-তারে ঘেড়া ইন্ডাস্ট্রির দিকে চেয়ে থাকতে হবেনা! সেই কৃষকের সাথে দেখা হলে বলে দেবেন, তার…
বিস্তারিত পড়ুন ...

এস্ট্রো-ভাইরোলজি

পৃথিবীর গণ্ডি পেরিয়ে বহির্জগতে প্রাণের অনুসন্ধান করা বর্তমান কালের জ্যোতির্বিদদের একটা বড় ধরনের এজেন্ডা। পৃথিবীর বাইরে মানুষের মত বুদ্ধিমান প্রাণের বিকাশ হওয়াটা অনেক বড়সড় ব্যাপার, প্রায় অসম্ভব ব্যাপার হলেও অনুপ্রাণ বা ব্যাকটেরিয়া ভাইরাসের বিকাশ হওয়াটা তেমন শক্ত কিছু নয় বলেই বিজ্ঞানীদের ধারণা। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন পৃথিবীতে আদি প্রাণ সৃষ্টির সময় যেরকম তাপমাত্রা, চাপ, আর্দ্রতা ছিল সেরকম আর্দ্রতায় যদি প্রাণের সৃষ্টির প্রাথমিক উপাদান গুলো নির্দিষ্ট অনুপাতে বেশ কদিন রেখে দেয়া হয় তবে তা প্রাণের আদি রূপের কাছাকাছি চলে যায়। যেমন সেটা হয়ে যায় এমাইনো এসিড। আর এমাইনো এসিডকেই ধরা হয় প্রাণের সৃষ্টির প্রাথমিক পর্যায়। এই এমাইনো এসিড থেকেই উৎপত্তি ঘটেছে ভাইরাসের। যদি এমাইনো এসিড বাইরের কোনো জগতে উৎপন্ন হতে পারে তবে ভাইরাস উৎপন্ন হওয়াটা অবাক করা কিছু নয়। আর ভাইরাস যদি আদি…
বিস্তারিত পড়ুন ...

উদ্ভিদ বিজ্ঞানের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

নতুন নতুন জ্ঞান লাভ, বিশ্লেষণ এবং তা থেকে প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। আর একারণেই মানুষ বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নত প্রজাতির প্রাণী। অন্য প্রাণী থেকে মানুষের পার্থক্য এখানেই যে এদের রয়েছে উন্নত মস্তিষ্ক। ফলে মানুষ সৃষ্টিলগ্ন থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চিন্তা করেছে, নিজেদের জন্য সুবিধাজনক বিষয় গ্রহণ করেছে। আফ্রিকা থেকে মানুষের আজকের এই সমাজে আবির্ভাব কোন অলৌকিক ঘটনা নয়। এটাও মানুষের উন্নত মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতার ফসল। প্রাচীনকাল থেকে মানুষের বিভিন্ন বিষয় জানার আগ্রহ ছিল। প্রথম দিকে প্রতিদিনের নিত্যপ্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর প্রতি তাদের সর্বাধিক দৃষ্টি ছিল। মানুষ প্রাচীনকাল থেকে আজ পর্যন্ত যে বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতে গিয়ে মস্কিষ্ককে অধিক ক্ষয় করেছে তার একটি হল উদ্ভিদ সম্পর্কিত জ্ঞান। আর এর প্রধান কারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে উদ্ভিদের প্রয়োজনীয়তা। প্রাচীনকালে মানুষের বসবাসের জন্য আজকের মত বাড়িঘর…
বিস্তারিত পড়ুন ...