বাংলাদেশে ধূমকেতু পর্যবেক্ষণ

’’ধূমকেতু শব্দের মানে ধোঁয়ার নিশান। ওর চেহারা দেখে নামটার উৎপত্তি। গোল মুন্ড আর তার পিছনে উড়ছে উজ্জ্বল একটা লম্বা পুচ্ছ। এই পুচ্ছটা অতি সূক্ষ্ম বাষ্পের।’’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর বিশ্বপরিচয় গ্রন্থে ধূমকেতুর পরিচয় ঠিক এভাবেই তুলে ধরেছেন। ধূমকেতু সৌরজগতের আদি বস্তুসমূহের অন্যতম। যেসব বছর আকাশে ধূমকেতুর আবির্ভাব ঘটে সেবছরগুলো জ্যোতির্বিদ ও আকাশপ্রেমীদের জন্য থাকে খুব আনন্দের। বেশিরভাগ ধূমকেতুর আলো খালি চোখে দেখতে পাবার মতো তেমন উজ্জ্বল হয়না। এটি উজ্জ্বল না অনুজ্জ্বল দেখা যাবে তা নির্ভর করে সূর্য, পৃথিবী এবং এর নিজের দূরত্বের উপর। সেক্ষেত্রে আকাশে যে ধূমকেতু দেখা দিয়েছে তা সাধারণ লোকে জানতেও পারেনা। তাই আকাশে ধূমকেতু দেখতে পাওয়াটা এমনিতে বিরল সুযোগ। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বাংলাদেশ থেকে যেসব ধূমকেতু পর্যবেক্ষণের কথা জানা গেছে এখানে তাদের কথা…
বিস্তারিত পড়ুন ...

জ্যোতির্বিজ্ঞান এর কিছু অভিজ্ঞতা

একদিন এক বন্ধুর কাছে থেকে জ্যোতির বিজ্ঞানের খোশ খবর বই টি নিয়ে পড়তে শুরু করলাম । কতটুকু পড়ার পর মাথা আর কাজ করছিল না, তখন ১০ম শ্রেণিতে পড়ি, এবং মডেল স্কুল এর বিজ্ঞান ক্লাব টাকে গড়ার কাজ করছিলাম । তখন বিজ্ঞান নিয়ে মাথা ঘামাতাম শুধু পুরষ্কার পাওয়ার জন্য। তারপর একদিন কাকতালীয় ভাবে সেলিম ভাই এর সাথে দেখা ও কথা হল এবং আমি “অচ” তে নিজেকে যুক্ত করি। শুরু হয় বিজ্ঞান নিয়ে আলাদা করে পথ চলা। জ্যোতির বিজ্ঞান বিভাগে কাজ করা শুরু হয় স্পেস টেকনোলজি নিয়ে। আমি সর্বোপরি স্বল্প জ্ঞান এর মানুষ হওয়ায় একদম গোঁড়া থেকে শিখতে হল। প্লেন উড্ডয়ন, বেলুন উড্ডয়ন, ঘুড়ি উড়ার পিছনে কারণ সব জানতে হল। যেহেতু জ্যোতির বিজ্ঞান বিভাগে আছি তাই আকাশ আমাকে চিনতেই  হল। এ ছাড়া…
বিস্তারিত পড়ুন ...

1950 DA গ্রহাণু পৃথিবীর জন্য কতোটা হুমকি?

পৃথিবী থেকে দশ হাজারের উপর বিভিন্ন সাইজের পৃথিবীর নিকটবর্তী বস্তু(Earth objects (NEOs)) আছে যাদের শনাক্ত করা হয়েছে গ্রহাণু এবং ধূমকেতু হিসেবে এবং যারা কিনা পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে ৪৫ মিলিয়ন কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। ১০ হাজার আবিষ্কারের মধ্যে শুধু ১০ পারসেণ্টের সাইজ হলো এক কিলোমিটারের ১০ ভাগের ৬ ভাগের সমান ,পৃথিবীর ভারসাম্য নষ্ট করার যা কিনা যথেষ্ট বড়।১৯৫০ ডিএ হলো সেগুলোরে মধ্যে একটি। বিজ্ঞানীরা ১৯৫০ সালের ফেব্রুয়ারিতে এটি আবিষ্কার করেন। ১৯৫০ডিএ গ্রহাণু প্রশস্তে ১.১ কিলোমিটার এবং যেটি কিনা ১৭ দিন ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল এবং শেষে দৃষ্টি সীমার বাইরে চলে যায়। এটি আবার একবিংশ শতকের দ্বার প্রান্তে ২০০০ সালের ৩১ ডিসেম্বর চিহ্নিত করা হয়েছিল। অবশেষে কিছু দেরিতে হলেও ২০০০ সালের মার্চে অধিকতর উচ্চ ঘূর্ণন হারের সহিত এটি রাডারের মাধ্যমে আবার ধরা…
বিস্তারিত পড়ুন ...

কলঙ্ক গুণছি ৪০০ বছর ধরে

(বলা হয় বিজ্ঞানকে তাড়া দেয়া যায়না। যদিও নিবন্ধ প্রকাশের প্রতিযোগিতা বা ফান্ডিং এর সুযোগ এই ব্যাপারটাকে ঠিক সাহায্য করেনা। কিন্তু কিছু কিছু বিজ্ঞানের পরীক্ষাকে চাইলেও তাড়া দেয়া যায়না। যেমন মানুষের জীবন-দৈর্ঘ্য নিয়ে গবেষণা বা মহাজাগতিক পরীক্ষা। এদের জন্য সময় দিতে হয়। এমনই দীর্ঘ সময় ধরে চলা কিছু পরীক্ষা নিয়ে এই সিরিজ। দ্বিতীয় পর্ব)   গত ৪০০ বছর ধরে বিজ্ঞানীরা সূর্যের পৃষ্ঠদেশে দাগ, মানে সৌর-কলঙ্ক গুণছেন! অর্থাৎ যখন প্রথম গ্যালিলিও দূরবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন তখন থেকেই। গ্যালিলিও এমনকি সূর্যের গায়ের দাগগুলি ছবি এঁকে লিপিবদ্ধ করে রেখে গেছেন। নিচের ছবিতে দেখুন গ্যালিলিওর নিজের হাতে আঁকা সৌর-কলঙ্ক। গ্যালিলিও থেকে নাসা- সূর্যের কলঙ্ক গোণা এটাই সম্ভবত পৃথিবীর দীর্ঘতম পরীক্ষা।     প্রথম দিকে বিজ্ঞানীরা দাগগুলি লক্ষ্য করলেও তাদের ধারনাই ছিলনা যে আসলে দাগগুলি তৈরি হয়েছে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

রহস্যময় ব্ল্যাক হোল

কেউ যদি বিজ্ঞানের জগতের সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটি শব্দ বলতে বলে তবে তাদের একটি হল ব্ল্যাক হোল। আরেকটি সম্ভবত বিগব্যাঙ। আজ আমরা কথা বলব ব্ল্যাক হোল নিয়ে। Hole শব্দটির অর্থ গর্ত । কিন্তু ব্ল্যাক হোল শব্দটি দ্বারা কোন গর্ত বোঝায় না। ব্ল্যাক হোল এমন একটি জায়গা যেখানে খুবই অল্প জায়গায় অনেক অনেক ভর ঘনীভূত হয়ে রয়েছে। এই অতি বিশাল ভরের কারণে ব্ল্যাক হোলের আকর্ষণ বলও অত্যন্ত বেশী। এতই বেশী যে কোন কিছুই এর কাছ থেকে রক্ষা পায় না এমনকি সর্বোচ্চ গতি সম্পন্ন আলোও নয়! আচ্ছা আপনি যদি ব্ল্যাক হোলের কাছে যান কি হতে পারে! প্রত্যেকটি ব্ল্যাক হোলের ঘটনা দিগন্ত আছে যেটির সীমানায় কোন কিছু আসলে ব্ল্যাক হোল সেই জিনিসকে গ্রাস করে। এখন যদি আপনি ব্ল্যাক হোলের ঘটনা দিগন্তে চলে আসেন তাহলে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

ধূমকেতুর কক্ষপথ

[যুগ্ম-লেখক: অারাফাত রহমান]   তুমি কি কেবলই ছবি, শুধু পটে লিখা। ওই যে সুদূর নীহারিকা যারা করিয়াছে ভীড়, আকাশেরো নীড় ওই যারা দিনরাত্রি আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী (তুমি কি কেবলই ছবি -- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)   বিবর্তনের সাথে সাথে মস্তিষ্ক বিকাশের এক পর্যায়ে মহাকাশের দিকে তাকিয়ে মানুষ বিস্মিত হয়েছে। হাজার হাজার বছর ধরে রাতের আকাশে উজ্জ্বল বস্তুনিচয়দের মানুষ পর্যবেক্ষণ করেছে, তারার মানচিত্র রচনা করেছে। এই চিরচেনা নক্ষত্রদের মাঝে হঠাৎ করে উদয় হওয়া বাউন্ডেলে ধূমকেতুগুলোকে খেয়াল করেছে তারা সচকিত হয়ে। সেই অতীত পর্যবেক্ষকরা জানতো না ধূমকেতু আসলে কি, কোথা থেকেই বা তারা আসে, আর তারা দেখতে কেনই বা ধোঁয়াশা ঝাড়ুর মতো । অনেক সময় ধূমকেতুদের মাঝে অতীত মানুষেরা খুঁজতে চেয়েছে ঐশ্বরিক অলৌকিক ইঙ্গিত, যুদ্ধ, বিগ্রহ, মহামারীর সংকেত। এরই একটা উদাহরণ হচ্ছে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

২৩ জুন পৃথিবীর নিকটবর্তী হচ্ছে চাঁদ

২৩ জুন, ২০১৩ পৃথিবীর খুব কাছাকাছি আসছে চাঁদ। উপবৃত্তাকার কক্ষপথে পৃথিবী থেকে চাঁদের এই নিকটতম অবস্থানকে অনুভূ বা পেরিজি বলা হয়। ঐ সময় চাঁদ পৃথিবী হতে ৩,৫৬,৯৯১ কিলোমিটার বা ২,২১,৮২৪ মাইল দূরত্বে অবস্থান করবে। পৃথিবী থেকে চাঁদের গড় দূরত্ব ৩,৮৪,৪০২ কিলোমিটার। ২০১৪ সালের আগস্ট মাসের আগে চাঁদ পৃথিবীর এতো কাছে আর আসছে না। ২৩শে জুন, অনুভূ সময়ের কাছাকাছি সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ প্রায় একটি সরল রেখায় অবস্থান করবে, সেই জন্য তখনই পূর্ণচন্দ্র বা পূর্ণিমা হবে। যেহেতু অনুভূ ও পূর্ণিমা প্রায় একই সময়ে সংঘঠিত হচ্ছে সেই জন্য এই চাঁদ গড় দৃশ্যমান চাঁদের চাইতে কিছুটা বড় ও উজ্জ্বল দেখাবে। ঢাকা সময় রবিবার বিকেল ৫টা ৩২ মিনিটে চাঁদ অনুভূ অবস্থানে আসবে, তবে পূর্ণচন্দ্র বা পূর্ণিমার সর্বোচ্চ মূহুর্তটি ঘটবে বিকেল ৫টার দিকে। ২৩শে জুন…
বিস্তারিত পড়ুন ...

পৃথিবীতে এতো জল কি ধূমকেতুই নিয়ে এলো?

পানি, যাকে জীবন বলে জানি পৃথিবীর তিন ভাগ জল, একভাগ স্থল। এ কথাটা সেই ছোটবেলা থেকে পড়ে এসেছি। কিন্তু এতো জল এখানে এলো কি করে? প্রথম দর্শনে প্রশ্নটা হয়তো বোকার মতো মনে হবে। খিলখিল করে হেসেও দিতে পারেন। মনে হতে পারে, পৃথিবীতে পানি সবসময়েই ছিলো নাকি আসলে অন্য কোন জায়গা থেকে এসেছিলো এধরনের চিন্তা একমাত্র পাগলরাই করতে পারে। কিন্তু এরকম নিরীহদর্শন প্রশ্নগুলো মাঝে মাঝে নাকানী-চুবানী খাওয়ায়। হাওয়ার ২১ ভাগ অক্সিজেনের তলে ডুবে থাকতে থাকতে যেমন আমরা কখনোই চিন্তা করতে পারি না যে একসময় বায়ুমন্ডলে বলতে গেলে কোন অক্সিজেনই ছিলো না। আবার পৃথিবীর আদি প্রাণের উদ্ভব হয়েছিলো যে ব্যাক্টেরিয়া দিয়ে তাদের যে অক্সিজেন লাগতোই না এই তথ্যট অবাক লাগতে পারে। তেমনি হয়তো অবাক হবেন জেনে যে মহাসাগর ভর্তি এতো পানি কিভাবে…
বিস্তারিত পড়ুন ...