মডেলঃ কল্পনার পরীক্ষা-নিরীক্ষা

বাস্তবতার সত্যিকার স্বরূপ নিয়ে একটি পোস্ট করেছিলাম এবং ঐ পোস্ট থেকে কিছু জিজ্ঞাসার জন্ম হয়। যেমন অনেক কিছুই আছে যাদের অস্তিত্ব প্রচলিত নিয়ম দ্বারা প্রমাণ করা যায় না। তাহলে তারা কি অবাস্তব? কিংবা হাট্টিমাটিম টিম-এর মতো কাল্পনিক জিনিসগুলো মূলত কী? এরা কি বাস্তব? জ্বিন-পরী কি বাস্তব? কিংবা মাল্টিভার্স কি বাস্তব? আশাকরি এই জিজ্ঞাসাগুলোর উত্তর মিলবে এই লেখাটিতে। যারা আগের লেখাটি পড়েননি তাদের কাছে অনুরোধ থাকবে প্লিজ এটি পড়ার আগের লেখাটি পড়ে নিন।   যেসকল জিনিসের বাস্তবতা ইন্দ্রিয় দিয়ে সরাসরি অনুভব করা যায় না, সেসকল জিনিসের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতে বিজ্ঞানীরা একটি পদ্ধতির আশ্রয় নেন। পদ্ধতিটির নাম ‘মডেল’। এই পদ্ধতিটি খুব বেশি পরিচিত নয়। মডেল হচ্ছে বৈজ্ঞানিক চিন্তা ভাবনার সত্যিকার মাধ্যম। আমাদের আশেপাশের বাস্তব জগতের কোনো একটা ক্ষেত্রে কী ঘটে চলছে তার একটা…
বিস্তারিত পড়ুন ...

বাস্তবতা কী?

জগতে যার অস্তিত্ব আছে তাই বাস্তব, জগতে যা বাস্তব তা-ই হলো বাস্তবতা। কথাটা কেমন যেন একটু সোজাসাপ্টা শোনাচ্ছে। আসলে বাস্তবতা শব্দটি এতটা সোজাসাপ্টা নয়। এই বিষয়টাকে একটু বিশ্লেষণ করা দরকার। প্রথমে ডায়নোসরদের কথা বিবেচনা করি, অনেক অনেক আগে এদের অস্তিত্ব ছিল কিন্তু এখন আর নেই। বর্তমানের প্রেক্ষাপটে এরা কি বাস্তব? আকাশের তারাদের কথা বিবেচনা করি, আজকের দিনে আমরা কোনো একটা তারাকে যে রূপে দেখছি এটি সত্যিকার অর্থে সেই রূপে নেই। তারার বুক থেকে আলোক রশ্মি মুক্তি পেয়ে হাজার হাজার বছর ধরে মহাশূন্যে ভ্রমণ করে তারপর আমাদের চোখে এসে লাগে। ভ্রমণপথের এই সময়ের মাঝে তারার পরিবর্তন হয়ে গেছে অনেক। হয়তোবা তারাটি বিস্ফোরিত হয়ে মরেও গেছে এতদিনে। এমন পরিস্থিতিতে আকাশের তারারা কি বাস্তব? এগুলো নাহয় অতীতের জিনিস, এদের বাস্তবতা কিছুটা ঘোলাটে। বর্তমানের…
বিস্তারিত পড়ুন ...

জীববিজ্ঞানের জন্যে ভালবাসা ( প্রথম কথন )

বিজ্ঞান ব্লগে এটি আমার প্রথম লেখা । বিজ্ঞানের ছাত্র কিংবা বিজ্ঞান বিষয়ক শিক্ষার্থী হিসেবে আমার পথচলা খুব বেশি দিনের নয়। তবে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রথম থেকে জীববিজ্ঞানের প্রতি কেন জানিনা একটা আলাদা ভাললাগার অনুভূতি কাজ করে।তাই সেই ভালবাসা আর ভাললাগা বিষয় গুলিকে একত্রিত করে ছড়িয়ে দিতে আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। আজকে বলব জীবনের বিজ্ঞানের কথা আর জীবনের বিজ্ঞানের সৌন্দর্যের কথা।জীবকে জানার ইচ্ছা আমাদের সবারই থাকে। কিছু প্রশ্ন আমাদের মনে ঘুরঘুর করে। যেমন: আমাদের চারপাশে যে কত নানারকম জীব দেখি- এদের উদ্ভব কিভাবে হল? মানে কিভাবে তারা এই পৃথিবীতে প্রথম আসলো, কিভাবে তারা চলে ফিরে বেড়াচ্ছে? খাচ্ছে-দাচ্ছে-ঘুমাচ্ছে? কেন আমাদের হাড়ের সঙ্গে কুমিরের হাড়ের মিল আছে? কেন বানর দেখতে আমাদের কাছাকাছি, কিন্তু গাছপালা দেখতে একদম অন্যরকম? ডাইনোসররা কেন পৃথিবীতে ছিল আর এখন নাই?…
বিস্তারিত পড়ুন ...

আলকেমি: রূপকথার পরিণতিতে বিজ্ঞান

কয়েক সহস্রাব্দকাল আগের কথা, যখন বিজ্ঞান বলতে কিছুই ছিলো না, যখন জ্ঞানের সর্বোচ্চ স্তর ছিল প্রাকৃতিক দর্শন এবং সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তিরা ছিলেন দার্শনিক তখন দুনিয়াতে একটি বিদ্যা প্রচলিত ছিলো। এই বিদ্যাটির নাম আলকেমি। আজকের যুগে আলকেমী বলতে আমরা বুঝি তুচ্ছ এবং সহজপ্রাপ্য এবং ক্ষয়িষ্ণু ধাতু যেমন সীসা কিংবা লোহাকে অতিমূলবান এবং সমাদৃত ধাতু যেমন: সোনা এবং রূপায় পরিণত করার বিদ্যাকে। মধ্যযুগে যখন আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান এখনকার মতো বিস্তৃতিলাভ করেনি তখন একশ্রেনীর মানুষের মনে ধারনা তৈরি হয় যে তুচ্ছ ও অকিঞ্চিৎকর ধাতুগুলোকে একধরনের পরশপাথরের (Philosopher’s stone) ছোঁয়ায় দুস্প্রাপ্য এবং মূল্যবান ধাতুতে পরিণত করা সম্ভব। শুধু তাই নয়, আরো কিছু বিষয় এই বিদ্যার অন্তর্গত ছিলো। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সঞ্জীবনী সুধা (elixer) তৈরি যা পানের মাধ্যমে সকল রোগ-ব্যাধি হতে মুক্ত থেকে সুদীর্ঘ জীবন…
বিস্তারিত পড়ুন ...

যে লোকটি অনেক প্রশ্ন করত (সক্রেটিস এবং প্লেটো)

দর্শনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস: অধ‍্যায় ১   ২৪০০ বছর আগের কথা । বেশি বেশি প্রশ্ন করার জন্য এথেন্সে একজনকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছিল । তাঁর আগে অনেক দার্শনিক ছিলেন, সবাই প্রশ্নও করতেন কিন্তু সক্রেটিসের বেলায়ই সেটা চরম আকার ধারণ করেছিল । তবে এটাও ঠিক যে, দর্শনের যদি বিশেষ কোন সেবক থেকে থাকেন, সেটা হলেন সক্রেটিস । চ্যাপ্টা নাক, মোটা ও বেঁটে, মলিনবেশ এবং কিছুটা উদভ্রান্ত এবং আগ্রহী দৃষ্টি, তাঁকে আসলে সক্রেটিস বলে মানানসই মনে হতো না । যদিও শারীরিকভাবে কুৎসিত এবং কখনো নোংরা, তাঁর ছিল প্রচন্ড মানসিক শক্তি ও মেধাবী একটি মন । এথেন্সের সবাই এটা স্বীকার করে নিয়েছিল যে, তাঁর মতো আর কেউ ছিল না এবং সম্ভবত আর আসবেও না । তিনি ছিলেন অদ্বিতীয় । কিন্তু তিনি চরম বিরক্তিকরও ছিলেন । তিনি…
বিস্তারিত পড়ুন ...