কালপুরুষ

রাতের আকাশ বড়ই সুন্দর।বিশেষ করে শীতের সময়ে তাকে আরো ভয়াবহ সুন্দর লাগে। তারাগুলো দেখে মনে হয় তারা যেন বিভিন্ন মজাদার আকার ধারণ করে। কখনো সিংহ, কখন বিছা; আরো কত কি! তেমনি আজ বলবো একটি মজাদার আকৃতির কথা। তার নাম কালপুরুষ। একে ইংরেজিতে Orion বলা হয়। একে দেখতে অনেকটা শিকারির মত মনে হয়। তার এক হাতে ঢাল আর আরেক হাতে মুগুর। কটিতে রয়েছে খাপ খোলা তলোয়ার। গ্রিক মিথোলজিতে এর একটা মজার কাহিনী আছে। গ্রীক দেবী আর্তেমিস হলো মৃগয়া, বন্য জন্তু, তেপান্তর, শিশু জন্ম, কুমারীত্ব, কিশোরীদের রক্ষাকারী, মেয়েদের রোগদাত্রী ও রোগ মুক্তি দানকারী। চন্দ্রদেবী সেলেনার পাশাপাশি চাঁদের দেবী হিসেবে তাকেও ভাবা হয়। হরিণ ও সাইপ্রেস বৃক্ষ ছিলো তার কাছে ঐশ্বরিক ও পূজনীয়। যৌবন প্রাপ্ত অস্পর্শিত দেবী আর্তেমিস কোন পুরুষকে তার কাছে ঘেষতে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

মহাশূন্য গবেষণার ধারনা আমূল বদলে দিতে আসছে EmDrive!

গত শতাব্দী থেকেই মানুষ মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর তোড়জোড় করছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত এই ঘটনা কবে ঘটবে সেই সম্বন্ধে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। কালক্ষেপন হতে হতে নাসা এখন পরিকল্পনা করছে ২০৩৫ সাল নাগাদ মঙ্গলে মানুষ প্রেরণের। মঙ্গলে মানুষ প্রেরণের সবচেয়ে বড় বাধা আসলে কোথায়? উত্তর হচ্ছে জ্বালানী। রকেট যখন উৎক্ষেপন করা হয় তখন সাথে করে এর বিপুল ভরের জ্বালানীও বহন করতে হয়। যা আবার একই সাথে জ্বালানীর চাহিদাও বিপুল পরিমানে বাড়িয়ে দেয়। মঙ্গলে মানুষ পাঠাতে হলে তাকে ফিরিয়েও আনতে হবে এবং ফেরত আসার জ্বালানীটুকু বহন করে নিয়ে যেতে হবে, কিংবা মঙ্গলের বুকে উৎপাদন করতে হবে। এই আনা-নেওয়ার কিংবা উৎপাদনের সহজসাধ্য প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হচ্ছে না বলেই মূলতঃ মঙ্গলে মানুষ পাঠাতে দেরী হচ্ছে। তবে সম্প্রতি এক বিষ্ময়কর প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়েছে এবং…
বিস্তারিত পড়ুন ...

অপেক্ষার সমীকরণ! (অণুপোস্ট)

আমরা কি কখনো আমাদের সৌরজগৎ ছেড়ে অন্য কোনো নক্ষত্র ব্যবস্থায় পৌঁছাতে পারব? সূর্যের পরে আমাদের সবচেয়ে কাছের তারটিও আমাদের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে চার আলোকবর্ষ দূরে। অর্থাৎ আলোর গতিতেও যদি আমরা রওনা দিই তাহলে সবচেয়ে কাছের তারাটির ব্যবস্থায় পৌঁছাতে আমাদের সময় লাগবে সাড়ে চার বছর। আবার আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা সূত্র অনুযায়ী ভরযুক্ত কোনো বস্তুই আলোর গতিতে যেতে পারবে না, তাহলে তার শক্তি হতে হবে অসীম (আপাতত ওয়ার্মহোল জাতীয় বিশুদ্ধ তাত্ত্বিক ব্যাপার-স্যাপার উপেক্ষা করছি)। আমাদের সবচেয়ে দ্রুতগামী মহাশূন্যযানটির বেগই আলোর বেগের মাত্র ০.০২ %। এমতাবস্থায় সবচেয়ে কাছের নক্ষত্রটিও এখনো সূদুর পরাহত। তাই এতদূর রাস্তা যদি পেরোতেই হয় তাহলে আগে-ভাগেই রওনা দিয়ে দেওয়া ভালো, কী বলেন? কিন্তু না। আমরা হয়তো এখন রওনা দিলাম একটি বেগে। হাজার খানেক বছর পর হয়তো আমাদের উত্তরসূরীরা আরো…
বিস্তারিত পড়ুন ...

সূর্য ছুটি পেলে…

আজ থেকে অনেক বছর পর। আপনি একজন মহাকাশচারী, ক্রায়োজেনিক চেম্বার থেকে বের হলেন লম্বা একটা ঘুমের পর। স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনাকে জাগিয়ে তোলার অর্থ বসবাসযোগ্য একটি গ্রহের সন্ধান পাওয়া গেছে। গ্রহটি অন্ধকার, এতই অন্ধকার যে আপনি এর পৃষ্ঠে কি আছে না আছে কিছুই বুঝতে পারছেন না। শুধু দেখছেন আকাশের তারাদের ঢেকে রাখা গাঢ় অন্ধকার এক গোলক। ধীরে ধীরে এর বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করে মেঘের স্তর ভেদ করে নামা শুরু করলেন। আপনার মহাকাশযানের বাহিরে কোন নেই কোন আলো। এতদিন ধরে দেখে আসা বিশ্বস্ত তারাগুলোও হঠাৎ গায়েব। তথ্যগুলো নাড়াচাড়া করে আপনার বুকটা ছাৎ করে উঠলো। তখনই আপনি কনসোলে ফিরে গিয়ে কমান্ডারের সাথে যোগাযোগ করলেনঃ "এই গ্রহে তো কোন সূর্যই নাই! কি করতে আসছি এখানে?" আমরা সবাই সূর্যরাজ্যের বাসিন্দা। পৃথিবীতের প্রায় সকল প্রাণির জন্যই সূর্যের গুরুত্ব…
বিস্তারিত পড়ুন ...

ডার্ক ম্যাটারের সহজ পরিচিতি

কিছু প্রশ্নের মাধ্যমে এগোনো যাক। কেন এই ম্যাটারের (পদার্থের) নাম ডার্ক ম্যাটার? বিজ্ঞানীরা কি এই ম্যাটার শনাক্ত করেছেন? উত্তর হচ্ছে, না! এই ম্যাটার অন্য সাধারণ ম্যাটারের মত দেখা যায় না বা যন্ত্রপাতি দ্বারাও কখনো শনাক্ত করা যায় নি। তাই এদের অন্ধকারাচ্ছন্নতা থেকেই এই নামকরণ। যদিও সাধারণ ম্যাটারও অন্ধকারাচ্ছন্ন হতে পারে, কিন্তু সেসব আমরা খালি চোখে দেখতে না পেলেও যন্ত্রপাতি দিয়ে শনাক্ত করতে পারি। যদি দেখাও না যায়, শনাক্ত ও করা না যায় তাহলে কেন আমরা এটি নিয়ে এত আলাপ আলোচনা করি? এর উত্তরে তুলনামূলক চিত্র হিসেবে বলা যায়, পরমাণুও দেখা যায় নি, এবং একশতাব্দী আগে পরমাণুও শনাক্ত করা যায় নি, কিন্তু পরমাণু যখন শনাক্ত করা যায় নি তখনও পরমাণু নিয়ে প্রচুর আলোচনা হয়েছে। ডালটনের পরমাণু তত্ত্ব আমরা সবাই পড়েছি। তিনি…
বিস্তারিত পড়ুন ...

ভিডিওঃ আমাদের এই পৃথিবীটা কত ছোট!

সাদামাটা পোস্ট এটা। আমাদের এই পৃথিবীটা কত ছোট তা অনুভব করা যাবে এই ভিডিওটা দেখে। আমাদের মাঝে কেহ যদি কখনো উচ্চতার একদম শিখরে চলে যায় এবং এটা নিয়ে নিজেকে বেশ বড় মনে করে তাহলে এই মহাকাল মহাকাশের তুলনায় পৃথিবী যে কত ক্ষুদ্র তা একটু অনুভব করে দেখলেই হবে।  এই মহাকাশে আমরা পৃথিবীর মানুষেরা বালুকণা, পরমাণুকণা মাত্র। তারপরেও এই বিশাল গ্রহের সাগরে, প্রতিকূল পরিবেশে না হয়ে আমাদের ঠাই হয়েছে এই মধুর পৃথিবীতে। :) বলা যায় পরীক্ষামূলক পোস্ট এটা। ব্লগে ভিডিও বা এরকম কিছু শেয়ার করতে গেলে ব্যক্তিগতভাবে কিছু কৌশলগত সমস্যায় পড়তে হয়। সেগুলো উৎরাতে এবং শিখে নেবার উদ্দেশে এটা করা ।
বিস্তারিত পড়ুন ...

রোজেটা, ফাইলি ও হায়াবুসা – নামাকরণের নাটক

ফাইলি নামে একটি মহাকাশযান 67P চুরিউমভা-গেরাসিমেঙ্কো নামে একটি ধূমকেতুতে অবতরণ করেছে। এই ধূমকেতুটির নাম হয়েছে দুজন রুশ জ্যোতির্বিদের নামে যাঁরা ধূমকেতুটি ১৯৬৯ সনে আবিষ্কার করেছিলেন। ধূমকেতু ৬৭P চুরিউমভা-গেরাসিমেঙ্কো। ধূমকেতুটির একদিক থেকে অন্যদিক ছয় কিলোমিটারের বেশী নয়। আমার প্রথম অভিযোগ হল এরকম একটা নাম এই যানটিকে দেওয়া হয়েছে যার উচ্চারণ সম্পর্কে কেউই একমত নন। ইংরেজিতে লেখা হচ্ছে Philae – এর উচ্চারণ শুনলাম ফিলাই, ফিলে, ফিলি, ফাইলাই। ১৫ নভেম্বর ইউটিউবে এইজন্য একটা ছোট কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও দেয়া হয়েছে যেখানে এটাকে বলা হচ্ছে ফাইলাই। অথচ ৭ই জুনের ঐ একই উৎসের একটি ভিডিওতে বলা হচ্ছে উচ্চারণটা ফাইলিও হতে পারে। আমি কেন এটা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি? আমার মতে মহাকাশযানের নাম এমন হতে হবে যাতে ভবিষ্যতের মানুষেরা অনায়াসে সেটাকে স্মরণ করতে পারে। এপোলো ১১র চাঁদের ল্যান্ডার…
বিস্তারিত পড়ুন ...

থাকে শুধু অন্ধকার

সায়েন্স ফিকশন উপন্যাসগুলোতে প্রায়ই দেখা যায় মহাকাশযানে চেপে মানুষকে দূর নক্ষত্রে পারি দিতে। কিন্তু উপন্যাসিকের কল্পনায় আঁকা মহাকাশযানের ভেতরের সত্যিকার বাস্তবতা কেমন তা মনে হয় এ বিষয়ে আগ্রহীদের না জানলেই নয়। তারই কিছুটা আভাষ পাওয়া যেতে যাবে “থাকে শুধু অন্ধকার” নামের বইটিতে। মহাকাশযানে চেপে দূর নক্ষত্রে পাড়ি দিতে কত যে জটিলতার মুখোমুখি হতে হবে, কত যে সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠতে হবে তা নিয়ে তাক লাগানো কিছু আলোচনা করা হয়েছে এই বইটিতে। শক্তি ব্যবহারে আমাদের আজকের যে প্রযুক্তি সে প্রযুক্তিতে অতি কাছের নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টারিতে যাত্রা করতে হলেও আরও দুইশো অপেক্ষা করতে হবে। সবচে কাছের একটা নক্ষত্রের দিকে মাত্র একটা যাত্রা করতেও যে পরিমাণ ‘এটা-ওটা ’র দরকার হবে তা স্বাভাবিক হিসেবে মানুষের পক্ষে দুইশো বছরের আগে যোগান দেয়া সম্ভব নয়। অবশ্য যদি প্রযুক্তিতে…
বিস্তারিত পড়ুন ...