আদিম জলের সন্ধানে

চিন্তা করে দেখুন আজ থেকে প্রায় ৩৫ কোটি বছর আগে সমুদ্র থেকে উঠে এসেছিল কোন এক উভচর মাছ, তারপর কোটি কোটি বছর চলে গেছে, সেই মীন থেকে উদ্ভূত হল সরীসৃপ, পাখী, স্তন্যপায়ী জীব, পৃথিবী ঘুরল প্রায় দু'বার গ্যালাক্সির কেন্দ্রের চারধারে, অবশেষে মানুষ মাত্র সেইদিন যেন গাছ থেকে এল নেমে। আমরা প্রকৃতই জলজাত, আমরা জলের সন্তান। কিন্তু আমরা জলেই থাকতে পারতাম। মৎস থেকে বিবর্তিত হতাম কিংবদন্তীর মৎসমানুষে। কিন্তু সেই জলজ সভ্যতা কি জ্যোতির্বিদ্যার চর্চা করতে পারত? পৃথিবীরপৃষ্ঠ তাদের জন্য হত অস্পৃশ্য।  সেখানে যদি তারা দূরবীনও স্থাপন করতে পারত, সেই দূরবীন তাদেরকে মহাসমুদ্রের নিচ থেকে চালনা করতে হত।  তারা কি স্থলচর মানুষের মত মহাশূন্যে ভ্রমণের কথা ভাবতে পারত? আবিষ্কার করত কি তারা দূরবর্তী গালাক্সি, এই প্রসারণশীল মহাবিশ্বের রূপ? জলের নিচ থেকে উৎক্ষেপিত…
বিস্তারিত পড়ুন ...

বাংলাদেশে ধূমকেতু পর্যবেক্ষণ

’’ধূমকেতু শব্দের মানে ধোঁয়ার নিশান। ওর চেহারা দেখে নামটার উৎপত্তি। গোল মুন্ড আর তার পিছনে উড়ছে উজ্জ্বল একটা লম্বা পুচ্ছ। এই পুচ্ছটা অতি সূক্ষ্ম বাষ্পের।’’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর বিশ্বপরিচয় গ্রন্থে ধূমকেতুর পরিচয় ঠিক এভাবেই তুলে ধরেছেন। ধূমকেতু সৌরজগতের আদি বস্তুসমূহের অন্যতম। যেসব বছর আকাশে ধূমকেতুর আবির্ভাব ঘটে সেবছরগুলো জ্যোতির্বিদ ও আকাশপ্রেমীদের জন্য থাকে খুব আনন্দের। বেশিরভাগ ধূমকেতুর আলো খালি চোখে দেখতে পাবার মতো তেমন উজ্জ্বল হয়না। এটি উজ্জ্বল না অনুজ্জ্বল দেখা যাবে তা নির্ভর করে সূর্য, পৃথিবী এবং এর নিজের দূরত্বের উপর। সেক্ষেত্রে আকাশে যে ধূমকেতু দেখা দিয়েছে তা সাধারণ লোকে জানতেও পারেনা। তাই আকাশে ধূমকেতু দেখতে পাওয়াটা এমনিতে বিরল সুযোগ। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বাংলাদেশ থেকে যেসব ধূমকেতু পর্যবেক্ষণের কথা জানা গেছে এখানে তাদের কথা…
বিস্তারিত পড়ুন ...

নিউট্রিনো: মহাবিশ্বের ভূত

২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের কথা, তখনকার সময়ে নিয়মিত বিভিন্ন পত্রিকার সাপ্তাহিক বিজ্ঞান পাতার মাঝে ঘুরাঘুরি করে বেড়াতাম। সেই সময়ে এমন একটা খবর বেরিয়েছিল যার কারণে সারা দুনিয়ায় হুলস্থূল পড়ে গিয়েছিল। খবরটি ছিল এরকম- "নিউট্রিনো ছোটে আলোর চেয়ে বেশি গতিতে"।   যারা বিজ্ঞানের হালচালের অল্প স্বল্প খোঁজখবর রাখে তাদের জন্য তো এটা অবাক করা ঘটনাই, পাশাপাশি যারা বিজ্ঞানের ছাত্র নয়, তাদেরও যেন অবাক করা অবস্থা। সাধারণ মানুষ বিজ্ঞানের জটিল তত্ত্ব-সূত্র না জানলেও আইনস্টাইন যে একটা যুগান্তকারী কিছু করেছিলেন সেটা জানে। আইনস্টাইনের অত্ত্ব অনুসারে আলোর বেগের চেয়ে বেশি বেগ অর্জন সম্ভব নয়। সেই আইনস্টাইনের কথাকে যদি ভুল বলা হয় তাহলে অবাক হবারই কথা। কি হল কিনা? কি দেখা যায় কিনা? এসব কী শুনছি? সত্যি বলছে তো? কারণ এই তথ্য সঠিক হয়ে থাকলে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

গণিতবিদ আব্রাহাম ডি ময়ভার

ডি ময়ভার (Abraham De Moivre)। তিনি ছিলেন বিজ্ঞানী আইজ্যাক নিউটনের বন্ধু। শুধু নিউটনের বন্ধুই নয় একসময়কার রাজকীয় গ্রিনিচ মান-মন্দিরের প্রধান এডমন্ড হ্যালিরও বন্ধু ছিলেন তিনি। তার এই দুই বন্ধুর অবদান প্রধানত বিজ্ঞানে আর তার অবদান গণিতে। অবশ্য তিনি জীবনের একটা সময় বিজ্ঞান চর্চা করে কাটিয়েছিলেন। ১৬৬৭ সালের ২৬শে মে ফ্রান্সে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মূলত জটিল সংখ্যা ও ত্রিকোণমিতির উপর তার দেয়া উপপাদ্যের জন্য বিখ্যাত। তিনি এক সূত্রে ত্রিকোণমিতি আর কাল্পনিক সংখ্যার জগতকে এক সুতায় বেধে ফেলেছিলেন। তাছাড়াও সম্ভাব্যতা তত্ত্ব, সাধারণ বণ্টন সহ কয়েকটি ক্ষেত্রে তার অবদান আছে। তার ত্রিকোণমিতি ও জটিল সংখ্যা বিষয়ক কাজ করার আগেই তিনি সম্ভাব্যতার তত্ত্ব নিয়ে দুইটি গবেষণা প্রকাশ করেন। তিনি সম্ভাব্যতা তত্ত্বের উপর একটি বইও লিখেন- নাম 'দ্যা ডকট্রিন অব চান্সেস'। তার এই বইটিই ছিল…
বিস্তারিত পড়ুন ...

জীবনের উদ্ভব: প্যান্সপারমিয়া তত্ত্ব পরিচিতি

পৃথিবীতে প্রাণের উদ্ভব হলো কি করে এই প্রশ্নটা যুগের পর যুগ ধরে মানুষকে আলোড়িত করে আসছে। বিভিন্ন লোকসংস্কৃতি, ধর্ম ও পুরাণ এই প্রশ্নের উত্তর দিতে চেয়েছে নানা ভাবে। বিজ্ঞানও এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বেশ কিছু তত্ত্ব দাঁড়া করিয়েছে, যাদের মধ্যে কোন কোনটা আবার কল্পবিজ্ঞানের মতোই শোনাবে। বিজ্ঞান ও কল্পবিজ্ঞানের সীমারেখায় দাঁড়িয়ে থাকা এমন একটি তত্ত্ব হলো প্যান্সপারমিয়া। প্যান্সপারমিয়ার মূল বক্তব্য হলো প্রাণের উদ্ভব পৃথিবীতে হয় নি। মহাবিশ্বের অন্য কোথাও প্রাণের উদ্ভব হয়েছে। উল্কা, ধূমকেতু কিংবা গ্রহাণুরা এই প্রাণ পৃথিবীতে বহন করে নিয়ে এসেছে। প্রথম দর্শনে প্যান্সপারমিয়া তত্ত্বটিকে কোন উর্বর মস্তিষ্কের লাগামহীন কল্পনা বলে মনে হতে পারে। তবে বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণমূলক সাক্ষ্যপ্রমাণ ইঙ্গিত দেয় যে প্যান্সপারমিয়া বিজ্ঞানের গন্ডী পেরিয়ে যায় নি। পৃথিবীতে প্রথম প্রাণের প্রমাণ পাওয়া যায় ৩৫০-৩৮০ কোটি…
বিস্তারিত পড়ুন ...