পিঁপড়ার ব্যক্তিত্ব

একটি স্বপ্ন। একটি সুন্দর পৃথিবীর স্বপ্ন। একটি সুন্দর জীবনের স্বপ্ন। এই স্বপ্নটি পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের একটি সাধারণ স্বপ্ন। এই স্বপ্নই মানুষকে অণুপ্রাণিত করেছে সমাজের ছায়াতলে এসে একটি সুন্দর পৃথিবী গড়ার,স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপনের। কথাটি শুধু মানবসমাজের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়,ক্ষুদ্রাকার পিপীলিকা সমাজের জন্যও প্রযোজ্য। সমাজকে সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য সমাজের সদস্যদের সংঘবদ্ধভাবে বিভিন্ন ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রয়োজন পড়ে। সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যেক সদস্যের মতামতের ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।মতামত কেমন হবে তা নির্ভর করে সদস্যটির ব্যক্তিত্ব,রুচিশীলতা প্রভৃতির উপর। সমাজের প্রতিটি সদস্যের ব্যক্তিত্ব আলাদা। এই ব্যক্তিত্বের বৈচিত্রের কারণে তৈরী হওয়া বিচিত্র মতামতকে বিবেচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য মানুষ বৈচিত্র্যময় পন্থার কথা ভেবেছে। প্রয়োগও করেছে। তারমধ্যে সর্বাপেক্ষা আলোচিত এবং প্রচলিত পন্থা সম্ভবত ভোট দেয়া। এখন পিঁপড়াদের মধ্যে তো ভোটাভুটির মতো কোন ব্যাপার প্রচলিত নাই। তাহলে পিঁপড়া সমাজ…
বিস্তারিত পড়ুন ...

গোলাপী হ্রদ

প্রকৃতি ও মানবমনের সম্পর্ক চিরদিনের। প্রকৃতির নয়নাভিরাম সৌন্দর্য মানবমানকে সবসময়ই আলোড়িত করে। চোখজুড়ানো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কোন স্হানের সংস্পর্শে মানবহৃদয় আবিষ্ট হয় গভীর ভালোলাগার অনুভূতিতে। আশ্চর্য এক প্রশান্তিতে ছেয়ে যায় মন। প্রকৃতির এই রূপ সৌন্দর্য একেক জায়গায় একেক রকম। বিস্তৃত গভীর নীল জলরাশির বিশালতা থেকে অরণ্যের সবুজ সতেজতা সবই আমাদের মন কাড়ে। প্রকৃতি প্রেমের অজস্র উদাহরণ আমরা দেখতে পাই গল্প,উপন্যাস, কাব্যে বা গানে। পৃথিবী বিখ্যাত হ্রদগুলোর মাঝে রয়েছে -লবণাক্ত পানির হ্রদ কাস্পিয়ান সাগর, সুপেয় পানির হ্রদ লেক সুপিরীয়র, উচ্চতম হ্রদ টিকিটাকা বা গভীরতম হ্রদ বৈকাল। পৃথিবীর বেশিরভাগ হ্রদই অবস্থিত উত্তর গোলার্ধে। হ্রদের জন্য বিখ্যাত হাজার হ্রদের দেশ ফিনল্যান্ড। এছাড়া প্রাকৃতিক হ্রদের এক বিশাল সমাহার রয়েছে কানাডা এবং সাইবেরিয়ায়। সাইবেরিয়া নামটা শুনলে আমাদের চোখে যে চিত্রটি ভেসে ওঠে তা হচ্ছে -বরফঢাকা বিস্তৃত…
বিস্তারিত পড়ুন ...

প্লাস্টিকখোর মাছ আর তার করুণ কাহিনী!

এক দেশে এক মাছ ছিলো। সে মনের আনন্দে পানির গভীরে এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াত। আর খিদে পেলে খেতো শ্যাওলা আর ছোট ছোট প্ল্যাঙ্কটন। একদিন হঠাৎ সে একটা প্লাস্টিক কণা দেখলো। লোভ সামলাতে না পেরে সে ওটা খেলো। আর রীতি ভঙ্গের জন্যে সে হলো অভিশপ্ত! এটা কোন রূপকথার চমৎকার গল্প হতে পারতো। কিন্তু এটা এখন বাস্তব অবস্থা! প্লাস্টিক দূষণ এখন মানব সভ্যতার অন্যতম হুমকির একটি। Uppsala University বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা গবেষণা করে দেখেছেন যেসব বাচ্চা মাছ মাইক্রোপ্লাস্টিক খায় তারা অন্য মাছের শিকারে বেশি পরিণত হয়। তার মানে যারা প্লাস্টিক খাচ্ছে তাদের কিছু একটা হচ্ছে যার ফলে তারা অন্য মাছের শিকারে পরিণত হচ্ছে আগের চেয়ে বেশি। গবেষকরা আরো বলছেন মাছগুলো তাদের সচারাচর খাবারের চেয়ে মাইক্রোপ্লাস্টিক বেশি পছন্দ করছে। মাইক্রোপ্লাস্টিক হচ্ছে প্লাস্টিকের কণা যারা…
বিস্তারিত পড়ুন ...

দগ্ধ পৃথিবী, ২২০০ খ্রিষ্টাব্দ

জলবায়ুর পরিবর্তন পরাস্ত করেছে মানুষের দাপট – মাত্র পঞ্চাশ কোটি পৃথিবীবাসী অবশিষ্ট উত্তরের জীবন-তরীতে। কিভাবে বেঁচে আছে তারা? ১. অভেদ্য, নিয়ন্ত্রিত আবহাওয়ার সুউচ্চ বহুতল ভবনের ৩০০ তলায় ক্ষুদ্র ফ্ল্যাটের জানালা দিয়ে তাকাই – মাটির আধামাইল উপরে আমার ফ্ল্যাট থেকে মনোমুগ্ধকর বীথিদৃশ্য চোখে পড়ে: বেশ কিছু বাংলো, ছিমছাম উঠান, পান্না-সবুজ রাঙা খেলার মাঠ, সূর্যের আলো ঝিলিক দেয়া সুইমিং পুল, আর দীর্ঘ বেলাভূমির ওপারে তৈরি কিছু প্রাসাদসম অট্টালিকা। দৃশ্যগুলো লস এঞ্জেলস শহরের স্মৃতি মনে করিয়ে আকুল করে দেয়। শহরটি এখন অস্তিত্বহীন, যেখানে শান্তিপূর্ণ সময়ে বড় হয়েছেলিন আমার দাদার-দাদা, যখন নবজাতকের জন্মদান কঠিনভাবে নিয়ন্ত্রিত হতো না, আর সাতশ' কোটি মানুষ মুক্তভাবে ঘুরতেন পৃথিবী বুকে।   এখন পৃথিবীতে আমরা মাত্র পঞ্চাশ কোটি মানুষ বেঁচে আছি, জলবায়ুর পরিবর্তন কমিয়ে এনেছে এ গ্রহের ধারণ ক্ষমতা (carrying…
বিস্তারিত পড়ুন ...

টেকটনিক সক্রিয়তাঃ যার জন্য সবুজ আজকের পৃথিবী

ভূমিকম্প! শব্দটি শুনলেই চট করে কিছুদিন আগে ঘটে যাওয়া নেপালের বিভীষিকার কথা মনে পরে যায়। আমরা যদি আরেকটু অতীতের কথা স্মরণ করি তাহলে ২০১২ সালে ঘটে যাওয়া জাপানের সেই ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প আর সুনামির দৃশ্য চোখের সামনে ভেসে উঠে। কিন্তু ভূমিকম্প কি সুধুই বিভীষিকার আর ধ্বংসের কথা মনে করিয়ে দেয়? আসলেই তাই। তবে, এই ধ্বংস আর পরিবর্তনের কারনেই আজকের এই সুন্দর পৃথিবী। এই ভূমিকম্প আর টেকটনিক সঞ্চালনের কারনেই পৃথিবী এখন সবুজ, এখানে রয়েছে নদি, খাল সমুদ্র আর এতে আছে পানির নির্মল প্রবাহ। আছে আমাদের বায়ুমণ্ডল আর জীববৈচিত্র! এই ভূমিকম্পই আমাদের গ্রহকে উষ্ণ রাখছে আর মূল চালিকা শক্তি হিসেবে চালাচ্ছে আমাদের পুরো পৃথিবীকে। আজ যদি পৃথিবীতে এই টেকটনিক সক্রিয়তা না থাকত যদি কোন ভূমিকম্প সংগঠিত না হত তাহলে আমরা কখনই পৃথিবীতে জীবন…
বিস্তারিত পড়ুন ...

কৃত্রিম বৃষ্টি : প্রকৃতি যখন হাতের নাগালে [৩- শেষ পর্ব]

[২য় পর্বের পর থেকে] নানা কাজে নানা দিকে ব্যবহারঃ কোনো একটি এলাকায় কৃত্রিম বৃষ্টি সে এলাকার বার্ষিক বৃষ্টির ১০%-২০% বৃষ্টি বৃদ্ধি করতে পারে। ফসল নেই এমন সময়ে অধিক বৃষ্টি হলে ঐ দৃষ্টিকোণ থেকে খুব বেশি লাভ নেই। ফসলের প্রয়োজনে ৫% বৃষ্টিই পর্যাপ্ত! সময়মতো অল্প বৃষ্টিপাত দিয়েই ভাল ফসল ফলিয়ে নেয়া যায়। এই প্রক্রিয়ায় বন্ধ্যা জমি মানে যে সকল জমিতে পানির অভাবে কখনোই ফসল করা হয় না এমন জমিতেও ফসল ফলানো সম্ভব। আবার কিছু কিছু এলাকায় এটি ভাল ফলাফল নাও বয়ে আনতে পারে। মানুষ এখনো পরিপূর্ণভাবে প্রকৃতিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা শিখে নিতে পারে নি। দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণে কৃত্রিম প্রভাবনঃ মাঝে মাঝে এমনও শোনা যায় কৃত্রিম বৃষ্টিপাত প্রক্রিয়া ব্যবহার করে ঘূর্ণিঝড় হারিকেনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ সামাল দেয়ার চেষ্টা করা হবে। ঘূর্ণিঝড় এলাকায় প্রচুর…
বিস্তারিত পড়ুন ...

কৃত্রিম বৃষ্টি : প্রকৃতি যখন হাতের নাগালে [২]

[১ম পর্বের পর থেকে] কৃত্রিম বৃষ্টি তৈরিঃ কৃত্রিমভাবে বৃষ্টি নামানোর ক্ষেত্রে প্রধানত দুইটি উপায় দেখা যায়। একটি হচ্ছে ভূমি হতে কামান বা কোনো নিক্ষেপকের মাধ্যমে বায়ুমন্ডলের ট্রপোস্ফিয়ার এলাকা বা মেঘের দেশে ঘনীভবনকারী পদার্থ ছুড়ে দেয়া। কিংবা ভূমি হতে এমন কোনো ব্যবস্থা তৈরি করা, অনেকটা ধোঁয়া যেমন ধীরে ধীরে উপরে ওঠে যায় তেমন করে এই রাসায়নিক পদার্থগুলোও যেন উপরে ওঠে যায়। এই পদ্ধতিতে প্রথমে বাহকের মাঝে রাসায়নিক ভরা হয়। যেহেতু এটি রকেটের মতো করে ছুড়ে মারা হবে তাই উড়ার জন্য বাহককেও রকেটের মতো করে বানানো হয়। সেই রকেট একটি কামানের মতো নিক্ষেপক যন্ত্রের মাঝে রাখা হয়। পরে দিক ও লক্ষ ঠিক করে ছুড়ে মারা হয় উপরে। নিচের ছবিগুলো লক্ষ করি। চিত্র: চীনে কৃত্রিম ভাবে বৃষ্টি নামাতে কামানের মাধ্যমে করে রাসায়নিক ছুড়ে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

কৃত্রিম বৃষ্টি : প্রকৃতি যখন হাতের নাগালে [১]

মানুষের প্রয়োজন ও সক্ষমতাঃ খ্রিস্টের জন্মের ২১৫০ বছর আগে চীনের ইতিহাসের দিকে একটু ফিরে তাকালে দেখা যাবে সেখানকার সম্রাট ইয়ু তার রাজ্যের বন্যা নিয়ন্ত্রণ করার ব্যবস্থা তৈরি করার মাধ্যমে কৃষকের ফসল রক্ষা করে বিখ্যাত হয়ে আছেন। কিন্তু আজকের দিনের সেই চিত্র একদমই ভিন্ন। একসময় যে চীনের এক স্থানে নদীর পানি আটকে রাখা শক্ত ছিল আজ এত বছর পরে সেই চীনেই একফোঁটা পানির জন্য নানা কসরত করতে হয়। পানি মানুষের জন্য আশীর্বাদ। একসময় বৃষ্টি হবে, এই আশা করে এখনো অনেক এলাকায় ধান লাগানো হয়। যদি উপযুক্ত সময়ে বৃষ্টি না হয় তাহলে ধানের জমি কৃষকের মন খুশি করতে পারে না। বাংলাদেশেরই আবহাওয়া এরকম যে, দেখা গেল একসময় দিনের পর দিন বৃষ্টি হয়ে গেল যতটা বৃষ্টি মানুষের কোনো দরকার নেই। বৃষ্টি হতে হতে…
বিস্তারিত পড়ুন ...