আমার কম্পিউটার – স্টিফেন হকিং

১৪ মার্চ - একই সাথে পাই দিবস এবং আইন্সটাইনের জন্মবার্ষিকী। তাই এতদিন বিজ্ঞানপ্রেমী যে কারো কাছে এটা ছিল একটা উৎসবমুখর দিন। কিন্তু এ বছর এই একই দিনে  না-ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন আমাদের সময়ের অন্যতম তাত্ত্বিক পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং। নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে কম্পিউটার যুক্ত হুইলচেয়ারে বসা বাক-চলনশক্তিহীন সেই অতিপরিচিত প্রখর চিন্তশীল মানুষটি। তিনি শুধু জনপ্রিয় বিজ্ঞানী নন, যেকোন ব্যাক্তির জন্যই অনুপ্রেরণার অপর নাম তিনি - চূড়ান্ত শারীরিক প্রতিবন্ধকতাও যাঁর প্রতিভা এবং সফলতাকে বিন্দুমাত্র দমিয়ে রাখতে পারেনি। যে যন্ত্র-প্রযুক্তির সাহায্যে কালের এই মহানায়ক তাঁর কঠিন বাস্তবতাকে মোকাবিলা করে গেছেন, চলুন আজ সেই সম্পর্কে শুনে আসি তাঁর নিজের জবানিতে :- সেই ১৯৯৭ সাল থেকে আমার কম্পিউটার ভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সার্বিক দায়িত্ব আছে ইন্টেল কর্পোরেশন। একটা ট্যাবলেট কম্পিউটারকে আমার হুইল-চেয়ারের হাতলে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

বেহালা-বাদক, শয়তানের বর কিংবা বংশগতি

নিকোলো প্যাগানিনি পাশ্চাত্য ধ্রুপদী সংগীতের একটি বিখ্যাত নাম। আঠারোশো শতকের শেষ দিকে ইতালিতে জন্ম নেন তিনি। প্যাগানিনি সমসাময়িক ইউরোপ মাতিয়ে তুলেছিলেন তার বেহালার জাদু দিয়ে। পাশ্চাত্য সংগীতে বেহালা বাজানোর আধুনিক রীতি স্থাপন করেছেন তিনি। তার তৈরি সুর এখনো জনপ্রিয়। বহু বেহালা-বাদকের অনুপ্রেরণা হলেন প্যাগানিনি। অদ্ভূত বিষয় হলো, তার এই সাফল্যের অন্তত আংশিক কারণ ছিলো বংশগতির একটি দূর্লভ রোগ। অন্য অনেক প্রতিভাধর সংগীতজ্ঞের মতোই প্যাগানিনি ছোটবেলাতে সংগীতচর্চা শুরু করেন। তিনি পাঁচ বছর বয়সে গিটার আর সাত বছর বয়সে বেহালা বাজানো শেখা শুরু করেন। খুব দ্রুতই এ যন্ত্রগুলো তার আয়ত্বে চলে আসে। মাত্র আঠারো বছর বয়সে আশেপাশের এলাকায় তিনি পরিচিতি লাভ করেন। আর ত্রিশ বছর হতে না হতেই সারা ইউরোপে তার খ্যাতি ছড়িয়ে যায়। কিন্তু প্যাগানিনি যখন মারা যান তখন তার জন্মস্থান…
বিস্তারিত পড়ুন ...

মেঘনাদ সাহা- একজন বিজ্ঞানী ও বিপ্লবী

বৃটিশ শাসনামলে মেঘনাদ সাহা ভারতবর্ষ তথা সারা বিশ্বে একজন খ্যাতিমান পদার্থবিদ হিসেবে সমাদৃত হয়েছিলেন। ১৯২০ এর দশকে তিনি নক্ষত্রের বর্ণালী বিশ্লেষনে তাপীয় আয়নীকরণ তত্ত্বে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। ভারতের স্বাধীনতার পূর্বে ও পরে আমৃত্যু তিনি বিজ্ঞানের জন্য এবং বিজ্ঞানমনষ্কতা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য নিরন্তর কাজ করে গেছেন। তাঁর জীবনী আমাদের উৎসাহীত করবে নানা ভাবে। প্রথমতঃ তিনি বাংলাদেশের এক অজপাঁড়া-গাঁ এর দরিদ্র ও নিন্মবর্ণের হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহন করেও নানা প্রতিকূলতার বাধা পেরিয়ে বিজ্ঞানের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছিলেন। দ্বিতীয়তঃ তিনি কেবল একজন বিনম্র পড়ুয়া লোকই ছিলেন না, তিনি ভারতের স্বাধীনতার জন্য বৃটিশ বিরোধী সশস্ত্র বিপ্লবে জড়িয়ে ছিলেন যে আন্দলনের ফসল হিসেবে ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতা অর্জিত হয়। আজ এই বিপ্লবী-বিজ্ঞানীর কঠোর জীবন-সংগ্রাম ও অবদানের গল্পই করব। মেঘনাদ সাহার জন্ম ১৮৯৩ সালের ঢাকা থেকে ৪০ কিলোমিটার…
বিস্তারিত পড়ুন ...

আইনস্টাইন মিথ : “হাল ছেড়ো না বন্ধু”

১. ফেব্রুয়ারি ১১ তারিখ, যেদিন মহাকর্ষ তরঙ্গের অস্তিত্ব সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন, অনেকের মতো আমিও এ বিষয়ে কৌতুহলী হয়ে উঠি। মহাকর্ষ তরঙ্গ বলে একটা জিনিস যে আছে তা প্রায় একশ বছর আগে বিজ্ঞানী আইনস্টাইন বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্বে বলে গেছেন। আবদুল গাফফার রনির "থিওরি অব রিলেটিভিটি” (অন্বেষা, ২০১৬) বইটি পড়ে ফেলি। লেখক সাবলীল ভাষায় এ তত্ত্বটির মূল ধারণাগুলোর সহজবোধ্য বর্ণনা দিয়েছেন। বইটি পদার্থবিজ্ঞানের বই হলেও বেশ উপভোগ্য, গাণিতিক সূত্রের ছড়াছড়ি নেই। এই জটিল বিষয়ে প্রাথমিক সাক্ষরতা লাভের জন্য চমৎকার উৎস। আইনস্টাইন, যাকে বলা হয় বিজ্ঞানের পোস্টার-বয়, বিজ্ঞানের রঙিন জগতের একজন তারকা, তিনি আরেকবার জিতলেন। তাঁর তত্ত্বটিতে কি বলা হয়েছে, কিংবা মহাকর্ষ তরঙ্গ জিনিসটা আসলে কি – এ সব বিষয় নিয়ে আমি কিছুই লিখবো না। কারণ বাংলা ভাষায় অনেকেই এ বিষয়গুলো নিয়ে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

সংঘাতের বিবর্তন

পর্বঃ১ শূন্য কি? যদি এই প্রশ্ন কাউকে করা হয় তাহলে যে কেউ সাথে সাথে বলবে শূন্য মানে ফাঁকা বা যার কোন অস্থিত্ব নেই । কিন্তু শূন্য বলে তাকে অবজ্ঞা করাটা ঠিক হবে না। কারণ এ শূন্য থেকেই বহু কোটি বছর আগে এ মহাবিশ্বের জন্ম। সাধারণভাবে শূন্য থেকে কোন কিছুরি সৃষ্টি হয় না। কিন্তু কোয়াণ্টাম মেকানিক্স বলে শূন্য থেকেই অনেক কিছুর সৃষ্টি. তখন থেকেই বিবর্তনের শুরু। শূন্য থেকে মহা বিস্ফোরণের মাধ্যমে এ মহাবিশ্বের জন্ম। তার প্রায় বহু কোটি বছর পর জীবের আবির্ভাব। মহা  বিস্ফোরণের পর থেকেই বস্তুর সাথে বস্তুর সংঘর্ষ ঘটতে শুরু করেছে। জীবের জন্মলগ্ন থেকে তা জীবের সাথে জীবেরও সংঘাত ঘটছে ফলে বিবর্তন ঘটছে। সৃষ্টির শুরু থেকে যে সংঘাত ছিল বস্তুর সাথে বস্তুর তা পরিণত হয়েছে জীবের সাথে জীবের ,অস্তির…
বিস্তারিত পড়ুন ...

বিস্মৃত একজন গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য

বেশ কিছু কাল আগের কথা  বলছি। তখন রাজশার্দূল এর শাসনামল বিরাজমান। শরীয়তপুরের লোনসিং নামের একটি গ্রামে বাস করতেন এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ। নাম অম্বিকাচরণ ভট্টাচার্য। পেশা যজমানি। অর্থাৎ পুজোর দক্ষিণার দাক্ষিণ্যই তাঁর  সংসারযন্ত্রকে সচল রাখতে সাহায্য করত।তবে মধ্যে কাজ করতেন স্থানীয় জমিদারের কাছারিতেও । তাঁর পরিবারেই ১৮৯৫ সালের পহেলা আগস্ট গৃহিণী শশিমুখী দেবী জন্ম দেন এক পুত্র সন্তানের। দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম নেওয়া পিতামাতার জ্যেষ্ঠ সন্তানটির কথাই আজকে বলতে বসেছি। তাঁর নাম গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য। ভারতীয় উপমহাদেশে তিনিই সম্ভবত কীট আচরণ বিদ্যার পথিকৃৎ। পাঁচ বছর বয়সে অম্বিকাচরণ পরলোক গমন করেন। বাড়ে  দারিদ্র্যের মাত্রা। দরিদ্র পরিবারের দারিদ্র্যের এই কষাঘাত অম্বিকাচরণের শৈশবকে কষ্টময় করে তুলেছিল। তাই হাইস্কুল শেষ করার পর তিনি যখন ১৯১৩ সালে কলেজে আই এ পড়ার জন্য ভর্তি হলেন তখন তাঁর আর…
বিস্তারিত পড়ুন ...

রহস্যাবৃত নিকোলা টেসলা (অণুপোস্ট)

গত ১০ জুলাই নিকোলা টেসলার জন্মদিন গেল। টেসলা আধুনিক বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার প্রবর্তক। টেসলা একজন রহস্যময় মানুষ; তাঁকে নিয়ে যতটা জল্পনা-কল্পনা, গল্প ও গুছব ছড়িয়েছে ততটা অন্য কোনো গবেষককে নিয়ে ছড়িয়েছে বলে মনে হয় না। ১৮৮২ সালে টেসলা, টমাস আলভা এডিসনের অধীনে কাজ শুরু করেন। এডিসনের অনুন্নত DC বিদ্যুৎ জেনারেটরের উন্নতি সাধনের জন্য তিনি নিয়েজিত হন এবং এই কাজের জন্য তাঁকে ৫০ হাজার ডলার পারিশ্রমিক দেওয়া হবে বলে এডিসন তাঁকে জানান। কিন্তু যন্ত্রগুলোর নতুন ডিজাইন তৈরির পর এডিসন দাবী করেন তিনি টেসলার সাথে রসিকতা করেছিলেন, এবং পরিবর্তে তাঁর সাপ্তাহিক পারিশ্রমিক ১০ ডলার থেকে উন্নীত করে ১৮ ডলার করে দেওয়ার প্রস্তাব করেন। টেসলা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এডিসনের কোম্পানী ত্যাগ করেন। ১৮৮৭ সালে টেসলা আলফ্রেড ব্রাউনের সাথে যৌথভাবে টেসলা ইলেক্ট্রিক কোম্পনী…
বিস্তারিত পড়ুন ...

নীলচে আলোয় নোবেল জয়

  ইলেক্ট্রোলুমিনেসেন্স (Electroluminescence) বা বৈদ্যুতিক প্রতিপ্রভা নামক একধরনের ঘটনা সম্বন্ধে পদার্থবিদগণ ১৯০৭ সাল থেকে অবগত আছেন। এধরনের ঘটনায় একটি বস্তুর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে তা আলো নির্গত করে। তবে এই ঘটনা কৃষ্ণবস্তু নিঃসরণের চেয়ে ভিন্ন ধরনের। আমরা সাধারণ বৈদ্যুতিক বাতির মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ চালিয়েও আলো পেয়ে থাকি। বৈদ্যুতিক বাতিতে একটি ফিলামেন্টের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় এবং তার ফলে এটি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং আলো উৎপন্ন হয়। ইলৈক্ট্রলুমিনেসেন্স এ ধরনের ঘটনা নয়। বরং এই ক্ষেত্রে ইলেক্ট্রন সরাসরি দৃশ্যমান আলো নির্গত করে যখন সে একটি অর্ধপরিবাহীর মধ্য দিয়ে গমন কালে একটি ‘হোল’ এর দেখা পায়। সহজ কথায় ‘হোল (hole)’ হচ্ছে ইলেক্ট্রনের ঘাটতি। একটি অর্ধপরিবাহীর পরমাণুতে যদি ইলেক্ট্রনের ঘটতি থাকে তাহলে একটি ইলেক্ট্রন সেই স্থান দখল করে স্থিতিশীল হতে পারে এবং…
বিস্তারিত পড়ুন ...