বইঃ বস্তুর গভীরে

জিরো টু ইনফিনিটির সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মাহমুদের তৃতীয় বই। বইটির সবচে দারুণ দিক হচ্ছে এর প্রকাশনার মিষ্টতা। ৮০ পৃষ্ঠার বই কিনতে গেলে ১২০ টাকা গুনতে হয়। আজকালকার বইয়ে প্রতি পৃষ্ঠার দাম পড়ে দেড় টাকা থেকে দুই টাকা। নিয়মিত পাঠকদের জন্য এটা একটা মোটা দাগের সমস্যা। কিন্তু এই বই মাত্র ৫০ টাকা। এখানেই শেষ নয়। এর পৃষ্ঠাগুলো দিয়েছে গ্লসি পেপারে। খুবই মূল্যবান কিছু গ্লসিতে ছাপানো হয় এবং তা হয় অনেক খরচবহুল। কিন্তু প্রকাশনী হিসেবে জিরো টু ইনফিনিটি খুবই অল্প মুনাফা করছে, বা যতটুকু সম্ভব কম দাম রাখছে। আর এই বই বিক্রি হয়েছে, হচ্ছে ফুটপাতের দোকান হতে অভিজাত লাইব্রেরীতে। যে বই অভিজাত লাইব্রেরীতে বিক্রি হয় সে বই ফুটপাতে চলে না, যে ফুটপাতে চলে সে বই অভিজাত লাইব্রেরীতে তোলে না। জিরো টু ইনফিনিটি…
বিস্তারিত পড়ুন ...

মুদ্রায় বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞান

বাংলাদেশের মুদ্রাগুলোর জন্য আক্ষেপ হয়, বেচারাদের হাঁপ ছেঁড়ে বাঁচার যেন কোনো সুযোগ নেই। সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে টাকা তার রূপ বদলাতে বাধ্য হয়। এক সরকার আসলে সকল টাকাতে সরকারের আত্মীয় (স্বজন) সম্পর্কীয় কারো ছবিতে ছেয়ে যায়। পরে যদি ঐ সরকার পরিবর্তিত হয়ে অন্য সরকার আসে তাহলে টাকার উপর শুরু হয় ঠিক আগের সরকারের বিপরীত প্রক্রিয়া। আগের সরকারের সকল টাকা বদলে নতুন রূপের টাকা ছাড়ে। প্রথম দলটির নাম আওয়ামীলীগ,পরেরটির নাম বিএনপি। প্রথম দলের দেশের আবেগ অনুভূতি নিয়ে, দেশের ভিত্তি নিয়ে কাজ করেছে এমন কিছু আছে যা পরের দলটির নেই তেমন একটা। যদি থাকতো তাহলে অবশ্যই টাকাতে দ্বিতীয় দলের কারো ছবি ছাপিয়ে ভরে ফেলতো। ব্যাংক নোটের এই অবস্থা নিয়ে আমার একটা স্থায়ী অসন্তোষ। এই ব্যাপারটাতে আমি ভারী অতৃপ্ত। বিজ্ঞান লেখক জাফর ইকবালের…
বিস্তারিত পড়ুন ...

ভ্যাক্সিন, এক স্বর্গীয় আশীর্বাদ

এ বছরে ‘The Croods’ নামে একটা অ্যানিমেটেড মুভি বের হয়েছিল। মুভিটা অনেকেই দেখেছেন। Croods রা মূলত গুহামানব। সারা পৃথিবী থেকে তারা বিচ্ছিন্ন। গুহাতেই তারা তাদের জীবনের প্রায় পুরোটাই কাটিয়ে দেয়। প্রকৃতির নানা প্রতিকূলতার সাথে তারা দিন রাত যুদ্ধ করে টিকে থাকার জন্যে। প্রকৃতির ঘটনাগুলোর ব্যাখ্যা তারা জানে না। তাই তারা ঘটনাগুলোকে নিজের মত করে ব্যাখ্যা করে। আর তৈরি হয় নান মিথ।   মানুষের ইতিহাসও অনেকটা Croods দের মত। মানুষের কাছে যখন জ্ঞান-বিজ্ঞানের ছোঁয়া লাগে নি। তখন তারা প্রকৃতির কাছে এমনটাই অসহায় ছিল। আর মানুষের চরম শত্রু ছিল নানা প্রাণঘাতী রোগ। এমন একটি রোগ হলো গুটি বসন্ত বা Smallpox। যে রোগ ছিল লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যুর কারণ। আঠারো শতকের শেষ দিকে প্রায় চার লক্ষ ইউরোপিয়ানদের মৃত্যুর কারণ ছিল এই গুটি বসন্ত।…
বিস্তারিত পড়ুন ...

ফ্রেডরিক স্যাঙ্গারঃ কাজে বিশ্বাসী মানুষটি…

মেরী কুরি, জন বারডীন, লিনাস পলিং এবং ফ্রেডরিক স্যাঙ্গার। চারজন বিজ্ঞানী, নিজ নিজ ক্ষেত্রে অতুলনীয়। তবে তাদের মধ্যে একটা মিল হল, এই চারজনই দুই বার নোবেল পুরষ্কার অর্জনের বিরল সম্মানের অধিকারি। তবে এই লেখাটি শুধুই ফ্রেডরিক স্যাঙ্গারকে নিয়ে। সম্পুর্ন কর্মজীবন নিরলস ভাবে কাজ করে গেছেন এই বিজ্ঞানী। বাধ্যতামূলক অবসর গ্রহনের সময় আসার আগ পর্যন্ত নিজের কাজ ব্যাতীত অন্য কিছুতেই তার আকর্ষন ছিলোনা। প্রোটিন এবং ডিএনএ সিকোয়েন্সিং এ তার অবদান বৈপ্লবিক। আধুনিক প্রোটিওমিকস এবং জিনোমিকসের সবচেয়ে বড় অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে তার হাত ধরেই। তার এই সাফল্যের রহস্য কি? তার আত্নজীবনীতে একটি মূল্যবান সূত্র পাওয়া যায়, যেখানে তিনি বলেছেনঃ "বৈজ্ঞানিক গবেষনার সাথে জড়িত তিনটি বিষয়- চিন্তা, কথা এবং কাজের মধ্যে শেষটিকেই প্রাধান্য দেই এবং আমি এটাতেই পারদর্শী। চিন্তাভাবনা কিছুটা করতে পারলেও, কথা…
বিস্তারিত পড়ুন ...

কলঙ্ক গুণছি ৪০০ বছর ধরে

(বলা হয় বিজ্ঞানকে তাড়া দেয়া যায়না। যদিও নিবন্ধ প্রকাশের প্রতিযোগিতা বা ফান্ডিং এর সুযোগ এই ব্যাপারটাকে ঠিক সাহায্য করেনা। কিন্তু কিছু কিছু বিজ্ঞানের পরীক্ষাকে চাইলেও তাড়া দেয়া যায়না। যেমন মানুষের জীবন-দৈর্ঘ্য নিয়ে গবেষণা বা মহাজাগতিক পরীক্ষা। এদের জন্য সময় দিতে হয়। এমনই দীর্ঘ সময় ধরে চলা কিছু পরীক্ষা নিয়ে এই সিরিজ। দ্বিতীয় পর্ব)   গত ৪০০ বছর ধরে বিজ্ঞানীরা সূর্যের পৃষ্ঠদেশে দাগ, মানে সৌর-কলঙ্ক গুণছেন! অর্থাৎ যখন প্রথম গ্যালিলিও দূরবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন তখন থেকেই। গ্যালিলিও এমনকি সূর্যের গায়ের দাগগুলি ছবি এঁকে লিপিবদ্ধ করে রেখে গেছেন। নিচের ছবিতে দেখুন গ্যালিলিওর নিজের হাতে আঁকা সৌর-কলঙ্ক। গ্যালিলিও থেকে নাসা- সূর্যের কলঙ্ক গোণা এটাই সম্ভবত পৃথিবীর দীর্ঘতম পরীক্ষা।     প্রথম দিকে বিজ্ঞানীরা দাগগুলি লক্ষ্য করলেও তাদের ধারনাই ছিলনা যে আসলে দাগগুলি তৈরি হয়েছে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

৮৫ বছর, ড্রপগুলির অপেক্ষায়!

  (বলা হয় বিজ্ঞানকে তাড়া দেয়া যায়না। যদিও নিবন্ধ প্রকাশের প্রতিযোগিতা বা ফান্ডিং এর সুযোগ এই ব্যাপারটাকে ঠিক সাহায্য করেনা। কিন্তু কিছু কিছু বিজ্ঞানের পরীক্ষাকে চাইলেও তাড়া দেয়া যায়না। যেমন মানুষের জীবন-দৈর্ঘ্য নিয়ে গবেষণা বা মহাজাগতিক পরীক্ষা। এদের জন্য সময় দিতে হয়। এমনই দীর্ঘ সময় ধরে চলা কিছু পরীক্ষা নিয়ে এই সিরিজ। প্রথম পর্ব)   গত ২৩ আগষ্ট হ্রদযন্ত্র বন্ধ হয়ে মারা গেলেন অষ্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জন মেইনস্টোন। এই বিজ্ঞানী বিখ্যাত কিন্তু অতি ধীরগতির এক পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছিলেন গত ৫০ বছর ধরে। ১৯৬১ সালে তার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার ২য় দিনে একটি ক্ষুদ্রাকার পরীক্ষার সংস্পর্শে আসলেন যেটা একটি শেলফের ভেতরে ৩৪ বছর ধরে চলছিল। ৫০ বছর পর, তিনি জীবনের শেষদিন পর্যন্ত এই পরীক্ষার অতি-নাটকীয় ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। পিচ-ড্রপ নামের পরীক্ষাটি শুরু…
বিস্তারিত পড়ুন ...

আমাদের গর্ব !

  অনেক বাঙ্গালী বিজ্ঞানী আছেন যাঁরা তাঁদের মেধা , নিষ্ঠা আর পরিশ্রমের মাধ্যমে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় অনেক উঁচু আসনে নিজেদের স্থান করে নিয়েছেন। আমরা অনেকেই বাংলার এই কৃতি সন্তানদের সম্পর্কে জানিনা । তবে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে তাঁরা তাঁদের নিজ মহিমায় উজ্জ্বল। রাগিব হাসানের তথ্যবহুল  স্ট্যাটাস আপডেট থেকে আইডিয়া নিয়ে আর উইকিপিডিয়া থেকে আরো তথ্য যাচাই-বাছাই করে এমনই কয়েক জন বিজ্ঞানীর একটি প্রাণবন্ত পোস্টার তৈরি করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র মইনুল ইসলাম চৌধুরী। পোস্টারটি মাইক্রোবায়লজি অ্যাসোসিয়েশান অব বাংলাদেশ (ম্যাব) প্রকাশিত স্যুভেনিয়ারে স্হান পেয়েছে। এই পোস্টারটি খুবই স্বল্প সময়ে তৈরি। কপিরাইট বিহীন এই পোস্টারটি তাই যে কেউ চাইলেই পরিবর্তন-পরিবর্ধন-সংযোজন করে শেয়ার করতে পারবেন।   আরো ভালভাবে পোস্টারটি দেখতে ও ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন-আমাদের গর্ব    
বিস্তারিত পড়ুন ...

বাংলাদেশী বিজ্ঞানী: প্রফেসর আবুল হুসসাম – সুপেয় পানির “গ্লোবাল হিরো”

[কিছুদিন আগে মারা গেছেন প্রথিতযশা বাঙ্গালি বিজ্ঞানী প্রফেসর জামাল নজরুল ইসলাম। তাঁর মৃত্যুর পর একটা জিনিস প্রবলভাবে অনুধাবন করলাম আর তা হল বাঙ্গালির বিজ্ঞান বিমুখতা। জামাল নজরুল ইসলামকে বলা হত ছোট দেশের বড় বিজ্ঞানী কিন্তু নিজ দেশের খুব কম লোকই তাঁকে চিনতেন। তাঁর মৃত্যুর পর কৃতী নিভৃতচারী গবেষকদের নিয়ে একটা ধারাবাহিক লেখার তাগিদ অনুভব করলাম। সেই ধারায় আজকের প্রবন্ধটির নায়ক প্রফেসর আবুল হুসসাম।] শিক্ষা ও কর্মজীবন:[১][২] আবুল হুসসামের জন্ম ১৯৫২ সালে কুষ্টিয়া জেলায়। কুষ্টিয়ায় প্রাথমিকভাবে পড়াশোনা শেষ করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর রসায়ন বিভাগ থেকে ১৯৭৫ সালে বিএসসি এবং ১৯৭৬ সালে এমএসসি সম্পন্ন করেন। ১৯৮২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে analytical chemistry তে পিএইচডি অর্জন করেন। এর পর ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত তিনি ইউনিভার্সিটি অফ মিনেসোটার রসায়ন বিভাগে পোষ্ট-ডক্টরাল ফেলো হিসেবে…
বিস্তারিত পড়ুন ...