পানিতে জ্বলবে আলো

দরিদ্র মানুষের চাল নেই, চুলোও নেই। ঘরে বিদ্যুৎবাতি তো দূরের কথা, এই আকালের দিনে দুফোঁটা কেরোসিনেরও খোঁজ পাওয়া যায় না, তাই ঘুটঘুটে অন্ধকারে চাঁদের আলোই ভরসা। কিন্তু সুদূর ফিলিপাইনের দুই ভাইবোনের তৈরি এক বাতি চলবে লবণপানিতে। এতে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারবেন অনেকেই। আইসা এবং রাফায়েল মিজেনো নামের এই দুই সহোদর sALt (Sustainable Alternative Lighting) নামের এক ল্যাম্প তৈরি করেন। লবণপানি এবং ধাতব রড ব্যবহার করে এই ল্যাম্প চলে। De La Salle ইউনিভার্সিটির এঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে কাজ করেন আইসা, এর পাশাপাশি তিনি গ্রিনপিস ফিলিপাইনেরও সদস্য। ফিলিপাইনের গ্রামে গ্রামে কেরোসিনের অভাব লক্ষ্য করেন তিনি। প্রচুর মানুষ অনেক দূরদূরান্ত থেকে কেরোসিন সংগ্রহ করে আনেন। তাদের এমন ভোগান্তি দূর করতেই এমন চিন্তা মাথায় আসে তার। একবার লবণপানি দিয়ে পূর্ণ করলে আট ঘন্টা চলবে এই ল্যাম্প।…
বিস্তারিত পড়ুন ...

গণিতর সৌন্দর্য- পর্ব ২৩: অভিপ্রেতানভিপ্রেত কাকতাল

কাকতাল বলতে কী বোঝায় আর কাকতালে কেনই আমরা বিস্ময়াভীভূত হই? অভিধান ঘেঁটে কাকতাল অর্থ পাওয়া গেল এমন: “কার্যকারণ সম্বন্ধ নাই অথচ একসঙ্গে সঙ্ঘটিত দেখিয়া মনে হয় পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত”। এবার বিষয়টি একটু ব্যখ্যা করা যাক। ধরা যাক আপনার সাথে আপনার অফিসের বসের বেশ রাগারাগি হলো। আপনি তাঁর প্রতি বেশ অসন্তুষ্ট হওয়ায় বাসায় ফিরে ঠান্ডামাথায় সেটি নিয়ে ভাবলেন এবং পুরো বিষয়টি নিয়ে দ্বিতীয়বার বসের প্রতি অসন্তুষ্ট হলেন এবং তাঁর মৃত্যু কামনা করে বসলেন। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে অফিসে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে আপনার বসের মৃত্যু সংবাদ শুনতে পেলেন! এই ঘটনাকে আপনি কীভাবে ব্যখ্যা করবেন? আপনি হয়তো মনে করতে পারেন আপনার নিশ্চয়ই কোনো আধ্যাত্মিক মারণাত্মক ক্ষমতা আছে যার ফলে আপনি ইচ্ছে করলে যে কারো মৃত্যু কামনার মাধ্যমে তাকে মেরে ফেলতে পারেন! এই…
বিস্তারিত পড়ুন ...

অনুমান ও কোয়ান্টাম বিক্ষিপ্ততা (অণুপোস্ট)

'অনুমান' বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। অনুমানের মাধ্যমে আমরা বৈজ্ঞানিক গবেষণা শৃঙ্খলায়িত করে নিতে পারি। একটি গবেষণার ফলাফল কেমন হতে পারে বা কি ধরনে পরীক্ষা-নীরিক্ষা করলে একটি কোনো একটি গবেষণা থেকে কাঙ্খিত ফলাফল আসতে পারে তা অনেকসময় পুর্ববর্তী জ্ঞান ও গবেষণাসমূহ হতে বেশ নির্ভুলভাবে অনুমান করা যেতে পারে। এতে অনেক মূল্যবান সময়, অর্থ, শ্রম ইত্যাদি বেঁচে যেতে পারে। কতটা নির্ভুল ভাবে অনুমান করা যাবে তা নির্ভর করে কী পরিমান তথ্য নিয়ে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে এবং সেই তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা কত তার উপর। একজন দক্ষ বিজ্ঞানী, শুধু বিজ্ঞানী বলছি কেন, বিভিন্ন পেশার মানুষ নিজ নিজ ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করতে পারলে অনেক সময় বিভিন্ন ঘটনা তথ্য-উপাত্ত থেকে সঠিকভাবে ভবিষ্যতের ঘটনাপঞ্জী আঁচ করতে পারেন এবং সেই অনুযায়ী কর্মপন্থা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন।…
বিস্তারিত পড়ুন ...

আসুন মিলেমিশে ভাগাভাগি করে খাই

একটি পুরোনো কৌতুক দিয়ে শুরু করি। একটি রেস্টুরেন্টে ভীষন ভীড় হওয়ায় একই টেবিলে দুজন মানুষ খেতে বসেছেন। ওয়েটার আসা মাত্রই উভয়েই মাছের অর্ডার করলেন। ওয়েটার দুটি প্লেটে করে দুটি মাছ নিয়ে এলেন এবং টেবিলে রাখলেন।বলা বাহুল্য মাছ দুটির আকার একেবার সমান ছিলো না। এই সময় টেবিলে বসা দু’জনের একজন অনেকটা অবচেতনেই বড় মাছের প্লেটটি নিজের দিকে টেনে নিলেন। এই দেখে অপরজন বেজায় অসন্তুষ্ট হলেন। তিনি চটে গিয়ে অপরজনকে শুধালেন এ কেমন আচরণ ভাই? ভদ্রতা বলতে কি কিছুই জানেন না? অভদ্রের মতো বড় মাছটি নিয়ে নিলেন যে? প্রথম ব্যক্তি তখন বললেন, আপনি হলে কোনটি নিতেন? দ্বিতীয় ব্যক্তি বললেন, আমি হলে সৌজন্য দেখিয়ে ছোট মাছটিই নিতাম। প্রথম ব্যক্তি উত্তরে বললেন, তাহলেতো মিটেই গেলো, আপনিতো ছোট মাছটিই পেয়েছেন! ভাগাভাগি নিয়ে সৃষ্টির আদিকাল থেকেই…
বিস্তারিত পড়ুন ...

গণিতের সৌন্দর্য-পর্ব: ১৭ (শতাংশ বিভ্রাট)

শতকরার বিষয়টি বেশ বিভ্রান্তিকর। স্কুলে পড়ার সময় এই বিষয়ক সমস্যাগুলোর অধিকাংশই ছিলো লাভ-ক্ষতি বিষয়ক। অধিকাংশ সময়ই আমি বুঝতে পারতাম না ক্রয়মূল্যকে ১০০ ধরতে হবে নাকি বিক্রয়মূল্যকে। এতে করে ফলাফল মেলানো অনেক সময় কষ্টসাধ্য হয়ে যেত। এখন স্কুলের সেই সমস্যাগুলোর চেয়েও বিভ্রান্তিকর কিছু শতকরা সমস্যা নিয়ে আলোচনা করব। যেমন: এই সমস্যাটি দেখা যাক। ধরা যাক, আপনি কোনো অফিসে নির্দিষ্ট বেতনে চাকরি করেন এবং কোনো এক সময় আপনার বেতন ১০% বৃদ্ধি করা হলো। কয়েকমাস এভাবে চলার পর কোম্পানির ব্যবসায় মন্দা যাওয়ায় আপনার বেতন পুনরায় ১০% ছেঁটে দেওয়া হলো। এখন কি আপনি আপনার শুরুর বেতনের সমান বেতন পাবেন? এই প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে ’না’! সংক্ষেপে এর সমাধান করে ফেলা যাক। ধরি, শুরুতে আপনার বেতন ছিলো ১০০০০ টাকা। ১০০০০ টাকার ১০% হবে ১০০০ টাকা। তাহলে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

গণিতের সৌন্দর্য ১৬: কেন ১ মৌলিক সংখ্যা নয়

প্রাইম নম্বর সম্বন্ধে আমরা সবাই শুনেছি। বাংলায় এইগুলো কে বলা হয়ে থাকে মৌলিক সংখ্যা। নাম থেকেই আমরা বুঝতে পারি প্রাইম হচ্ছে সংখ্যার কিছু মৌলিক ভিত্তি যেগুলোকে ভাঙ্গা হলে আর একই রকম কিছু পাওয়া যায় না এবং যেগুলোর মাধ্যমে অন্য যৌগিক সংখ্যাগুলো তৈরি হয়ে থাকে। এগুলো অনেকটা রসায়নের অলোচিত মৌলিক পদার্থের মতো, মৌলিক পরমানুর বিভিন্ন বিন্যাসের মাধ্যমে যেমন যৌগিক অণু তৈরি হয়। উদাহরন হিসেবে বলা যায়, হাইড্রোজেন একটি মৌলিক পদার্থ এবং অক্সিজেন একটি মৌলিক পদার্থ। এই দুই মৌলিক পদার্থের পরমানুগুলো পূর্ণ সংখ্যায় যুক্ত হয়ে পানি তৈরি করে যেটি একটি যৌগিক পদার্থ। কিংবা বিপরীতভাবে বলা যায় পানিকে ভাঙ্গলে দুটি মৌলিক পদার্থ হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন পাওয়া যায়। গণিতেও মৌলিক সংখ্যা তথা প্রাইমের বিষয়টি একই ভাবে কাজ করে। মৌলিক নয় এমন দুটি পূর্ণ সংখ্যাকে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

এন্ডোসিম্বায়োসিস

ধরা যাক, আপনার একটি সুপারপাওয়ার আছে। আর পাওয়ারটি হল সময়কে স্থির করে দেয়া। পরিস্থিতি অনুযায়ী এই পাওয়ার ব্যাবহার এবং প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন, এসব করে সুখেই আছে। "Great power comes with great responsibility" এই ধরনের কোন ফিলোসফি এখনো আপনাকে আক্রান্ত করেনি। তবে কেউ না জানলেও আপনার এই ক্ষমতার সর্বোৎকৃষ্ট ব্যাবহার ঘটে পরীক্ষার হলে। কোন কিছু না পারলে প্রায়ই টাইম ফ্রিজ করে দিয়ে হল থেকে বের হয়ে বই-খাতা খুলে দেখে আসেন ব্যাপারটা কি। আজও আপনি পরীক্ষার হলে, প্রশ্ন এসেছে এন্ডোসিম্বায়োটিক থিওরীর উপর। কিছুই পারছেননা। তবে আপনার এই অশুভ শক্তি কিছুক্ষনের জন্য একটু শুভকাজে ব্যায় করুন। আপনাকে বায়োটিক রিলেশনশিপ সম্পর্কে ধারনা দেব এই পরীক্ষার হলেই। টাইম ফ্রিজ করুন, এবং আমার সাথে সামনে চলে আসুন। বায়োটিক রিলেশনশিপ নানান রকম থাকলেও কম্পিটিশন, কমেনসালিজন, এমেনসালিজম, মিউচুয়ালিজম…
বিস্তারিত পড়ুন ...

মাইক্রোস্কোপের নিচের দুনিয়া (মাইক্রোফটোগ্রাফি)

অনেকদিন আগে মাইক্রোস্কোপের নিচে রেখে অ্যামেচার হাতে নিন্মমানের ক্যামেরা দিয়ে কিছু জিনিসের ছবি তুলেছিলাম। বিজ্ঞান ব্লগ হাতড়িয়ে দেখছি সেগুলো আপলোড করা হয় নি। কিংবা বিজ্ঞান ব্লগ যখন ওয়ার্ডপ্রেসের সাবডোমেইন ছিলো তখন আপলোড করা হয়েছিলো, পরে বাদ পড়েছে। আজ সেগুলো নিয়ে এই পোস্ট। আশা করি ছবিগুলো আপনাদের খারাপ লাগবে না। ১. Microchip: CDROM Drive থেকে খুলে নেয়া। এটি স্বচ্ছ চিপ হওয়ায় উপর থেকে ভিতরের কলকব্জা দেখা যাচ্ছে। চিপ সাধারণত অস্বচ্ছ এবং কালো রংএর হয়ে থাকে। সেই ক্ষেত্রে বিশেষ রাসায়নিক ট্রিটমেন্ট করে উপরের কালো অংশটুকু দ্রবীভূত করে ছবি নেওয়া যায়। যে কোন মাইক্রচিপের ভিতরে আসলে অনেক জটিল একটি সার্কিট খুব ক্ষুদ্রাকারে পুরে দেয়া থাকে। যদি মাইক্রোচিপের আবির্ভাব না হতো তাহলে হয়তো এর ভিতরের পুরো সার্কিটটি আলাদাভাবে বিশাল আকারে তৈরি করতে হতো। (দ্রষ্ট্যব্য:…
বিস্তারিত পড়ুন ...