মিউটেশনঃ কল্পনা, এক্স-ম্যানের সম্ভাব্যাতা ও বাস্তবতা।

পৃথিবীর সব মানুষই কি একরকম? না, বলতে গেলে কেউই কারো মত নয়। শুধু মানুষের ক্ষেত্রে নয় অন্যান্য প্রাণীদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। যদিও প্রাণীর ক্ষেত্রে আমরা পার্থক্যটুকু তেমন একটা ধরতে পারি না। কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে এই বৈচিত্রটুকু আমরা ঠিকই বুঝতে পারি। আমরা দেখি যে, আমাদের চারপাশের মানুষের আচার-আচরণ, চেহারায় একজনের সাথে অন্যজনের প্রায় মিল নেই। অর্থাৎ মানুষের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান। কিন্তু প্রশ্ন হলো কেন মানুষের বা অন্যান্য প্রজাতির মধ্যে পার্থক্য দেখা দেয়? অনেকেই অবাক হয়ে বলবেন যে, এ আবার কেমন কথা হলো? একজনের সাথে অন্যজনের মিল কেন থাকবে বরং মিল থাকাটাই তো আশ্চর্য! আসলে ব্যাপারটা সেরকম না। আমরা জানি যে মানুষ সহ অন্যান্য সকল প্রাণী একটি মাত্র ক্ষুদ্র কোষ জাইগোট থেকে বিভাজনের মাধ্যমে পরিণত জীবে রূপ নেয়। এই জাইগোট হল ডিপ্লয়েড অর্থাৎ দুইটা একক…
বিস্তারিত পড়ুন ...

আমাদের সংস্কৃতির হাত ধরেই আমাদের বিবর্তন?

আমাদের সংস্কৃতির গুরুত্বটা কী আমাদের জীবনে? কিংবা বিজ্ঞানের ভাষায়, এর প্রযুক্ত বলই বা কতটুকু আমাদের উপর? কিংবা আমাদের বিবর্তনের পিছনে কি আমাদেরই সংস্কৃতি কোনো অংশে দায়ী? কাপড়, আশ্রয় থেকে শুরু করে বহিঃশক্তির হাত থেকে রেহাই দেওয়ার জন্য ঢাল হিসেবে কাজ করে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি। কতিপয় জীববিজ্ঞানীদের নিকট তাই মনে হয় মানব সংস্কৃতি আমাদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা কিনা মানব জীবনে প্রযুক্তির ভূমিকার সাথে তুল্য। তবে মানব সংস্কৃতির প্রভাব ধীরে ধীরে উপলদ্ধির ব্যপার। তাই এর প্রভাবে সমাজে কখনও মনুষ্য জাতির আগমন বেশি ঘটেছে আবার কখনও কোনো সমাজ পঙ্গু হয়ে গিয়েছে। তবে জীব বিজ্ঞানীরা এখন মানব সংস্কৃতিকে অন্য নতুন এক দৃষ্টিতে দেখছেন। তাঁরা মানব সংস্কৃতিকে আমাদের বিবর্তনের এক কারণ হিসেবেও দেখছেন।   বিবর্তন ও প্রাকৃতিক নির্বাচন আমাদের সংস্কৃতি কেবল আমাদের…
বিস্তারিত পড়ুন ...

মস্তিষ্কে প্রাচীন ভাইরাসের নতুন কাজের সন্ধান

মানব জেনোমের মধ্যে থাকা 'জিনেটিক জঞ্জাল' ভাবা হয়েছিল যেসব রেট্রোভাইরাসের জেনোম, তারা আসলে গ্রাহক জেনোমে এসে নতুন নতুন কাজের দায়িত্ব পেয়েছে; যেমন, একটি সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে একধরনের রেট্রেভাইরাসের জেনোম মস্তিষ্ক গঠনে কাজ করে।     মানবশরীরে বাস করা কোটি কোটি ব্যাকটেরিয়ার কথা শুনে হয়তো শিহরিত হয়েছেন, কিন্তু এটা জেনে কী অবাক হবেন যে আমরা আসলে বহু বহু ভাইরাস দিয়েও তৈরি হয়েছি? আমাদের জেনোমের ৮ শতাংশ গঠিত হয়েছে অনেক অনেক রেট্রোভাইরাসের জেনোম দিয়ে। বলে রাখি, এইডস রোগ তৈরি করে যেই ভাইরাস, HIV, সেটা একটা রেট্রোভাইরাস। হয়তো নিজের স্বত্ত্বার একদম ভেতরে এরকম ভাইরাসের উপস্থিতি আমাদের জন্য ভাবতে কখনও কখনও ভীতিকর শোনায়, কিন্তু সেল রিপোর্টস পত্রিকায় প্রকাশিত নতুন একটি গবেষণা বলছে যে আসলে এসব ভাইরাস মানব মস্তিষ্ক গঠনে সাহায্য করেছে। আমাদের কাছ থেকে খুব বেশি দূরের নয় এমন আত্মীয়, ইঁদুরের…
বিস্তারিত পড়ুন ...

সংস্কৃতি, মানুষের বিবর্তনের আরেকটি শক্তি

একই বিষয়ে পূর্বপ্রকাশিত লেখার দ্বিতীয় পর্ব। এটিও অনুবাদ।  দ্বিতীয় পর্বের লেখাটি নিউ ইয়র্ক টাইমস এ প্রকাশিত   অন্যান্য  জীবপ্রজাতির মতই মানব প্রজাতিও দূর্ভিক্ষ, রোগ এবং আবহাওয়ার মত সাধারন প্রাকৃতিক নির্বাচন শক্তিগুলি (natural selection force, এর চেয়ে ভাল বাংলা খুঁজে পেলাম না) দিয়ে প্রভাবিত হয়ে তার বর্তমান রূপ পেয়েছে। সম্প্রতি, এরকম আরেকটি নতুন নির্বাচন শক্তি আমাদের গোচরে আসছে। চমৎকার এই ধারণাটি হল- গত প্রায় ২০,000 বছর ধরে মানুষ তার অগোচরেই নিজেদের বিবর্তনকে রূপ দিচ্ছে। মানুষের সংস্কৃতি, বৃহদাকারে ব্যাখ্যা করতে চাইলে বলা যায় অর্জিত আচরণ, এমনকি প্রযুক্তিও আমাদের বিবর্তনের নির্বাচনিক শক্তি। এই শক্তির উপস্থিতির প্রমাণ একটু আশ্চর্যজনক, কারন অনেকদিন থেকেই ভাবা হত যে সংস্কৃতির ভূমিকা মানব বিবর্তনে ঠিক উল্টো। জীববিজ্ঞানীরা ভাবতেন যে অন্যান্য প্রাকৃতিক নির্বাচনিক চাপের পূর্ণশক্তি থেকে মানুষকে আড়াল করে রেখেছে মানুষের সংস্কৃতি; যেখানে জামাকাপড় এবং আশ্রয়স্থল ঠান্ডার…
বিস্তারিত পড়ুন ...

অণুলেখা ৪: বিবর্তন নিয়ে প্যাঁচাল

লেখাগুলি আগে ফেইসবুকে প্রকাশিত ১. বিবর্তন তত্ত্বের একটা সমস্যা ছিল এই প্রশ্ন- যদি বিবর্তনের ফলে বিভিন্ন জীবের উদ্ভব হবে তবে কিভাবে বিভিন্ন মহাদেশে একইধরনের প্রাণীর উদ্ভব হল? যেমন ব্যাঙের মত উভচর প্রাণী সবগুলি মহাদেশে দেখা যায় (এন্টার্টিকা ছাড়া)। আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ আটলান্টিক মহাসাগর দিয়ে বিভক্ত। কিন্তু ব্যাঙের ত্বক পারমিয়েবল বা ভেদ্য, ফলে তারা তো সাঁতার কেটে এক মহাদেশ থেকে আরেক মহাদেশে যেতে পারবেনা। তবে কি ভিন্ন দুইটি যায়গায় একদম একইরকমের প্রাণীর উদ্ভব সম্ভব? সম্ভবত নয়। ডারউইন ব্যাখ্যা দিতে চেষ্টা করেছিলেন এভাবে- হয় ব্যাঙগুলি কোনকিছুর সঙ্গে ভেসে ভেসে অন্য মহাদেশে গেছে অথবা আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকাকে যুক্ত করা কোন ভূমির অস্তিত্ব ছিল। কিন্তু ডারউইন নিজের ব্যাখ্যায় মোটেই সন্তুষ্ট ছিলেন না। বিশ শতকের মাঝামাঝি এসে একজন জার্মান ভূতত্ববিদ একটা অসাধারণ…
বিস্তারিত পড়ুন ...

সংস্কৃতি কিভাবে মানুষের জিনেটিক্স কে প্রভাবিত করেছে

লেখাটি বিবিসি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি লেখার অনুবাদ।  প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষের দুধ খেতে পারার কথা নয়। আপনার পূর্বসূরীদেরও না। মাত্র ৯০০০ বছর আগে থেকে একজন প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষ দুধ খেয়ে হজম করতে পারছে, অসুস্থ না হয়েই। শিশুরা সবসময়েই এটা করতে পারতো, কিন্তু যখন থেকে আমরা দুগ্ধখামার শুরু করেছি কেবলমাত্র তখন থেকেই প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষ দুধ হজমের ক্ষমতা অর্জন করেছে। এমনটা দেখা গিয়েছে যে যেসব সংস্কৃতির মানুষ দুগ্ধখামার তৈরি করেছিল এবং নিয়মিত দুধ পান করেছিল তাদের দেহে অন্য এলাকার মানুষের চেয়ে বেশি মাত্রায় ল্যাকটোজ হজম বা সহ্য করার এবং এ সংক্রান্ত অন্য জিন আছে। ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক আচার-আচরণ কিভাবে মানুষের বিবর্তনকে প্রভাবিত করতে পারে তার শুধুমাত্র একটি উদাহরণ হল এই দুধ পানের ইতিহাস। সংস্কৃতি এবং জিনেটিক্সকে প্রায়ই দুইটি ভিন্ন প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হয়, কিন্তু গবেষকগণ দিন দিন এই দুটি…
বিস্তারিত পড়ুন ...

মগজের ঘড়িবিদ্যা

সময় এবং স্রোত, কারো জন্য অপেক্ষা করেনা। তাই প্রতিটা মুহুর্তে সময়ের সঠিক ব্যাবহার করা আমাদের কর্তব্য। এই সঠিক ব্যাবহারের জন্য, সঠিক সময়টা জানা আমাদের প্রয়োজন। সঠিক সময়টা অবিরাম জানান দিয়ে যাচ্ছে ঘড়ি নামক যন্ত্রটি। আমাদের সামাজিক অর্থনৈতিক জীবনকে সচল ও নিয়মতান্ত্রিক রাখার জন্য যেটুকু সময়জ্ঞান দরকার তা আমরা ঘড়ি, ক্যালেন্ডার এদের সাহাযেই পেয়ে থাকি। মানুষ বা অন্যান্য প্রানীর দেহে যে জটিল-জটিল সব কার্যকলাপ চলছে, তার জন্যও সময়ের একটা হিসাব থাকা দরকার। ঘড়ি দেখে আপনার রুটিন অনুযায়ী খেতে বসতে পারেন, বা ঘুমাতে যেতে পারেন। কিন্তু ঘড়ি না দেখলেও আপনার শরীর একসময় খেতে চাইবেই, কিংবা ক্লান্ত হবেই। ক্রিকেট খেলায় ছুটে আসা বলটি ক্যাচ ধরতে তার গতি এবং সময়ের সম্পর্ক বোঝার যে জটিল হিসাবটা মগজ করে ফেলে তখন ঘড়িটা কোথায় থাকে? রং, তাপমাত্রা,…
বিস্তারিত পড়ুন ...

তিন মস্তিষ্কের টানাপোড়ন

তখন অনুসন্ধিৎসু চক্রের আজীবন সদস্য মোস্তাক ভাইয়ের বাসা ছিলো ঢাকার দক্ষিণ মুগদাপাড়ায়। সেসময় তিনি বিড়ালছানা আর একটি কালনাগিনী সাপ পুষতেন। সাপটি থাকতো একুইরিয়ামে। সাপ কখনো দুধ-কলা খায় না। ওকে মাঝে মাঝে টিকটিকি খাওয়ানো হতো। আমি স্কুলে পড়তাম। ঐ বিড়ালছানা-র সাথে খেলা ও সাপ ধরার আকর্ষণে কোন কোন বিকালে চলে যেতাম মোস্তাক ভাইয়ের বাসায়। সাপটা ধরতাম লেজের দিক দিয়ে। ছোট সাপটি ধরলেই সে হাতকে পেঁচিয়ে ফেলতো। ওর সামনে আরেকটি হাত দিলে সে ছোবল মারার চেষ্টা করতো। বেশিরভাগ সাপের মতোই এটি ছিলো নির্বিষ। নির্বিষ হলেও ছোবল দেয়াটা ছিলো তার বিপদ-সময়ে প্রতিরক্ষা-ব্যবস্থার অংশ। মোস্তাক ভাই বলতেন, বিড়াল পোষ মানলেও সাপ কখনো পোষ মানে না। কারণ সাপের পোষ মানানোর মতো কোন উন্নত মস্তিষ্ক নেই। সাপের মস্তিষ্ক আদিম, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও টিকটিকি-সরবরাহকারী প্রতিপালক চেনার কোন…
বিস্তারিত পড়ুন ...