দেজাভূঁ: রহস্যময়তার আড়ালে

ধরুন,আপনি প্রথমবার জাফলং বেড়াতে গেছেন। জাফলংয়ের চোখজুড়ানো অপরূপ সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য অবলোকনে আপনি মগ্ন হয়ে আছেন,হঠাৎই ব্রেইনে ধরা পড়া একটা সিগন্যালে চমকে উঠলেন। আপনার মনে হতে লাগল, দৃশ্যগুলো আপনার অতি পরিচিত যেন আগেও কোথাও দেখেছেন। কিন্তু কোথায় দেখেছেন...কোথায়...নাহ, কিছুতেই মনে পড়ল না আপনার। অথবা এরকম মনে হতে পারে যে আপনি যেন আগেও জাফলং এসেছিলেন, এই দৃশ্যগুলো দেখেছিলেন। কিন্তু কবে এসেছিলেন মনে করতে পারলেনই না। জি,এই অভিজ্ঞতাকেই বলা হয় দেজাভূঁ। দেজাভূঁ ব্যাপকভাবে ঘটা একটি ঘটনা। বেশিরভাগ লোকজন জীবনে অন্তত একবার এই অভিজ্ঞতা লাভ করে। যাদের দেজাভূঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের কাছে ব্যাপারটা খুব অদ্ভুত মনে হয় এবং এই ঘটনার খুব তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী একটি প্রভাব থেকে যায়। আর যাদের জীবনে দেজাভূঁ ঘটেনি তাদের কাছে ব্যাপারটা প্রায় অসম্ভব ও অকল্পনীয় মনে হয়। দেজাভূঁ…
বিস্তারিত পড়ুন ...

নিমগ্নতা, কাজ ও খেলা

বিজ্ঞানী সত্যেনন্দ্রনাথ বসুর কথা বলা যাক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার সময় তার মেয়ে একবার সিনেমা দেখার বায়না ধরেন। সে সময় তিনি জটিল একটি গাণিতিক সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এদিকে মেয়ে নাছোড়বান্দা। শেষে মেয়ের জেদের কাছে হার মেনে ঘোড়ার গাড়িতে করে মেয়েকে নিয়ে গেলেন মুকুল সিনেমা হলে। সেখানে পৌঁছে দেখেন তিনি বাসায় টাকা ফেলে এসেছেন। মেয়েকে সেখানে রেখে গাড়োয়ানকে নিয়ে বাসায় ফিরলেন টাকা নিতে। বাসায় পৌঁছে টাকা নেয়ার সময় টেবিলে দেখেন অসমাপ্ত গাণিতিক সমস্যাটা পড়ে আছে। তখন তিনি মেয়ের কথা ভুলে সেখানেই বসে পড়েন সমস্যা সমাধানে। এদিকে গাড়োয়ান যখন দেখলেন অনেকক্ষণ সময় পার হয়েছে তখন আর অপেক্ষা না করে বাড়িতে ঢুকে পড়লেন। ঢুকে দেখেন, সত্যেন বসু টেবিল-চেয়ারে নিমগ্নভাবে অঙ্ক কষে চলছেন। গাড়োয়ান সত্যেন বসুকে মেয়ের কথা মনে করিয়ে দিলে তিনি সম্বিত ফিরে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

নিমগ্নতার সুখ

আমরা জীবনে সুখের হরিণের পেছনে ছুটে বেড়াই। সাধারণ গড়পড়তা মানুষ তো বটেই, কবি-লেখক-সাহিত্যিক থেকে শুরু করে ধর্মবেত্তা-দার্শনিক সবাই সুখ-পাখিটা ধরতে চান। তবে যারা সুখ জিনিসটা কি তা বোঝার চেষ্টা করেন তাদের অনুসন্ধানটা ভিন্ন। তারা সুখকে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করেন। এ অনুসন্ধানে বিজ্ঞানীরাও পিছিয়ে নেই। হ্যাঁ, শারীরবিদ্যা যদিও বলবে এন্ডরফিন, ডোপামিন ও সেরোটোনিন নামক হরমোন নিঃসৃত হলে মানুষ সুখানুভূতি পায়। তবে কাজের সাথেও সুখানুভূতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এক জন মনোবিজ্ঞানীর গবেষণা থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাক। কখনো কি এমন কোন কাজে ডুবে গিয়েছিলেন যে নাওয়াখাওয়ার কথা ভুলেই গিয়েছিলেন? বেলা গড়িয়ে কখন সন্ধ্যা হয়েছে টের পাননি? কিংবা রাত্রে খাবার পর কাজে বসে হঠাৎ টের পেয়েছেন যে ভোর হয়ে গেছে? কাজে এতটাই বিভোর হয়ে গিয়েছিলেন যে সময় পার হওয়ার অনুভূতি লোপ…
বিস্তারিত পড়ুন ...

ভালোবাসার ব্যবচ্ছেদ

“তোমরা যে বলো দিবস রজনী, ভালোবাসা, ভালোবাসা/ সখী ভালোবাসা কারে কয়?” “তোরা যে যা বলিস ভাই”-ভালোবাসা একটি শারীরবৃত্তীয় রাসায়নিক প্রক্রিয়া। হ্যাঁ, এর হরেকরকম ব্যাখ্যা থাকতে পারে, দিক থাকতে পারে, কিন্তু এর রাসায়নিক দিকটি উড়িয়ে দেওয়ার দেওয়ার সুযোগ নেই। বিশ্বাস হচ্ছে না? চলুন তাহলে ঘুরে আসি এক লম্বা সফরে; বিজ্ঞানীগণ ভালোবাসা নিয়ে কী বলেন-জেনে আসি। তবে এই যাত্রায় যাওয়ার আগেই বলে রাখি আমরা এই যাত্রাপথকে-প্রেমের আবেগ, মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের উদ্দীপতা এবং হরমোনঘটিত পরিবর্তন-অনুযায়ী তিন পর্বে ভাগ করে তবেই আগাচ্ছি। প্রথম পর্বঃ প্রেমে পড়া   আপনাদের ঐ গল্পটা জানা আছে? ঐ যে এক ছাত্র পরীক্ষার জন্য শিখে গেলো “ধান”-রচনা, কিন্তু পরীক্ষায় আসলো “রেলভ্রমণ”। ছাত্র লেখা শুরু করলো, “রেলে চড়ে আমরা একবার মামাবাড়ি গিয়েছিলাম। আদিগন্ত বিস্তৃ্ত ধানক্ষেতের মাঝ দিয়ে চলার সময় রেল লাইনচ্যুত…
বিস্তারিত পড়ুন ...

কান্নার ব্যবচ্ছেদ: একটি প্রায় বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনা!

আমাদের জীবন শুরু হয় কান্না দিয়ে। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের প্রায় সমস্ত উপলক্ষে জড়িয়ে আছে কান্না। কখনো আমরা কাঁদি বিষাদে, কখনো বা তা আনন্দ অশ্রু হয়ে ঝরে। এছাড়া পেঁয়াজ কাটার সময়ও আমাদের চোখ থেকে জলপপ্রাতের মতো পানি পড়ে! কান্না নিয়ে কত গল্পগাথা, কত কবিতা,কত গান ... কিন্তু কখনো ভেবে দেখেছেন কি আমরা কিভাবে কাঁদি? কেন কাঁদি? পেঁয়াজ কান্নার সাথে আনন্দে কান্না বা বিষাদে কান্নার কি পার্থক্য? এইসব প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেষ্টা নিয়েই এই লেখাটি। কান্না হচ্ছে আবেগের প্রতি সাড়া দিয়ে চোখ দিয়ে জল পড়া। চোখের উপরের পাতায় থাকে অশ্রুগ্রন্থি (tear gland or lacrimal gland)। এখানে অশ্রুর উৎপত্তি। চোখের উপরের অংশের কর্নিয়া এবং শ্বেততন্তুতে থাকে অনেকগুলো ছোট ছোট অশ্রুনালী( tear ducts)। এই নালী পথে অশ্রু পুরো চোখে ছড়িয়ে যায়। এভাবে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

মস্তিষ্কের কর্মকান্ডঃ অভ্যন্তরীণ বাচন

ধরুন, আপনি বাজার করতে গিয়েছেন, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা শেষে দাম মিটিয়ে দিয়ে চলে আসছেন। হঠাৎ আপনার মাথার ভেতর কেউ বলে উঠলো, “মরিচ তো কেনা হয়নি!!” পড়িমড়ি করে আবার বাজারে ছুটলেন মরিচ কিনতে। কেউ একজন আপনাকে মনে করিয়ে দিয়েছে মরিচ কেনার কথা। অথবা একটুপর বসের সাথে আপনার একটা জরুরী মিটিং আছে। আপাতদৃষ্টিতে দেখে শান্ত মনে হলে ও ভিতরে ভিতরে আপনি নিজেকে ঝালিয়ে নিচ্ছেন সেই মিটিং এর জন্য, নিঃশব্দে মাথার ভেতর একের পর এক প্রশ্ন আর উত্তর তৈরি করে। এরকম মগজ ঘরে কথা বলা, আওয়াজবিহীন শব্দ আর বাক্য তৈরির প্রক্রিয়ার অনেক উদাহরণ আমরা আমাদের চারপাশে পাই। রাশিয়ান মনস্তত্ত্ববিদ লেভ ভিগোতস্কি সর্বপ্রথম ১৯৩০ সালে এই ঘটনার নামকরণ করেন “Inner speech” বা “অভ্যন্তরীণ বাচন” হিসেবে। মনস্তত্ত্ববিদ্যার শুরু থেকেই বিজ্ঞানীদের এ নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই।…
বিস্তারিত পড়ুন ...

আমাদের মুখই যখন আমাদের সম্পর্কে বলে দেয়

কাউকে কতটা বিশ্বাস করা উচিত কিংবা কারো সম্পর্কে জানতে হলে অন্যের কথা না শুনে এমন সমস্যার সম্মুখীন আমরা প্রায়ই হয়ে থাকি। কিন্তু এই সব সমস্যার সমাধান যদি ঐ ব্যক্তির মুখই করে দেয় তাহলে ব্যপারটা কেমন হয়? আমাদের ব্যক্তিত্ব, সুস্বাস্থ্য, যৌনতা প্রভৃতির বৈশিষ্ট্যগুলো আমাদের চেহারার মাধ্যমে ফুটে উঠে। আমরা আমাদের গূঢ় রহস্যময় মনের কথা বুঝতে পারে এমন কাউকে পেতে হলে হয়ত কোনো মহান দার্শনিকের উপস্থিতিই আশা করবো। ডেভিড রবসন তাঁর সমীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন এই বিষয়টির উপর। কিন্তু গ্রিক চিন্তাবিদেরা এই কাজ দার্শনিকদের উপরই কেবল ছেড়ে দেন নি। এরিস্টটল এবং তাঁর অনুসারীরা চেহারার মাধ্যমে অন্য আরেক জনের মনের ভাব সাব বুঝে উঠার জন্য ও তা আমাদেরকে বুঝতে সাহায্য করার জন্য একের পর এক ভলিউম লিখে গিয়েছেন। এখন আপনি ও আমিও শিখে নেই…
বিস্তারিত পড়ুন ...

দ্যা মোজার্ট ইফেক্ট: ধ্রুপদী সঙ্গীত কি সত্যিই বুদ্ধিমত্তার বিকাশে কার্যকর?

১৯৯৩ সালে নেচার জার্নালে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার মনোবিজ্ঞানী ফ্রান্সেস এইচ. রশার এবং তাঁর সহকর্মীবৃন্দ একটি গবেষণা প্রকাশ করেন যাতে তাঁরা দাবী করেন মোজার্টের সঙ্গীত শুনতে দেওয়ার পর একদল কলেজ ছাত্রের বিশেষ কিছু বুদ্ধিবৃত্তিক কাজে পারদর্শিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। মোজার্টের ১৭৮১ সালের D-মেজর স্কেলে কম্পোজকৃত দুই পিয়ানোর সোনাটা শোনার পর ছাত্রদের মস্তিষ্কের চিন্তাধারা উন্নত হয়েছে বলে মনে করা হয়। এই গবেষনায় ৩৬ জন ছাত্র অংশগ্রহণ করে। এদের তিনভাবে ভাগ করে একদলকে ১০ মিনিট নিরবতার মাঝে রাখা হয়, অপর একটি দলকে দশ মিনিট শিথীলতার বয়ান শোনানো হয় এবং শেষ দলটিকে মোজার্টের পিয়ানো সোনাটা শোনানো হয়। যেসব ছাত্র মোজার্টের পিয়ানো শুনেছে তাদের মনে মনে বিশেষ কিছু আকৃতি তৈরি করতে অপেক্ষাকৃত দক্ষতার পরিচয় দিতে দেখা গেল। একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিশেষভাবে ভাঁজ করা একটি কাগজকে…
বিস্তারিত পড়ুন ...