কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে জ্বালানী

একবিংশ শতাব্দীতে পৃথিবীর প্রধান কয়েকটি সংকটের একটা হল বৈশ্বিক উষ্ণতা। যার জন্য মূলত দায়ী করা হয় কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসকে। নগরায়নের ফলে বিশ্বজুড়ে কলকারখানার সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে সেসব কারখানা থেকে বর্জ্য হিসেবে নির্গত গ্যাসের পরিমান ও বেড়ে চলেছে দিনে দিনে। গত বছরই তেল ও কয়লার মতন জ্বীবাশ্ম জ্বালানী পুড়িয়ে বিশ্বে ৩৮.২ বিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন করা হয়েছে। এর পরিমান যে প্রতি বছর বছর বাড়বে তাতে কোন সন্দেহ নাই। চিত্র ১ : কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে ইথানল প্রস্তুত প্রণালী তাই অনেক বছর ধরেই বিজ্ঞানীরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে একটা যুগোপযোগি জ্বালানী বানানোর, যার ফলে এই গ্রীন হাউস গ্যাসটা পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ানোর পরিবর্তে নিজেই ব্যবহার হতে পারে জ্বালানী হিসেবে। সেই উদ্দেশ্যেই আমেরিকার ওক রিজ ন্যাশনাল…
বিস্তারিত পড়ুন ...

ভালোবাসার ব্যবচ্ছেদ

“তোমরা যে বলো দিবস রজনী, ভালোবাসা, ভালোবাসা/ সখী ভালোবাসা কারে কয়?” “তোরা যে যা বলিস ভাই”-ভালোবাসা একটি শারীরবৃত্তীয় রাসায়নিক প্রক্রিয়া। হ্যাঁ, এর হরেকরকম ব্যাখ্যা থাকতে পারে, দিক থাকতে পারে, কিন্তু এর রাসায়নিক দিকটি উড়িয়ে দেওয়ার দেওয়ার সুযোগ নেই। বিশ্বাস হচ্ছে না? চলুন তাহলে ঘুরে আসি এক লম্বা সফরে; বিজ্ঞানীগণ ভালোবাসা নিয়ে কী বলেন-জেনে আসি। তবে এই যাত্রায় যাওয়ার আগেই বলে রাখি আমরা এই যাত্রাপথকে-প্রেমের আবেগ, মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের উদ্দীপতা এবং হরমোনঘটিত পরিবর্তন-অনুযায়ী তিন পর্বে ভাগ করে তবেই আগাচ্ছি। প্রথম পর্বঃ প্রেমে পড়া   আপনাদের ঐ গল্পটা জানা আছে? ঐ যে এক ছাত্র পরীক্ষার জন্য শিখে গেলো “ধান”-রচনা, কিন্তু পরীক্ষায় আসলো “রেলভ্রমণ”। ছাত্র লেখা শুরু করলো, “রেলে চড়ে আমরা একবার মামাবাড়ি গিয়েছিলাম। আদিগন্ত বিস্তৃ্ত ধানক্ষেতের মাঝ দিয়ে চলার সময় রেল লাইনচ্যুত…
বিস্তারিত পড়ুন ...

কেলাস ও প্রতিসাম্যতা

সুপ্রাচীন কাল থেকেই বিভিন্ন সাজসজ্জায় এবং স্থাপত্যে বিভিন্ন রকমের নকশার ব্যাবহার দেখা যায় । দেয়াল কিংবা মেঝের কারুকার্যে দ্বিমাত্রিক ভাবে বিন্যস্ত নকশা অথবা ছাদের কিনারা বা বিভিন্ন পাত্রে ফালির মতো একমাত্রিক ভাবে বিন্যস্ত নকশা দেখা যায়। এই নকশা সমূহ সাধারণত বিশেষ প্রতিসাম্য বিশিষ্ট হয়ে থাকে যারা একটা নির্দিষ্ট আকারকে পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে তৈরি হয়ে থাকে যাকে বলা হয় মোটিফ। মোটিফ গুলো পুনরাবৃত্তি করে থাকে প্রতিসাম্য রূপান্তরের মাধ্যমে প্রতিসম ভাবে বিন্যস্ত সকল মোটিফ একটা মোটিফের উপর বিভিন্ন প্রতিসাম্য রূপান্তর দ্বারা প্রতিলিপি তৈরির মাধ্যমে তৈরি হয়ে থাকে। একটা একমাত্রিক ভাবে বিন্যস্ত নকশায় শুধু সাত রকমের প্রতিসাম্য পাওয়া যায় ফালি বা ফিতার মতো এই নকশা সমূহকে বলা হয় ফ্রেজ প্যাটার্ন । গণিতবিদ জন কনওয়ে পদচিহ্ন অনুযায়ী এই সাত রকমের ফ্রেজনকশার নামকরণ করেন । নিচের…
বিস্তারিত পড়ুন ...

কৃত্রিম বৃষ্টি : প্রকৃতি যখন হাতের নাগালে [৩- শেষ পর্ব]

[২য় পর্বের পর থেকে] নানা কাজে নানা দিকে ব্যবহারঃ কোনো একটি এলাকায় কৃত্রিম বৃষ্টি সে এলাকার বার্ষিক বৃষ্টির ১০%-২০% বৃষ্টি বৃদ্ধি করতে পারে। ফসল নেই এমন সময়ে অধিক বৃষ্টি হলে ঐ দৃষ্টিকোণ থেকে খুব বেশি লাভ নেই। ফসলের প্রয়োজনে ৫% বৃষ্টিই পর্যাপ্ত! সময়মতো অল্প বৃষ্টিপাত দিয়েই ভাল ফসল ফলিয়ে নেয়া যায়। এই প্রক্রিয়ায় বন্ধ্যা জমি মানে যে সকল জমিতে পানির অভাবে কখনোই ফসল করা হয় না এমন জমিতেও ফসল ফলানো সম্ভব। আবার কিছু কিছু এলাকায় এটি ভাল ফলাফল নাও বয়ে আনতে পারে। মানুষ এখনো পরিপূর্ণভাবে প্রকৃতিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা শিখে নিতে পারে নি। দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণে কৃত্রিম প্রভাবনঃ মাঝে মাঝে এমনও শোনা যায় কৃত্রিম বৃষ্টিপাত প্রক্রিয়া ব্যবহার করে ঘূর্ণিঝড় হারিকেনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ সামাল দেয়ার চেষ্টা করা হবে। ঘূর্ণিঝড় এলাকায় প্রচুর…
বিস্তারিত পড়ুন ...

কৃত্রিম বৃষ্টি : প্রকৃতি যখন হাতের নাগালে [২]

[১ম পর্বের পর থেকে] কৃত্রিম বৃষ্টি তৈরিঃ কৃত্রিমভাবে বৃষ্টি নামানোর ক্ষেত্রে প্রধানত দুইটি উপায় দেখা যায়। একটি হচ্ছে ভূমি হতে কামান বা কোনো নিক্ষেপকের মাধ্যমে বায়ুমন্ডলের ট্রপোস্ফিয়ার এলাকা বা মেঘের দেশে ঘনীভবনকারী পদার্থ ছুড়ে দেয়া। কিংবা ভূমি হতে এমন কোনো ব্যবস্থা তৈরি করা, অনেকটা ধোঁয়া যেমন ধীরে ধীরে উপরে ওঠে যায় তেমন করে এই রাসায়নিক পদার্থগুলোও যেন উপরে ওঠে যায়। এই পদ্ধতিতে প্রথমে বাহকের মাঝে রাসায়নিক ভরা হয়। যেহেতু এটি রকেটের মতো করে ছুড়ে মারা হবে তাই উড়ার জন্য বাহককেও রকেটের মতো করে বানানো হয়। সেই রকেট একটি কামানের মতো নিক্ষেপক যন্ত্রের মাঝে রাখা হয়। পরে দিক ও লক্ষ ঠিক করে ছুড়ে মারা হয় উপরে। নিচের ছবিগুলো লক্ষ করি। চিত্র: চীনে কৃত্রিম ভাবে বৃষ্টি নামাতে কামানের মাধ্যমে করে রাসায়নিক ছুড়ে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

কৃত্রিম বৃষ্টি : প্রকৃতি যখন হাতের নাগালে [১]

মানুষের প্রয়োজন ও সক্ষমতাঃ খ্রিস্টের জন্মের ২১৫০ বছর আগে চীনের ইতিহাসের দিকে একটু ফিরে তাকালে দেখা যাবে সেখানকার সম্রাট ইয়ু তার রাজ্যের বন্যা নিয়ন্ত্রণ করার ব্যবস্থা তৈরি করার মাধ্যমে কৃষকের ফসল রক্ষা করে বিখ্যাত হয়ে আছেন। কিন্তু আজকের দিনের সেই চিত্র একদমই ভিন্ন। একসময় যে চীনের এক স্থানে নদীর পানি আটকে রাখা শক্ত ছিল আজ এত বছর পরে সেই চীনেই একফোঁটা পানির জন্য নানা কসরত করতে হয়। পানি মানুষের জন্য আশীর্বাদ। একসময় বৃষ্টি হবে, এই আশা করে এখনো অনেক এলাকায় ধান লাগানো হয়। যদি উপযুক্ত সময়ে বৃষ্টি না হয় তাহলে ধানের জমি কৃষকের মন খুশি করতে পারে না। বাংলাদেশেরই আবহাওয়া এরকম যে, দেখা গেল একসময় দিনের পর দিন বৃষ্টি হয়ে গেল যতটা বৃষ্টি মানুষের কোনো দরকার নেই। বৃষ্টি হতে হতে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

পরমাণুর অাভ্যন্তরীন মহাবিশ্বে ভ্রমণ-১৯

অধ্যায়-৪ : নিউক্লিয়াস অনুচ্ছেদ-২: ধনাত্মক চার্জযুক্ত কণিকা নিউক্লিয়াস একটি পরমাণুর মোট ভরের শতকরা ৯৯.৯৪৫ ভাগ থেকে ৯৯.৯৭৫ ভাগ ধারন করে। এই কারনে নিউক্লিয়াস নিয়ে গবেষণা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃতপক্ষে, আপনি বলতে পারেন নিউক্লিয়াসই হলো আসলে পরমাণু। ঊনিশ শতকে পরমাণু সম্বন্ধে ভাবা হতো যে এর প্রায় সম্পূর্ণই ফাঁকা; কিংবা এর অভ্যন্তরভাব অত্যন্ত অকিঞ্চিৎকর ইলেক্ট্রন কণা/তরঙ্গ দিয়ে পূর্ণ। নিউক্লিয়াসই হয়তোবা সেই ক্ষুদ্র, গোলাকার এবং প্রকৃত বস্তু যা লুসিপ্পাস এবং ডোমোক্রিটাস কল্পনা করেছিলেন। বিশাল ভরযুক্ততা সত্ত্বেও নিউক্লিয়াসের আকার অত্যন্ত ক্ষূদ্র এবং তা হচ্ছে একটি পরমাণুর ব্যাসের একলক্ষ ভাগের একভাগ। এই কারনে একে ইলেক্ট্রনের মতোই পরমাণুর আভ্যন্তরীন একটি কণিকা হিসেবেই ধরা হয়। নিউক্লিয়াসে অবশ্যই ধনাত্মক চার্জ থাকতে হবে এবং এর পরিমান হতে হবে একটি নির্দিষ্ট পরমাণুতে প্রাপ্ত সবগুলো ইলেক্ট্রনের ঋনত্মক চার্জকে প্রশমিত করার মতো…
বিস্তারিত পড়ুন ...

পরমাণুর অাভ্যন্তরীন মহাবিশ্বে ভ্রমণ-১৮

অধ্যায়-৪ : নিউক্লিয়াস অনুচ্ছেদ-১: পরমাণু অনুসন্ধান (২য় খন্ড) তিনি সহসাই উপলব্ধি করলেন যে, পটাশিয়াম ইউরেনাইল সালফেট হতে যে বিকিরণ উৎপন্ন হয় তার উৎস হচ্ছে এর মধ্যস্থিত ইউরেনিয়াম। কেননা ইউরেনিয়ামযুক্ত অন্যান্য যৌগসমূহও একই ধরনের বিকিরন দেয় এমনকি যারা ফ্লোরোসেন্স প্রদর্শন করে না তারাও। ১৮৯৮ সালে পোলিশ-ফরাসি পদার্থবিদ মেরি কুরি (Marie Curie, ১৮৬৭-১৯৩৪) দেখালেন যে অন্য আরেকটি ধাতু থোরিয়ামও বিকিরন প্রদর্শন করে। তিনি এই দুটি মৌলের আচরণকে যথাক্রমে ইউরেনিয়াম বিকিরন এবং রেডিয়াম তেজষ্ক্রিয়তা হিসেবে অভিহিতে করলেন। বেকরেল এবং কুরি উভয়ই ধারনা করেছিলেন এই দুই পদার্থের বিকিরণ ভিন্ন ভিন্ন ধরনের। ১৮৯৯ সালে নিউজিল্যান্ড বংশদ্ভুত পদার্থবিদ আর্নেস্ট রাদারফোর্ড (Ernest Rutherford, ১৮৭১-১৯৩৭) অ্যালুমিনিয়াম ধাতুর পাতের মধ্য দিয়ে ছেদ করে যাওয়া তেজষ্ক্রিয় বিকিরনের আচরণ নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। তিনি দেখলেন কিছু বিকিরণ ১/৫০০ সেন্টিমিটার পুরু অ্যালুমিনিয়ামের পাতেই…
বিস্তারিত পড়ুন ...