ফিউশন পারমাণবিক শক্তি (অণুপোষ্ট)

পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো নিয়ে নানারকম ঝক্কি-ঝামেলার কথা আমরা অহরহ শুনতে পাই। কয়েকবছর আগে জাপানের ফুকুশিমার পারমানবিক বিপর্যয় জাপানসহ সারা পৃথিবীতেই দুর্যোগ বয়ে এনেছিলো। তাছাড়া ইতিপূর্বে ইউক্রেইনের চেরোনোবিল বিপর্যয় এবং আরো কিছু বিপর্যয়ের বিষয়েও আমাদের জানা। পারমানবিক বিপর্যয়ের একটি বড় সমস্যা হলো এটি বিপর্যয় ঘটার পরে দীর্ঘ সময় ধরে তার প্রভাবে বিস্তার করে যেতে থাকে। এসব কারণে পৃথিবীর অনেক দেশই নতুন করে প্রচলিত ধারার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মানে উৎসাহ হারিয়ে ফেলছে এবং বিদ্যমান বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ করে দিচ্ছে। অথচ পারমাণবিক বিদ্যুৎ হতে পারতো শক্তি চাহিদা মেটানোর একটা নির্ভরযোগ্য উৎস। বাংলাদেশের মতো অতি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ যেখানে বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর জন্য বিপুল পরিমান বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রয়োজন সেখানে এই ঘনীভূত শক্তির বিদ্যুৎ বিশেষভাবে উপযোগী হতে পারত। তেজস্ক্রিয় বস্তুগুলোর মাধ্যমে খুব অল্প পরিমান ভর থেকে বিপুল পরিমাণ…
বিস্তারিত পড়ুন ...

নীলচে আলোয় নোবেল জয়

  ইলেক্ট্রোলুমিনেসেন্স (Electroluminescence) বা বৈদ্যুতিক প্রতিপ্রভা নামক একধরনের ঘটনা সম্বন্ধে পদার্থবিদগণ ১৯০৭ সাল থেকে অবগত আছেন। এধরনের ঘটনায় একটি বস্তুর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে তা আলো নির্গত করে। তবে এই ঘটনা কৃষ্ণবস্তু নিঃসরণের চেয়ে ভিন্ন ধরনের। আমরা সাধারণ বৈদ্যুতিক বাতির মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ চালিয়েও আলো পেয়ে থাকি। বৈদ্যুতিক বাতিতে একটি ফিলামেন্টের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় এবং তার ফলে এটি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং আলো উৎপন্ন হয়। ইলৈক্ট্রলুমিনেসেন্স এ ধরনের ঘটনা নয়। বরং এই ক্ষেত্রে ইলেক্ট্রন সরাসরি দৃশ্যমান আলো নির্গত করে যখন সে একটি অর্ধপরিবাহীর মধ্য দিয়ে গমন কালে একটি ‘হোল’ এর দেখা পায়। সহজ কথায় ‘হোল (hole)’ হচ্ছে ইলেক্ট্রনের ঘাটতি। একটি অর্ধপরিবাহীর পরমাণুতে যদি ইলেক্ট্রনের ঘটতি থাকে তাহলে একটি ইলেক্ট্রন সেই স্থান দখল করে স্থিতিশীল হতে পারে এবং…
বিস্তারিত পড়ুন ...

এপিজিনোমিক রোডম্যাপ

আমাদের কোন অংশটি লেখা জিনোমে আর কোন অংশটি দৈনন্দিন জীবনাচরনের ফল, সেই বিষয়ক একটি গবেষনা যাকে বলা হচ্ছে 'এপিজিনোম রোডম্যাপ' তার প্রকাশনা গত ১৮ই ফেব্রুয়ারী তারিখে এসেছে। এর মধ্য দিয়ে প্রকৃতি বনাম প্রতিপালনের বিতর্কটা আরেকটু চড়া হলো। আমদের জিনগত তথ্যের নিয়ন্ত্রক হিসেবে যা থাকে সেটাই হলো এপিজিনোম। জিনোমটা যদি শব্দের ক্রম হয়, তাহলে এপিজিনোম হচ্ছে দাড়ি, কমা সহ পুরো প্যরাগ্রাফ। যা প্রকৃতপক্ষে কিছু রাসায়নিক পরিবর্তন যাতে মিথাইল গ্রুপ, এসিটাইল গ্রুপ এরা ডিএনএর সাথে যুক্ত হয় এবং জিন সক্রিয়করন, নিষ্ক্রিয়করনে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। জীববিজ্ঞানী এবং কম্পিউটার বিজ্ঞানীদের একটি সংঘবদ্ধ দল এই গবেষনার মূলে। এপিজিনোমিক ম্যাপ থেকে বিভিন্ন জিনের অভিব্যাক্তির প্রভাবক সম্পর্কে তথ্য পাওয়া সম্ভব যা চিকিৎসাক্ষেত্রে বিভিন্ন রোগের জন্য দায়ী কোষসমূহকে যথাযথভাবে সনাক্ত করতে কাজে লাগবে। আসন্ন কোন ক্ষতিকর এপিজিনোমিক…
বিস্তারিত পড়ুন ...

আলোর বছর ২০১৫

আলোর স্রোতে পাল তুলেছে হাজার প্রজাপতি । আলোর ঢেউয়ে উঠল নেচে মল্লিকা মালতী । তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গের ছোট একটি অংশ হল দৃশ্যমান আলো। তার শ্রোতেই হাজার প্রজাপতিরা ডানা মেলে, তার ঢেউয়েই মল্লিকা মালতীরা রং ছড়ায়। তার প্রবাহেই চোখদুটো ডুবিয়ে আমরা দিন যাপন করি। দেখি। দেখে মুগ্ধ হই, দেখে শান্ত হই, দেখে রেগে যাই, দেখে ভীত হই। যদিও এই অনুভূতিগুলোর সাথে দেহ ও মগজের বহু রসায়ন জড়িত। তবে, চোখ এবং আলোর অবদান কিন্তু ফেলনা নয়। কিছু কিছু প্রাণী এবং পোকামাকড় নাকি অবলাল(সাপ) কিংবা অতি বেগুনী(প্রজাপতি) ব্যাপ্তি পর্যন্ত দেখতে পায়। এই পরিসর মানুষের চোখের জন্য অদৃশ্য। কেমন হত যদি আমরাও দেখতে পেতাম? তবে কি আমাদের মুগ্ধতা সহ অন্যান্য অনুভূতিগুলো অন্যরকম হতো? যন্ত্রের মাধ্যমে ধারন করা মহাকাশের অবলাল কিংবা অতিবেগুনী ছবিগুলো দেখে যে হা…
বিস্তারিত পড়ুন ...

মস্তিষ্কে প্রাচীন ভাইরাসের নতুন কাজের সন্ধান

মানব জেনোমের মধ্যে থাকা 'জিনেটিক জঞ্জাল' ভাবা হয়েছিল যেসব রেট্রোভাইরাসের জেনোম, তারা আসলে গ্রাহক জেনোমে এসে নতুন নতুন কাজের দায়িত্ব পেয়েছে; যেমন, একটি সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে একধরনের রেট্রেভাইরাসের জেনোম মস্তিষ্ক গঠনে কাজ করে।     মানবশরীরে বাস করা কোটি কোটি ব্যাকটেরিয়ার কথা শুনে হয়তো শিহরিত হয়েছেন, কিন্তু এটা জেনে কী অবাক হবেন যে আমরা আসলে বহু বহু ভাইরাস দিয়েও তৈরি হয়েছি? আমাদের জেনোমের ৮ শতাংশ গঠিত হয়েছে অনেক অনেক রেট্রোভাইরাসের জেনোম দিয়ে। বলে রাখি, এইডস রোগ তৈরি করে যেই ভাইরাস, HIV, সেটা একটা রেট্রোভাইরাস। হয়তো নিজের স্বত্ত্বার একদম ভেতরে এরকম ভাইরাসের উপস্থিতি আমাদের জন্য ভাবতে কখনও কখনও ভীতিকর শোনায়, কিন্তু সেল রিপোর্টস পত্রিকায় প্রকাশিত নতুন একটি গবেষণা বলছে যে আসলে এসব ভাইরাস মানব মস্তিষ্ক গঠনে সাহায্য করেছে। আমাদের কাছ থেকে খুব বেশি দূরের নয় এমন আত্মীয়, ইঁদুরের…
বিস্তারিত পড়ুন ...

নীল পাখি নীল কেন?

পাখি...ভাবলেই প্রথমে যেই কথাটা মনে হয় তা হলো উড়াউড়ি আর আকাশ। যুগে যুগে পাখি এবং তার উড়াউড়ি ভাবিয়েছে মানুষকে এবং এখনো ভাবায়। সেই লালনের 'খাঁচার ভিতর অচিন পাখি...' কিংবা শিরোনামহীনের 'একা পাখি বসে আছে...' পাখি নিয়ে কত কবিতা, কত গল্প, কত গান। আচ্ছা পোকারাও তো উড়ে, কিন্তু পোকাদের নিয়ে কি এত ভাবনা মানুষের ছিল? আমার মনে হয়, পাখিদের নিয়ে মানুষের ভালোলাগার কারন হল এর সৌন্দর্য। আর পাখির সৌন্দর্যের অত্যন্ত গুরত্বপূর্ন মাত্রা হল এর বর্ণবিন্যাস। এই লেখাটি পাখির রং নিয়ে সাম্প্রতিক একটা খবর নিয়ে। আকাশের সাথে পাখির মাখামাখি নিয়ে। অনেকদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের জানা ছিলো, পাখিরা কিভাবে তাদের লালচে কিংবা হলদে রং ধারন করে। এর কারন পাখিদের খাবারের বিভিন্ন বর্ণকণিকা তথা পিগমেন্ট। তবে তাদের প্রশ্ন ছিল, কিভাবে নীল রংটা আসে তাহলে? তারা…
বিস্তারিত পড়ুন ...

জিনোম এডিটিংঃ জৈবপ্রযুক্তির সেরা আবিষ্কার

১৯৭০ সালে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তি আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে জীববিজ্ঞানে নতুন যুগের সূচনা হয়। বিজ্ঞানীরা প্রথম বারের মত ডিএনএ তে পরিবর্তন নিয়ে আসার সুযোগ পান। যার ফলে একক কিংবা একগুচ্ছ জিন নিয়ে কাজ করে কিছু অভিনব ওষুধ এবং জৈবপ্রযুক্তি তৈরি হয়। সাম্প্রতিক সময়ের জিনোম এডিটিং প্রযুক্তি জীববিজ্ঞানের আরেকটি বিপ্লবের সূচনা করেছে। রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তিতে কাংক্ষিত ডিএনএ সিকোয়েন্সকে জিনোম থেকে আলাদা করে নিয়ে কাজ করা লাগে। কিন্তু এখন একদম কোষের ভেতরে থেকেই জিনোমের মধ্যেই জিনের কাংক্ষিত পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব। পরিবর্তন বলতে নতুন জিন যুক্ত করা, কোন জিনকে বাদ দেয়া কিংবা প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হবে। ব্যপারটা অনেকটা ওয়ার্ড প্রসেসরের সার্চ এন্ড রিপ্লেস অপশনের মত। তিন রকম জিনোম এডিটিং প্দ্ধতি সবচেয়ে বেশি জানা যায়। ১। ZFN ২। TALEN ৩। CRISPR/Cas9 এদের মধ্যে  CRISPR/Cas9 পদ্ধতিটাই…
বিস্তারিত পড়ুন ...

মাইটোকন্ড্রিয়ার একাল সেকাল

মাইটোকন্ড্রিয়া... জীবিত কোষের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় একটি অংগানু। মাইটোকন্ড্রিয়া কিভাবে এলো? এই বিষয়ে চমৎকার একটি তত্ব আছে, যাকে বলা হয় 'এন্ডোসিম্বায়োটিক থিওরী'। কিভাবে এককালের স্বাধীন ব্যাক্টেরিয়া বহুকোষীর পরাধীন হলো সেইসব ব্যাপার নিয়ে এই থিওরী। ছোটবেলা থেকেই আমরা জেনে এসেছি- মাইটোকন্ড্রিয়া হচ্ছে কোষের পাওয়ারহাউস। কথাটি ভূল নয়, তবে আরো কিছু আনুষঙ্গীক ঘটনা-চক্রে এর গুরুত্বপূর্ন অংশগ্রহন আগ্রহীদের এর সম্পর্কে আরো জানতে উৎসাহী করেছে। একজনের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, মাইটোকন্ড্রিয়া কি শুধুই কোষের পাওয়ারহাউস? এর কাজ কি শুধুই কোষের জন্য জটিল কিছু রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নেয়া? আমাদের জীবনাচরন, রোগব্যাধী,প্রতিকূলতার মধ্যে টিকে থাকা, এসব বিষয়ে এর প্রত্যক্ষ কোন প্রভাব কি আছে? আস্ত একটা নিজস্ব জিনোম নিয়ে মাইটোকন্ড্রিয়া করে কি? সর্বোচ্চ এক মাইক্রোমিটার ব্যাসার্ধ্যের এই লজেন্স আকৃতির অংগানুটি প্রায় প্রত্যেক বহুকোষীর কোষে পাওয়া যায়। কোষের…
বিস্তারিত পড়ুন ...