সব ভুলে যাই তাও ভুলিনা

একথা আমরা সবাই জানি যে মানুষ অভ্যাসের দাস। আমরা যদি নিজেদের জীবনের দিকে তাকাই, তাহলে নিশ্চয়ই খুঁজে পাবো কিছু না কিছু ভালো অভ্যাস যা আমাদের উপকার করছে আর কিছু খারাপ অভ্যাস, যা আমাদের ক্ষতি করছে। আবার আমরা নিজেরাই হয়তো চেষ্টা করেছি নতুন কোন অভ্যাস গড়ে তুলতে, কিংবা বাজে কোন অভ্যাস থেকে মুক্তি পেতে। হয়তো পেরেছি, হয়তো পারিনি। কখনো কি ভেবেছি? কিছু কিছু চেষ্টায় লাভ হলেও কেন কিছু কিছু চেষ্টা বৃথা গেছে? কখনো কি নিজেদের অভ্যাসগুলো ভালো কিংবা খারাপ সেই পার্থক্য না দেখে ছকে ফেলে এদের মধ্যেকার প্যাটার্ন খুঁজতে গেছি? কখনো কি আসলেই 'অভ্যাস', যার আমরা দাস সেই বিষয়টা নিয়ে খুব করে ভেবেছি? নাকি মেনেই নিয়েছি এই দাসত্ব থেকে বের হবার উপায় নেই। আপনি আমি না ভাবলেও অনেকেই ভাবে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ…
বিস্তারিত পড়ুন ...

দেজাভূঁ: রহস্যময়তার আড়ালে

ধরুন,আপনি প্রথমবার জাফলং বেড়াতে গেছেন। জাফলংয়ের চোখজুড়ানো অপরূপ সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য অবলোকনে আপনি মগ্ন হয়ে আছেন,হঠাৎই ব্রেইনে ধরা পড়া একটা সিগন্যালে চমকে উঠলেন। আপনার মনে হতে লাগল, দৃশ্যগুলো আপনার অতি পরিচিত যেন আগেও কোথাও দেখেছেন। কিন্তু কোথায় দেখেছেন...কোথায়...নাহ, কিছুতেই মনে পড়ল না আপনার। অথবা এরকম মনে হতে পারে যে আপনি যেন আগেও জাফলং এসেছিলেন, এই দৃশ্যগুলো দেখেছিলেন। কিন্তু কবে এসেছিলেন মনে করতে পারলেনই না। জি,এই অভিজ্ঞতাকেই বলা হয় দেজাভূঁ। দেজাভূঁ ব্যাপকভাবে ঘটা একটি ঘটনা। বেশিরভাগ লোকজন জীবনে অন্তত একবার এই অভিজ্ঞতা লাভ করে। যাদের দেজাভূঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের কাছে ব্যাপারটা খুব অদ্ভুত মনে হয় এবং এই ঘটনার খুব তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী একটি প্রভাব থেকে যায়। আর যাদের জীবনে দেজাভূঁ ঘটেনি তাদের কাছে ব্যাপারটা প্রায় অসম্ভব ও অকল্পনীয় মনে হয়। দেজাভূঁ…
বিস্তারিত পড়ুন ...

অনুশীলনের মাধ্যমে কি সৃজনশীল হওয়া সম্ভব?

অনুশীলনের মাধ্যমে কি সৃজনশীল হওয়া সম্ভব? সম্প্রতি এ বিষয় নিয়ে সাইন্টিফিক আমেরিকানের মাইন্ড ব্লগ অংশে Scott Barry Kaufman এর একটা লেখা পড়লাম। উনি বলছেন, সৃষ্টিশীল লোকেরা শুধুমাত্র কোন নিদিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যাপারটা এমন নয়। তারা চেনা পথে না চলে নিজেদের জন্যে নতুন পথ তৈরি করে। মনোবিজ্ঞানী এরিকসন ও পুলের মতে সঠিক অনুশীলন আপনাকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতা এনে দেবে। সঠিক অনুশীলন বলতে উদ্দেশ্য ঠিক করা, কাজগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে ভাগ করে সম্পন্ন করা, নিজের আয়ত্তের জায়গা থেকে বেড়িয়ে নতুন কিছু করা। এধরণের অনুশীলন কাজে লাগতে পারে দাবা খেলতে কিংবা কোন বাদ্যযন্ত্র বাজাতে। যে ধরণের কাজে একই প্যাটার্নের বার বার ঘুরে ফিরে আসে সেখানে অনুশীলন খুবই কাজের। কিন্তু সবক্ষেত্রে অনুশীলনের মাধ্যমে সফলতা পাওয়া সম্ভব নয়। কিছু কিছু কাজ আছে যেখানে উদ্দেশ্য ও…
বিস্তারিত পড়ুন ...

কান্নার ব্যবচ্ছেদ: একটি প্রায় বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনা!

আমাদের জীবন শুরু হয় কান্না দিয়ে। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের প্রায় সমস্ত উপলক্ষে জড়িয়ে আছে কান্না। কখনো আমরা কাঁদি বিষাদে, কখনো বা তা আনন্দ অশ্রু হয়ে ঝরে। এছাড়া পেঁয়াজ কাটার সময়ও আমাদের চোখ থেকে জলপপ্রাতের মতো পানি পড়ে! কান্না নিয়ে কত গল্পগাথা, কত কবিতা,কত গান ... কিন্তু কখনো ভেবে দেখেছেন কি আমরা কিভাবে কাঁদি? কেন কাঁদি? পেঁয়াজ কান্নার সাথে আনন্দে কান্না বা বিষাদে কান্নার কি পার্থক্য? এইসব প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেষ্টা নিয়েই এই লেখাটি। কান্না হচ্ছে আবেগের প্রতি সাড়া দিয়ে চোখ দিয়ে জল পড়া। চোখের উপরের পাতায় থাকে অশ্রুগ্রন্থি (tear gland or lacrimal gland)। এখানে অশ্রুর উৎপত্তি। চোখের উপরের অংশের কর্নিয়া এবং শ্বেততন্তুতে থাকে অনেকগুলো ছোট ছোট অশ্রুনালী( tear ducts)। এই নালী পথে অশ্রু পুরো চোখে ছড়িয়ে যায়। এভাবে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

মস্তিষ্কের কর্মকান্ড: অভ্যন্তরীণ বাচন (২)

পূর্ববর্তী লেখা "মস্তিষ্কের কর্মকান্ড: অভ্যন্তরীণ বাচন (১)" এর পর থেকে। এই যে এই পোস্টটি দেখার পর আপনি মনে মনে বলছেন, "বিজ্ঞান ব্লগের নতুন পোস্ট!"- এই মনে মনে কথা বলাই Inner speaking বা অভ্যন্তরীণ বাচন। গতো পোস্টে এই বিষয়ে অল্প কিছু তথ্য জেনেছিলাম আমরা। আর আজ অভ্যন্তরীণ আর বাহ্যিক বাচনের সম্পর্কের গল্প শুনবো। এ গল্প যেমন একদিকে এদের ভেতরকার সম্পর্কের বয়ান দেয়, তেমনই একসাথে বলে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনী মনের কথা। Inner speech বুঝতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা শুরুতেই ঠিক করে ফেলেছিলেন, একে বুঝতে গেলে এর জ্ঞাতিদের সম্পর্কে খোঁজ না নিলেই নয়। তাইতো তারা মনের গহীন কথা আর মুখ ফুটে বলা কথার সম্পর্কটা ঠিক কোন জায়গায় শুরু আর কোন জায়গায় শেষ তা বোঝার প্রচেষ্টা নিলেন। বিজ্ঞানীদের এই চেষ্টার ইতিহাস বেশ লম্বা, কিন্তু ভাবী বিজ্ঞানীদের জন্য পথপ্রদর্শক…
বিস্তারিত পড়ুন ...

মস্তিষ্কের কর্মকান্ডঃ অভ্যন্তরীণ বাচন

ধরুন, আপনি বাজার করতে গিয়েছেন, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা শেষে দাম মিটিয়ে দিয়ে চলে আসছেন। হঠাৎ আপনার মাথার ভেতর কেউ বলে উঠলো, “মরিচ তো কেনা হয়নি!!” পড়িমড়ি করে আবার বাজারে ছুটলেন মরিচ কিনতে। কেউ একজন আপনাকে মনে করিয়ে দিয়েছে মরিচ কেনার কথা। অথবা একটুপর বসের সাথে আপনার একটা জরুরী মিটিং আছে। আপাতদৃষ্টিতে দেখে শান্ত মনে হলে ও ভিতরে ভিতরে আপনি নিজেকে ঝালিয়ে নিচ্ছেন সেই মিটিং এর জন্য, নিঃশব্দে মাথার ভেতর একের পর এক প্রশ্ন আর উত্তর তৈরি করে। এরকম মগজ ঘরে কথা বলা, আওয়াজবিহীন শব্দ আর বাক্য তৈরির প্রক্রিয়ার অনেক উদাহরণ আমরা আমাদের চারপাশে পাই। রাশিয়ান মনস্তত্ত্ববিদ লেভ ভিগোতস্কি সর্বপ্রথম ১৯৩০ সালে এই ঘটনার নামকরণ করেন “Inner speech” বা “অভ্যন্তরীণ বাচন” হিসেবে। মনস্তত্ত্ববিদ্যার শুরু থেকেই বিজ্ঞানীদের এ নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই।…
বিস্তারিত পড়ুন ...

মাইক্রোস্কোপের নিচে মানবদেহ

আমাদের মানবদেহ এক চলমান বিস্ময়। ক্ষুদ্র স্কেলে এটি আশ্চর্য জটিলতায় ভরা। প্রতিটা কদমে, প্রতিটা পলকে, প্রতিটা নড়াচড়ায় ঘটে যাচ্ছে পদার্থবিদ্যার দারুণ কিছু প্রয়োগ। প্রতিটা ভাবনায়, বিন্দু পরিমাণ ভালোবাসায়, বেড়ে ওঠায় খেলা করছে রসায়নের বিশাল কারসাজি। এখানে ক্ষুদ্র স্কেলের দেহের স্থাপত্যের কিছু নিদর্শন দেখে নেই। মেদকলা বা চর্বির কোষগুচ্ছ: বিশেষ ধরণের রঞ্জকে রঞ্জিত ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপের নিচে দৃশ্যমান  ছবি এটি। মেদ কোষের বেশিরভাগ অংশ শুকনো থাকে, সাইটোপ্লাজম থাকে না বললেই চলে। তাই ছবিতে এদের এমন মধুপোকার বাসার কুঠুরির মতো দেখাচ্ছে। ত্বকের নিচের তুলতুলে অংশে থাকা এই মেদকলা আমাদের সহ সকল প্রাণীর দেহের শক্তির সংগ্রহশালা। প্রয়োজনের সময় দেহ, চর্বি হতে শক্তি গ্রহণ করে। সেজন্যই খেয়াল করলে দেখা যায় মেদবহুল মোটা মানুষেরা না খেয়ে থাকতে পারে বেশিক্ষণ। কারণ না খাওয়ার ফলে শক্তির যে অভাব হচ্ছে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

হাঁচি! এটা স্বাভাবিক

শুরুতেই বলি, আমি নিজেই একজন ঘনঘন সিরিজ হাঁচির কষ্টে ভোগা মানুষ। নিজে বাঁচার জন্যে জ্ঞান নিতে যেয়ে এই লেখাটা তৈরি হয়ে গেল। অনেক সময় ব্যয় করে, ঘাঁটা-ঘাঁটি করে অবশেষে লেখাটাকে যখন দাঁড় করালাম তখন দেখি এটা হাঁচির রচনা হয়ে গেছে। এটাকে ছোট করতে গেলেই মনে হচ্ছে নিজের জন্যই কিছু একটা তথ্য বাদ পড়ে যাচ্ছে। অবশ্য জ্ঞানটা নিয়ে উপকার পেয়েছি বটে। কিন্তু তারপরও মাঝেমধ্যে ফেক্সোফেনাড্রিন জাতীয় ওষুধ খাই। তবে সেটা আগের থেকে কম। ওষুধ শরীরের জন্যে মোটেও ভাল না। আর আমার তো মাঝেমধ্যে ওষুধ খেয়েও ভাল কাজ হয় না। তাই আমার হাঁচি কেন হচ্ছে, কিভাবে হচ্ছে আর কার জন্যে হচ্ছে তাই খুঁজে বের করে সেটার ট্রিটমেন্ট শুরু করলাম। আশেপাশের মানুষ-জন হাঁচি দিলে ভয়, বিরক্ত আর ঘেন্ন্যা লাগে। বিশেষ করে যখন আমার…
বিস্তারিত পড়ুন ...