আমরা কেন স্বপ্ন দেখি?

স্বপ্নের স্নায়ুবিজ্ঞান সম্প্রতি বেশ কিছু গবেষণায় ঘুমের সময় মানুষজনের মস্তিষ্কের বিভিন্নধর্মী সক্রিয়তা মাপা হয়েছে ব্রেন স্ক্যানার দিয়ে। স্বপ্নের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য মাথায় রেখে সেসব গবেষণার ফলাফল দেখে নেয়া যাক। গল্প বলা স্বপ্নেরা রেম ও গভীর নন-রেম দুই ধরনের ঘুমেই দেখা দিলেও রেম-ঘুমেই এসব স্বপ্নের প্রাদুর্ভাব বেশি। তাই রেম ঘুমের সময়ে মস্তিষ্কে কি কি শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন হয় তার বিশ্লেষণের মাধ্যমে গল্প বলা স্বপ্ন নিয়ে আলোচনা করবো আমরা। প্রাণীদের উপর পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণা থেকে আমরা জানি ব্রেনস্টেমে রেটিকুলার এক্টিভেটিং সিস্টেম রেম ঘুমের সময় সম্পূর্ণ সক্রিয় থাকে। এই সিস্টেমের সাথে সম্পর্কিত স্নায়ুদের সক্রিয়তা PET স্ক্যান করে দেখা সম্ভব। এই স্ক্যান থেকে পাওয়া ছবির একটা লক্ষ্যনীয় বৈশিষ্ট্য হলো স্বপ্নে গল্প বলা দৃশ্য দিয়ে ভরপুর হলেও প্রাথমিক দৃশ্য কর্টেক্সে তেমন কোন সক্রিয়তাই দেখা যায় না। কিন্তু…
বিস্তারিত পড়ুন ...

স্বপ্নের কি কোন মানে আছে?

১. স্বপ্ন-অভিধান সবাই স্বপ্ন নিয়ে কথা বলতে ভালোবাসেন। ঘুমে দেখা স্বপ্ন জেগে উঠে খুব অর্থবোধক বলে মনে হয়। স্বপ্ন কেন দেখি? স্বপ্নের কি কোন মানে আছে? পৃথিবীর প্রতিটি সংস্কৃতিতেই এই প্রশ্নের উত্তরে বিস্তৃত ভাবনা খুঁজে পাওয়া যাবে। অনেকেই খোয়াবনামা বইটি দেখেছেন। খোয়াবনামাকে বলা যেতে পারে স্বপ্ন অভিধান যেখানে প্রতিটি স্বপ্ন দৃশ্যর রূপকঅর্থ বলে দেয়া আছে। অনেক সময় স্বপ্নকে দেখা হয়েছে ঐশ্বরিক বার্তা হিসেবে। খ্রিষ্টীয় বাইবেল, মুসলমানদের কুরআন আর হিন্দু-বৌদ্ধদের পুরাণে স্বপ্নের মাধ্যমে ভবিষ্যদ্বানীর কথা পাওয়া যায় । কোন কোন প্রাচীন গোষ্ঠী ভাবতো যে ঘুমের সময় আত্মা দেহ থেকে বের হয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায় – যে ভ্রমণকাহিনী আমরা স্বপ্ন হিসেবে দেখি। যদি ধরা হয় স্বপ্ন গভীর তাৎপর্যপূর্ণ, তাহলে মনে হবে স্বপ্ন অতীত স্মৃতি আর চিন্তা-দুশ্চিন্তার সরাসরি অনুবাদ। কিংবা এটাও…
বিস্তারিত পড়ুন ...

চিকিৎসাবিদ্যায় ২০১৪ সালের নোবেল: মস্তিষ্কের অবস্থান-নির্ণয়-ব্যবস্থা

ছবি বাম থেকে ডানে যথাক্রমে এডভার্ট মোজার, জন ও'কেফে, মে-ব্রিট মোজার স্মার্টফোনের কল্যাণে অনেকেই জিপিএস-ব্যবহার করেছেন। জিপিএস হলো পৃথিবীর চারপাশে ঘুরতে থাকা কিছু স্যাটেলাইটের সাহায্য নিয়ে ভূমির স্থানিক তথ্য সুনির্দিষ্ট জানার একটি পদ্ধতি। কোন বস্তু ভূমির ঠিক কোথায় আছে সে সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেয় জিপিএস সিস্টেম। এই তথ্য আসলে স্থানাঙ্ক; অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশের হিসাব। জিপিএস-এর উপর ভিত্তি করে আধুনিক টেলিযোগাযোগ থেকে শুরু করে রকেট উড্ডয়ন প্রযুক্তি গড়ে ওঠেছে। জিপিএস মানেই হলো Global Positioning System, বৈশ্বিক অবস্থান নির্ণয় ব্যবস্থা। চিন্তা করুন, কোন এক দুপুর বেলা আপনি ফার্মগেট থেকে শাহবাগ হয়ে চাঙ্খারপুল যাবেন নান্নার বিরিয়ানি খেতে। এজন্য স্মৃতি ও ইন্দ্রিয়ের তথ্য থেকে আপনি মনে মনে একটি ম্যাপ তৈরি করে ফেলতে পারেন। এখন এই ম্যাপের ঠিক কোন জায়গায় আপনি আছেন, তা যদি সময়ের সাথে সাথে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

দেহ-ঘড়ি টিক টিক ছন্দঃ সার্কাডিয়ান ক্লক

১. একটি চাবি মাইরা দিলা ছাইড়া জনম ভইরা চলিতেছে মন আমার দেহ ঘড়ি সন্ধান করি কোন মিস্তরী বানাইয়াছে ... আবদুর রহমান বয়াতির দেহতত্ত্বের গান। দেহ সম্পর্কে অপরিসীম কৌতুহল বাউলদের, সেই আগ্রহ বার বার ফিরে এসেছে তাঁদের গানের কথায়, সাধনায়, দর্শনে। বাউলদের গানের একটা বৈশিষ্ট্য হলো রূপকের ব্যবহার, যেমন এই গানে দেহ ঘড়িকে আবদুর রহমান বয়াতি তুলনা করেছেন ঘড়ির সাথে, সেখানে চাবি মেরে দেয়া আছে। এখনকার ঘড়ি যদিও ব্যাটারির শক্তিতে চলে, একসময় ঘড়িকে প্রতিদিন চাবি দিতে হতো। ঘড়িতে থাকতো একটা স্প্রিঙ, সেই স্প্রিঙকে ঘুরিয়ে যে বিভব শক্তি সঞ্চিত করা হতো চাবি ঘুরিয়ে, সে শক্তিকে নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের মাধ্যমে ঘড়ি ছন্দে ছন্দে সময় মাপতো। বাউলদের এই দেহের সাথে ঘড়ির তুলনা সহজেই আমরা ধরতে পারি। আমাদের ঘুম-জাগরণ তো ছন্দেই চলে। এই ছন্দের পেছনে আসলেই…
বিস্তারিত পড়ুন ...

নিউরন, আলো এবং অপ্টোজেনেটিক্স

আমাদের মগজটা অসাধারন একটা বস্তু। অসাধারন এর প্রয়োজনীয়তা, অসাধারন এর জটিলতা। ছোট্ট-বদ্ধ একটা কোঠরে থেকেও, একটি কোয়ান্টাম কণার স্পন্দন থেকে মহাবিশ্বের নিঃসীমতা- বহু কিছুই ধারন করতে পারে। ভালো লাগা, খারাপ লাগা, চলাফেরায় ভারসাম্য রাখা- এই ব্যাপারগুলো মগজের নিউরনের মধ্যে ছড়ানো কিংবা সাজানো থাকে। মন ভালো নাই- নির্দিষ্ট কিছু নিউরন কাজ করছে। সুন্দর একটি গান শুনে মন ভালো হয়ে গেল, অন্য এক গুচ্ছ নিউরন এখন সক্রিয়। কিংবা ভাইভা দিতে গিয়ে সব ভূলে যাওয়া, তখন সব নিউরন নিষ্ক্রিয়। মাত্রাতিরিক্ত সরলীকৃত করে বলা যায় যে, নিউরনের সক্রিয়তা/নিষ্কৃয়তাই আমাদের আবেগ-অনুভূতি, আচরনের ভৌত রূপ। মানুষের স্বভাবই হচ্ছে শর্টকাট খোজা। সমুদ্র দেখতে মানুষের ভালো লাগে, তাই মানুষ কক্সবাজার যায়। কিন্তু সমুদ্রে তো সবসময় যাওয়া যায়না, তাই শর্টকাট হিসেবে আগের দিনে ঘরের দেয়ালে সমুদ্রের ছবি শোভা পেত।…
বিস্তারিত পড়ুন ...

ঘুম-চক্রের কাজের খোঁজে

It is a common experience that a problem difficult at night is resolved in the morning after the committee of sleep has worked on it. জন স্টেইনবেক (১৯০২-১৯৬৮), নোবেল জয়ী আমেরিকান সাহিত্যিক গত "ঘুম-গবেষণার আশ্চর্য-আরম্ভ" লেখায় আমরা ঘুমচক্র সম্পর্কে মোটাদাগে কিছু তথ্য জেনেছি। এখন তাহলে আগের প্রশ্নে ফেরত যাওয়া যায় -- ঘুম কেন দরকার? অনেক সময় সহজ-সরল-ছোট প্রশ্নও মাথা ঘুরিয়ে দেয়। সোজা প্রশ্নের উত্তর দেয়া তাই আনায়সের কাজ নয়। আফ্রিকায় একটা প্রবাদ আছে -- প্রতিবার এক-লোকমা মুখে দিয়ে একটা বড়ো হাতি একাই খেয়ে ফেলা সম্ভব। মানে একটা দুরূহ কাজ প্রথমে অসম্ভব মনে হলেও যদি কেউ সেটাকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে ফেলেন, তাহলে কাজটা ঠিকই একটু একটু করে সুসম্পন্ন হয়ে যায়। তেমনি ঘোল-খাইয়ে দেয়া সহজ প্রশ্নগুলোকে আরো ছোট ছোট, কিন্তু…
বিস্তারিত পড়ুন ...

দ্যা মোজার্ট ইফেক্ট: ধ্রুপদী সঙ্গীত কি সত্যিই বুদ্ধিমত্তার বিকাশে কার্যকর?

১৯৯৩ সালে নেচার জার্নালে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার মনোবিজ্ঞানী ফ্রান্সেস এইচ. রশার এবং তাঁর সহকর্মীবৃন্দ একটি গবেষণা প্রকাশ করেন যাতে তাঁরা দাবী করেন মোজার্টের সঙ্গীত শুনতে দেওয়ার পর একদল কলেজ ছাত্রের বিশেষ কিছু বুদ্ধিবৃত্তিক কাজে পারদর্শিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। মোজার্টের ১৭৮১ সালের D-মেজর স্কেলে কম্পোজকৃত দুই পিয়ানোর সোনাটা শোনার পর ছাত্রদের মস্তিষ্কের চিন্তাধারা উন্নত হয়েছে বলে মনে করা হয়। এই গবেষনায় ৩৬ জন ছাত্র অংশগ্রহণ করে। এদের তিনভাবে ভাগ করে একদলকে ১০ মিনিট নিরবতার মাঝে রাখা হয়, অপর একটি দলকে দশ মিনিট শিথীলতার বয়ান শোনানো হয় এবং শেষ দলটিকে মোজার্টের পিয়ানো সোনাটা শোনানো হয়। যেসব ছাত্র মোজার্টের পিয়ানো শুনেছে তাদের মনে মনে বিশেষ কিছু আকৃতি তৈরি করতে অপেক্ষাকৃত দক্ষতার পরিচয় দিতে দেখা গেল। একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিশেষভাবে ভাঁজ করা একটি কাগজকে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

ঘুম-গবেষণার আশ্চর্য-আরম্ভ

''ঘুম কেন জরুরী'' লেখাটিতে ঘুমের মতো জীবনের এক-তৃতীয়াংশ সময় নষ্ট করা আপাত-দৃষ্টিতে অপ্রয়োজনীয় একটা বিষয়ের কাজটা কি হতে পারে তা  আমরা সাদা চোখে বোঝার চেষ্টা করেছি। আমরা ঘুমানোর যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাই, তা ভালোমতো বুঝতে পারলে ঘুমের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে এই প্রশ্নটার বাঁকা পথে আরো ভালো উত্তর পাওয়া যাবে, এরকম একটা সম্ভাবনার কথা উল্লেখ ছিলো গত লেখাটিতে।  উত্তর-খোঁজার আগে ঘুম-গবেষণা আর ঘুমের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক। ইউজিন আরিয়েনস্কি ঘুম নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণার শুরুটা ছিলো বেশ উদ্ভট। উনবিংশ শতাব্দীতে বেশ কয়েকজন ফরাসী গবেষক  ঘুমের প্রক্রিয়া নিয়ে আগ্রহী ছিলেন। ঘুমের মধ্যে কি ঘটে তার সবচেয়ে সরল পর্যবেক্ষণ হতে পারে কোন ঘুমন্ত মানুষের পাশে সারারাত জেগে থেকে নিদ্রার মাঝে শরীরের নড়াচড়া লিপিবদ্ধ করা। কিন্তু এই গবেষকরা সরল পর্যবেক্ষণটি না করে বেশ মজার একটা কাজ…
বিস্তারিত পড়ুন ...