কাকতালীয় ঘাতক

মানুষকে আক্রমণ করার জন্য অণুজীবরা বিবর্তিত হয়েছে বলে আমরা ভাবি। তবে আমরা হয়তো আদিকাল থেকে চলমান যুদ্ধে বেসামরিক হতাহত ছাড়া অন্য কিছু নই।   ১. এইচ জি ওয়েলসের ক্লাসিক দ্য ওয়ার অফ দ্যা ওয়ার্ল্ডস (১৮৯৮) উপন্যাসে মঙ্গল গ্রহের প্রাণী কর্তৃক ইংল্যান্ড আক্রমণের আখ্যান পাওযা যায়। উপন্যাসটি কোন চনমনে বীরত্বপূর্ণ বিজয় দিয়ে শেষ হয় না, বরং দৈবভাবে গল্পের শেষ হয়। ভিনগ্রহের প্রাণী  তাপীয়-রশ্মি ও কালো-ধোঁয়া দিয়ে মানুষকে আয়ত্বে আনতে চায়। কিন্তু জয়ের একেবারে কাছাকাছি এসে তারা মারা যায়। মানববিহীন ধ্বংসস্তুপের লন্ডনে তাদের যন্ত্রগুলো অচল হয়ে পড়ে। পাখিরা তাদের পচা দেহাবশেষ ঠোকর দিয়ে খায়। তাদের এই হঠাৎ-পতনের কারণ? ব্যাক্টেরিয়া। উপন্যাসের বেনামী কথক বলেন, 'মানুষের সকল ফন্দি ব্যর্থ হওয়ার পর, সবচেয়ে নিচু জীব দিয়ে (ভিনগ্রহবাসীরা) পরাস্ত হলো।' ওয়েলসের যুক্তি ছিলো সরল। মানুষের অনাক্রম্যতা…
বিস্তারিত পড়ুন ...

নিপাহ ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের আবহাওয়া-উৎপত্তি

বাস্তুসংস্থানের পরিবর্তন যেভাবে নতুন রোগ ছড়াতে পারে   কোন সংক্রামক রোগের হঠাৎ প্রাদুর্ভাবের কারণ খুঁজতে গেলে অনেকগুলো প্রশ্নের উদয় হয়। এদের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন হলো "কেন?”। কেন তখন? কেন ঐখানে? এ প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজা প্রায় অসম্ভব হতে পারে। এর কারণ শুধু এই নয় যে প্রশ্নগুলো অনেকটা অধিবিদ্যাধর্মী ও বোঝা কঠিন। বরং অণুজীব, পরিবেশ ও আক্রান্ত মানুষের মধ্যে আপাত-নগণ্য মিথষ্ক্রিয়াগুলো নির্ণয় করা শ্রমসাধ্য ও জটিল কাজ। তাই জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা অসন্তুষ্ট জনগণের কাছে অসহায়ের মতো কাঁধ-ঝাঁকিয়ে ভগ্নহৃদয়ে স্বীকার করেন যে তারা এসব প্রশ্নের উত্তর "জানেন না আর হয়তোবা কখনোই জানতে পারবেন না";  এরপর অন্ধকারাচ্ছন্ন, ধোঁয়াটে বারে গিয়ে অক্ষমতার আক্ষেপ গ্লাসের পর গ্লাস ভর্তি এককোষী ছত্রাকের বিপাকীয় বর্জ্য-তরলে নিমজ্জিত করতে থাকেন। হলিউডের চলচিত্র কন্টাজিয়ন-এর (Contagion) শেষ দৃশ্যের কথা বলা যাক। কন্টাজিয়ন চলচিত্রটিতে MEV-1…
বিস্তারিত পড়ুন ...

সাপের তাপ দেখা জিন

সাপ দেখে শিউড়ে ওঠা আমাদের প্রাচীন আত্মরক্ষা ব্যবস্থারই অংশ। তবে সাপের সাথে আমাদের মিলও কম নয়। বিশেষত কোষের গহীনে জীবন নকশায়।  সাপের জিনোমের আকার মানব জিনোমের অর্ধেক। জিনোমের আকারের সাথে প্রাণীদেহের জটিলতার কোন সরাসরি সম্পর্ক নেই অবশ্য। কিছু কিছু স্যালমান্ডরের জিনোম মানব জিনোমের চেয়ে ষাটগুণ বড়ো, অথচ স্যালমান্ডর একটি নিরীহ সরীসৃপ মাত্র। তো সরীসৃপ হলেও সাপের সাথে মানব জিনোমে অনেক জিনের সিকোয়েন্সে প্রচন্ড মিল। TRPA1 জিনের কথাই ধরা যাক। আমি বেশিদিন হয় নি এর নাম শুনেছি, সম্ভবত পাঠক আপনিও না। কিন্তু এই জিন থেকে তৈরি প্রোটিনটি উল্লেখ করার মতো। ট্র্যপা-১ প্রোটিনটি সাপকে অবলোহিত আলো, অর্থাৎ তাপ দেখতে সাহায্য করে। তবে মানুষে প্রোটিনটি তাপ দেখার অতিমানবিক ক্ষমতা নয়, বরং খাবারে বিষজাতীয় পদার্থ আছে কি না,  সেটার অনুভবশক্তি দেয়। ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে স্বাদ,…
বিস্তারিত পড়ুন ...

প্রাণ-রসায়নের নন্দন-কানন

জীবনের উদ্ভব কিভাবে হলো বুঝতে হলে আমাদের প্রচলিত ধারণা বদলিয়ে প্রাণকে আণবিক শক্তির প্যাটার্ন হিসেবে দেখার দরকার হতে পারে   ১. ১৯৮৩ সালে গ্লাসগোতে এক উষ্ণ বসন্তের বিকেলে যখন তার এগার বছর বয়সী ছেলে একটি খেলনা ভেঙে ফেলে, তখন মাইক রাসেল তাঁর অনুপ্রেরণার মুহূর্তটি খুঁজে পান। ওই খেলনাটি ছিলো একরকমের রাসায়নিক বাগান। জিনিসটা মূলত প্লাস্টিকের একটি ছোট ট্যাঙ্ক। সেখানে একটি খনিজ দ্রবণে স্ফটিক-বীজ রাখা হলে স্টেলেগমাইট[১]-সদৃশ লতানো টেনড্রিল[২] বেড়িয়ে আসে। বাইরে থেকে এসব টেন্ড্রিল দেখতে নিরেট মনে হয়। তবে খেলনটি ভেঙে যাওয়ার পর এরা তাদের প্রকৃত গঠন উদ্ঘাটন করলো: প্রতিটি টেন্ড্রিইল আসলে অজস্র ফাঁপা নলের জালিকার সমাহার। অনেকটা পানীয় খাওয়ার স্ট্র-এর বান্ডিলের মতো। রাসেল ছিলেন একজন ভূবিজ্ঞানী। সে সময় তিনি সম্প্রতি আবিষ্কৃত অন্যরকমের শিলার গঠন বোঝার চেষ্টা করছিলেন। শিলাটি বাইরের…
বিস্তারিত পড়ুন ...

স্বপ্ন কি ভবিষ্যতের ইঙ্গিতবাহী?

স্বপ্ন মরমী অর্থে পূর্বাভাস নয়। তবে স্বপ্নের ভিন্নধর্মী মানসিক পূর্বাভাসের শক্তি আছে।   ১. সম্ভবত বাইবেলে স্বপ্নে ভবিষ্যদ্বানীর সবচেয়ে বিখ্যাত কথা পাওয়া যায়। ফারাও (কুরআনের ফেরাউন - অনুবাদক) স্বপ্নে দেখেন তিনি নীল নদের তীরে দাঁড়িয়ে আছেন। সাতটি মসৃণ, তরতাজা স্বাস্থ্যবান গরু নদী থেকে উঠে আসলো। তারপর আরো সাতটি হাড্ডিসার, কুৎসিত গরু পিছু নিয়ে সামনের হৃষ্টপুষ্ট গরু সাতটিকে খেয়ে ফেলে। কিন্তু এ স্বপ্নের মানে কি? এখানে একটা ধাঁচ লক্ষ্যণীয়, তাই না? খারাপ ভালোকে অনুসরণ করে এসে গ্রাস করে ফেললো। আর সংখ্যা ছিলো সাত। ফেরাউন যোসেফকে (কুরআনের ইউসুফ (আ.) - অনুবাদক) তলব করলে তিনি স্বপ্নের ব্যাখ্যা দেন। ব্যাখ্যাটি ছিলো টানা সাত বছরের সমৃদ্ধির পর সাত বছর ধরে দুর্ভিক্ষ বিরাজ করবে। এই ব্যাখ্যা ফারাওয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এখন তিনি ভবিষ্যতে কি হবে আঁচ করতে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

কৃষি : মানব-ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভুল

সারাংশ: কৃষিকাজকে মানব সভ্যতার ভিত্তি বলে আমরা ধরে নেই। তবে মানব ইতিহাসে অনেকগুলো দুর্দশার কারণ ছিলো কৃষির আবিষ্কার।   দু'পেয়ে পশু থেকে বুদ্ধিমান প্রাণী -- নিজের কাছ ভাবমূর্তির নাটকীয় উন্নতির জন্য বিজ্ঞানের কাছে আমরা চিরঋণী। জ্যোতির্বজ্ঞান আমাদের শিখিয়েছে পৃথিবী মহাবিশ্বের কেন্দ্র নয়, বরং সহস্র কোটি স্বর্গীয় বস্তুর মধ্যে মাত্র একটি। জীববিজ্ঞান থেকে আমরা জেনেছি যে আমরা অন্যান্য লক্ষ লক্ষ প্রজাতির সাথে অভিযোজিত হয়েছি। এখন প্রত্নতত্ত্ব আরেকটি পূতঃবিশ্বাস ধ্বংস করছে। আগে ধারণা করা হতো গত কয়েক লক্ষ বছরের মানব ইতিহাস হলো ধারাবাহিক প্রগতির উপাখ্যান। যেমন কৃষির উদ্ভাবনকে অবধারিতভাবে উন্নত জীবনের প্রতি নিশ্চিত পদক্ষেপ বলে ধরা হয়। অথচ সাম্প্রতিক আবিষ্কারগুলো বলছে কৃষি প্রকৃতপক্ষে অনেক ক্ষেত্রেই বিপর্যয়কারী ঘটনা। এ বিপর্যয় থেকে আমরা এখনো সেরে উঠতে পারি নি। কৃষির সাথে সাথে এসেছে সামাজিক ও…
বিস্তারিত পড়ুন ...

২০ ফুট লম্বা ফিতাকৃমি

২০ ফুট লম্বা ফিতাকৃমি
চীনের মধ্যাঞ্চলে সাধারণত ফিতাকৃমির সংক্রমণ হয় না। পরিবেশগত কারণেই হয়তোবা এ অঞ্চলের মানুষের মাঝে এর উৎপাত কম। কিন্তু ২০১৬ সালের শুরুর দিকে অদ্ভুত এক ঘটনা ঘটে। ডাক্তাররা এক ব্যক্তির অন্ত্রে খুঁজে পান ২০ ফুট লম্বা এক ফিতাকৃমি। একে তো ঐ অঞ্চলে এধরনের সংক্রমণ কম তার উপর এত বেশি লম্বা হওয়াতে অবাক হয়ে যায় সবাই। দুই বছর ধরে এই কৃমিটি বাস করছিল ঐ লোকের দেহে। জানা যায় আক্রান্ত ব্যক্তি কাঁচা মাংস খেতে ভালোবাসেতেন, নিয়মিতই খেতেন সেদ্ধ না করা মাংস। এক পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। দুই বছর ধরে লেগেই থাকে অসুস্থতা। বমি হতো, ক্ষুধামন্দা লেগে থাকতো, খেতে ইচ্ছে করতো না, পায়ুপথে ব্যথা করতো, শরীর দুর্বল লাগতো, আর ধীরে ধীরে ওজন কমতো। এক পর্যায়ে তিনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। ডাক্তার তার মলের নমুনা পরীক্ষা…
বিস্তারিত পড়ুন ...

জীবজগতে ধর্ষণ: একটি বিবর্তনীয় প্রেক্ষাপট

[পাঠ-সতর্কতা: ‘ধর্ষণ’ একটি অপরাধমূলক যৌন আচরণ এবং সামাজিক, আইনগত ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই প্রবন্ধ কোনোভাবেই ‘ধর্ষণ’ এর পক্ষে নয় এবং একে উৎসাহিত করে না। ‘ধর্ষণ’ ব্যাখ্যার নিমিত্তে বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞান এবং নৃবিজ্ঞানের সমন্বয়ে কিছু তথ্য, তত্ত্ব এবং অনুসন্ধান উপস্থাপন করে মাত্র। পাঠককে ‘ধর্ষণ’-এর ক্ষেত্রে সামাজিক মূল্যবোধকে অবিকৃত রেখে এই প্রবন্ধ পাঠ করার জন্যে অনুরোধ করা হলো।] উৎসর্গপত্র অভিজিৎ রায়ের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। ঠিক তিন বছর আগে এরকম এক রাতে (ছাব্বিশ ফেব্রুয়ারি, 'দু হাজার পনেরো) আচমকা তাঁর মৃত্যু সংবাদ পেয়েছিলাম। বইমেলা থেকে ফেরার পথে অসম্ভব প্রতিভাবান এই মানুষটা খুন হয়ে গেল। প্রকাশ্যে, জনসম্মুখে; অথর্ব পুলিশ প্রহরার আশেপাশে। এখন আমরা সেই অভিজিৎ রায়ের রক্তের উপর দিয়ে বইমেলায় যাই। বই কিনি। যে বইমেলায় অভিজিৎ রায় লেখেনা, অনন্ত বিজয় দাস লেখে না,…
বিস্তারিত পড়ুন ...