বায়োহ্যকার বদলে দিলেন নিজের ডিএনএ

মানুষের বংশগতি বৈশিষ্ট্য জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। মানুষ কি ইচ্ছা অনুযায়ী জিন এ পরিবর্তন মাধ্যমে তার বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন আনতে পারবে? মানুষ কেন বংশপরম্পরায় পাওয়া জিন এর দাস হয়ে থাকবে? এ প্রশ্নের উওর খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানী জোসেফ জেইনার কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্যের জন্য তার নিজ-দেহের জিন এর পরিবর্তন ঘটান।তিনি তার হাতের মাংস পেশির একটি জিন এর পরিবর্তন ঘটান। জিন এর পরিবর্তন করে নতুন বৈশিষ্টের উদ্ভব মানুষে এই প্রথম। এর আগে কাঙ্খিত বৈশিষ্টের জন্য বিজ্ঞানীরা অনুজীব সহ অনেক উদ্ভিদ এ জিন পরিবর্তনের কৌশল (জেনেটিক ইন্জিনিয়ারিং) প্রয়োগ করা হয়ে আসছে। মানবদেহ অসংখ্য কোষের সমন্বয়ে ঘঠিত।প্রতিটি কোষের নিউক্লিয়াসে নিউক্লিক এসিড হিসেবে থাকে ডিঅক্সি রাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ, DNA) ও রাইবোনিউক্লিক এসিড (আরএন এ, RNA)। DNA তে থাকে মানুষের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী জিন। জিন এ মানুষের বৈশিষ্ট্যগুলো কোড করা…
বিস্তারিত পড়ুন ...

ভাইরাস কি প্রকৃতির ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে?

ভাইরাসও প্রকৃতির ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে। ইনফ্লুয়েঞ্জা, ইবোলা, এইচআইভি, ডেঙ্গু এরা আমাদের বার বার মনে করিয়ে দেয় যে ভাইরাস কতটা ক্ষতিকর। গঠনের দিক থেকে ভাইরাস সহজ সরল। অল্প কিছু জীন এবং তার চারপাশে ঘিরে একটি প্রোটিনের তৈরী খোলস নিয়ে গঠিত হয় একটি ভাইরাস, যার আকার প্রায় একটি অণুর সমান। কিন্তু  এই ক্ষুদ্র ভাইরাসটির ক্ষমতা আমাদের ধারণারও বাইরে। এরা যখন দেহের কোন কোষকে আক্রমণ করে তখন সেই কোষের ভেতরে সব রকম কর্মকান্ডের দখল নিজের আয়ত্তে নেয়। ভাইরাস ওই কোষের সাহায্যেই সংখ্যাবৃদ্ধি করে আরও অসংখ্য ভাইরাস তৈরি করে। একেক রকম ভাইরাসের বংশবৃদ্ধির ধরণ একেক রকম। কোনটা খুব দ্রুত আবার কোনটা খুব ধীরে বংশবৃদ্ধি করে। কোন ভাইরাস পোষক দোহের কোষকে আক্রান্ত করে তার এনজাইমগুলো ব্যবহার করে বংশবৃদ্ধি করে। আবার কোন ভাইরাস বংশবৃদ্ধির জন্য…
বিস্তারিত পড়ুন ...

ভাইরাসও কিন্তু ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে

ভাইরাস শব্দটা শুনলেই আমাদের রোগের কথা মনে পড়ে। ভাইরাস আমাদের রোগ সৃষ্টি করে। ভাইরাস আমাদের কোষকে আক্রান্ত করে আবার কোন কোন ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকেও আক্রান্ত করে। তবে আরও বিস্ময়কর ব্যাপার হল ভাইরাসও ভাইরাসকে আক্রান্ত করে ; অর্থাৎ ভাইরাসও ভাইরাসের রোগ সৃষ্টির কারণ হতে পারে । এই ভাইরাসের ভাইরাসকে আবিষ্কার করেন Bernard La Scola এবং Christelle Desnues. তারা এর নামকরণ করেন সেই চিরচেনা স্যাটেলাইট স্পুটনিক এর নামে। ব্যাকটেরিওফেজের নামের সাথে মিল রেখে এদের অনন্যতার কারণে তাদের অন্য গোত্র (Family) ‘ভাইরোফেজ' এর অন্তর্ভুক্ত করেন। এই স্পুটনিক এর গল্প আসলে শুরু হয় ১৯৯২ সালে ইংল্যান্ডে। একদল গবেষক অ্যামিবা নিয়ে গবেষণার সময় একটি আণুবীক্ষণিক দৈত্য আবিষ্কার করেন, এটা এতটাই বড় যে একে ব্যাকটেরিয়া বললে ভুল হবে না। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে La Scola দেখন যে আসলে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

অ্যান্টিবডি যেভাবে কাজ করে

আমাদের দেহে যখন বাইরে থেকে কিছু প্রবেশ করে, এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা যদি তাকে ক্ষতিকর সন্দেহ করে তখন অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। অ্যান্টিবডি তৈরি হয় এবং কাজ করে শুধু বিভিন্ন জীবাণু, কিংবা জীবাণুর তৈরি করা বিষ এধরনের জৈব বা জৈবিক উৎসের পদার্থের বিরুদ্ধে। আমাদের প্রতিরোধ ব্যবস্থা অজৈব বস্তুর বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করে সময় ও শক্তি নষ্ট করেনা কেননা সেগুলো কদাচিৎ ক্ষতিকর। তাছাড়া সেসব থেকে পরিত্রাণ পেতে তো যকৃত বৃক্কের সমন্বয়ে আরেক ব্যবস্থা রয়েছে। যেসব জীবাণু আমাদের দেহে বসবাস ও বংশবৃদ্ধি করে এবং নানা রকম আবজাব পদার্থ দেহে ছড়িয়ে দেয়, সেসব আবজাব পদার্থ এবং তাদের উৎস জীবানুর বিভিন্ন অংশ আমাদের জন্য অ্যান্টিজেন। যাদের কারণে প্রতিরোধ ব্যবস্থা জরুরী অবস্থা জারি করে। যদিও এই জরুরী অবস্থায় প্রচুর অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, কিন্তু তাই বলে এটা ভাবার…
বিস্তারিত পড়ুন ...

ভাইরাসই হবে ক্যানসারের প্রতিষেধক

ভাইরাস বললেই আমাদের মনে একধরণের ভয় সৃষ্টি হয়। ভাইরাস শব্দটিই যেন নেতিবাচক। আমরা জানি ভাইরাস নানা ধরণের রোগ সৃষ্টি করে। আমরা মাঝে মাঝে ভাইরাল জ্বরের মাধ্যমে যে কষ্ট পাই তার পেছনেও কিন্তু ভাইরাস দায়ী। কিন্তু আমি যদি বলি ভাইরাসরা ভালো কাজ করতে পারে তাহলে চমকাবার কিছু নেই। কিছুদিন আগে ইউটিউবে একটি Ted Talk দেখছিলাম। বক্তা Dalhousie University এর মাইক্রোবায়োলজি ও ইমিউনলজি ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক Patrick Lee. তিনি যা বললেন তা আমরা সচরাচর যা ভাবি ঠিক তার বিপরীত। তিনি বলছেন ভাইরাসের মাধ্যমে ক্যানসারের চিকিৎসা সম্ভব। কিন্তু আমরা এতদিন জেনে এসেছি ভাইরাস দিয়ে ক্যানসার হয়। এখন এই ভাইরাস দিয়েই ক্যানসার চিকিৎসা! যেন বিষে বিষক্ষয়। ষোল মিনিটের ভিডিওটিতে তিনি খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন কিভাবে ভাইরাস ক্যানসার চিকিৎসার জন্য একটা নতুন দ্বার খুলে দিতে পারে।…
বিস্তারিত পড়ুন ...

আমাদের অনাক্রম্য ব্যবস্থা

আপনি কোথায় বাস করছেন তার উপর নির্ভর করে বিভিন্ন ভাবে আপনার বাড়িকে নিরাপদ করতে পারেন। গ্রাম গঞ্জের বাড়িগুলোর চারপাশ এখনো খোলামেলা ই থাকে, অনেকে বেড়া তুলে দেয় খুব বেশি হলে দেয়াল। শহুরে এপার্টমেন্ট গুলোতে থাকে দাড়োয়ান, সিসিটিভি ইত্যাদি। আপনার সামর্থ্য থাকলে ইলেক্ট্রনিক এলার্ম, লেজার, বায়োমেট্রিক সেন্সর এমনকি একজন এক্স-কমান্ডোকেও নিরাপত্তার জন্য ভাড়া পেতে পারেন। এসব কিছুর মূলেই রয়েছে আমাদের ঘর , ঘরের ভেতরের মূল্যবান জিনিসপত্র এবং প্রিয়জনদের অনাকাঙ্ক্ষিত উপদ্রব থেকে দূরে রাখা। আপনার দেহেরও এমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে যা নানান বিপদ আপদ থেকে আপনাকে সুরক্ষা দেয়। আপনার হাড্ডি, চামড়া এসব দেহের ভেতরের গুরুত্বপূর্ন অংগকে পিছলে পড়ে গিয়ে পাওয়া আঘাত কিংবা আচমকা উড়ে আসা ঢিল থেকে বাঁচায় চোখের পাতা ধূলাবালি এবং দুষ্ট ছেলেদের আঙ্গুল থেকে রক্ষা করে ইত্যাদি। তবে সবচেয়ে মূল্যবান…
বিস্তারিত পড়ুন ...

ছোঁয়াচে প্রাণরসঃ টোবাকো মোজাইক ভাইরাস এবং ভাইরাস জগতের আবিষ্কার

(লেখাটি কার্ল জিমারের বই A plantet of virus এর প্রথম অধ্যায়ের অনুবাদ)     মেক্সিকান সিটির চিহুয়াহুয়া প্রদেশের ৫০ মাইল দক্ষিণে একটা শুষ্ক ও বিরান পাহাড় আছে যার নাম সিয়েরা দে নাইসা। ২০০০ সালে খনি শ্রমিকরা পাহাড়ের গুহা খনন করছিলো। কয়েক হাজার ফুট গভীরে প্রবেশ করার পর তারা এমন এক জায়গার সন্ধান পেল যেটা দেখে মনে হবে তা হয়তো ভিন গ্রহের কোন এক জায়গা। তারা এমন একটা প্রকোষ্ঠে দাড়িয়ে ছিলো যা ৩০ ফুট চওড়া এবং ৯০ ফুট লম্বা। উপরে নিচে এবং পুরো দেয়াল জুড়ে মসৃণ এবং স্বচ্ছ জিপসামের স্ফটিক ছড়িয়ে ছিলো চারদিকে। এরকম অনেক গুহাতেই স্ফটিক পাওয়া যায় তবে তার কোনটিই সিয়েরা দে নাইসার মত নয়। প্রতিটি স্ফটিক ছিল ছত্রিশ ফুট লম্বা এবং ওজনে পঞ্চান্ন টন। তাই বুঝায় যাচ্ছে এই…
বিস্তারিত পড়ুন ...

প্রিয়নের গল্প

ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের একটি দ্বীপরাষ্ট্র স্যান লরেঞ্জোর শাসক 'পাপা মনজানো'র বাবা ছিলেন একজন নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী। তার একটি আবিষ্কার হল রহস্যময় আইস-নাইন। যার সংস্পর্শে এলে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিও জমে গিয়ে আইস-নাইনে পরিণত হয়। বহুকাল সেই আইস নাইন ছিল লোকচক্ষুর আড়ালে। একসময় পাপা মনজানো ক্যান্সারের যন্ত্রণা সইতে না পেরে আইস-নাইন খেয়ে আত্নহত্যা করেন। তার জমে যাওয়া দেহের স্পর্শে এসে তার ডাক্তারও জমে গিয়ে মারা যান। এ যেন ছোটবেলায় খেলা বরফ-পানির বাস্তব এবং ট্র্যাজিক সংস্করণ। এতটুকুই নয়, ঘটনাক্রমে পাপার দেহ গিয়ে পড়ে সমুদ্রে এবং সারা পৃথিবীর পৃষ্টে ও পেটে যত পানি আছে সব জমে গিয়ে বিশাল দূর্যোগ সৃষ্টি করে। বাকীটা জানতে হলে পড়তে হবে কার্ট ভনেগাট এর লেখা কল্পকাহিনী Cat's Cradle। আমাদের সৌভাগ্য যে আইস-নাইন কাল্পনিক, কিন্তু দূর্ভাগ্য এর জৈবিক প্রতিরূপ বাস্তব, যার…
বিস্তারিত পড়ুন ...