স্বপ্ন কি ভবিষ্যতের ইঙ্গিতবাহী?

স্বপ্ন মরমী অর্থে পূর্বাভাস নয়। তবে স্বপ্নের ভিন্নধর্মী মানসিক পূর্বাভাসের শক্তি আছে।   ১. সম্ভবত বাইবেলে স্বপ্নে ভবিষ্যদ্বানীর সবচেয়ে বিখ্যাত কথা পাওয়া যায়। ফারাও (কুরআনের ফেরাউন - অনুবাদক) স্বপ্নে দেখেন তিনি নীল নদের তীরে দাঁড়িয়ে আছেন। সাতটি মসৃণ, তরতাজা স্বাস্থ্যবান গরু নদী থেকে উঠে আসলো। তারপর আরো সাতটি হাড্ডিসার, কুৎসিত গরু পিছু নিয়ে সামনের হৃষ্টপুষ্ট গরু সাতটিকে খেয়ে ফেলে। কিন্তু এ স্বপ্নের মানে কি? এখানে একটা ধাঁচ লক্ষ্যণীয়, তাই না? খারাপ ভালোকে অনুসরণ করে এসে গ্রাস করে ফেললো। আর সংখ্যা ছিলো সাত। ফেরাউন যোসেফকে (কুরআনের ইউসুফ (আ.) - অনুবাদক) তলব করলে তিনি স্বপ্নের ব্যাখ্যা দেন। ব্যাখ্যাটি ছিলো টানা সাত বছরের সমৃদ্ধির পর সাত বছর ধরে দুর্ভিক্ষ বিরাজ করবে। এই ব্যাখ্যা ফারাওয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এখন তিনি ভবিষ্যতে কি হবে আঁচ করতে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

কৃষি : মানব-ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভুল

সারাংশ: কৃষিকাজকে মানব সভ্যতার ভিত্তি বলে আমরা ধরে নেই। তবে মানব ইতিহাসে অনেকগুলো দুর্দশার কারণ ছিলো কৃষির আবিষ্কার।   দু'পেয়ে পশু থেকে বুদ্ধিমান প্রাণী -- নিজের কাছ ভাবমূর্তির নাটকীয় উন্নতির জন্য বিজ্ঞানের কাছে আমরা চিরঋণী। জ্যোতির্বজ্ঞান আমাদের শিখিয়েছে পৃথিবী মহাবিশ্বের কেন্দ্র নয়, বরং সহস্র কোটি স্বর্গীয় বস্তুর মধ্যে মাত্র একটি। জীববিজ্ঞান থেকে আমরা জেনেছি যে আমরা অন্যান্য লক্ষ লক্ষ প্রজাতির সাথে অভিযোজিত হয়েছি। এখন প্রত্নতত্ত্ব আরেকটি পূতঃবিশ্বাস ধ্বংস করছে। আগে ধারণা করা হতো গত কয়েক লক্ষ বছরের মানব ইতিহাস হলো ধারাবাহিক প্রগতির উপাখ্যান। যেমন কৃষির উদ্ভাবনকে অবধারিতভাবে উন্নত জীবনের প্রতি নিশ্চিত পদক্ষেপ বলে ধরা হয়। অথচ সাম্প্রতিক আবিষ্কারগুলো বলছে কৃষি প্রকৃতপক্ষে অনেক ক্ষেত্রেই বিপর্যয়কারী ঘটনা। এ বিপর্যয় থেকে আমরা এখনো সেরে উঠতে পারি নি। কৃষির সাথে সাথে এসেছে সামাজিক ও…
বিস্তারিত পড়ুন ...

২০ ফুট লম্বা ফিতাকৃমি

২০ ফুট লম্বা ফিতাকৃমি
চীনের মধ্যাঞ্চলে সাধারণত ফিতাকৃমির সংক্রমণ হয় না। পরিবেশগত কারণেই হয়তোবা এ অঞ্চলের মানুষের মাঝে এর উৎপাত কম। কিন্তু ২০১৬ সালের শুরুর দিকে অদ্ভুত এক ঘটনা ঘটে। ডাক্তাররা এক ব্যক্তির অন্ত্রে খুঁজে পান ২০ ফুট লম্বা এক ফিতাকৃমি। একে তো ঐ অঞ্চলে এধরনের সংক্রমণ কম তার উপর এত বেশি লম্বা হওয়াতে অবাক হয়ে যায় সবাই। দুই বছর ধরে এই কৃমিটি বাস করছিল ঐ লোকের দেহে। জানা যায় আক্রান্ত ব্যক্তি কাঁচা মাংস খেতে ভালোবাসেতেন, নিয়মিতই খেতেন সেদ্ধ না করা মাংস। এক পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। দুই বছর ধরে লেগেই থাকে অসুস্থতা। বমি হতো, ক্ষুধামন্দা লেগে থাকতো, খেতে ইচ্ছে করতো না, পায়ুপথে ব্যথা করতো, শরীর দুর্বল লাগতো, আর ধীরে ধীরে ওজন কমতো। এক পর্যায়ে তিনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। ডাক্তার তার মলের নমুনা পরীক্ষা…
বিস্তারিত পড়ুন ...

জীবজগতে ধর্ষণ: একটি বিবর্তনীয় প্রেক্ষাপট

[পাঠ-সতর্কতা: ‘ধর্ষণ’ একটি অপরাধমূলক যৌন আচরণ এবং সামাজিক, আইনগত ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই প্রবন্ধ কোনোভাবেই ‘ধর্ষণ’ এর পক্ষে নয় এবং একে উৎসাহিত করে না। ‘ধর্ষণ’ ব্যাখ্যার নিমিত্তে বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞান এবং নৃবিজ্ঞানের সমন্বয়ে কিছু তথ্য, তত্ত্ব এবং অনুসন্ধান উপস্থাপন করে মাত্র। পাঠককে ‘ধর্ষণ’-এর ক্ষেত্রে সামাজিক মূল্যবোধকে অবিকৃত রেখে এই প্রবন্ধ পাঠ করার জন্যে অনুরোধ করা হলো।] উৎসর্গপত্র অভিজিৎ রায়ের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। ঠিক তিন বছর আগে এরকম এক রাতে (ছাব্বিশ ফেব্রুয়ারি, 'দু হাজার পনেরো) আচমকা তাঁর মৃত্যু সংবাদ পেয়েছিলাম। বইমেলা থেকে ফেরার পথে অসম্ভব প্রতিভাবান এই মানুষটা খুন হয়ে গেল। প্রকাশ্যে, জনসম্মুখে; অথর্ব পুলিশ প্রহরার আশেপাশে। এখন আমরা সেই অভিজিৎ রায়ের রক্তের উপর দিয়ে বইমেলায় যাই। বই কিনি। যে বইমেলায় অভিজিৎ রায় লেখেনা, অনন্ত বিজয় দাস লেখে না,…
বিস্তারিত পড়ুন ...

টি কোষের তেলেসমাতি

আমাদের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার গুরত্বপূর্ন দুই উপাদান টি কোষ এবং বি কোষ। এরা উভয়েই শ্বেত রক্তকণিকার অংশ। এদের কাজের উদ্দেশ্য এক হলেও ধরণ ভিন্ন। মজার বিষয় হলো এদের উভয়েরই জন্ম হয় অস্থিমজ্জায়। বি কোষ অস্থিমজ্জায় বড় হলেও, জন্মের কিছুদিন পরই টি কোষ আলাদা হয়ে চলে যায় থাইমাসে। এই দুজনার দুটি পথ সে মুহূর্তে দুটি দিকে বেঁকে গেলেও পরিণত হবার পর কিন্তু এরা একসাথেই অনেক অভিজানে অংশ নেয়। টি কোষ এবং বি কোষ একে অপরের থেকে আলাদা হবার পরপরই টি কোষ গুলো নিজেদের মধ্যে আবার দুই ভাগ হয়ে যায়। এক দল সহায়ক টি কোষ(Helper T Cell), অপর ভাগ ঘাতক টি কোষ(Killer T Cell)। সাহায্যকারী টি কোষের গায়ে প্রচুর সংখ্যক CD4 প্রোটিন থাকে, আর ঘাতক টি কোষের গায়ে থাকে প্রচুর সংখ্যক CD8 প্রোটিন।…
বিস্তারিত পড়ুন ...

বেহালা-বাদক, শয়তানের বর কিংবা বংশগতি

নিকোলো প্যাগানিনি পাশ্চাত্য ধ্রুপদী সংগীতের একটি বিখ্যাত নাম। আঠারোশো শতকের শেষ দিকে ইতালিতে জন্ম নেন তিনি। প্যাগানিনি সমসাময়িক ইউরোপ মাতিয়ে তুলেছিলেন তার বেহালার জাদু দিয়ে। পাশ্চাত্য সংগীতে বেহালা বাজানোর আধুনিক রীতি স্থাপন করেছেন তিনি। তার তৈরি সুর এখনো জনপ্রিয়। বহু বেহালা-বাদকের অনুপ্রেরণা হলেন প্যাগানিনি। অদ্ভূত বিষয় হলো, তার এই সাফল্যের অন্তত আংশিক কারণ ছিলো বংশগতির একটি দূর্লভ রোগ। অন্য অনেক প্রতিভাধর সংগীতজ্ঞের মতোই প্যাগানিনি ছোটবেলাতে সংগীতচর্চা শুরু করেন। তিনি পাঁচ বছর বয়সে গিটার আর সাত বছর বয়সে বেহালা বাজানো শেখা শুরু করেন। খুব দ্রুতই এ যন্ত্রগুলো তার আয়ত্বে চলে আসে। মাত্র আঠারো বছর বয়সে আশেপাশের এলাকায় তিনি পরিচিতি লাভ করেন। আর ত্রিশ বছর হতে না হতেই সারা ইউরোপে তার খ্যাতি ছড়িয়ে যায়। কিন্তু প্যাগানিনি যখন মারা যান তখন তার জন্মস্থান…
বিস্তারিত পড়ুন ...

বায়োহ্যাকার বদলে দিলেন নিজের ডিএনএ

মানুষের বংশগতি বৈশিষ্ট্য জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। মানুষ কি ইচ্ছা অনুযায়ী জিন এ পরিবর্তন মাধ্যমে তার বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন আনতে পারবে? মানুষ কেন বংশপরম্পরায় পাওয়া জিন এর দাস হয়ে থাকবে? এ প্রশ্নের উওর খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানী জোসেফ জেইনার কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্যের জন্য তার নিজ-দেহের জিন এর পরিবর্তন ঘটান।তিনি তার হাতের মাংস পেশির একটি জিন এর পরিবর্তন ঘটান। জিন এর পরিবর্তন করে নতুন বৈশিষ্টের উদ্ভব মানুষে এই প্রথম। এর আগে কাঙ্খিত বৈশিষ্টের জন্য বিজ্ঞানীরা অনুজীব সহ অনেক উদ্ভিদ এ জিন পরিবর্তনের কৌশল (জেনেটিক ইন্জিনিয়ারিং) প্রয়োগ করা হয়ে আসছে। মানবদেহ অসংখ্য কোষের সমন্বয়ে ঘঠিত।প্রতিটি কোষের নিউক্লিয়াসে নিউক্লিক এসিড হিসেবে থাকে ডিঅক্সি রাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ, DNA) ও রাইবোনিউক্লিক এসিড (আরএন এ, RNA)। DNA তে থাকে মানুষের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী জিন। জিন এ মানুষের বৈশিষ্ট্যগুলো কোড করা…
বিস্তারিত পড়ুন ...

ভাইরাস কি প্রকৃতির ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে?

ভাইরাসও প্রকৃতির ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে। ইনফ্লুয়েঞ্জা, ইবোলা, এইচআইভি, ডেঙ্গু এরা আমাদের বার বার মনে করিয়ে দেয় যে ভাইরাস কতটা ক্ষতিকর। গঠনের দিক থেকে ভাইরাস সহজ সরল। অল্প কিছু জীন এবং তার চারপাশে ঘিরে একটি প্রোটিনের তৈরী খোলস নিয়ে গঠিত হয় একটি ভাইরাস, যার আকার প্রায় একটি অণুর সমান। কিন্তু  এই ক্ষুদ্র ভাইরাসটির ক্ষমতা আমাদের ধারণারও বাইরে। এরা যখন দেহের কোন কোষকে আক্রমণ করে তখন সেই কোষের ভেতরে সব রকম কর্মকান্ডের দখল নিজের আয়ত্তে নেয়। ভাইরাস ওই কোষের সাহায্যেই সংখ্যাবৃদ্ধি করে আরও অসংখ্য ভাইরাস তৈরি করে। একেক রকম ভাইরাসের বংশবৃদ্ধির ধরণ একেক রকম। কোনটা খুব দ্রুত আবার কোনটা খুব ধীরে বংশবৃদ্ধি করে। কোন ভাইরাস পোষক দোহের কোষকে আক্রান্ত করে তার এনজাইমগুলো ব্যবহার করে বংশবৃদ্ধি করে। আবার কোন ভাইরাস বংশবৃদ্ধির জন্য…
বিস্তারিত পড়ুন ...