জীববিজ্ঞানের জন্যে ভালবাসা ( আমি তব মালঞ্চের হব মালাকর )

"আকাশ ভরা, সূর্য তারা বিশ্বভরা প্রাণ, তাহারই মাঝখানে আমি পেয়েছি মোর স্থান......." সত্যি তাই। আকাশ জুড়ে অনন্ত নক্ষত্রের মেলা, যুগপৎ ভাবেই মহাবিশ্বে প্রতিটি জীবের অবস্থান কি অনন্ত বিস্ময়ের আর কি অপরিসীম তাৎপর্যের ! ভাবতেও অবাক লাগে। ভাবনার সাথেই মনের কোণে জেগে ওঠে অসংখ্য প্রশ্ন, শত ধারায় উৎসারিত হয় অফুরন্ত আবেগ। হৃদয়ের গভীরতম সেই তৃষ্ণার্ত প্রশ্ন গুলিকে জীববিজ্ঞান দেখাচ্ছে আলোর পথ।  অপরিসীম সৌন্দর্যে ভরপুর বিজ্ঞানের এই  শাখাটির চর্চার বদান্যতায়ই বিশ্বকে আমরা দেখতে পাচ্ছি নতুন রূপে। মহাবিশ্বে সকল জীবকে উপলব্ধি করছি এক নতুন চেতনার সংমিশ্রণে! রবিঠাকুরের "আবেদন"...... ১৩০২ বংগাব্দের কথা। বাইশে অগ্রহায়ণ শিলাইদহ অভিমুখে যাত্রা অভিমুখে লিখেছিলেন তাঁর আবেদন কবিতাখানি । যার কিছুটা এরকম- "ভৃত্যঃ     নানা কর্ম নানা পদ নিল তোর কাছে নানা জনে; এক কর্ম কেহ চাহে নাই, ভৃত্য-'পরে দয়া করে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

মস্তিষ্কে প্রাচীন ভাইরাসের নতুন কাজের সন্ধান

মানব জেনোমের মধ্যে থাকা 'জিনেটিক জঞ্জাল' ভাবা হয়েছিল যেসব রেট্রোভাইরাসের জেনোম, তারা আসলে গ্রাহক জেনোমে এসে নতুন নতুন কাজের দায়িত্ব পেয়েছে; যেমন, একটি সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে একধরনের রেট্রেভাইরাসের জেনোম মস্তিষ্ক গঠনে কাজ করে।     মানবশরীরে বাস করা কোটি কোটি ব্যাকটেরিয়ার কথা শুনে হয়তো শিহরিত হয়েছেন, কিন্তু এটা জেনে কী অবাক হবেন যে আমরা আসলে বহু বহু ভাইরাস দিয়েও তৈরি হয়েছি? আমাদের জেনোমের ৮ শতাংশ গঠিত হয়েছে অনেক অনেক রেট্রোভাইরাসের জেনোম দিয়ে। বলে রাখি, এইডস রোগ তৈরি করে যেই ভাইরাস, HIV, সেটা একটা রেট্রোভাইরাস। হয়তো নিজের স্বত্ত্বার একদম ভেতরে এরকম ভাইরাসের উপস্থিতি আমাদের জন্য ভাবতে কখনও কখনও ভীতিকর শোনায়, কিন্তু সেল রিপোর্টস পত্রিকায় প্রকাশিত নতুন একটি গবেষণা বলছে যে আসলে এসব ভাইরাস মানব মস্তিষ্ক গঠনে সাহায্য করেছে। আমাদের কাছ থেকে খুব বেশি দূরের নয় এমন আত্মীয়, ইঁদুরের…
বিস্তারিত পড়ুন ...

ডিএনএ সম্পর্কিত কিছু কথা

ডি এন এ ( Deoxyribonucleic acid) মূলত অক্সিজেন, কারবন, নাইট্রোজেন, এবং হাইড্রোজেন এর দ্বারা গঠিত মাইক্রোমলিকিউল। এটি একটি নিউক্লিক এসিড যার মাঝে বংশ বিস্তার এবং জীবের বেড়ে ওঠা এবং তার সম্পর্কে যাবতীয় সকল তথ্য (জেনেটিক  ইনফরমেশন) এনকোডেড থাকে। এর গঠন সাধারণত এর বেস পেয়ার মলিকিউলের চেইন হয়ে থাকে । যখন বাবা মায়ের ডিম্বাণু এবং শুক্রাণুর সংমিশ্রণ হয় , তখন দুটোর মিশ্রণে বাচ্চার প্রথম ডি এন এ তৈরি হয়, যা থেকে ধীরে ধীরে কোষ বিভাজনের সময় আরও ডি এন এ তৈরি হতে থাকে, ডি এন এ যে কোন সেল এর নিউক্লিয়াস এর মাঝে কন্ডেন্সেড এবং সামান্য পরিমাণে মাইটোকন্ড্রিয়া এবং ক্লোরোপ্লাস্ট এর মাঝে থাকে। যে কেন জীবের প্রায় সকল ডি এন এ একি হয়ে থাকে। যেমন যেকোনো পদার্থের সব এটম এক হয়ে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

স্মার্ট হবার ঔষধ

'কোথায় কাজ? কি কাজ আছে মানুষের? অংক কষা, ইঞ্জিন বানানো, কবিতা লেখা? ওসব তো ভান, কাজের ছল। পৃথিবীতে কেউ ওসব চায়না। একদিন মানুষের জ্ঞান ছিল না, বিজ্ঞান ছিল না, সভ্যতা ছিলনা, মানুষের কিছু এসে যায় নি। আজ মানুষের ওসব আছে কিন্তু তাতেও কারো কিছু এসে যায়না। তার মধ্যে যে বিপুল শূন্যতা আছে সেটা তাকে ভরতেই হবে...' --মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, দিবারাত্রির কাব্য এই শূন্যতা পূরনের আয়োজন চলছেই। মানুষের চাহিদা যেন বিশাল ব্ল্যাকহোলের মত। যদি শুধু ভালো দিকটাই দেখি, জ্ঞান বিজ্ঞান সভ্যতায় উন্নতি তো কম হলোনা। উন্নতির এক পর্যায়ে মানুষ নিজের অক্ষমতা গুলো আর মেনে নিতে পারলোনা। আমরা মানুষেরা উড়তে পারিনা, তাই আমরা তৈরি করেছি উড়োজাহাজ; আমরা পানির নিচে শ্বাস নিতে পারিনা, তাই তৈরি করেছি ডুবোজাহাজ; আমরা মাথার মধ্যে বিশাল পরিমাণ তথ্য নিয়ে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

ফ্রেডরিক স্যাঙ্গারঃ কাজে বিশ্বাসী মানুষটি…

মেরী কুরি, জন বারডীন, লিনাস পলিং এবং ফ্রেডরিক স্যাঙ্গার। চারজন বিজ্ঞানী, নিজ নিজ ক্ষেত্রে অতুলনীয়। তবে তাদের মধ্যে একটা মিল হল, এই চারজনই দুই বার নোবেল পুরষ্কার অর্জনের বিরল সম্মানের অধিকারি। তবে এই লেখাটি শুধুই ফ্রেডরিক স্যাঙ্গারকে নিয়ে। সম্পুর্ন কর্মজীবন নিরলস ভাবে কাজ করে গেছেন এই বিজ্ঞানী। বাধ্যতামূলক অবসর গ্রহনের সময় আসার আগ পর্যন্ত নিজের কাজ ব্যাতীত অন্য কিছুতেই তার আকর্ষন ছিলোনা। প্রোটিন এবং ডিএনএ সিকোয়েন্সিং এ তার অবদান বৈপ্লবিক। আধুনিক প্রোটিওমিকস এবং জিনোমিকসের সবচেয়ে বড় অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে তার হাত ধরেই। তার এই সাফল্যের রহস্য কি? তার আত্নজীবনীতে একটি মূল্যবান সূত্র পাওয়া যায়, যেখানে তিনি বলেছেনঃ "বৈজ্ঞানিক গবেষনার সাথে জড়িত তিনটি বিষয়- চিন্তা, কথা এবং কাজের মধ্যে শেষটিকেই প্রাধান্য দেই এবং আমি এটাতেই পারদর্শী। চিন্তাভাবনা কিছুটা করতে পারলেও, কথা…
বিস্তারিত পড়ুন ...

পৃথিবীতে প্রাণের উদ্ভব: শুধু কি আকস্মিক ঘটনা, নাকি অন্য কিছু?

পৃথিবীতে প্রাণ বিকাশের বিজ্ঞান অনেকদূর এগিয়ে গেছে। কিন্তু প্রথম প্রাণ কিভাবে প্রায় সাড়ে তিনশো কোটি বছর আগে পৃথিবীর বুকে গড়ে উঠলো এই বিষয়টি এখনো কুয়াশাময় রহস্যে ঘেরা।  প্রাণের উদ্ভব সম্পর্কিত একটি গ্রহণযোগ্য তত্ত্ব এখনো উপস্থাপন সম্ভব হয় নি। একগুচ্ছ নিষ্প্রাণ যৌগ থেকে কীভাবে প্রাণের উৎপত্তি হয় সেটা এখনো রহস্যময়। শতকোটি বছর পরে এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়াটা খুব সহজও নয়। প্রায় ৩০০ কোটি বছর আগের পৃথিবী কেমন কিছু সেটা অনুধাবন করাটাও বেশ কষ্টসাধ্য। বর্তমানে পৃথিবীতে যেসব জৈব অণুসমূহ পাওয়া যায় সেগুলোর দিয়েই আমরা প্রায় ৩০০ কোটি বছর আগে প্রাণের উদ্ভবের একটা ধারনা পেতে চেষ্টা করছি। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা এধরনের একগুচ্ছ জৈব অণু থেকে কীভাবে প্রাণের উদ্ভব হতে পারে তার একটা মডেল দেখিয়েছেন [১]। জীবকোষে বিদ্যমান এই অণুগুলোকে আণবিক পর্যায়ের মেশিন বা অণুযন্ত্র…
বিস্তারিত পড়ুন ...

L-ফর্ম ব্যাকটেরিয়াঃ আদিজীবের উদ্ভব, বেঁচে থাকা এবং বিভাজনের কৌশল

গল্পটার শুরু একজন জার্মান জীববিজ্ঞানী এমি নোবেল (Emmy Klieneberger-Nobel) কে নিয়ে। গ্রাজুয়েশানের পর তিনি গবেষণা করতেন জার্মানির ফ্র্যাঙ্কফুট বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু জন্মগতভাবে ইহুদী হওয়ায় ১৯৩৩ সালে জার্মানি থেকে বহিস্কৃত হন নাজি বাহিনীর নির্দেশে। অগত্যা এই মহতি লন্ডনে পাড়ি জমান এবং যোগ দেন বিখ্যাত লিস্টার ইনস্টিটিউটে; মাইকোপ্লাজমা (Mycoplasma) নামক ব্যাকটেরিয়া-প্রজাতির উপর কাজ করা শুরু করেন। কিন্তু খুব বেশি দেরি হয়নি একটা অদ্ভুত এবং দারুণ জিনিস খুঁজে পেতে। আমরা জানি প্রায় সব ব্যাকটেরিয়াতেই সাধারণ অবস্থায় কোষপ্রাচীর থাকে এবং এর রকমফেরের উপর নির্ভর করে গ্রাম-পজিটিভ বা নেগেটিভ প্রকারভেদ করা হয়। কিন্তু এমি এমন একধরনের ব্যাকটেরিয়ার প্রকার খুঁজে পেলেন যার কোন কোষপ্রাচীর নেই! এই ব্যাকটেরিয়া ফর্মটির নাম দিলেন L-ফর্ম। নামটি তিনি নিয়েছিলেন লিস্টার ইনস্টিটিউটের আদ্যাক্ষর থেকে। এরপর অনেক প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ারই প্রাকৃতিকভাবে L-ফর্ম এর প্রকার পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু…
বিস্তারিত পড়ুন ...

এনজাইম

বকবক করার জন্যে আপনাদের সামনে আবার চলে এলাম। আসার কারণ কয়েকদিন ধরে একটা বিষয় নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি। বিষয়টা হল এনজাইম (Enzyme) । প্রশ্ন আসতেই পারে এনজাইম কি? এই প্রশ্নের উত্তর দেয়ার আগে চলুন একটু গল্প করে নিই। আমরা প্রতিদিন এত এত খাবার খাই। এই সকালে নাস্তা করছি তো দুপুরে মোরগ পোলাও খাচ্ছি। বিকালে আবার চা নাস্তা। তারপর আবার রাতের পেট পূজা। আচ্ছা আমরা যে খাবারগুলো খাচ্ছি এবং অনবরত খেয়েই চলছি খাবারগুলো আসলে যাচ্ছে কোথায়? বলতে পারেন হজম হয়ে যাচ্ছে! কিন্তু কে করছে একাজ বলুন তো? হা ঠিক বলেছেন, এনজাইম! এনজাইম আমাদের খাবারগুলোকে ভেঙ্গে দেহের গ্রহণের উপযোগী করে তুলছে। আমরা সকালে নাস্তা করার পর তা থেকে আমরা শক্তি পাচ্ছি। তারপর আমরা পুরো উদ্যমে দিনের কাজগুলো করছি। এই সকালের খাবার থেকে আমাদের…
বিস্তারিত পড়ুন ...