অনুজীবের সুলতানি আমল (পর্ব এক)

সে অনেকদিন আগের কথা। আমাদের পৃথিবী নামের গ্রহটি তখনও টগবগে তরুণ। ক্যালেন্ডারের পাতা ধরে পিছিয়ে গেলে আমরা আজ সাড়ে চার বিলিয়ন বছর আগের গল্প বলছি। সাড়ে চার বিলিয়ন মানে ৪,৫০০,০০০,০০০ বছর ! সবচেয়ে পুরানো যে ক্রিস্টালটি পাওয়া গিয়েছে অদ্যবধি তার বয়স কম করে হলেও ৪.৩ বিলিয়ন বছর যা হচ্ছে আসলে এক ধরনের জিরকন ক্রিস্টাল (ZrSiO4 )। শুরুর সময়টায় পৃথিবী অত্যন্ত উত্তপ্ত ছিল আর প্রায়শই নানা গ্রহানু এসে আঘাত করত একে। ধীরে ধীরে এক সময় পৃথিবী ঠান্ডা আর সুস্থির হতে থাকে, আর প্রাণ সঞ্চারের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরী হতে থাকে।   আজ হতে প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে প্রথম আদিকোষীয় প্রাণের প্রমান পাওয়া যায় যা কিনা ছিল মূলত ব্যাকটেরিয়া আর আর্কিয়া। বলে রাখা ভালো তখনও কিন্তু পৃথিবীতে তেমন অক্সিজেনের উপস্থিতি ছিল না।…
বিস্তারিত পড়ুন ...

পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী বিলুপ্ত!

আমি আর আমার এক বন্ধু গল্প করছিলাম কি যেন এক বিষয় নিয়ে। হঠাৎ বন্ধুটি বলল ‘মানুষ সবচেয়ে খারাপ জাতি। নিজের ক্ষতি নিজে আর কোন প্রাণী করে না’। মনে মনে ভাবলাম মানুষ সবচেয়ে খারাপ জাতি হতে পারে তবে সবচেয়ে যে ব্যাপারটি ভয়ঙ্কর তা হলো মানুষ সবচেয়ে ক্ষমতাধর জাতি। মানুষের মস্তিষ্কের ক্ষমতা তাকে সবার উপরে এনে দাঁড় করিয়েছে। ফলে সে যে শুধু নিজের ক্ষতি করে তা না সে পুরো পৃথিবীর ক্ষতি করতে সমর্থ। এজন্যেই হয়তো Friedrich Nietzsche বলে গিয়েছেন “Man is the cruelest animal.” এর প্রমাণ সম্প্রতি বিলুপ্ত হওয়া স্তন্যপায়ী প্রাণী Bramble Cay melomys। যা একধরণের ইঁদুর। অস্ট্রেলিয়ার সরকার এই প্রাণীটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে। এটি মানবসৃষ্ট কারণে বিলুপ্ত হওয়া প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী।     গ্রেট বেরিয়ায়র রিফের উত্তর প্রান্তের ছোট প্রবাল দ্বীপে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

অনিষ্টের রূপ

এশারের অ্যনিমেলস (১৮৯৮-১৯৭২) কখনো কখনো আমরা সবকিছু ভিন্নচোখে দেখতে বাধ্য হই। তবে এটা মোটেও সহজ নয়। মানুষ অভ্যাসের দাস। তাই আমরা প্রথম দর্শনে যা ভাবতে অভ্যস্ত হই তার শৃঙ্খলে বাঁধা পড়ে যাই। প্রিয়নের ব্যপারে ঠিক এরকমই ঘটেছে। প্রিয়ন এক ধরনের প্রোটিন। এদের আকার নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে বদলে যায়। ফলাফলে এরা মারাত্মক রোগের মূল কারণ হয়ে পড়ে। কোন প্রোটিনের ত্রিমাত্রিক গঠন বদলে গেলে তা অনেক ব্যাধির কারণ হতে পারে। এজন্য প্রিয়ন-প্রোটিনের আকার বদলে গিয়ে রোগের কারণ হয়ে পড়াটা অণুপ্রাণবিজ্ঞানে নতুন কোন ধারণা নয়। যে ধারণাটা নতুন তা হলো প্রোটিন নিজেই রোগ সংক্রমণের মূল কারণ হতে পারে। সংক্রমক বলতে একটি অস্তিত্বকে বোঝানো হয় যা কোন জীব থেকে অন্য জীবে (বা এক কোষ থেকে অন্য কোষে) ছড়ানোর মাধ্যমে রোগ বিস্তারে ভূমিকা রাখে। ভাইরাস…
বিস্তারিত পড়ুন ...

প্লাস্টিকখোর মাছ আর তার করুণ কাহিনী!

এক দেশে এক মাছ ছিলো। সে মনের আনন্দে পানির গভীরে এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াত। আর খিদে পেলে খেতো শ্যাওলা আর ছোট ছোট প্ল্যাঙ্কটন। একদিন হঠাৎ সে একটা প্লাস্টিক কণা দেখলো। লোভ সামলাতে না পেরে সে ওটা খেলো। আর রীতি ভঙ্গের জন্যে সে হলো অভিশপ্ত! এটা কোন রূপকথার চমৎকার গল্প হতে পারতো। কিন্তু এটা এখন বাস্তব অবস্থা! প্লাস্টিক দূষণ এখন মানব সভ্যতার অন্যতম হুমকির একটি। Uppsala University বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা গবেষণা করে দেখেছেন যেসব বাচ্চা মাছ মাইক্রোপ্লাস্টিক খায় তারা অন্য মাছের শিকারে বেশি পরিণত হয়। তার মানে যারা প্লাস্টিক খাচ্ছে তাদের কিছু একটা হচ্ছে যার ফলে তারা অন্য মাছের শিকারে পরিণত হচ্ছে আগের চেয়ে বেশি। গবেষকরা আরো বলছেন মাছগুলো তাদের সচারাচর খাবারের চেয়ে মাইক্রোপ্লাস্টিক বেশি পছন্দ করছে। মাইক্রোপ্লাস্টিক হচ্ছে প্লাস্টিকের কণা যারা…
বিস্তারিত পড়ুন ...

অণুজীব পরিচিতিঃ Mycobacterium tuberculosis

আমি যে সে শহরে থাকি ওখানে একটা বক্ষ ব্যাধি হাসপাতাল আছে। ছোটবেলায় আব্বু আম্মুর মুখে শুনতাম এখানে টিবি এর চিকিৎসা হয়। আমার কাছে টিবি নামটা কেমন জানি ইন্টারেস্টিং লাগতো কারণ এর সাথে ‘টিভি’ শব্দটার মিল আছে। পরে বুঝতে পারি টিবি আসলে যক্ষ্মা। আর এই যক্ষ্মা রোগের কারণ Mycobacterium tuberculosis নামের অণুজীব। ১৮৮২ সালে রবার্ট কখ (Robert Koch) এই অণুজীবটি আবিষ্কার করেন। তাঁর এই আবিষ্কারের জন্যে তিনি ১৯০৫ সালে মেডিসিনে নোবেল পুরস্কার পান। ওনার নাম অনুসারে একে কখ’স বেসিলাস (Koch’s Bacillus) ও বলা হয়! যক্ষ্মা নিয়ে একসময়কার বিখ্যাত ডায়ালগ ছিল ‘যার হয় যক্ষ্মা তার নাই রক্ষা’। আর সে সময়টা হলো আঠারো শতকের দিকে! তখন যক্ষ্মা আমেরিকা,ইউরোপ এবং ইংল্যান্ডে মহামারী রূপ ধারণ করেছে। এসব জায়গায় মোট জনসংখ্যার প্রায় ১ শতাংশ লোক মারা…
বিস্তারিত পড়ুন ...

প্লাস্টিকভূক ব্যাক্টেরিয়া

বর্তমানে সারা পৃথিবীতে প্রতি বছর প্রায় ৩১১ মিলিওন টন প্লাস্টিক তৈরি হয় যার বিশাল একটি অংশ ব্যাবহৃত হয় প্যাকেজিং শিল্পে। এদের মধ্যে মাত্র ১৪% পুনরায় ব্যাবহার উপযোগী করা সম্ভব হয় আর বাকীটা থেকে যায় প্রকৃতিতে, প্লাস্টিক পঁচনশীল নয় বলে এদের অস্তিত্ব অন্যান্য অস্তিত্বকে ফেলে দেয় ঝুঁকির মধ্যে। বিশেষ করে সামুদ্রিক দূষনের অন্যতম হোতা হচ্ছে এই প্লাস্টিক। এই সমস্যা থেকে উত্তোরনের উপায় হিসেবে বর্তমানে পঁচনশীল প্লাস্টিক তৈরির জন্য যে গবেষনা চলছে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আশা দিতে সক্ষম হলেও আশু সমাধান এর থেকে সম্ভব নয়। তাহলে উপায়? একটা সময় আমরা মানুষেরা ছিলাম পুরোপুরি প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল। আমাদের পূর্বপুরুষেরা দৈনন্দিন জীবনের নানা উপকরন প্রকৃতি থেকে সংগ্রহ করতেন। কালের পরিক্রমায় আমরা নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে প্রকৃতিকে ব্যবহার করা শিখলাম। সেই ব্যবহার এখন প্রায় নিয়ন্ত্রনের পর্যায়ে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর অস্কার বক্তৃতা ও পরিবেশ বিপর্যয়ের সাথে জিকা ভাইরাস উত্থানের সম্পর্ক

গত কয়েক বছর যাবত ইন্টারনেটে একটি কৌতুক ঘুরে বেড়াচ্ছিলো মার্কিন অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর অস্কার না পাওয়া নিয়ে। হলিউডের এ অভিনেতা টাইটানিক (১৯৯৭) চলচিত্র থেকে শুরু করে অনেকগুলো চলচিত্রে দারুণ অভিনয় করেছেন। গত পাঁচ-দশ বছর ধরে সবাই আশা করছিলেন তিনি অভিনয়ের জন্য অস্কার পাবেন। কয়েকবার একাডেমি এওয়ার্ডে অস্কারের জন্য মনোনীতও হয়েছিলেন, কিন্তু প্রতিবছরই সবার আশাভঙ্গ হচ্ছিলো। কৌতুকটা হলো এখন থেকে ত্রিশ বছর পর লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর অস্কার-না-পাওয়া কর্মবহুল জীবন নিয়ে তৈরি একটি চলচিত্রে অভিনয় করে ভবিষ্যতের কোন প্রতিভাবান অভিনেতা অস্কার পেয়ে যেতে পারেন। সকল প্রতীক্ষার অবসান  ঘটলো ২০১৬ সালের একাডেমী এওয়ার্ডে, যেখানে ডিক্যাপ্রিও দ্যা রেভেন্যান্ট (২০১৫) চলচিত্রটির জন্য অস্কার পুরস্কার পান। সকলেই আগ্রহী ছিলেন এ অভিনেতা অস্কার ভাষণে কি বলেন। তবে ডিক্যাপ্রিও অস্কারের মঞ্চটিকে ব্যবহার করেন বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সবাইকে সচেতন…
বিস্তারিত পড়ুন ...

অনুকরণ ও টিকে থাকার লড়াই

চিত্রঃ আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে টাইগার কানাডীয় সলোটেইল শুঁয়াপোকা। উপরের ছবিতে দেখা যাচ্ছে একটা শুঁয়াপোকা। নাম টাইগার সলোটেইল (Canadian Tiger Swallowtail)।  এরা পাতার মাঝে বসে একটু একটু করে পাতাকে কেটে চলে। অনেক পাখিই এদেরকে ভোজনের জন্য সুস্বাদু খাবার হিসেবে উদরে চালান করে দেয়, আবার অনেক পাখিই এদের দেখা সত্ত্বেও এড়িয়ে চলে। এই ধরনের শুঁয়াপোকারা অসাধারণ একটি প্রতিরোধ ব ব্যাবস্থার মাধ্যমে নিজেদের রক্ষা করে চলে। গবেষকরা খুঁজে পেয়েছেন যে, এরা পাখিদের এমনভাবে ধোঁকা দেয় যেন পাখিরা মনে করে এটা একটা সাপ! এই শুঁয়াপোকারা তাদের শরীরে হলদেটে ও কালো রঙের সমকেন্দ্রিক[1] দুটি বৃত্তাকার ক্ষেত্র এমনভাবে বাড়িয়ে তোলে যেন দেখলে মনে হয় একজোড়া চোখ। হলুদ বলের মাঝে কালো মনি। আকারেও বড়সড়। কিন্তু দেখতে চোখের মতো মনে হলেও আদতে এরা চোখ নয়। শরীরের এই অংশটি স্বাভাবিকভাবে উল্লেখ…
বিস্তারিত পড়ুন ...