জ্যোতিষী কি পাথর দিয়ে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারেন?

বাংলাদেশে হাজার রকমের কুসংস্কারের মধ্যে জ্যোতিষী ও জ্যোতিষশাস্ত্র নিয়ে কুসংস্কার ব্যাপক ডালপালা বিস্তার করে বট বৃক্ষের রূপ লাভ করেছে। তবে বৃক্ষ আমাদের বাচাঁতে যেই ত্যাগ স্বীকার করে এবং আমাদের বেচেঁ থাকার ক্ষেত্রে যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন, এই বট বৃক্ষ সেই কাজের সম্পূর্ণ বিপরীত কাজ করে। অর্থাৎ আমাদের বাচাঁনোর পরিবর্তে মারার ব্যবস্থা করে থাকে। বাংলাদেশে এই ক্ষতিকর বটের ডালপালা এতোই বিস্তৃত যে বিভিন্ন স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলে সেগুলোর চটকদার বিজ্ঞাপন দেখা যায় অহরহ। জ্যোতিষবিদদের ডালপালার বিস্তার দেখা যায় অন্য আরেকটি দিকে আর সেটা হলো  আমাদের বিভিন্ন পত্রিকা, যেখানে বিজ্ঞানের খবরের সাথে সাথে দেওয়া থাকে জ্যোতিষবিদদের করা ভবিষ্যৎ বাণী  অর্থাৎ আজ আপনার দিনটি কেমন যাবে । এইক্ষেত্রে পত্রিকা অলাদের যুক্তি থাকে (অনেকাংশে) সাধারণ মানুষ এই ধরনের খবর চায়। কিন্তু এই সাধারণ মানুষ কারা…
বিস্তারিত পড়ুন ...

বাস্তবতার যাদু (The Magic of Reality)

যাদু শব্দটি কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হতে পারে। অলৌকিক যাদু, মঞ্চে দেখানো যাদুকরের যাদু কিংবা কাব্যিক যাদু। অলৌকিক যাদুগুলো পাওয়া যায় পৌরাণিক ও রূপকথার গল্পে। সিন্ডারেলার রূপকথায় যাদুর বুড়ি তার হাতের কাঠির সাহায্যে কুমড়াকে ঘোড়ার গাড়ি, ইঁদুরকে ঘোড়া এবং গিরগিটিকে গাড়ি চালক বানিয়ে ফেলেন।  আলাদীনের গল্পে যাদুর বাতিতে ঘষা দিলে মনিবের যেকোনো ইচ্ছা পূরণ করতে হাজির হয় এক দৈত্য। কিংবা আলী-বাবা ও চল্লিশ চোরের গল্পে বিশেষ পাহারের সামনে 'খুলে যা সিমসিম' বললে পাহার দুই দিকে সরে গিয়ে গুপ্তধনের রাস্তা খুলে দেয়। এগুলো যাদুর গল্প এবং নিঃসন্দেহে চিত্তাকর্ষক। ছোটবেলায় সবাই-ই এই গল্পগুলো শুনে আনন্দ পেয়েছে। মঞ্চে দেখানো যাদুকরের যাদুও চিত্তাকর্ষক। যাদুকর নানা রকম ভেলকিবাজি ও কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে দর্শকদের চোখকে ধোঁকা দিয়ে অসাধ্য জিনিস সাধন করেন। দর্শকের চোখে দেখতে অসাধ্য হলেও এর…
বিস্তারিত পড়ুন ...

রাশিফলবিদ্যাকে না বলুন

ফেসবুকের নিত্য নতুন হুজুগের জগতে এখন এক নতুন সংযোজন-“যারা অমুক মাসে জন্মগ্রহণ করেছেন তারা কেমন!” এধরণের অযৌক্তিক, অর্থহীন ফেসবুকীয় এপ্লিকেশনগুলো ছেলেখেলা বলে হয়তো আমি, আপনি উড়িয়ে দিয়েছি; কিন্তু আপনার বন্ধুতালিকার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ  যখন -“হু হু! আমি কি আর কাউরে ডরাই! ভাঙতে পারি লোহার কড়াই”-  বলে অত্যন্ত গর্ব সহকারে এসব এপ্লিকেশনের ফলাফল প্রচার করেন- তখন এ সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রেণীর মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা, ঠিক কী আকর্ষণে আমরা/তারা এসব বিশ্বাস করি/করেন –তা জানার কৌতূহল আমার/আপনার হতেই পারে। আর যেখানেই কৌতূহল, সেখানেই বিজ্ঞান। এই কৌতূহলের নিবৃত্তি ঘটানোর আগে আসুন একটু আমার নিজের জ্যোতিষবিদ্যার জ্ঞান জাহির করি। আপনি মানে যে ব্যক্তি আমার এই লেখাটি  এখন পড়ছেন আমার কেনো যেনো মনে হচ্ছে, -“আপনার ভেতর আরেকজনের প্রশংসা পাবার, লোকের চোখে পছন্দের ব্যক্তি হবার প্রবল তাড়না কাজ করে। নিজের…
বিস্তারিত পড়ুন ...

গতির আপেক্ষিতা ও ‘পৃথিবীর চারপাশে সূর্যের ঘূর্ণন’

[এই লেখাটি ছোটদেরকে উদ্দেশ্য করে লেখা] যখনই কোনো জিনিস নিয়ম মেনে একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর ছন্দ আকারে ফিরে আসে, বিজ্ঞানের চোখে এমন ঘটনাকে দেখলে, ধরে নিতে হবে অবশ্যই কোনো কিছু দোলক (পেন্ডুলাম) এর মতো এদিক হতে ওদিকে দোলে চলছে কিংবা বৃত্তাকার পথে ঘুরে চলছে। যেমন ঘড়ির কাঁটা, এটি নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট সময় পর পর একটি স্থানে ফিরে আসে। আমাদের প্রতিদিনকার সঙ্গী দুটি ব্যাপার দিন-রাত ও শীত-গ্রীষ্মকে পৃথিবীর দুই ধরনের ঘূর্ণন দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায়। শীত ও গ্রীষ্মকে ব্যাখ্যা করা যায় সূর্যের চারপাশে পৃথিবীর ঘূর্ণন দ্বারা। আর দিন ও রাতকে ব্যাখ্যা করা যায় নিজের অক্ষের উপর পৃথিবীর ঘূর্ণন দ্বারা। পৃথিবী তার নিজের অক্ষের উপর লাটিমের মতো ঘুরে চলছে প্রতিনিয়ত। খালি চোখেই আমরা সকলে যে দেখছি, সূর্য আকাশ পথে পৃথিবীর চারদিকে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

সমাজ সচেতনতা বিষয়ক দুটি বই

আমাদের সমাজের প্রায় অধিকাংশ মানুষের মাঝে বিদ্যমান অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার নিয়ে তিন চারটা বই পড়েছি ইদানীং। এদেরই দুটি কাজের বই নিয়ে সামান্য কিছু আলোচনা। বইগুলো হয়তো খুব বেশি ওজনের না, কিন্তু সকলেরই পড়া উচিৎ। আর যাই হোক, জ্ঞান অর্জন করা দূরে থাকুক, অন্তত কুসংস্কার আর অন্ধবিশ্বাস থেকে তো বের হতে হবে। অতিরিক্ত জ্ঞান আহরণে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, কিন্তু প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা থেকে প্রত্যেকটি মানুষকে বের হতেই হবে। ১ যৌন বিষয়ে সাধারণ জ্ঞান by বিদ্যুৎ মিত্র (কাজী আনোয়ার হোসেন)   সেবা প্রকাশনীর বই পড়ে যারা বড় হয়েছে তাদের অনেকেই এই বইটা পড়েছে। এই বইটা যদিও সম্প্রতি তেমন একটা পাওয়া যায় না তারপরেও অনেকের মুখেই এই বইটার কথা শুনা যায়। বইটির লেখক হিসেবে আছে "বিদ্যুৎ মিত্র", আদতে এই নামের আড়ালে আছেন স্বয়ং কাজী…
বিস্তারিত পড়ুন ...

ভ্যাক্সিন, এক স্বর্গীয় আশীর্বাদ

এ বছরে ‘The Croods’ নামে একটা অ্যানিমেটেড মুভি বের হয়েছিল। মুভিটা অনেকেই দেখেছেন। Croods রা মূলত গুহামানব। সারা পৃথিবী থেকে তারা বিচ্ছিন্ন। গুহাতেই তারা তাদের জীবনের প্রায় পুরোটাই কাটিয়ে দেয়। প্রকৃতির নানা প্রতিকূলতার সাথে তারা দিন রাত যুদ্ধ করে টিকে থাকার জন্যে। প্রকৃতির ঘটনাগুলোর ব্যাখ্যা তারা জানে না। তাই তারা ঘটনাগুলোকে নিজের মত করে ব্যাখ্যা করে। আর তৈরি হয় নান মিথ।   মানুষের ইতিহাসও অনেকটা Croods দের মত। মানুষের কাছে যখন জ্ঞান-বিজ্ঞানের ছোঁয়া লাগে নি। তখন তারা প্রকৃতির কাছে এমনটাই অসহায় ছিল। আর মানুষের চরম শত্রু ছিল নানা প্রাণঘাতী রোগ। এমন একটি রোগ হলো গুটি বসন্ত বা Smallpox। যে রোগ ছিল লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যুর কারণ। আঠারো শতকের শেষ দিকে প্রায় চার লক্ষ ইউরোপিয়ানদের মৃত্যুর কারণ ছিল এই গুটি বসন্ত।…
বিস্তারিত পড়ুন ...

স্মরণ: অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রয়োগেই একজন সাধারণ মানুষ তার দৈনন্দিন ভাবনায়, সামাজিক–রাজনৈতিক–অর্থনৈতিক চিন্তায়, বিশ্বাসে–অবিশ্বাসে, সঠিক ন্যায়সঙ্গত মানবিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে, আত্ননির্ভরতা অর্জন করতে পারে, জীবনের সামগ্রিক মূল্যবোধকে উপলব্ধি করতে পারে। এহেন পরিশীলিত মন গড়ে উঠলেই আমরা তাকে বিজ্ঞান মনষ্ক বলতে পারি। –ড. অশোক বন্দ্যোপাধ্যায় সত্তরের দশকে সাধারণ মানুষের কাছে বিজ্ঞানকে নিয়ে যাওয়ার এক আন্দোলনে মেতেছিলো কিছু তরুণ। পদার্থবিজ্ঞানের কৃতী ছাত্র অশোক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯৫০-২০০৮) ছিলেন তাঁদেরই মধ্যমণি। তাঁর সম্পাদনায় কলকাতা থেকে ১৯৮০ থেকে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সহজ করে বাংলাতে লক্ষ্যভেদী বিজ্ঞান আলোচনার এক নিজস্ব বলয় তৈরি করেছিলো ‘উৎস মানুষ’ পত্রিকা। যার মূলকথা-এলিট বিজ্ঞান নয়, চারধারে প্রতি দিনের জীবনে, কর্মে ও সংষ্কৃতিতে ওতপ্রোত বিজ্ঞান। বহু সংগঠন ও সামাজিক নানা কাজকর্মে যুক্ত মানুষজন ‘উৎস মানুষ’ থেকে নিয়েছেন কাজের প্রেরণা। বিজ্ঞানমনষ্ক মানবিক মূল্যবোধ গড়ার…
বিস্তারিত পড়ুন ...

বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল: রহস্য না প্রতারণা?

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা, বাহামা দ্বীপ এবং ক্যরিবীয়ান দ্বীপ এই তিনটি স্থানকে নিয়ে যে ত্রিভুজাকার এলাকা পাওয়া যায় সেটাই বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল। বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল এর রহস্যময়তার জন্য সবার কাছেই কম বেশী পরিচিত। যেসব রহস্যময় ঘটনা বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলকে ঘিরে শোনা যায় সেগুলো হল: ১. বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলে প্রায়শ:ই নৌযান দুর্ঘটনার কবলে পড়ে নিশ্চিন্থ হয়ে যায়। ২. বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের উপর দিয়ে বিমান উড়ে গেলে তার আর হদিস পাওয়া যায় না। ৩. এই এলাকায় কম্পাসের কাঁটা এলোমেলো দিক নির্দেশনা দেয়। ৪. বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলে যেসব মানুষ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন তাদের সাথে শেষবার যোগাযোগের সময় অদ্ভুৎ আচরন করেছেন বা কথাবার্তা বলেছেন এবং অতঃপর সম্পূর্ণ নিশ্চিন্থ হয়ে গেছেন। ৫. মাঝে মাঝে সময় এবং অবস্থান উল্টা-পাল্টা হয়ে যায়। একজন পাইলট নাকি আকস্মিকভাবে দুই ঘন্টার পথ চোখের নিমেষে পাড়ি দিয়ে ফেলেছেন। প্রথমবার…
বিস্তারিত পড়ুন ...