জিনোম লেখার প্রজেক্ট

মানব জিনোম প্রজেক্ট শুরু করার রজত জয়ন্তী উদযাপনের সবচেয়ে চমকপ্রদ ঘোষনাটি আসলো মাত্র তিন দিন আগে। বিখ্যাত জার্নাল সায়েন্স এ প্রকাশিত এক প্রবন্ধে বিজ্ঞানীরা এবার মানব জিনোম লেখার প্রজেক্টের ঘোষনা দিয়েছেন। নিউইয়র্ক ও হার্ভার্ডে বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা, আইনজীবি, প্রযুক্তিবিদ দের নিয়ে দুটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর তারা এই ঘোষনা দিয়েছেন। ২০০৩ সালে শেষ হওয়া মানব জিনোম প্রজেক্টের উদ্দেশ্য ছিলো আমাদের জিনোম পড়ে দেখা, সেটা সফল হয়েছে। নানা ক্ষেত্রে তার থেকে পাওয়া জ্ঞান গুরুত্বপূর্ন অবদান রাখছে। কিন্তু তবুও বহু রহস্য রয়ে গেছে অভেদ্য। যদিও সিকোয়েন্স করা, সেই সিকোয়েন্স বিশ্লেষন করা এমনকি জিনোম সম্পাদনা করার প্রযুক্তিও এখন আমাদের হাতে চলে এসেছে কিন্তু কৃত্রিমভাবে ডিএনএ সিকোয়েন্স তৈরি করা এখন পর্যন্ত শুধু স্বল্প পরিসরেই সম্ভব হয়েছে। যে কারণে জৈবিক সিস্টেমকে পুরোপুরি বোঝা এবং আরো নিপুনভাবে কাজে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

নিউরোসায়েন্স বনাম রকেট সায়েন্সঃ কোনটির ব্যাপ্তি বেশি এবং বেশি জটিল?

যখন লোকজন কোনকিছুকে কত কঠিন বোঝাতে উপমা ব্যাবহার করে তখন নিউরোসায়েন্স বা রকেটসায়েন্সের তকমা দেয়,কিন্তু কোনটি জয়ের দাবীদার? ১। প্রয়োগঃ নিউরোসায়েন্সঃ নিউরোসায়েন্স হল মস্তিস্ক ও স্নায়ুতন্ত্র নিয়ে বিজ্ঞান। এর অনেকগুলো উপভাগের মধ্যে কয়েকটা হচ্ছে স্মৃতি প্রক্রিয়াকরণ,মোটর নিয়ন্ত্রন,ভাষা,ও মস্তিস্ক সংক্রান্ত রোগ এবং স্নায়ু বিকলতা। সহজ কথায়,আমরা আমাদের জীবনে যা করি বা দেখি সব কিছুই মস্তিষ্কের মাধ্যমে হয়। রকেটসায়েন্সঃ রকেট সায়েন্স হল রকেট তৈরি ও মহাকাশে এদের পাঠানো। অনেক কারনেই এদের প্রয়োজন হয় যেমন মহাকাশে টেলিস্কোপ প্রেরণ,স্যাটেলাইট পাঠানো যা টিভি,আবহাওয়া ও সামরিক কাজে লাগানো হয় এবং এর সবকিছুই করা হয় মানবজাতির উন্নতির জন্য। ফলাফলঃ  যদিও মহাকাশ কর্মসূচির ব্যাপকতা অনেক কিন্তু শেষমেশ লাগবে আপনার ওই মস্তিষ্ক ! সুতরাং নিউরোসায়েন্স ট্রফিটা পেয়ে গেল। ২। জটিলতাঃ নিউরোসায়েন্সঃ যে লোকটা মস্তিষ্ক নিয়ে কাজ করে সে কাজ…
বিস্তারিত পড়ুন ...

দুর্ঘটনার আশীর্বাদঃ সাভান্ট সিন্ড্রোম

আমাতো ডেরেক, ৩৯ বছর বয়সী সেলস ট্রেইনার ছুটি কাটাতে এসেছেন তার নিজ শহরে। এক সকালে তিনি তার দুই বন্ধু রিক এবং স্টার্ন- কে নিয়ে গেলেন এলাকার হেল্থ ক্লাবে। বন্ধুদের সাথে মজা করার এক পর্যায়ে ডেরেক সুইমিংপুলের পাটাতনে গিয়ে দাড়ালেন আর জাকুজিতে আরাম করতে থাকা রিক কে বললেন ফুটবলটা তার দিকে ছুড়ে দিতে, আর তখনই দুই বাহু প্রসারিত করে লাফ দিলেন। তার ইচ্ছা শুন্যে থাকা অবস্থায় বলটি ধরে ডিগবাজি খেয়ে পানিতে পড়া। কিন্তু হিসাবে ভুল হয়ে যায়, বল যায় ফসকে আর মাথাটা পড়ল কনক্রিটের মেঝেতে। তার মনে হল যেন মাথার উপর বোমা ফেটেছে। কান দিয়ে যে তরলের প্রবাহ অনুভব করলেন তার রং চিনতে আর ভুল হয়নি। বন্ধুরা ধরাধরি করে তাকে নিয়ে গেলেন হাসপাতালে। যাওয়ার পথে আর বার বার জ্ঞান হারালেন এবং…
বিস্তারিত পড়ুন ...

রাজশাহীর বিজ্ঞান-জরিপ : স্কুল-শিক্ষার্থীরা অনেকেই জানে না নক্ষত্র আসলে কি

বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ কেন গুরুত্বপূর্ণ? মূলধারায় বিজ্ঞান চর্চা বলতে গবেষণা বোঝানো হয়। তবে বিজ্ঞান চর্চাকে কেবল গুরুগম্ভীর গবেষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে বড় ভুল হবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একবার বলেছিলেন, সাহিত্য চর্চার তিনটি কান্ড রয়েছে। প্রথমত জ্ঞানকান্ড, দ্বিতীয়ত রসকান্ড, তৃতীয়ত কর্মকান্ড। সাহিত্যচর্চায় 'জ্ঞান' ও 'রস' খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তেমনিই তিনি 'কর্মকান্ড' অর্থাৎ সাহিত্যচর্চার বিভিন্ন আয়োজন-সংগঠনকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। একই কথা বিজ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রেও বলা যায়। যদি সমাজে বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ ঠিকমতো না হয়, তাহলে সে পটভূমিতে বিজ্ঞানের অগ্রগতি হওয়া দুষ্কর। সাধারণ মানুষের মধ্যে বিজ্ঞানবোধ তৈরি করা ভীষণ জরুরী। বিশেষ করে নবীন ও তরুণ শিক্ষার্থীর মধ্যে বিজ্ঞান বিষয়ক কৌতুহল উস্কে দেয়া ও নানাবিধ কর্মকান্ডের মাধ্যমে তাদের আগ্রহ জিঁইয়ে রাখাটা দরকার। বিজ্ঞানবোধের হাত ধরে আসে পরমতসহিষ্ণুতা, যু্ক্তি দিয়ে যুক্তি খন্ডানোর সংস্কৃতি। বিজ্ঞানবোধ কোন পূর্বসংস্কারের বশীভূত না হয়ে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

বিজ্ঞানকর্মী লোটনকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন

লোটন ভাইয়ের অনেকগুলো পরিচয়। তার মধ্যে অন্যতম হলো তিনি বিজ্ঞান ব্লগের সহপ্রতিষ্ঠাতা। মনে পড়ে ২০১০ সালে ইমতিয়াজ ভাইয়ের প্রস্তাবে লোটন ভাই, শান্ত ও আমি ওয়ার্ডপ্রেস.কম-এর সাবডোমেইনে বিজ্ঞান ব্লগের যাত্রা শুরু করি। সেসময় আমরা সবাই অনুসন্ধিৎসু চক্রের সক্রিয় সদস্য। খুব দ্রুতই বিজ্ঞান ব্লগ নিজস্ব ডোমেইনে চলে আসে (৪ মার্চ, ২০১১)। লোটন ভাই মূলত সাইটের টেকনিক্যাল বিষয়গুলো দেখেন। বিজ্ঞান ব্লগে নতুন লেখা সম্পাদনা, প্রশাসনিক ও টেকনিক্যাল দেখাশুনার কাজগুলো নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি হয়ে গিয়েছিলো। এরপর বিজ্ঞান ব্লগের পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে – লেখক সংখ্যা বেড়েছে অনেক, এটি বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রুপ-ব্লগ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে, সহসম্পাদক হিসেবে যোগ দিয়েছেন ওসমান ভাই, রুহশান ও শ্রাবণ। ছোট ব্লগের গন্ডী পেড়িয়ে আমাদের অনেক লেখকই বিজ্ঞান নিয়ে গুরুত্ব সহকারে বিভিন্ন প্রবন্ধ লিখছেন। অনেকেই বিজ্ঞান নিয়ে বইও প্রকাশ করেছেন,…
বিস্তারিত পড়ুন ...

সাম্প্রতিক জিকা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এবং সম্ভাব্য বিপদ

এবোলা ভাইরাসের বাতাস ঘুরতে না ঘুরতেই নতুন এক ভাইরাসের আবির্ভাব, জিকা ভাইরাস (ZIKV)। নতুন করে আবির্ভাব ঠিক নয় বরং প্রাদুর্ভাব বেড়েছে হটাৎ করেই। সাম্প্রতিক সময়ে এই ভাইরাস আলোচনার শীর্ষে কারন জিকা ভাইরাস আক্রমনের এক ভয়ঙ্কর দিক উন্মোচিত হয়েছে। সর্বপ্রথম ১৯৪৭ সালে উগান্ডায় অবস্থিত জিকা বনে রেসাস বানরদের মধ্যে এই ভাইরাস দেখা যায় (বনের নামেই নামকরণ)। এই সূত্রধরে কয়েক বছর বাদে ১৯৫২ সালে উগান্ডার মানুষের মধ্যেও এটি ধরা পড়ে। এরপর বিভিন্ন সময় এটাকে আফ্রিকা, আমেরিকা এবং এশিয়াতে দেখা যায় কিন্তু ততটা বিপজ্জনক নয় বলে অতটা ভাবা হয়নি। হঠাত করেই ২০১৪ সালের দিকে এটা প্রশান্ত মহাসাগর হয়ে ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়াতে ছড়িয়ে পড়ে, সেখান থেকেই পরবর্তিতে ইস্টার আইল্যান্ড এবং ২০১৫ সালে মেক্সিকোসহ আমেরিকার বিভিন্নাঞ্চলে প্যান্ডেমিক আকার ধারন করে। অতি সম্প্রতি (মে ২০১৫) ব্রাজিলে এর…
বিস্তারিত পড়ুন ...

এক বছরের ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক (২০১৫)

বিশ্বসেরা স্বনামধন্য ম্যাগাজিনগুলোর মাঝে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক অন্যতম। সরাসরি বিজ্ঞানের ম্যাগাজিন না হলেও প্রত্যেকটা সংখ্যাতেই বিজ্ঞান বিষয়ক লেখা বা ছবি থাকে। পুরোপুরি বিজ্ঞান মনস্ক এই ম্যাগাজিন আমাদের দেশে খুব একটা সহজলভ্য নয়। ঢাকায় হাতে গোনা কয়েকটা স্টলে পাওয়া যায়। একেকটার দাম ৬০০ টাকা করে রাখে। বাংলাদেশের গরীব পাঠকের জন্য এটা খুবই বিশাল পরিমাণ টাকা। একে তো দুর্লভ, তার উপর প্রচণ্ড দাম। এহেন পরিস্থিতিতে পিডিএফই ভরসা। এটা ভাগ্যের কথা যে এই ম্যাগাজিনের পিডিএফ খুব একটা দুর্লভ নয়, এবং পাওয়াও যায় ফ্রীতে। তাই যাদের আগ্রহ আছে চমৎকার এই ম্যাগাজিনটি পড়ার তারা যেন বঞ্চিত না হয় তার জন্য “সায়েন্টিফিক ম্যাগাজিন” নামের ফেসবুক গ্রুপে প্রতি মাসে একটা একটা করে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের পিডিএফ লিঙ্ক শেয়ার করতাম। সেই ২০১৪ সাল থেকে। দেখতে দেখতে ২০১৫ সালও শেষ হয়ে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

পলায়নপর নিউট্রিনো এবং ২০১৫ সালের পদার্থের নোবেল-৩

[দ্বিতীয় খন্ডের পর] তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নিউট্রিনোর স্পন্দন ১৯৩৬ সালে কার্ল ডেভিড এন্ডারসন পার্বত্যএলাকায় মহাজাগতিক রশ্মি নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে নতুন একটি কণিকা পেলেন। মেঘ প্রকোষ্ঠে (cloud chamber) নতুন একধরনের গতিপথ দেখে বোঝা গেলো এই কণিকাটির উপস্থিতি এবং এই গতিপথ আগের কোনো কণিকার গতিপথের সাথে মেলানো যায় না। এর গতিপথ ইলেক্ট্রনের মতো একই দিকে বেঁকে যায় কিন্তু বক্রতার পরিমান বেশ খানিকটা কম যা দেখে বোঝা যায় এর চার্জ ইলেক্ট্রনের মতোই ঋনাত্মক তবে ইলেক্ট্রনের তুলনায় এটি বেশ ভারী। শুরুতে এন্ডারসন এই কণিকার নাম দিয়েছিলেন মেসট্রন (meostron) এবং সেখান থেকে কিছুটা সংক্ষেপিত হয়ে এর নাম হলো মেসন (meson)। পরবর্তীতে মেসন আর নির্দিষ্ট কোনো কণিকার নাম রইল না বরং নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্যের একশ্রেনীর কণিকার নাম দেওয়া হলো মেসন এবং এন্ডারসনের কণিকাটিকে সুনির্দিষ্ট করার জন্য…
বিস্তারিত পড়ুন ...