ধনু মন্ডল (Sagittarius)

তারামন্ডলের আরেকটি বড় সৌন্দর্য হল এই ধনু। নামটা শোনার সাথেই ধনুক এর কথা মনে হবে। SAGITTARIUS একটি ল্যাটিন শব্দ। এর অর্থ তীরন্দাজ। ধনু মন্ডলকে দেখলে মনে হবে কোন সেন্টর কাউকে নিশানা করে তীর হাতে দাঁড়িয়ে আছে। এখন মাথায় আসতে পারে, সেন্টর কি! গ্রীক পুরাণমতে সেন্টর হল স্বর্গরাজ্যের এক অদ্ভুত প্রাণী যাদের উপরের অংশ মানুষের মত, আর নিচের অংশ ঘোড়ার মত। তারা বেশিরভাগ যোদ্ধা ছিল। তাদের মধ্যে কিরণ ছিল সবচেয়ে বড় ধনুর্বিদ। বয়োজ্যেষ্ঠ এই ধনুর্বিদের সমকক্ষ আর কেউ হতে পারেনি শত চেষ্টাসত্ত্বেয়। বড় বড় বীরেরা, একিলিস, হেক্টর, জ্যাসন, হারকিউলিস প্রমুখ ছিল তার ছাত্র। একদিন সেন্টরদের সঙ্গে যুদ্ধ করার সময় নিজের অজান্তেই তার ছাত্র হারকিউলিস,কীরনকে তীরবিদ্ধ করে ফেলে। হাইড্রার রক্তমাখানো সে বিষাক্ত তীরের বিষক্রিয়ার ব্যথায় কাতর হয়ে একসময় কীরণ জিউসের কাছে ব্যথা…
বিস্তারিত পড়ুন ...

স্বপ্ন কি ভবিষ্যতের ইঙ্গিতবাহী?

স্বপ্ন মরমী অর্থে পূর্বাভাস নয়। তবে স্বপ্নের ভিন্নধর্মী মানসিক পূর্বাভাসের শক্তি আছে।   ১. সম্ভবত বাইবেলে স্বপ্নে ভবিষ্যদ্বানীর সবচেয়ে বিখ্যাত কথা পাওয়া যায়। ফারাও (কুরআনের ফেরাউন - অনুবাদক) স্বপ্নে দেখেন তিনি নীল নদের তীরে দাঁড়িয়ে আছেন। সাতটি মসৃণ, তরতাজা স্বাস্থ্যবান গরু নদী থেকে উঠে আসলো। তারপর আরো সাতটি হাড্ডিসার, কুৎসিত গরু পিছু নিয়ে সামনের হৃষ্টপুষ্ট গরু সাতটিকে খেয়ে ফেলে। কিন্তু এ স্বপ্নের মানে কি? এখানে একটা ধাঁচ লক্ষ্যণীয়, তাই না? খারাপ ভালোকে অনুসরণ করে এসে গ্রাস করে ফেললো। আর সংখ্যা ছিলো সাত। ফেরাউন যোসেফকে (কুরআনের ইউসুফ (আ.) - অনুবাদক) তলব করলে তিনি স্বপ্নের ব্যাখ্যা দেন। ব্যাখ্যাটি ছিলো টানা সাত বছরের সমৃদ্ধির পর সাত বছর ধরে দুর্ভিক্ষ বিরাজ করবে। এই ব্যাখ্যা ফারাওয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এখন তিনি ভবিষ্যতে কি হবে আঁচ করতে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা লিখেছে রূপকথার গল্প

ঠাকুরমার ঝুলি কিংবা সিন্ডারেলার গল্প আমরা অনেকে শুনেছি। এরকম রূপকথার গল্পগুলোর সবই মানুষের দ্বারা তৈরি হয়েছে। কেমন হবে যদি কোনো যন্ত্র কিংবা কোনো কম্পিউটার প্রোগ্রাম এরকম একটি গল্প লিখে? আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন বিজ্ঞান জগতের ট্রেন্ড। যন্ত্রের কোনো বুদ্ধিমত্তা থাকে না সাধারণত। তবে বিশেষভাবে প্রোগ্রামের মাধ্যমে যন্ত্রকে কৃত্রিমভাবে বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন করা যায়। যন্ত্রকে এমনভাবে তৈরি করা হয় যেন তাকে কোনো কাজ করতে দিলে সেটি আগে থেকে রাখা তথ্য কিংবা স্মৃতি ব্যবহার করে সে কাজটি সম্পন্ন করতে পারে। তেমনই আগে থেকেই যদি একে বিভিন্ন দেশের রূপকথার গল্পগুলো শেখানো যায় এবং সে অনুসারে নতুন কোনো গল্প লিখতে বলা হয় তাহলে সেটি ভালো কোনো গল্প লিখেও ফেলতে পারে। আইএফএল সায়েন্স-এ প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয় এক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা লিখেছে রূপকথার এক গল্প।…
বিস্তারিত পড়ুন ...

আমার কম্পিউটার – স্টিফেন হকিং

১৪ মার্চ - একই সাথে পাই দিবস এবং আইন্সটাইনের জন্মবার্ষিকী। তাই এতদিন বিজ্ঞানপ্রেমী যে কারো কাছে এটা ছিল একটা উৎসবমুখর দিন। কিন্তু এ বছর এই একই দিনে  না-ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন আমাদের সময়ের অন্যতম তাত্ত্বিক পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং। নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে কম্পিউটার যুক্ত হুইলচেয়ারে বসা বাক-চলনশক্তিহীন সেই অতিপরিচিত প্রখর চিন্তশীল মানুষটি। তিনি শুধু জনপ্রিয় বিজ্ঞানী নন, যেকোন ব্যাক্তির জন্যই অনুপ্রেরণার অপর নাম তিনি - চূড়ান্ত শারীরিক প্রতিবন্ধকতাও যাঁর প্রতিভা এবং সফলতাকে বিন্দুমাত্র দমিয়ে রাখতে পারেনি। যে যন্ত্র-প্রযুক্তির সাহায্যে কালের এই মহানায়ক তাঁর কঠিন বাস্তবতাকে মোকাবিলা করে গেছেন, চলুন আজ সেই সম্পর্কে শুনে আসি তাঁর নিজের জবানিতে :- সেই ১৯৯৭ সাল থেকে আমার কম্পিউটার ভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সার্বিক দায়িত্ব আছে ইন্টেল কর্পোরেশন। একটা ট্যাবলেট কম্পিউটারকে আমার হুইল-চেয়ারের হাতলে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

কৃষি : মানব-ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভুল

সারাংশ: কৃষিকাজকে মানব সভ্যতার ভিত্তি বলে আমরা ধরে নেই। তবে মানব ইতিহাসে অনেকগুলো দুর্দশার কারণ ছিলো কৃষির আবিষ্কার।   দু'পেয়ে পশু থেকে বুদ্ধিমান প্রাণী -- নিজের কাছ ভাবমূর্তির নাটকীয় উন্নতির জন্য বিজ্ঞানের কাছে আমরা চিরঋণী। জ্যোতির্বজ্ঞান আমাদের শিখিয়েছে পৃথিবী মহাবিশ্বের কেন্দ্র নয়, বরং সহস্র কোটি স্বর্গীয় বস্তুর মধ্যে মাত্র একটি। জীববিজ্ঞান থেকে আমরা জেনেছি যে আমরা অন্যান্য লক্ষ লক্ষ প্রজাতির সাথে অভিযোজিত হয়েছি। এখন প্রত্নতত্ত্ব আরেকটি পূতঃবিশ্বাস ধ্বংস করছে। আগে ধারণা করা হতো গত কয়েক লক্ষ বছরের মানব ইতিহাস হলো ধারাবাহিক প্রগতির উপাখ্যান। যেমন কৃষির উদ্ভাবনকে অবধারিতভাবে উন্নত জীবনের প্রতি নিশ্চিত পদক্ষেপ বলে ধরা হয়। অথচ সাম্প্রতিক আবিষ্কারগুলো বলছে কৃষি প্রকৃতপক্ষে অনেক ক্ষেত্রেই বিপর্যয়কারী ঘটনা। এ বিপর্যয় থেকে আমরা এখনো সেরে উঠতে পারি নি। কৃষির সাথে সাথে এসেছে সামাজিক ও…
বিস্তারিত পড়ুন ...

২০ ফুট লম্বা ফিতাকৃমি

২০ ফুট লম্বা ফিতাকৃমি
চীনের মধ্যাঞ্চলে সাধারণত ফিতাকৃমির সংক্রমণ হয় না। পরিবেশগত কারণেই হয়তোবা এ অঞ্চলের মানুষের মাঝে এর উৎপাত কম। কিন্তু ২০১৬ সালের শুরুর দিকে অদ্ভুত এক ঘটনা ঘটে। ডাক্তাররা এক ব্যক্তির অন্ত্রে খুঁজে পান ২০ ফুট লম্বা এক ফিতাকৃমি। একে তো ঐ অঞ্চলে এধরনের সংক্রমণ কম তার উপর এত বেশি লম্বা হওয়াতে অবাক হয়ে যায় সবাই। দুই বছর ধরে এই কৃমিটি বাস করছিল ঐ লোকের দেহে। জানা যায় আক্রান্ত ব্যক্তি কাঁচা মাংস খেতে ভালোবাসেতেন, নিয়মিতই খেতেন সেদ্ধ না করা মাংস। এক পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। দুই বছর ধরে লেগেই থাকে অসুস্থতা। বমি হতো, ক্ষুধামন্দা লেগে থাকতো, খেতে ইচ্ছে করতো না, পায়ুপথে ব্যথা করতো, শরীর দুর্বল লাগতো, আর ধীরে ধীরে ওজন কমতো। এক পর্যায়ে তিনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। ডাক্তার তার মলের নমুনা পরীক্ষা…
বিস্তারিত পড়ুন ...

জীবজগতে ধর্ষণ: একটি বিবর্তনীয় প্রেক্ষাপট

[পাঠ-সতর্কতা: ‘ধর্ষণ’ একটি অপরাধমূলক যৌন আচরণ এবং সামাজিক, আইনগত ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই প্রবন্ধ কোনোভাবেই ‘ধর্ষণ’ এর পক্ষে নয় এবং একে উৎসাহিত করে না। ‘ধর্ষণ’ ব্যাখ্যার নিমিত্তে বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞান এবং নৃবিজ্ঞানের সমন্বয়ে কিছু তথ্য, তত্ত্ব এবং অনুসন্ধান উপস্থাপন করে মাত্র। পাঠককে ‘ধর্ষণ’-এর ক্ষেত্রে সামাজিক মূল্যবোধকে অবিকৃত রেখে এই প্রবন্ধ পাঠ করার জন্যে অনুরোধ করা হলো।] উৎসর্গপত্র অভিজিৎ রায়ের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। ঠিক তিন বছর আগে এরকম এক রাতে (ছাব্বিশ ফেব্রুয়ারি, 'দু হাজার পনেরো) আচমকা তাঁর মৃত্যু সংবাদ পেয়েছিলাম। বইমেলা থেকে ফেরার পথে অসম্ভব প্রতিভাবান এই মানুষটা খুন হয়ে গেল। প্রকাশ্যে, জনসম্মুখে; অথর্ব পুলিশ প্রহরার আশেপাশে। এখন আমরা সেই অভিজিৎ রায়ের রক্তের উপর দিয়ে বইমেলায় যাই। বই কিনি। যে বইমেলায় অভিজিৎ রায় লেখেনা, অনন্ত বিজয় দাস লেখে না,…
বিস্তারিত পড়ুন ...

টি কোষের তেলেসমাতি

আমাদের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার গুরত্বপূর্ন দুই উপাদান টি কোষ এবং বি কোষ। এরা উভয়েই শ্বেত রক্তকণিকার অংশ। এদের কাজের উদ্দেশ্য এক হলেও ধরণ ভিন্ন। মজার বিষয় হলো এদের উভয়েরই জন্ম হয় অস্থিমজ্জায়। বি কোষ অস্থিমজ্জায় বড় হলেও, জন্মের কিছুদিন পরই টি কোষ আলাদা হয়ে চলে যায় থাইমাসে। এই দুজনার দুটি পথ সে মুহূর্তে দুটি দিকে বেঁকে গেলেও পরিণত হবার পর কিন্তু এরা একসাথেই অনেক অভিজানে অংশ নেয়। টি কোষ এবং বি কোষ একে অপরের থেকে আলাদা হবার পরপরই টি কোষ গুলো নিজেদের মধ্যে আবার দুই ভাগ হয়ে যায়। এক দল সহায়ক টি কোষ(Helper T Cell), অপর ভাগ ঘাতক টি কোষ(Killer T Cell)। সাহায্যকারী টি কোষের গায়ে প্রচুর সংখ্যক CD4 প্রোটিন থাকে, আর ঘাতক টি কোষের গায়ে থাকে প্রচুর সংখ্যক CD8 প্রোটিন।…
বিস্তারিত পড়ুন ...