দেজাভূঁ: রহস্যময়তার আড়ালে

ধরুন,আপনি প্রথমবার জাফলং বেড়াতে গেছেন। জাফলংয়ের চোখজুড়ানো অপরূপ সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য অবলোকনে আপনি মগ্ন হয়ে আছেন,হঠাৎই ব্রেইনে ধরা পড়া একটা সিগন্যালে চমকে উঠলেন। আপনার মনে হতে লাগল, দৃশ্যগুলো আপনার অতি পরিচিত যেন আগেও কোথাও দেখেছেন। কিন্তু কোথায় দেখেছেন...কোথায়...নাহ, কিছুতেই মনে পড়ল না আপনার। অথবা এরকম মনে হতে পারে যে আপনি যেন আগেও জাফলং এসেছিলেন, এই দৃশ্যগুলো দেখেছিলেন। কিন্তু কবে এসেছিলেন মনে করতে পারলেনই না। জি,এই অভিজ্ঞতাকেই বলা হয় দেজাভূঁ। দেজাভূঁ ব্যাপকভাবে ঘটা একটি ঘটনা। বেশিরভাগ লোকজন জীবনে অন্তত একবার এই অভিজ্ঞতা লাভ করে। যাদের দেজাভূঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের কাছে ব্যাপারটা খুব অদ্ভুত মনে হয় এবং এই ঘটনার খুব তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী একটি প্রভাব থেকে যায়। আর যাদের জীবনে দেজাভূঁ ঘটেনি তাদের কাছে ব্যাপারটা প্রায় অসম্ভব ও অকল্পনীয় মনে হয়। দেজাভূঁ…
বিস্তারিত পড়ুন ...

কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে জ্বালানী

একবিংশ শতাব্দীতে পৃথিবীর প্রধান কয়েকটি সংকটের একটা হল বৈশ্বিক উষ্ণতা। যার জন্য মূলত দায়ী করা হয় কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসকে। নগরায়নের ফলে বিশ্বজুড়ে কলকারখানার সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে সেসব কারখানা থেকে বর্জ্য হিসেবে নির্গত গ্যাসের পরিমান ও বেড়ে চলেছে দিনে দিনে। গত বছরই তেল ও কয়লার মতন জ্বীবাশ্ম জ্বালানী পুড়িয়ে বিশ্বে ৩৮.২ বিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন করা হয়েছে। এর পরিমান যে প্রতি বছর বছর বাড়বে তাতে কোন সন্দেহ নাই। চিত্র ১ : কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে ইথানল প্রস্তুত প্রণালী তাই অনেক বছর ধরেই বিজ্ঞানীরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে একটা যুগোপযোগি জ্বালানী বানানোর, যার ফলে এই গ্রীন হাউস গ্যাসটা পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ানোর পরিবর্তে নিজেই ব্যবহার হতে পারে জ্বালানী হিসেবে। সেই উদ্দেশ্যেই আমেরিকার ওক রিজ ন্যাশনাল…
বিস্তারিত পড়ুন ...

আইনস্টাইনের ভুল

মহাজ্ঞানীর অক্ষমতা মানুষ মাত্রই ভুল করে। সেই ভুল করাদের মধ্যে আছে প্রাইমারী ক্লাসের লাস্ট বেঞ্চের অমনোযোগী ছাত্র থেকে সর্বকালের সেরা মেধাবী পর্যন্ত। ইতিহাসের অসীম মেধাবী বলতে আমরা এক একজন সফল বিজ্ঞানীকে বুঝে থাকলেও এই বিজ্ঞানীরাই তাদের এক একটা সূত্র আবিষ্কার করতে শুধু পরিশ্রমই করেন নি সেটা প্রমানের পথে করেছেন অসংখ্য ভুল। আবিষ্কারক হিসেবে টমাস আলভা এডিসন বানিয়েছেন অনেক অনেক যন্ত্র, কিন্তু বৈদ্যুতিক বাতির একটা কার্যকর সংস্করন বানাবার জন্য তিনি প্রায় এক হাজার বার চেষ্টা করে তবেই  সফল হয়েছিলেন। সফল হওয়ার পর উনাকে যখন প্রশ্ন করা হয় এই হাজার বারের ব্যর্থতার জন্য, উনি অবাক হয়ে বলেছিলেন , “কৈ আমি তো ব্যর্থ হয়নি । বরং ইলেক্ট্রিক বাল্ব কিভাবে বানানো যায়না তার ৯৯৯ টা কায়দা হাতেনাতে দেখিয়েছি।“ আবার বিজ্ঞানী আইন্সটাইনেরও ভুলের সংখ্যা কম…
বিস্তারিত পড়ুন ...

মশলা ও রান্নাবান্না

মানুষের বাঁচার জন্য প্রয়োজন শক্তির। আর মানুষকে অবিরত শক্তির যোগান দেয় নানারকম খাদ্য।  আমাদের নিত্যদিনের খাদ্যতালিকায় থাকে বিচিত্র ধরনের খাবার। বাঁচার জন্য খাওয়া বা খাওয়ার জন্য বাঁচা -খাবার উদ্দ্যেশ্য যাই হোক না কেন সুস্বাদু খাবার আমরা সকলেই পছন্দ করি। খাবারকে সুস্বাদু করতে মশলার ভূমিকা অনস্বীকার্য। শতাব্দিকাল ধরে মশলা হয়ে আছে  খাবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ।   নানারকম মশলার কারণেই খাবার দেখতে ও খেতে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। মশলা হচ্ছে কোন গাছের বীজ,ফল, মূল,বাকল বা পাতা যা মূলত খাবারকে আকর্ষণীয় রং দিতে, খাবারে সুঘ্রাণ আনতে এবং খাবার সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়। মশলা শুধু খাবারে অনন্য স্বাদ যুক্ত  করতেই ব্যবহৃত হয় না, এর আছে বহুবিধ ব্যবহার। চিত্রঃ একটি মশলার দোকান মশলার ব্যবহার সম্পর্কে জানার আগে চলুন জানা যাক মশলা ব্যবহারের ইতিহাস সম্পর্কে।খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ অব্দের দিকেএশিয়ায় দারুচিনি, কালচে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

নিমগ্নতা, কাজ ও খেলা

বিজ্ঞানী সত্যেনন্দ্রনাথ বসুর কথা বলা যাক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার সময় তার মেয়ে একবার সিনেমা দেখার বায়না ধরেন। সে সময় তিনি জটিল একটি গাণিতিক সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এদিকে মেয়ে নাছোড়বান্দা। শেষে মেয়ের জেদের কাছে হার মেনে ঘোড়ার গাড়িতে করে মেয়েকে নিয়ে গেলেন মুকুল সিনেমা হলে। সেখানে পৌঁছে দেখেন তিনি বাসায় টাকা ফেলে এসেছেন। মেয়েকে সেখানে রেখে গাড়োয়ানকে নিয়ে বাসায় ফিরলেন টাকা নিতে। বাসায় পৌঁছে টাকা নেয়ার সময় টেবিলে দেখেন অসমাপ্ত গাণিতিক সমস্যাটা পড়ে আছে। তখন তিনি মেয়ের কথা ভুলে সেখানেই বসে পড়েন সমস্যা সমাধানে। এদিকে গাড়োয়ান যখন দেখলেন অনেকক্ষণ সময় পার হয়েছে তখন আর অপেক্ষা না করে বাড়িতে ঢুকে পড়লেন। ঢুকে দেখেন, সত্যেন বসু টেবিল-চেয়ারে নিমগ্নভাবে অঙ্ক কষে চলছেন। গাড়োয়ান সত্যেন বসুকে মেয়ের কথা মনে করিয়ে দিলে তিনি সম্বিত ফিরে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

এক চলকবিশিষ্ট বহুপদীর উৎপাদকে বিশ্লেষণ ও আমার গবেষণা

এক চলক বিশিষ্ট বহুপদী হল বীজগাণিতিক রাশি, যার প্রতিটি পদ C.xⁿ আকারের। যেখানে , n∈ℤ+, আর C হল ধ্রুব। আমার আলোচনায় n≤4 থাকবে আর C পূর্ণসংখ্যা। বহুপদীতে সসীম সংখ্যক পদ থাকবে। একটি পদ থাকলেও বহুপদী হয়। উদাহরণস্বরূপ, 2x³-3 একটি বহুপদী, এর দুটি পদ 2x³ এবং -3 বহুপদীর উৎপাদকে বিশ্লেষণ হল বহুপদীকে একাধিক বহুপদীর গুণফল আকারে প্রকাশ। এখন, n=2 হলে বহুপদীর উৎপাদকে বিশ্লেষণ আমরা সবাই জানি। তবুও একটু দেখা যাক, ax²+bx+c এর উৎপাদকে বিশ্লেষণ করতে হবে। a,b,c এখানে পূর্ণসংখ্যা ও সহমৌলিক। এবার ax²+bx+c=0 এর মূলগুলো যদি মূলদ হয়, তবে উৎপাদকে বিশ্লেষণ সম্ভব। আর এর শর্ত b²-4ac পূর্ণবর্গ হতে হবে। এখন, ধরা যাক, 2x²-5x+2 কে উৎপাদকে বিশ্লেষণ করতে হবে। এখন, 5²-4×2×(-2)=31 যা পূর্ণবর্গ না, কাজেই উৎপাদকে বিশ্লেষণ সম্ভব না। এবার ধরি, 2x²+13x+18…
বিস্তারিত পড়ুন ...

জিএমওতে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি

সময়ের সাথে সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে জনসংখ্যা। এই বিপুল জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে খাদ্যের চাহিদা। খাদ্যের চাহিদা মেটাতে ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আবিষ্কৃত ও ব্যবহৃত হচ্ছে নানা ধরনের প্রযুক্তি। প্রযুক্তির ব্যবহারে বাড়ছে খাদ্য উৎপাদন, খাদ্যের গুণগত মান আর সহজলভ্যতা। প্রযুক্তির নানা উৎকর্ষতার মাঝেও এর বিরূপ দিকগুলো বিভিন্ন ক্ষেত্রে আজ আমাদের জন্য হুমকিস্বরূপ। সেরকমই এক প্রযুক্তির নাম জিএমও। জিএমও হচ্ছে জেনেটিক্যালী মডিফাইড অর্গানিজম, আবার কখনো কখনো জিইও অর্থাৎ জেনেটিক্যালী ইঞ্জিনিয়ার্ড অর্গানিজম ও বলা হয়। সংক্ষেপে জিএমও বা জিই ব্যবহার হয়ে থাকে। কৃত্রিমভাবে কোন জেনেটিক ইনফরমেশন, অর্গানিজমে ঢুকিয়ে দিয়েই জিএমও তৈরী করা হয় অর্থাৎ কোন একটি অর্গানিজমে, কাঙ্খিত বৈশিষ্ট্যের নিউক্লিওটাইড সিকুয়েন্স অর্থাৎ ফরেন ডিএনএ পরীক্ষাগারে কৃত্রিমভাবে ঢুকিয়ে, অর্গানিজমকে জেনেটিক্যালি পরিবর্তন করে কাঙ্খিত বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন করা হলে ঐ অর্গানিজমকে জিএমও বলে।…
বিস্তারিত পড়ুন ...

বাতাসে বৃক্ষের বার্তা

ছোট্ট শহর সিটকা সম্ভবত আলাস্কার সবচেয়ে আরামদায়ক জায়গা। বারানফ দ্বীপে অবস্থিত সমুদ্র তীরবর্তী শহর সিটকা। প্রশান্ত মহাসাগরীয় উষ্ণ শ্রোতের প্রভাবে সবসময়ই এখানকার আবহাওয়া মাতৃকোমল। এক মাসের গড় তাপমাত্রা সবসময়ই হিমাংকের উপরে থাকে। শহরটির ইতিহাসে বলার মত তেমন কোন ঘটনা নেই। ১৮৬৭ সালের অল্প কয়েকটি দিন ছাড়া। তখন সারা পৃথিবীর রাজনীতি সচেতন মানুষদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছিলো এই সিটকা। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার অনেক কূটনীতিক সেখানে জড়ো হন। প্রতি একর মাত্র দুই সেন্টের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ানদের থেকে আলাস্কা কিনে নেয়। অর্ধমিলিয়ন বর্গমাইল বাবদ মাত্র সাত মিলিয়ন ডলারে বিনিময়ে আলাস্কার মালিকানা যুক্তরাষ্ট্র পাবে এমন চুক্তি হয় দুই দেশের মধ্যে। গৃহযুদ্ধ পরবর্তী যুক্তরাষ্টের একজন আম আমেরিকানের জন্য এই অংকটা অযৌক্তিক রকমের বেশি। যারা পক্ষের ছিলো, তাদের দাবী ছিলো - পরবর্তী পদক্ষেপে কানাডার প্রদেশ…
বিস্তারিত পড়ুন ...