শীঘ্রই আসছে : কৃত্রিম রক্ত

মেডিক্যালে পড়ার কারণে এক ব্যাগ রক্তের জন্য মানুষের যে কী হাহাকার, কী কষ্ট, কী ছুটোছুটি, কী দুর্ভোগ পোহাতে হয়, তা খুব কাছ থেকেই অনুভব করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। আনকমন ব্লাড গ্রুপ যেমন যেকোন নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপ হলে তো কথাই নেই। এমনিতে হয়তো রোগ তেমন সিরিয়াস না, মাত্র এক ব্যাগ রক্তই পারে রোগীকে মৃত্যুযাত্রা থেকে ফেরাতে। কিন্তু রক্তপ্রার্থীদের অজ্ঞতা আর রক্তদানে মানুষের চরম অনাগ্রহের কারণে এই এক ব্যাগ রক্তের অভাবেই রোগীটি মারা যেতে হচ্ছে। অন্তত এক দশমাংশ সুস্থ-সক্ষম মানুষ যদি স্বেচ্ছায় নিয়মিত রক্তদান করত তাহলে এই মানুষগুলোকে রক্তের জন্য এতো ছুটোছুটি, এতো হাহাকার করা লাগতো না। তবে সেদিন বোধহয় খুব বেশি দেরি নয়; যেদিন এক ব্যাগ রক্তের জন্য অসুস্থ মানুষ ও তাদের আত্মীয়স্বজনকে আমাদের মতো সুস্থ-সবল মানুষের পেছন-পেছন দৌড়াতে হবে না।…
বিস্তারিত পড়ুন ...

আমাদের দেহের প্রাণবৈচিত্র্য || দেহবাসীদের কথা

“তোমার ঘরে বসত করে কয়জনা মন জানো না - তোমার ঘরে বসত করে কয়জনা?” উঁকুন, কৃমি ছাড়াও মানবদেহে স্হায়ীভাবে বসবাস করে অজস্র অণুজীব। আমরা দেহকে একটি ঘন অরণ্যের সাথে তুলনা করতে পারি। এই অরণ্য ব্যাক্টেরিয়াতে কিলবিল করছে। মনস্তাত্ত্বিক কারণে মানুষ সাধারণত সংখ্যা বা পরিসংখ্যান পছন্দ করে না। তাই আমি বলবো না মানবদেহে দশ ট্রিলিয়নের মতো ব্যাক্টেরিয়া থাকতে পারে। তবে একটা তুলনা করা যেতে পারে। দেহে মোট কোষের তুলনায় ক্ষুদে ব্যাক্টেরিয়াদের সংখ্যা দশগুণ - চিন্তা করা যায়! অবশ্য এটা ঠিক যে আমাদের দেহকোষ একটি ব্যাক্টেরিয়ার চাইতে আকারে দশগুণের মতো বড়ো হয়। তাহলে কি প্রতিটি কোষের ভেতরে দশটি ব্যক্টেরিয়া থাকে? না। এরকমটা হলে আমরা আর বাঁচতে পারতাম না। আমাদের দেহঘরের বেশীরভাগ প্রত্যঙ্গই জীবাণুমুক্ত। দেহের বহির্ভাগেই অধিকাংশ ব্যাক্টেরিয়া বসবাস করে। লালনের গানের একটা…
বিস্তারিত পড়ুন ...

টিকা-বিরোধী আন্দোলন : একটি তিক্ত অভিজ্ঞতা

একটা অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন দিয়ে লেখাটা শুরু করা যেতে পারে। বিজ্ঞানমনষ্কতা কেন জরুরী? এই প্রশ্নের যথার্থতা আমাদের তৃতীয় বিশ্বের গরীব দেশে হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। বাংলাদেশে জনগণের মাঝে বিজ্ঞানমনষ্কতা কম। বিপরীতভাবে, এমনটা ভাবার অবকাশ নেই যে উন্নত দেশে জনসাধারণের মধ্যে বিজ্ঞানমনষ্কতা বেশি। উন্নতদেশে সাধারণ মানুষজন উন্নত প্রযুক্তির সুবিধা পেয়ে থাকেন বলে যে তাদের বিজ্ঞানবোধও বেশি হবে - বিষয়টা এতো সরল নয়। প্রথমবিশ্বেও দরকার হয় বিজ্ঞান-জনপ্রিয়করণ এবং আধুনিক-কুসংস্কার বিরোধী আন্দোলন। তৃতীয় বর্ষ ফাইনাল পরীক্ষার প্রস্তুতী নেয়ার সময় পাঠ্যতে ঠিক এই প্রসঙ্গেরই একটা বাস্তব উদাহরণ দেখলাম। সেটাই এখন পাঠকদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।    অভিভাবকেরা যখন টিকার উপর আস্থা হারিয়ে ফেলেন একটা সময়, হুপিং কাশি ভয়াবহ রোগ ছিলো। ছোট শিশুরাই এই রোগে বেশি আক্রান্ত হতো। হুপিং কাশির নামই কেবল শুনেছি। কোন রোগী…
বিস্তারিত পড়ুন ...

বেলুন রকেট

প্রজেক্ট বানাতে কার না ভালো লাগে? আর সেই সব প্রজেক্ট যদি বানানো যায় হাতের কাছে থাকা জিনিষগুলো দিয়ে তাহলে তো কথাই নেই। তেমনি হাতের কাছে থাকা জিনিষ দিয়ে তৈরি করবো আমাদের আজকের প্রজেক্ট। যা যা লাগবে: বেলুন সুতা ৬ সেমি. পাইপ স্কসটেপ কাঁচি   প্রজেক্টের বিবরন:   ১. প্রথমে বেলুনটি ফুলাতে হবে এবং হাত দিয়ে ধরে এর মুখ বন্ধ করতে হবে।       ২. এবার একটি লম্বা সুতায় পাইপটি ঢুকাতে হবে এবং সুতার শুরুর দিকটি আটকে দিতে হবে। তারপর তোমার বন্ধুকে বলো সুতার শেষ প্রান্তটি ধরে রাখতে।         ৩. স্কসটেপ দিয়ে বেলুনটি পাইপের সাথে লাগিয়ে দাও। তারপর বেলুনটি ছেড়ে দাও। যখন বেলুনটি ছুঁটতে শুরু করবে তখন বেলুনটিকে রকেট মনে হবে।     তৈরি হয়ে গেল তোমার…
বিস্তারিত পড়ুন ...

পতঙ্গের অবাক করা ক্যামোফ্ল্যাজ

বিবর্তনের ধারায় এই পৃথিবীতে কয়েক কোটি বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর আবির্ভাব ঘটেছে। এর মধ্যে প্রায় ৭৫% ই পতঙ্গ শ্রেণীতে পড়ে। এই পতঙ্গগুলোর প্রতিটিরই রয়েছে নিজস্ব আত্মরক্ষার ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থাগুলো এতই বৈচিত্র্যময় যে রীতিমত অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। এ ধরনেরই একটি আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা হচ্ছে ক্যামোফ্ল্যাজ। ক্যামোফ্ল্যাজ হচ্ছে এমন একটি বৈশিষ্ট্য যার মাধ্যমে কোন প্রানীকে তার পরিপার্শ্ব থেকে সহজে পৃথক করা যায় না। এর ফলে প্রায়ই প্রানীটি বিভিন্ন শিকারির নজর এড়িয়ে যেতে পারে। এর মধ্য সবচেয়ে সহজ কৌশল হল প্রানীটির গায়ের রং তার পরিবেশের সাথে মিলে যাওয়া। যেমনটা হল ঘাস ফড়িংয়ের। কিছু কিছু পতঙ্গের শুধু গায়ের রং নয় বরং শরীরে বিভিন্ন নকশা থাকে যা তাকে পরিবেশের সাথে মিশিয়ে রাখে। এই গুবরে পোকাটি যে বালির উপর চরে বেড়ায় তার গায়েও সেই বালির মতই ছবি…
বিস্তারিত পড়ুন ...

এনার্জি সেভিং বাল্ব থেকে সাবধান

এনার্জি সেভিং বাল্ব এখন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই বাতি ব্যাবহারের ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। সম্প্রতি এনার্জি সেভিং বাতির বিষয়ে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রী হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন যে এই বাতিগুলো ভেঙে গেলে তা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির সৃষ্টি করতে পারে। এসব বাল্ব কোনভাবে ভেঙে গেলে ঘরের সবাইকে সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ৈ যেতে হবে। কমপক্ষে ১৫ মিনিট ঘরের বাইরে থাকতে হবে। এসব বাল্বে আছে বিষাক্ত পারদ বা মার্কারী। এটি মাথাব্যাথ্যা, মানসিক ভারসাম্যহীনতা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এটি নিশ্বাসের সাথে টেনে নেয়াও বিপজ্জনক। এলার্জিগ্রস্থ লোকেরা এটি স্পর্শ করলে বা নিশ্বাসের সাথে টেনে নিলে ত্বকের মারাত্মক সমস্যা বা অন্যকোন বিপত্তিতে পড়বেন। আরো হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে যে, ভাঙা বাল্বের আবর্জনা ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের সাহায্যে পরিষ্কারও করা যাবে না। কারণ এর ফলে দূষণ ছড়িয়ে পড়বে অন্যান্য কক্ষে।…
বিস্তারিত পড়ুন ...

আমাদের দেহের প্রাণবৈচিত্র্য – গন্ধের জন্য দায়ী কে?

আপনাকে কি মশারা একটু বেশিই ভালোবাসে? চারপাশের মানুষের তুলনায় একটু বেশিই "রক্ত-চোষা-চুম্বন" দেয়? আপনার দেহে এমন কি আছে যে কারণে মশারা এতো আকর্ষণ অনুভব করে আপনারপ্রতি? ঘ্রাণ। আপনার-আমার-প্রত্যেকের দেহেই বৈশিষ্ট্যসুচক গন্ধ আছে। ঘাম, পায়েরমোজা, মাথার চুল কিংবা বগলের তলায় গন্ধ (মতভেদে দুর্গন্ধ!) তৈরি হয়। এই গন্ধের জন্যই হয়তো মশারা আপনার প্রতি একটু বেশিই আকৃষ্ট হয়। 239
বিস্তারিত পড়ুন ...

ক্যান্সারের জিন চেনার পথে এক ধাপ

একেকটি জিনের কাজ একেক রকম। কোনো কোনো জিন মানুষের চোখের রং নির্ধারণ করে দেয়। কোনোটি ঠিক করে মানুষের চুল কেমন হবে, কোনোটি ঠিক করে মানুষের উচ্চতা। আবার কোনো কোনো জিন বর্ণান্ধতাসহ বিভিন্ন জটিল ব্যাধির জন্য দায়ী। কিছু কিছু জিন ক্যান্সারের জন্য দায়ী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি গবেষকদল এ রকম একটি জিন প্রস্তাব করেছেন। এ বিষয়ে একটি গবেষণাপত্র ছাপা হয়েছে আন্তর্জাতিক জার্নাল ক্যান্সার ইনফরমেটিকসে। এ গবেষণায় তাঁর সঙ্গে আরো কাজ করেন রুহুল আমিন, জেসমিন এবং হাসান জামিল। ক্যান্সারের জন্য দায়ী জিনের এই পরিবারটি হলো মেজ বা মেলানোমা এন্টিজেন পরিবার। এ জিনগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মানুষের এঙ্ ক্রোমোজম, তিন ও পনেরো নম্বর ক্রোমোজমে পাওয়া যায়। ড. আনোয়ার হোসেন পাঁচ নম্বর ক্রোমোজমের একটি অংশে, বিশেষ এই জিন…
বিস্তারিত পড়ুন ...