ভ্যাক্সিন, এক স্বর্গীয় আশীর্বাদ

এ বছরে ‘The Croods’ নামে একটা অ্যানিমেটেড মুভি বের হয়েছিল। মুভিটা অনেকেই দেখেছেন। Croods রা মূলত গুহামানব। সারা পৃথিবী থেকে তারা বিচ্ছিন্ন। গুহাতেই তারা তাদের জীবনের প্রায় পুরোটাই কাটিয়ে দেয়। প্রকৃতির নানা প্রতিকূলতার সাথে তারা দিন রাত যুদ্ধ করে টিকে থাকার জন্যে। প্রকৃতির ঘটনাগুলোর ব্যাখ্যা তারা জানে না। তাই তারা ঘটনাগুলোকে নিজের মত করে ব্যাখ্যা করে। আর তৈরি হয় নান মিথ।   মানুষের ইতিহাসও অনেকটা Croods দের মত। মানুষের কাছে যখন জ্ঞান-বিজ্ঞানের ছোঁয়া লাগে নি। তখন তারা প্রকৃতির কাছে এমনটাই অসহায় ছিল। আর মানুষের চরম শত্রু ছিল নানা প্রাণঘাতী রোগ। এমন একটি রোগ হলো গুটি বসন্ত বা Smallpox। যে রোগ ছিল লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যুর কারণ। আঠারো শতকের শেষ দিকে প্রায় চার লক্ষ ইউরোপিয়ানদের মৃত্যুর কারণ ছিল এই গুটি বসন্ত।…
বিস্তারিত পড়ুন ...

রোগের জীবাণুতত্ত্ব

রোগ বালাই তো মানুষের লেগেই থাকে। তখন আমরা দৌড়াতে থাকি ডাক্তার কবিরাজের কাছে। অবশেষে পথ্য নিয়ে সুস্থ হই। কিন্তু আমরা কিভাবে রোগে আক্রান্ত হলাম তা কিন্তু চিন্তার বিষয়! আমরা এখন জানি রোগ সৃষ্টির সাথে অণুজীবের গভীর সম্পর্ক আছে। আমাদের সবার কাছে পরিচিত ও ভয়াবহ একটি রোগ হল এইডস। আর যে কারণে এইডস হয় তা হল HIV ভাইরাস। একইভাবে আমাদের অনেকেরই জলবসন্ত হয়। এটার কারণও অণুজীব। কোথাও ব্যথা পেয়ে কেটে ছিঁড়ে গেলে অনেক সময় ইনফেকশন হয়। এটাও কিন্তু অণুজীবের কারণে। এভাবে চোখের সামনে নানা ভাবে আমরা অণুজীবের কারণে রোগে আক্রান্ত হচ্ছি। তবে সৌভাগ্যের ব্যাপার হলো এখন আমরা রোগের সাথে অণুজীবের যে সম্পর্ক আছে তা জানি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারি। কিন্তু আজ থেকে অনেক অনেক বছর আগের মানুষেরা কি এভাবেই আমাদের…
বিস্তারিত পড়ুন ...

বিলুর অণুজীব ভাবনা

অঝোর ধারায় বৃষ্টি হচ্ছে। যাকে বলে Cats and dogs! আর বিলু বিছানায় উপর হয়ে পত্রিকার খেলার খবর পড়ছে। এমন সময় বেল বেজে উঠল। দরজা খুলতেই বিলু আনন্দে আত্মহারা। হাসান মামা এসেছেন! বিলুর ঘরে ঢুকে মামা বললেন, -কি বৃষ্টি পড়েছে দেখেছিস! একবারে কুকুর বেড়াল যুদ্ধ! বিলু কিছু না বলে হাসতে থাকলো। হাসান মামা বিলুর সবচেয়ে প্রিয় মানুষ। বিলুর মতে হাসান মামা জানেন না এমন কোন জিনিস নেই। গতবার বিগব্যাঙ নিয়ে কি গল্পটাই না করলেন হাসান মামা! দারুণ ইন্টারেস্টিং মানুষ। অণুজীব বিজ্ঞানে অনার্স করেছেন গত বছর। আরে বিলুর পরিচয় তো দেয়া হয় নি! ও এই বার ক্লাস নাইনে উঠেছে। -কিরে এভাবে দাত কেলাচ্ছিস কেন? হাসান মামা বললেন। -এমনিতেই! তুমি আজকে এদিকে আসলা যে? -ভার্সিটি থেকে আসার সময় হঠাৎ বৃষ্টি! তাই তোদের বাসায়…
বিস্তারিত পড়ুন ...

এমন হলে কেমন হত!

মানুষ হিসেবে জন্ম হয়েছে আপনার। আপনি জন্মসুত্রে মানুষ ‘The Homo sapiens’। আচ্ছা এক মুহূর্ত ভাবুন তো আপনি মানুষ নন। আপনি হচ্ছেন কোন এক অণুজীব। হয়তো ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক কিংবা ভাইরাস জাতের কেউ। কেমন হত আপনার জীবন তখন? চলেন একটু কল্পনা করে দেখি তো! আপনি হয়তো তখন কোন মানুষের অন্ত্রের ভিতর খাবার ভেঙ্গে হজমে সাহায্য করছেন, ভিটামিন তৈরি করে দিচ্ছেন। (যদি ব্যাকটেরিয়া হতেন) লোকটা হয়তো মনের আনন্দে মুরগির রান চিবুচ্ছে! সে হয়তো জানেই না আপনার কথা! রাগে দুঃখে অপমানে হয়তো আপনি গাইতেন ‘ভালোবাসা দিলাম শুধু, ভালোবাসা পেলাম না’। একইভাবে আপনি মাটিতে নাইট্রোজেন যোগাচ্ছেন যাতে মানুষ ভালো শাক সবজি পায়, মাটি থেকে নাইট্রোজেন বাতাসে ছেড়ে দিয়ে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করছেন। কিন্তু অথর্ব আর গর্দভ মানব রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করে আপনাকেই মেরে ফেলছে। আহ!…
বিস্তারিত পড়ুন ...

অণুজীব যখন আশীর্বাদঃ পর্ব-১

(আগের লেখায় অণুজীবের কিছু উপকারী দিক নিয়ে লিখেছিলাম। ঠিক করেছি ‘অণুজীব যখন আশীর্বাদ’ এই শিরোনামে কিছু লেখা লিখব যেখানে অণুজীবের উপকারী দিকগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে।) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষিপ্র গতিতে এগিয়ে চলছে। যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করার পাশাপাশি কিছু জটিল সমস্যারও কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হল নানা ভাবে সৃষ্ট আবর্জনা। গৃহস্থালির আবর্জনা থেকে শুরু করে শিল্প কারখানা ও বিভিন্ন খনি থেকে নিষ্কাশিত আবর্জনা মানুষ ও পরিবেশের জন্য বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিষাক্ত আবর্জনা যাতে পরিবেশের ক্ষতি করতে না পারে এজন্য কিছু পদ্ধতি ব্যবহার হয়ে আসছে। এর মধ্যে একটি হল আবর্জনাগুলোকে অন্য কোন জায়গায় পুঁতে ফেলা, পুড়িয়ে ফেলা কিংবা রাসায়নিক দ্রব্য প্রয়োগ করে বিষাক্ত আবর্জনাকে কম বিষাক্ত পদার্থে রূপান্তরিত করা। কিন্তু এতে পরিবেশ দূষণ থেমে…
বিস্তারিত পড়ুন ...

এন্টিবায়োটিক নিয়ে লড়াই

ছড়িয়ে আছে সবখানে এরা আছে সবখানে। বাতাসে উড়ে বেড়াচ্ছে। এক মুঠো মাটিতে আপনি এদের লাখখানেক পাবেনই। ফুটন্ত পানিতেও এরা আছে। এমনকি আপনার-আমার শরীরের ভেতরে-বাহিরেও এরা আছে। দেখতে খুবই ছোট এরা, আমরা খালি চোখে দেখি না। কিন্তু এরাই পৃথিবীর অন্য̈তম নায়ক। এরা হলো অণুজীব, মূলত ব্যাক্টেরিয়া। মাত্র ৫ ভাগ অণুজীব আমাদের জন্য ক্ষতিকর। ক্ষতিকর অণুজীবদের আমরা জীবাণু নামে চিনি। বাকিরা হয় আমাদের উপকার করে, অথবা তারা নিরপেক্ষ। কিন্তু এই ৫ ভাগ জীবাণুই নানারকম রোগ তৈরি করে মানুষকে নাস্তানাবুদ করে ছাড়ে। শরীর নামের দূর্গে অণুজীবরা মূলত এককোষী জীব। তারা বাঁচতে চায়, খাদ্য গ্রহণ করে টিকে থাকতে চায়, বংশবৃদ্ধি করতে চায়। এ জন্য তারা সবসময় উপযুক্ত পরিবেশ খুঁজে বেড়ায়। অনেক জীবাণুর কাছেই মানবদেহ এক লোভনীয় জায়গা। শরীরের সুনিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রা তাদের জন্য আরামদায়ক। এখান…
বিস্তারিত পড়ুন ...