প্লাস্টিকখোর মাছ আর তার করুণ কাহিনী!

এক দেশে এক মাছ ছিলো। সে মনের আনন্দে পানির গভীরে এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াত। আর খিদে পেলে খেতো শ্যাওলা আর ছোট ছোট প্ল্যাঙ্কটন। একদিন হঠাৎ সে একটা প্লাস্টিক কণা দেখলো। লোভ সামলাতে না পেরে সে ওটা খেলো। আর রীতি ভঙ্গের জন্যে সে হলো অভিশপ্ত! এটা কোন রূপকথার চমৎকার গল্প হতে পারতো। কিন্তু এটা এখন বাস্তব অবস্থা! প্লাস্টিক দূষণ এখন মানব সভ্যতার অন্যতম হুমকির একটি। Uppsala University বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা গবেষণা করে দেখেছেন যেসব বাচ্চা মাছ মাইক্রোপ্লাস্টিক খায় তারা অন্য মাছের শিকারে বেশি পরিণত হয়। তার মানে যারা প্লাস্টিক খাচ্ছে তাদের কিছু একটা হচ্ছে যার ফলে তারা অন্য মাছের শিকারে পরিণত হচ্ছে আগের চেয়ে বেশি। গবেষকরা আরো বলছেন মাছগুলো তাদের সচারাচর খাবারের চেয়ে মাইক্রোপ্লাস্টিক বেশি পছন্দ করছে। মাইক্রোপ্লাস্টিক হচ্ছে প্লাস্টিকের কণা যারা…
বিস্তারিত পড়ুন ...

দগ্ধ পৃথিবী, ২২০০ খ্রিষ্টাব্দ

জলবায়ুর পরিবর্তন পরাস্ত করেছে মানুষের দাপট – মাত্র পঞ্চাশ কোটি পৃথিবীবাসী অবশিষ্ট উত্তরের জীবন-তরীতে। কিভাবে বেঁচে আছে তারা? ১. অভেদ্য, নিয়ন্ত্রিত আবহাওয়ার সুউচ্চ বহুতল ভবনের ৩০০ তলায় ক্ষুদ্র ফ্ল্যাটের জানালা দিয়ে তাকাই – মাটির আধামাইল উপরে আমার ফ্ল্যাট থেকে মনোমুগ্ধকর বীথিদৃশ্য চোখে পড়ে: বেশ কিছু বাংলো, ছিমছাম উঠান, পান্না-সবুজ রাঙা খেলার মাঠ, সূর্যের আলো ঝিলিক দেয়া সুইমিং পুল, আর দীর্ঘ বেলাভূমির ওপারে তৈরি কিছু প্রাসাদসম অট্টালিকা। দৃশ্যগুলো লস এঞ্জেলস শহরের স্মৃতি মনে করিয়ে আকুল করে দেয়। শহরটি এখন অস্তিত্বহীন, যেখানে শান্তিপূর্ণ সময়ে বড় হয়েছেলিন আমার দাদার-দাদা, যখন নবজাতকের জন্মদান কঠিনভাবে নিয়ন্ত্রিত হতো না, আর সাতশ' কোটি মানুষ মুক্তভাবে ঘুরতেন পৃথিবী বুকে।   এখন পৃথিবীতে আমরা মাত্র পঞ্চাশ কোটি মানুষ বেঁচে আছি, জলবায়ুর পরিবর্তন কমিয়ে এনেছে এ গ্রহের ধারণ ক্ষমতা (carrying…
বিস্তারিত পড়ুন ...

লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর অস্কার বক্তৃতা ও পরিবেশ বিপর্যয়ের সাথে জিকা ভাইরাস উত্থানের সম্পর্ক

গত কয়েক বছর যাবত ইন্টারনেটে একটি কৌতুক ঘুরে বেড়াচ্ছিলো মার্কিন অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর অস্কার না পাওয়া নিয়ে। হলিউডের এ অভিনেতা টাইটানিক (১৯৯৭) চলচিত্র থেকে শুরু করে অনেকগুলো চলচিত্রে দারুণ অভিনয় করেছেন। গত পাঁচ-দশ বছর ধরে সবাই আশা করছিলেন তিনি অভিনয়ের জন্য অস্কার পাবেন। কয়েকবার একাডেমি এওয়ার্ডে অস্কারের জন্য মনোনীতও হয়েছিলেন, কিন্তু প্রতিবছরই সবার আশাভঙ্গ হচ্ছিলো। কৌতুকটা হলো এখন থেকে ত্রিশ বছর পর লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর অস্কার-না-পাওয়া কর্মবহুল জীবন নিয়ে তৈরি একটি চলচিত্রে অভিনয় করে ভবিষ্যতের কোন প্রতিভাবান অভিনেতা অস্কার পেয়ে যেতে পারেন। সকল প্রতীক্ষার অবসান  ঘটলো ২০১৬ সালের একাডেমী এওয়ার্ডে, যেখানে ডিক্যাপ্রিও দ্যা রেভেন্যান্ট (২০১৫) চলচিত্রটির জন্য অস্কার পুরস্কার পান। সকলেই আগ্রহী ছিলেন এ অভিনেতা অস্কার ভাষণে কি বলেন। তবে ডিক্যাপ্রিও অস্কারের মঞ্চটিকে ব্যবহার করেন বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সবাইকে সচেতন…
বিস্তারিত পড়ুন ...

আমাদের সংস্কৃতির হাত ধরেই আমাদের বিবর্তন?

আমাদের সংস্কৃতির গুরুত্বটা কী আমাদের জীবনে? কিংবা বিজ্ঞানের ভাষায়, এর প্রযুক্ত বলই বা কতটুকু আমাদের উপর? কিংবা আমাদের বিবর্তনের পিছনে কি আমাদেরই সংস্কৃতি কোনো অংশে দায়ী? কাপড়, আশ্রয় থেকে শুরু করে বহিঃশক্তির হাত থেকে রেহাই দেওয়ার জন্য ঢাল হিসেবে কাজ করে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি। কতিপয় জীববিজ্ঞানীদের নিকট তাই মনে হয় মানব সংস্কৃতি আমাদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা কিনা মানব জীবনে প্রযুক্তির ভূমিকার সাথে তুল্য। তবে মানব সংস্কৃতির প্রভাব ধীরে ধীরে উপলদ্ধির ব্যপার। তাই এর প্রভাবে সমাজে কখনও মনুষ্য জাতির আগমন বেশি ঘটেছে আবার কখনও কোনো সমাজ পঙ্গু হয়ে গিয়েছে। তবে জীব বিজ্ঞানীরা এখন মানব সংস্কৃতিকে অন্য নতুন এক দৃষ্টিতে দেখছেন। তাঁরা মানব সংস্কৃতিকে আমাদের বিবর্তনের এক কারণ হিসেবেও দেখছেন।   বিবর্তন ও প্রাকৃতিক নির্বাচন আমাদের সংস্কৃতি কেবল আমাদের…
বিস্তারিত পড়ুন ...

হাজারীবাগ ট্যানারী শিল্পের ভয়াবহতা

শীত আসছে। তাই বাজার থেকে কিনে এনেছেন চামড়ার জ্যাকেট, পায়ে দিয়েছেন চামড়ার জুতো আর হাতে চামড়ার তৈরী ব্যাগ। কি একটিবারের জন্যও কি ভেবে দেখেছেন এর পেছনের গল্পটি কেমন? কি ভয়াবহ স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিধ্বংসী প্রক্রিয়ায় এগুলো আপনার হাতে এসে পৌঁছেছে? পৃথিবীর অর্ধেকের বেশী ট্যানারী শিল্প গড়ে উঠেছে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে। উচ্চ লাভ, নি¤œ মজুরি এবং পরিবেশ সম্পর্কে অনীহা ও অসচেতনতাই এর প্রধান কারণ। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের হাজারীবাগে ১৯৬০ সালে পাঞ্জাবী ট্রেডার্স নামে ট্যানারী শিল্পের সূচনা হয়।পরবর্তীতে স্বাধীনতার পরে এটি ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করে। বাংলাদেশের ৯০% ট্যানারী হাজারীবাগে অবস্থিত। বর্তমানে এখানে প্রায় ২০০ টির বেশি ট্যানারী শিল্প রয়েছে। হাজারীবাগ একটি অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। প্রায় ২৫ হেক্টর জায়গার উপরে ট্যানারী গুলো অবস্থিত। বাংলাদশেরে ট্যানারি শিল্পগুলো বছরে প্রায় দেড় কোটি র্বগফুট…
বিস্তারিত পড়ুন ...

‘দক্ষিণ এশিয়ার পানি সম্পদ: বিরোধ থেকে সহযোগিতা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অনুসন্ধিৎসু চক্র

সম্প্রতি (৪ ও ৫ জানুয়ারি, ২০১৩) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো ‘দক্ষিণ এশিয়ার পানি সম্পদ: বিরোধ থেকে সহযোগিতা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন। এর মূল আয়োজক ছিলো বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্ট নেটওয়ার্ক (বেন)। এই সম্মেলনের লক্ষ্য ছিলো- গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকার দেশ সমূহের পানি সম্পদ উন্নয়ন কার্যক্রম, তার পেছনে কার্যকর মূল নীতি দর্শন ও কাজের প্রক্রিয়ার অভিজ্ঞতাসমূহ নিরীক্ষণ, এই এলাকার বিদ্যমান পানি উন্নয়ন সমস্যা, বিস্তৃত অববাহিকা ভিত্তিক নদী দৃষ্টিভঙ্গি ও বহুমুখী সহযোগিতার সম্ভাবনা বিষয়ে অববাহিকা অঞ্চল ও আন্তর্জাতিক মন্ডলের জনগণকে সচেতন করা এবং বিদ্যমান মতামত ও ধারণা সমূহের খোলামেলা আদান প্রদান, বিশেষজ্ঞ ও কর্মীদের মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি। আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে দেশের অন্যতম বিজ্ঞান সংগঠন অনুসন্ধিৎসু চক্র এসোসিয়েট আয়োজক হিসেবে কাজ করেছে। সম্মেলনে দুই ধরনের অধিবেশন ছিলো: বিশেষজ্ঞদের সভা…
বিস্তারিত পড়ুন ...

ফটোব্লগ | কিছু পরিবেশবাদী শিল্পকর্ম

১. নবায়নযোগ্য শক্তি নিয়ে বিশ্বে এখন নানা রকমের কাজ হচ্ছে। বায়োফুয়েলের নাম হয়তো অনেকেই শুনেছেন। বায়োফুয়েলের এখন তৃতীয় প্রজন্ম নিয়ে গবেষণা চলছে। বায়োফুয়েল হলো জৈবপদার্থ, জীবিত ব্যাক্টেরিয়া, শৈবাল, গাছ হতে তৈরি জ্বালানী। প্রধানত ইথানল এলকোহল। জৈবজ্বালানীর প্রথম প্রজন্মটি ছিলো খাদ্যশস্য থেকে জ্বালানী তৈরি। এই পদ্ধতিটি মানুষের খাদ্য আর কৃষিজমির উপর  ভাগ বসায়। সুতরাং চিন্তা করা হলো অন্য কোন পদ্ধতির। এলো দ্বিতীয় প্রজন্মের জৈবজ্বালানী।   এই প্রজন্মের জ্বালানী কাজ করতো বিভিন্ন পরিত্যাক্ত জৈব পদার্থ নিয়ে। এক্ষেত্রে সমস্যা দাঁড়ায় বাস্তুসংস্থানে। পরিত্যাক্ত জৈবপদার্থ পচে গিয়ে আবার প্রকৃতিতে ফিরে যেত। এগুলোকে কৃত্রিমভাবে জ্বালানী উৎপাদনে ব্যবহার করলে  পরিবেশে এই রিসাইক্লিং হবে না - ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাবে। তাই দরকার হলো অন্য উপায়ের। 111
বিস্তারিত পড়ুন ...

গ্রীন হাউস ইফেক্ট: অজানা তথ্য

গ্রীনহাউজ ইফেক্ট সম্বন্ধে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এর ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাতাসে কার্বন-ডাই অক্সাইড এর উপস্থিতি এর জন্য দায়ী সেটাও আমরা সবাই জানি। তবে যে বিষয়গুলো সবাই জানে না সেগুলো অবগত করাই আজকের লেখাটির উদ্দেশ্য। কার্বন-ডাইঅক্সাইড ছাড়াও গ্রীনহাউস ইফেক্টের জন্য দায়ী বেশ কিছু গ্যাস রয়েছে। এগুলো হচ্ছে মিথেন(১৯%), ক্লোরো-ফ্লোরো-কার্বন(১৭%), ওজোন(৮%), নাইট্রাস অক্সাইড(৪%), জলীয় বাস্প(২%)। বন্ধনীর ভিতরে লেখা সংখ্যাগুলো দ্বারা গ্রীনহাউজ ইফেক্টের জন্য কোন গ্যাস কতটা দায়ী সেটা দেখানো হলো। কার্বন-ডাইঅক্সাইড একা ৫০% দায়ী। অর্থাৎ বোঝা যাচ্ছে গ্রীনহাউজ ইফক্টের জন্য কার্বন-ডাইঅক্সাইড একা দায়ী নয়। এর পাশাপাশি আরো কিছু গ্যাসের দায়িত্ব আছে। 87
বিস্তারিত পড়ুন ...