মস্তিষ্কের কর্মকান্ডঃ অভ্যন্তরীণ বাচন

ধরুন, আপনি বাজার করতে গিয়েছেন, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা শেষে দাম মিটিয়ে দিয়ে চলে আসছেন। হঠাৎ আপনার মাথার ভেতর কেউ বলে উঠলো, “মরিচ তো কেনা হয়নি!!” পড়িমড়ি করে আবার বাজারে ছুটলেন মরিচ কিনতে। কেউ একজন আপনাকে মনে করিয়ে দিয়েছে মরিচ কেনার কথা। অথবা একটুপর বসের সাথে আপনার একটা জরুরী মিটিং আছে। আপাতদৃষ্টিতে দেখে শান্ত মনে হলে ও ভিতরে ভিতরে আপনি নিজেকে ঝালিয়ে নিচ্ছেন সেই মিটিং এর জন্য, নিঃশব্দে মাথার ভেতর একের পর এক প্রশ্ন আর উত্তর তৈরি করে। এরকম মগজ ঘরে কথা বলা, আওয়াজবিহীন শব্দ আর বাক্য তৈরির প্রক্রিয়ার অনেক উদাহরণ আমরা আমাদের চারপাশে পাই। রাশিয়ান মনস্তত্ত্ববিদ লেভ ভিগোতস্কি সর্বপ্রথম ১৯৩০ সালে এই ঘটনার নামকরণ করেন “Inner speech” বা “অভ্যন্তরীণ বাচন” হিসেবে। মনস্তত্ত্ববিদ্যার শুরু থেকেই বিজ্ঞানীদের এ নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই।…
বিস্তারিত পড়ুন ...

মনভূবনের দুই বাসিন্দা – দ্বিতীয় কিস্তি

[পূর্বের পোস্ট পড়ুন: মনভূবনের দুই বাসিন্দা - প্রথম কিস্তি]   দ্বন্দ্ব ও বিভ্রম এতক্ষণ আমরা মনের দুই বাসিন্দার সাথে পরিচিত হলাম। জগ্রত অবস্থায় দুইটি ব্যাবস্থাই সক্রিয় থাকে। ব্যাবস্থা ১ নিজে নিজেই কাজ করে। আর ব্যাবস্থা ২ একটু গদাইলস্করী চালে চলতে থাকে। মানে, ব্যাবস্থা ২ সবচাইতে কম খাটতে চায় – সে আরামপ্রিয়। সাধারণ অবস্থায় ব্যাবস্থা ২ তার উদ্যমশক্তির খুব সামান্যই কাজে লাগায়। ওদিকে ব্যাবস্থা ১ ক্রমাগত ব্যাবস্থা ২-কে বিভিন্ন মতামত দিয়ে চলছে। চারপাশের ঘটনার ছাপ, অন্তর্দৃষ্টি, প্রবৃত্তি এবং নানান রঙের অনুভূতি – এসব তথ্য থেকে এই সব মতামত দিচ্ছে সে। ব্যাবস্থা ২ এসব মতামত গ্রহণ করলে তা বিশ্বাস কিংবা আচরণে পরিণত হয়। যখন সবকিছুই নিয়মমাফিক চলছে বলে মনে হচ্ছে, তখন ব্যাবস্থা ২ এসব মতামত সামান্য পরিবর্তন করে বা কোন পরিবর্তন ছাড়াই…
বিস্তারিত পড়ুন ...

মনভূবনের দুই বাসিন্দা – প্রথম কিস্তি

  উপরের ছবিটি দেখলে আপনার মনের নদীতে ভেসে যাবে স্বৈরতান্ত্রিক ভাবনার ভেলা। একে আমরা বলতে পারি দেখার সাথে সাথে যুগপৎ অবচেতন চিন্তা। ছবি দেখেই বুঝতে পেরেছেন যে উনি একজন মহিলা। তিনি যে খুবই রাগান্বিত অবস্থায় আছেন তাও বোঝা যাচ্ছে। আপনি ধারণা করছেন এই ছবি তোলার পরমুহূর্তেই মহিলা চড়াগলায় কোন কথা বলবেন। এই ভাবনাগুলো কিন্তু আপনি এমনি এমনিই ভেবেছেন। নিজে নিজেই এই ধারণাগুলো আপনার মাথায় খেলে গেছে। মহিলার মেজাজ এখন কি রকম ও তিনি নিকট-ভবিষ্যতে কি রকম আচরণ করবেন – এটা অনুধাবন করতে আপনাকে কোন বিশ্লেষণ করতে হয় নি। এবং চিন্তাগুলো খুব দ্রুত আপনার মাথায় এসেছে। এই চিন্তাটা স্বৈরতান্ত্রিক, কারণ আপনি একে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। এবার নিচের সমস্যাটা দেখুন: ১৭×২৪ এবারো আপনি সাথে সাথেই বুঝতে পারছেন এটা আসলে পাটিগণিতের গুণের…
বিস্তারিত পড়ুন ...